টমাস আলভা এডিসন।বিখ্যাত বিজ্ঞানী।বৈদ্যুতিক বাতি,কিন্টোগ্রাফ ও ফোনোগ্রাফ তাঁর বিখ্যাত আবিষ্কার গুলোর কয়েকটি,যা মানুষের জীবনযাপনকে আমূল photo-1426940534পাল্টে দিয়েছিল। ১৯৩১ সালে মারা যাওয়ার আগে হাজার খানেক প্যাটেন্ট ছিল তাঁর নামে।১৮৪৭ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের ওহিওর মিলানে জন্ম নেন এডিসন। বাবা স্যামুয়েল ও মা ন্যান্সি এডিসনের সবচেয়ে ছোট এবং সপ্তম সন্তান ছিলেন এডিসন। এডিসনের বাবা ছিলেন কানাডা থেকে নির্বাসিত একজন রাজনৈতিক কর্মী।
এডিসনের সব চেয়ে আলোড়ন সৃষ্টি কারী আবিষ্কার হল বৈদ্যুতিক বাতি আবিষ্কার।আকাশের বিদ্যুতকে মানুষ তখন ব্যাটারিতে আটকাতে পেরেছিল ঠিকই তার পরও কেউ বিশ্বাস করতে পারছিলেন যে তা থেকে আলো পাওয়া সম্ভব হবে।এডিসন নিজ মেধা ও প্রচেষ্টায় সেই অলৌকিকতাকে বাস্তব রূপ দিয়েছিলেন।১৮৭৯ সালে অক্টোবর মাসে তিনি স্থানীয় পার্ক বিদ্যুতের আলোয় আলোকিত করে সকলকে অবাক করে দিয়েছিলেন।আধুনিক যুগের সিনেমার আবিষ্কারকও ছিলেন তিনি।১৮৯৭ সালের ২৭ এপ্রিল নিউইয়র্কে হাজার হাজার দর্শকের সামনে এডিসন তাঁর ‘কাইনেটোস্টোপ’ নামক যন্ত্রের সাহায্যে চলমান ছবি দেখিয়েছিলেন।শিল্প জগতে জন্ম দিয়েছেন নতুন একটি যুগের।তিনি সিমেন্ট, আধুনিক সহজে বহনযোগ্য ব্যাটারি, রাবার ইত্যাদি আবিষ্কার করেছেন।
তার মজার সব ঘটনা:
টমাস আলভা অ্যাডিসনের গ্রামোফোন আবিষ্কার উপলক্ষে এক সংবর্ধনা সভার আয়োজন করা হয়েছিল।এক তরুণী তাঁর বক্তৃতায় অ্যাডিসনকে অ-যথাই আক্রমন করে বসলেন, ‘কী এক ঘোড়ার ডিমের যন্ত্র আবিষ্কার করেছেন,সারা ক্ষণ কানের কাছে ঘ্যানর ঘ্যানর করতেই থাকে।আর তাই নিয়ে এত মাতামাতি! ইতিহাস আপনাকে ক্ষমা করবে না…।’তরুণী বলেই যাচ্ছেন।থামার কোনো লক্ষণ নেই।
অ্যাডিসন চুপ করে শুনে গেলেন।বক্তৃতা দিতে উঠে তিনি বললেন,‘ম্যাডাম, আপনি ভুল করছেন।আসলে সারা ক্ষণ কানের কাছে ঘ্যানর ঘ্যানর করার যন্ত্র আবিষ্কার করেছেন ঈশ্বর।আমি যেটা আবিষ্কার করেছি সেটি ইচ্ছে মতো থামানো যায়।’

-{@ বিজ্ঞানী টমাস আলভা এডিসনের কথা তো আমরা সবাই জানি।তিনি ছিলেন খুব ভুলোমনা,কোনো কিছুই মনে রাখতে পারতেন না।তো এক বার তিনি তার এক বন্ধুকে তার বাসায় খাবার দাওয়াত দিলেন।অথচ দাওয়াতের দিন এডিসন নিজেই বন্ধুকে দাওয়ার দেয়ার কথা ভুলে গেলেন।যথা দিনে বন্ধু এসে হাজির।এসে দেখেন বাড়িতে কেউ নেই।বন্ধুটি তাই তার বিজ্ঞানী বন্ধুটির জন্য অপেক্ষা করতে থাকলেন। কিন্তু সময় গড়িয়ে যায়,বন্ধুতো আর আসে না। অব শেষে খিদে লাগায় বন্ধুটি খিদে সইতে না পেরে টেবিলে রাখা খাবারের প্লেট নিজেই সাবাড় করে দেন।
কিছুক্ষন পরে এডিসন আসলেন।এসে বন্ধুকে দেখে অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করলেন “আরে দোস্ত,তুমি এই অ-সময়ে আমার বাসায়!!!! দাঁড়াও দেখি তোমার জন্য কোনো খাবার আছে কিনা”।এই বলে তিনি টেবিলে রাখা খাবারের প্লেটটির ঢাকনা তুলে দেখেন প্লেটটি খালি।এর পর আফসোস করে বন্ধুকে বলতে লাগলেন, “এই দেখো কান্ড,তোমার জন্য কিছুই রইল না।যাওয়ার সময় যে আমি খাবারটি খেয়ে গেছিলাম তাও ভুলে গেছি।”

-{@ স্কুল থেকে চিঠি দিয়ে বাড়িতে পাঠিয়ে দিলো এডিসনকে,ভালো কিছু একটা যে না সেটা অনুমান করতে পেরেছিলেন ঠিকই,সুতরাং বাবাকে না দিয়ে মাকেই দিলেন চিঠিটা,আর মা কি জানি ভাবলেন,তার পর চোখ মুছে উনার সামনেই জোরে জোরে পড়তে লাগলেন চিঠিটা…”আপনার পুত্র খুব মেধাবী,এই স্কুলটি তার জন্য অনেক ছোটো এবং এখানে তাকে শেখানোর মতো যথেষ্ট প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত শিক্ষক নেই।দয়া করে আপনি নিজেই তার শিক্ষার ব্যবস্থা করুন।”আর চিঠির কথা শুনে এডিসনের চোখ অশ্রু সজল হয়ে উঠলো,তার পর থেকে মায়ের কাছেই শিক্ষা নেয়া শুরু করলেন।
এর পর পার হয়ে গেছে অনেকদিন,এডিসন ও অনেক বড় বিজ্ঞানী, ব্যবসায়ী, মার্কেটিং এর বড় কেউকেটা।মা ও আর বেঁচে নেই ততদিনে।কি এক কাজে পুরাতন কাগজ নাড়া চাড়া করছিলেন,হঠাৎ-ই চোখ পড়লো ভাজঁ করা এক কাগজের দিকে,হাত বাড়িয়ে নিয়ে পড়তে শুরু করলেন,স্কুলের সেই চিঠি।অদ্ভুত এক অনুভুতি,অজানা এক ব্যাথায় যেনো বুকের পাজর ভেঙ্গে আসতে চাইলো,চোখ ফেটে পানি পড়তে লাগলো।তাতে লিখা ছিলো…”আপনার সন্তান স্থুল বুদ্ধি সম্পন্ন, সে এই স্কুলের উপযুক্ত নয়,আমরা কোনো ভাবেই তাকে আমাদের স্কুলে আর আসতে দিতে পারি না।”তার পর তার ডাইরিতে লিখলেন “টমাস আলভা এডিসন এক জন স্থুলবুদ্ধি সম্পন্ন শিশু ছিলেনএক জন আদর্শ মায়ের দ্বারা তিনি শতাব্দীর সেরা মেধাবী হয়ে উঠলেন”

-{@ উনি তখন বেশ ছোট হঠাৎ উনাকে খুজে পাওয়া যাচ্ছিলো না।সবাই খুজে নেমে পড়লো।খুজতে খুজতে উনাকে পাওয়া গিয়েছিলো এক নির্জন জায়গায় কয়েকটি মুরগির ডিমের উপর উপুর হয়ে শুয়ে আছেন,সবাই জিজ্ঞেস করার পর তিনি যা বললেন তাতে সবার চক্ষু চড়ক গাছ,তিনি নাকি ডিম ফুটিয়ে বাচ্চা বের কর্তে চেয়েছিলেন,তাঁর অকাট্য যুক্তি ছিলো মুরগির নীচে ডিম রাখলে তা থেকে বাচ্চা বেরোলে আমার পেট থেকে কেনো হবে না?

-{@ তখন তিনি বেশ টাকাওয়ালা মানুষ,গেছেন ট্যাক্স অফিসে রিটার্ন জমা দিতে, গিয়ে নিজের নাম লিখতে গিয়ে পড়েছেন বিরাট ফ্যাসাদে,কিছুতেই নিজের নাম মনে করতে পারছেন না,মার খেলে মানুষ বাপের নাম ভুলে যায় কিন্তু উনি দিব্যি নিজের নামটাই ভুলে বসে আছেন।বসে বসে চুল ছিড়ছেন আর দাত কিড়মিড় করছিলেন,হটাত প্রতিবেশীর সাথে দেখা “কি ব্যাপার টমাস কি করো এখানে”মুহুর্তেই মনে পড়ে গেলো নিজের নাম খানি।

-{@ টমাস আলভা এডিসন যখন টাংস্টেন তারের পৃথিবীর প্রথম বৈদ্যুতিক বাল্বটি আবিষ্কার করেন তখন তার ল্যাবে ভীষণ ভীড়-ভাট্টা,সাংবাদিক,বন্ধু বান্ধবে গিজ গিজ করছে।বাল্বটি যখন প্রথমবারের মত জ্বলে উঠলো তখন সবাই আনন্দে হই হই করে উঠলো।এবার এডিসন সাবধানে বাল্বটি খুলে তার চাকরের হাতে দিয়ে বললেন, “সাবধানে পাশের ঘরে রেখে আসো।” সাবধানে বলার কারণেই কিনা এডিসনের বেকুব চাকর পৃথিবীর প্রথম বাল্বটি তৎক্ষণাৎ হাত থেকে ফেলে ভেঙে চুরমার করে দিলো।আশেপাশের সবাই হায় হায় করে উঠলো।সিটিয়ে গেল চাকরটি,শুধু এডিসন কিছু বললেন না।এর কিছু দিন পর দ্বিতীয় বারের মতো এডিসন বাল্বটি তৈরী করলেন।বলা যায় পৃথিবীর দ্বিতীয় বৈদ্যুতিক বাল্ব।এবারও তার ল্যাবে ভীড় আগের মতোই।এবারও বাল্বটি জ্বলে উঠলো সবাই আনন্দে হই হই করে উঠলো এবং এবারও এডিসন বাল্বটি সাবধানে পাশের ঘরে রেখে আসার জন্য তার চাকরকে ডাকলেন।সবাই আঁৎকে উঠলো,“কি করছেন,কি করছেন,ঐ গাধাটা আবার বাল্বটা ভাঙবে,আপনি নিজ হাতে রেখে আসুন,নইলে আমাদের কারো হাতে দিন।
এডিসন স্মিত হেসে বললেন-“ও যদি এবারও বাল্বটা ভাঙে সেটা আমি আবার তৈরী করতে পারবো কারণ এর ম্যাকানিজমটা আমার মাথায় আছে;কিন্তু প্রথম বাল্বটি ভাঙ্গার পর আমার চাকরের আত্ম বিশ্বাস ভেঙে যে চুরমার হয়েছে সেটা জোড়া লাগাতে বাল্বটা এবারও তার হাতেই দিতে হবে”।চাকরটি অবশ্য বাল্বটি না ভেঙ্গে ঠিক জায়গায় রেখে আসতে পেরেছিলো।

সবাইকে ধন্যবাদ।
পূর্বের পর্বটি পড়ুন
আইনস্টাইন

১০৪৯জন ১০৪৮জন
0 Shares

৭টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

লেখকের সর্বশেষ মন্তব্য

ফেইসবুকে সোনেলা ব্লগ