বুক রিভিউঃ প্রেতসাধক নিশিমিয়া

ভোরের শিশির ১০ ফেব্রুয়ারী ২০১৫, মঙ্গলবার, ০২:৪৩:৫৬পূর্বাহ্ন বিবিধ ৫ মন্তব্য

বুক রিভিউঃ

বুক রিভিউঃ প্রেতসাধক নিশিমিয়া
বুক রিভিউঃ প্রেতসাধক নিশিমিয়া

লেখকঃ Rajib Chowdhury
প্রকাশকঃ প্রিয়মুখ
স্টলঃ ২২৬
প্রাপ্তিস্থানঃ অমর একুশে বইমেলা, ২০১৫।”
ভৌতিক উপন্যাস বলতে কি বুঝি আমরা! ক্যাঁ করে দরজা খুলে যাওয়া বা হঠাত জানালা খুলে যাওয়া অথবা অদ্ভূত সব কান্ড?
প্রেতসাধক নিশি মিয়ার লেখক Rajib Chowdhury কিন্তু তার প্রথম ভৌতিক উপন্যাস সিরিজের এই প্রথমটি অর্থাৎ ‘প্রেতসাধক নিশি মিয়া’ তে তার কিছু মাত্র আনেন নি, বিন্দুমাত্র সেই তথাকথিত এফএম টাইপ ভূতুরে কিচ্ছু নেই।
তবে কি আছে এই উপন্যাসে?
আছে ভূতুরে ঘটনার পিছনের জগৎ নিয়ে লেখা একটি প্লট যা শব্দে দারুণভাবে তুলে ধরেছেন লেখক নিজে।
এখানে কোন ছায়া নেই, ছায়া নিয়ে দড়াবাজিও নেই যে ভয় পাবো কিন্তু প্রথম পাতা অর্থাৎ প্রাককথন থেকেই মনোযোগ কেড়ে নিয়েছেন লেখক। অনেকদিন পর কোন উপন্যাস পেলাম যেখানে সেই তখনকার মতো মূল বিষয় নিয়ে সারসংক্ষেপ দেয়ার সফল চেষ্টা।
শুরুটা নিতিনের মাধ্যমে। এরপরেই নিশিমিয়ার সাথে আমাদেরকে চেনাতে থাকেন একের পর এক পটভূমি। শব্দে বাহুল্য নেই, ঘটনার বর্ণনাতেও নেই বাড়তি মেদ। একেবারে ছিমছাম সাবলীলভাবে লেখক টেনে দিয়েছেন তার উপন্যাসের লাইনগুলো।
যারা খুব ভয় পেতে চান তারা ব্যর্থ হবেন, যারা থ্রিল চান তারাও আশাহত হবেন।
তবে কেন পড়বেন?
ভূতে বিশ্বাস রাখুন আর নাই রাখুন এই উপন্যাস আসলে অনেক কথাই বলে যার মর্ম লেখক নিজে উপন্যাসের একেবারে শেষ কয়টি লাইনে দিয়েছেন-
আমরা যাই কিছুই হই না কেন আমরা মানুষ।
এই উপন্যাসের আরো একটি ব্যাপার ভাল লেগেছে যা তা হলো লেখক যথেষ্ট পড়েছেন ক্যারেক্টারের ইতিহাস নিয়ে। বৌদ্ধ ধর্মে উল্লেক্ষিত শয়তান বা মার তথা মাহরুকে উনি খুব সুন্দর করেই তুলে এনেছেন দক্ষতার সাথে।
আমি সাধারণ পাঠক তাই খুব সাধারণভাবেই পড়েছি। জ্ঞানীদের মতো প্রখর বা তীক্ষ্ণ নজর দিয়ে কিছু ধরার বুদ্ধি বা দক্ষতা নেই তাই এই উপন্যাস নিয়ে বেশী কিছু বলার নেই। তবে খুব ভাল লেগেছে উপন্যাসের মূল চরিত্র নিশিমিয়াকে কেন্দ্র করে বা নিশি মিয়ার সাথে যা ঘতেছে তা ভিন্ন ভিন্ন গল্পে বা ঘটনায় বরণনা করলেও মোটেও কোনটাকে আলাদা কিছু মনে হয় না যা ইদানিং অনেক লেখকেই উপন্যাসে করতে ব্যর্থ হচ্ছেন। খুবই সাবলীলভাবে রিলেট করেছেন শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সবক’টি ঘটনাকে।
তবে একটা প্রশ্ন রয়েই গিয়েছে মনে আর তা হচ্ছে- শুরু হয় ‘নিতিন’ ছেলেটাকে দিয়ে, পরে তাকে একজন ডাঃ হিসেবে দেখতে পাই কিন্তু এরপরেই সে নাই হয়ে যায়! কেন? কেন জানি মনে হচ্ছে তার বিরাট ভূমিকা আছে যা এখনো লেখক তার এই নিশিমিয়া সিরিজের প্রথম ভাগে দেখাননি! যদিও একমাত্র ‘নিতিন’ই নিশিডাকের সময়ে নিশিমিয়াকে দেখতে পায় আর কেউই নয়! থ্রিল বোধহয় এখানেই!!
নিশিমিয়ার সাথে ‘নিতিন’ চরিত্রের প্রতি কৌতুহল নিয়েই বলছি- নিশিমিয়া সিরিজের বাকিগুলো কবে আনবেন? শুনেছি ‘প্রকাশক আগামী পাঁচবছর নিশিমিয়ার সাথে চুক্তিবদ্ধ হতে যাচ্ছেন! (নিজকানে প্রকাশকের এই কথা শুনেই বলছি)।
অপেক্ষায় রইলাম অনেক প্রশ্নের আর পরবর্তী সিরিজের।

৪৮৭জন ৪৮৭জন
0 Shares

৫টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

ফেইসবুকে সোনেলা ব্লগ