মাত্র দুমাস কদিন আগে সোনেলা ব্লগে পদার্পণ হয়েছে আমার। আমি কেমন করে এলাম তা শেষেই লিখব। আগে আমি কেন এলাম তা লিখি।
“বিশ্ব জোড়া পাঠশালা মোর সবার আমি ছাত্র”। জীবন ফুরিয়ে যায় শেখার শেষ হয়না। আহা! আরও যদি কিছু সময় পাওয়া যেত আরও কিছু জীবন ছাএ হয়ে শিখতে পারতাম। এমন এক আশা নিয়েই সোনেলা ব্লগে এসেছি।
সোনেলার জন্ম মাসে সোনেলার দীর্ঘায়ু কামনা করছি। সেই সাথে আমার চাওয়া জানাতে চাই। ভুলত্রুটি হলে ক্ষমা করবেন।

পড়তে ভালো লাগে। পড়ার আশাতেই সোনেলা ব্লগে এসেছি। ভালো লেখাগুলো বেশ মনোযোগ দিয়ে কয়েকবার পড়ি। অল্প সময়ে অনেক ভালো লেখা পড়া হয়ে গেছে। ব্লগের অনেকেই যারা আমার ফেসবুকে এ্যাড তাঁদের প্রফাইলের লেখা পড়ে পড়ে ছিঁড়ে ফেলার অবস্থা করেছি। পুরোনো লেখা পড়ার কারন হল তাঁদের নতুন লেখা সচরাচর পাওয়া যায়না। এটা ভীষন কষ্টের একজন পাঠকের জন্য।

পাঠক হিসেবে মাঝে মাঝে আমিও লিখি। না হলে যদি তাড়িয়ে দেয়। তাই যা পারি তাই লিখি। আমার কারও সাথে কখনো দেখা বা সখ্যতা কোনটাই যেহেতু নাই সেহেতু
জিসান ভাইয়াকেই বলি ভাইয়া কেমন লিখছি তার ভালোমন্দ জানাতে। কিন্তু সেরকম কিছুই হয়না। ভালো লেখকরা এড়িয়ে চলেন আর বাকিরা মন খারাপ করব তাই ভালোই বলেন। আর কেউ কেউ দায় সারেন। আমি নিজেও বুঝি নতুন তাই কেউ কিছু বলবেন না। কারন আমি আহামরি প্রসংশা করার মত কিছু লিখতে পারিনা।

এক বিকেল বন্যা আপুর লেখায় মন্তব্য করেছি সেটা দেখার জন্য ব্লগে ইন করলাম। ওরে বাবা! ইয়া বড় বাঁশ নিয়ে বসেছেন।
**মন্তব্য যতক্ষন মনঃপুত না হবে ততক্ষণ পর্যন্ত উওর দিবনা।**
আমি তো দায়সারা**পড়লাম,ভালো লাগলো**টাইপ মন্তব্য করেই উদ্ধার হয়েছিলাম। খেলাম ধরা। তিনি অনেক ভালো লেখেন। বুঝে পড়ার পর কমেন্ট করতে হয়। আমার ভীষন ভালো লেগে গেল এই মানুষটাকে। এটাই দরকার ছিল। আমি আবার তিনবার পড়ে মন্তব্য করলাম। তারপর যতগুলো মন্তব্য এসেছে বোঝা গেল ঝাড়িতে কাজ হয়েছে।

আরজু মুক্তা বানান ভুল থাকলে ধরিয়ে দেন। এটাও চমৎকার একটি বিষয়।
আমরা যেহেতু একটি পরিবার তাই আমার মনে হয় টুকটাক সমালোচনা খুব জরুরি। ব্যাক্তিগত ভাবে আমি যেই হই,যাই হইনা কেন? এতে মনে করার কিছু নেই। আমরা কেউই মহাজ্ঞানী না।

সোনেলা ব্লগে অনেক ভালো লেখেন,এমন মানুষ অনেক কিন্তু তাঁরা অনিয়মিত। মাঝে মাঝে দেখা পাওয়া যায়। আমার কাছে মনে হয় অন্তত নতুনদের কমেন্ট বক্সে থাকা দরকার। না হলে এত কষ্ট করে তৈরী একটা অঙ্গন আমার মত অ-লেখকদের কারনে নষ্ট হয়ে যাবে।
আমার লেখায় সমালোচনা করলে আমি হয়ত আর লিখব না কিংবা ব্লগে নিয়মিত থাকবনা এমনটা ভাবার কারন নেই। কারন ভালোলাগা,ভালোবাসা ছাড়া আমরা কোন কাজই করিনা। যার সমালোচনা সহ্য করে শেখার ইচ্ছে আছে সে থাকবে আর যার শেখার ইচ্ছে নেই সে এমনিতেই থাকবেনা।
“আছে গরু না বয় হাল,সে কৃষকের দুঃখ রয় চিরটাকাল”- খনার বচন।
লাইব্রেরীতে সবাই পএিকার গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ পড়তে যায়না। কেউ কেউ আনন্দ পাতার নায়ক নায়িকার ছবি দেখার জন্যও যায়।

আজ সকালে পড়লাম সারোয়ার ভাইয়ার লেখা। যেগুলো আসলেই অজানা ছিল। তাতে সাহিত্য আর লেখালেখি বা নিজেকে লেখক, ব্লগার হিসেবে দাবি করার শক্তি সামর্থ্য কোনটাই আমার নেই।
কোন একদিন ইন্জা ভাইয়ের ব্লগারের প্রকার পোস্টে জানতে চেয়েছিলাম আমি কোন পর্যায়ে আছি। উনি বলেছিলেন অনুমোদিত ব্লগার। আমার মনে হয় পাঠক বলাই শ্রেয় ছিল। আমি পাঠক হয়েই থাকতে চাই।

এবার আসি কেমন করে এলাম-
আহামরি কোন ইতিহাস নেই। লকডাউনে পড়ে জীবন হাহাকার। ফেসবুকে কবিতা লিখা শুরু করলাম। ম্যাসেজ বক্সে ছাত্র-ছাত্রী,বন্ধু-বান্ধব, শুভাকাঙ্ক্ষী সবাই হাজিরা দিত। লাইক তিনটা তো ইনবক্স ত্রিশ। কবিতা বিরহের হলে- ম্যাম কি হল আবার? বুবু-আহা কেন মন খারাপ? সোনা-আর একটু ধৈর্য ধর ,এই আসছি। দোস্ত-তোর আবার কি হল? এত সুন্দর সংসার। ছেড়ে দে মা কেঁদে বাঁচি অবস্থা॥

কিছু মানুষ সত্যিই বুঝত। তাঁরা উৎসাহ দিত। এরকম লিষ্টে থাকা মানুষের সাথে এ্যাড ছিলেন সাবিনা আপু। সুন্দর মানুষের প্রতি আমার অন্যরকম দুর্বলতা কাজ করে সবসময়। তেমনি তাঁর ছবি দেখে প্রেমে পড়লাম। (তাঁকে আপু কেন বলি? একদম ভালো লাগে না কারন আমি তাঁর ব্যাচেরই একটা বুড়ো মানুষ)। ঢুকলাম তার প্রফাইলে। বুঝতেই পারছেন কি অবস্থা হয়েছিল আমার!
অতঃপর রিকোয়েষ্ট। দুদিনের মাথায় তাঁর লেখা আমার মোবাইল স্ক্রিনে।
অনেকদিন পর্যন্ত তাঁর শেয়ার করা লেখাগুলো পড়লাম। সে সময় তিনি ব্লগে বোধহয় অনেক সময় দিতেন। সবার লেখা শেয়ার হত। আমারও সুপ্ত বাসনা জেগে উঠল। সাহস করে ইনবক্সে নক দিলাম। টুকটাক কথা আমি কোথাও লিখি বা লিখেছি কিনা এসব। তাঁর কথায় বুকের ভেতরটা হুহু করে উঠল। অনেকদিন লিখিনা অথচ একসময় প্রতিদিন ই লিখতাম। মেয়েদের জীবনভর ছাড় দিতেই যায়।
আইডি করতে পারছিনা লজ্জায় সাবিনা আপুকে বলছিও না। সাবিনা আপু আমাকে পরদিন আবার নক দিলেন। আপনার সাথে জিসান শা ইকরাম এ্যাড হয়েছেন। আপনি না পারলে ওনাকে বলেন সব করে দিবেন। তারপর জিসান ভাইয়া। তাঁর সালামের উত্তর না দিয়ে বললাম-
– আমাকেও আপনাদের সাথে নেন।
– হ্যাঁ। স্বাগতম আপনাকে।
দুরো কয় কি!বিশ্বাস হয়না। আবার জিগাই।
– ভাইয়া ব্লগের কথা বলেছি।
– হ্যাঁ, সাবিনা ম্যাডাম আপনার কথা বলেছেন।
– ও আচ্ছা। জানে পানি এল।
জিসান ভাইয়া এক পাহাড় সমান ধৈর্য্যের মানুষ। সবকিছু অত্যন্ত ধৈর্যের সাথে বুঝালেন আমাকে। তবে তেমন একটা বুঝি নাই। এক ছবি এ্যাড করেছি দুদিনে। ও আল্লাহ পরের দিন দেখি ছবিখানা উধাও। অজানা রহস্য উন্মোচন না করাই ভালো। লোকে আমার মেধা জেনে পাছে আবার ফিট না লাগে।
তারপর এইতো চলছে। থাকতে চাই সারাজীবন ছাত্র হয়ে আর শিখে শিখে নিজেকে ভরিয়ে দিতে চাই।

শুভ কামনা আমার জান,আমার সোনেলা।

২৬২জন ১জন
0 Shares

৫৬টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

ফেইসবুকে সোনেলা ব্লগ

লেখকের সর্বশেষ মন্তব্য