সোনেলা দিগন্তে জলসিড়ির ধারে

আপনি অনেক কিছুই জানেন না
সত্যি বলছিরে ভাই, আপনি অনেক কিছু জানেন না…

ক্ষুধার্ত সন্তানেরা যখন আহারের অপেক্ষায়,
জননী তখন দু মুটো ভাতের আশায় চুলোয় বসিয়ে রাখে গরম পানির পাতিল, বুদবুদ করে উতড়ানো সে পানির আওয়াজ তখন কতটা ভয়ংকর হতে পারে, তা আপনি অামি কি করে বুঝবোরে ভাই…

ষাট বছরের বৃদ্ধটি যখন শরীরে অদৃশ্য এক রোগ নিয়ে ক্ষুধার্ত সন্তানদের সামনে হাসি মাখা মুখ দেখিয়ে বেরিয়ে যায় আহারের যোগান দিবেন বলে,
কি করে বুঝবেন আপনি সে বৃদ্ধটির পেটে ক্ষুধা নেই?
রিক্সা নিয়ে রাস্তার এক পাশে বসে ডুকরে কেঁধে উঠে লোকটি, অথচ ক্ষত হয়ে যাওয়া বুকের গভীর থেকে বেরিয়ে আসা খক খক করে সেই কাঁশির আওয়াজ কতই না বিশ্রী শুনতে…

কিছুক্ষন অাগে যে লোকটি গলায় দড়ি দিয়েছে মুখে বিষের বোতল নিয়ে, জানতে চেয়েছেন তার মৃত্যুর কারন? নাকি জাহান্নামে যাবে জাহান্নামে যাবে জপতে জপতে স্থান ত্যাগ করেছেন….

বেকারত্বের বোঝা কোন ভাবেই নিতে পারছিলনা সে,
তবে বেকারত্বই যে তার খুনী, তা কিন্তু নয়…
এমনও তো হতে পারে, পরিবেশ কিংবা প্রতিবেশীরা তাকে গ্রহন করতে চায়নি। গরীব, ছোটলোক কিংবা ভিখারি বলে তাড়ানোর চেষ্টা করেছে বহুবার।

রাজিয়া বানু তার বাচ্ছাদের দু’মুটো ভাত খাওয়ানোর আশায় কাজ করে এলাকার কোন এক ধনী ব্যক্তির বাড়িতে, সে বাড়ির বড়কর্তার চোখ নাকি সবসময় থাকে রাজিয়া বানুর বুকের উপর। মাঝে মাঝে কোমরে হাত দিয়ে বসেন সে কর্তা। সবকিছু বুঝেও চুপচাপ সহ্য করে কাজ করতে থাকে রাজিয়া। কারন গরীবদের মান সম্মান কিংবা ইজ্জত বলতে কিছু নেই। তাদের বুক নেই, কোমর নেই, শরীর নেই…
তারা জন্ম নিয়েছে সমাজের বড়কর্তাদের খুশি করবে।

রাজিয়া বানুদের খাবার দু’মুটো ডাল ভাত অার বড়কর্তাদের খাবার এমন অসংখ্য রাজিয়া বানু

এ সমাজ খুবি নিষ্টুর, সামাজিকজীব গুলো খুব জগন্য…
এখানে বড়কর্তা, বড় বাবুদের নখের আচড় নিয়ে বেচে থাকে রাজিয়ারা, বিশ টাকার ভাড়া নিয়ে পাঁচ মিনিট তর্ক করার পর হারমেনে পনের টাকায় নিয়ে যাওয়া মতিন চাচারা

২৪৭জন ১৭৯জন
8 Shares

১০টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

ফেইসবুকে সোনেলা ব্লগ

লেখকের সর্বশেষ মন্তব্য