ব্যাবিলনের শূন্য উদ্যান বা ঝুলন্ত বাগান
ছেলে বেলায় বই এ পড়েছি প্রাচীন পৃথিবীর সপ্ত আশ্চর্য এর একটি ব্যাবিলনের শূন্য উদ্যান বা ঝুলন্ত বাগান?আসলেই এই উদ্দ্যানটি কেমন ছিল! তার দিয়ে ঝুলিয়ে তৈরি করা হয়েছিল বাগানটি নাকি এটি ছাদ বাগানের প্রাচীন রূপ ছিল? নাকি ঝুলন্ত বাগান বলে কিছুই ছিল না?কে কখন তৈরি করেছিলেন?এমন সব প্রশ্নের সম্মুখিন হয়তো কমবেশ সবাই পড়েছেন।এই সপ্তার্যের মধ্যে প্রায় সব কয়টিই ধ্বংস হয়ে তার অংশ বিশেষ বিশ্বের বিভিন্ন মিউজিয়ামে শোভা পাচ্ছে এক মাত্র মিশরের পিড়ামিডগুলোই বাস্তবে কালের সাক্ষী হয়ে আছে।চেষ্টা করছি তার কিছু তথ্য তুলে ধরতে।
babylon-hanging-gardenইরাকের প্রাচীন নগরী ব্যাবলনিয়ানের রাজা নেবু চাদনেজার প্রায় খ্রীষ্টাব্দ ৬০০ সালে ব্যাবিলন নগরে এই বাগানটি তৈরি করেন।তা বর্তমান ব্যাবিল প্রদেশের রাজধানী আল হিলাহর কাছে অবস্থিত ছিল।দৃষ্টি নন্দন এই বাগান নেবু চাদনেজার তৈরি করেছিলেন তার স্ত্রী অ্যামিতিস এর জন্য।অ্যামিতিস ছিল প্রাচীন মিডিয়ান সম্রাট সাই অ্যাকারিস এর কন্যা।কারো কারো মতে তার নাতি;অ্যামিতিস যেখানে বড় হয়েছিলেন সেখানকার পরিবেশ ছিল সবুজ-সুফলা গাছ-গাছলায় পাহাড় পর্বতে ছিল ভর্তি।যার ফলে ব্যাবিলনের রুক্ষ মরু ময় পরিবেশ তার ভাল লাগেনি।মানিয়ে নিতে না পারায় রাণী হয়ে পড়েন গৃহকাতর।রাজা নেবু চাদনেজার এই পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার জন্য তৈরি করেন এক আশ্চর্য ময় বাগান।যা প্রাসাদ থেকে দেখলে পাহাড়ের উপর নানা গাছ গাছলায় ভর্তি বাগান বলে মনে হত।
image-31670তৈরী করার রহস্য:
বিভিন্ন মাধ্যমে ব্যাবিলন শহর এবং শূন্য উদ্যানটি নিয়ে নানা কথা চালু আছে।একেক ইতিহাস বিদ একেক ভাবে নগর ও তার বাগানটির গঠন সম্পর্কে ধারনা দিয়েছেন।গ্রীক ইতিহাস বিদ হেরোডোটাস প্রায় খ্রীষ্টাব্দ ৪৫০ সালে তার বর্ণনায় বলেছিলেন ব্যাবিলন তৎকালীন অন্যান্য শহর থেকে ঐশ্বর্য্যের দিক থেকে অনেক এগিয়ে ছিল।নগরটিকে ঘিরে তৈরি করা হয়েছিল ৫৬ মাইল লম্বা দেয়াল যা ছিল ৮০ ফুট পুরু আর ৩২০ ফুট উঁচু।তার মতে দেয়ালের উপর দিয়ে ৪ ঘোড়া বিশিষ্ট যান অনায়াসে একটি আরেকটিকে ক্রস করতে পারত।বেশীর ভাগ ইতিহাস বিদ তার এই বর্ণনার সাথে সহ মত প্রকাশ করলেও বর্তমানে প্রত্নতাত্ত্বিকদের গবেষণায় জানা যায় ব্যাবিলন শহরের দেয়ালটি সর্ব্বোচ্চ ১০ মাইল হওয়ার সম্ভাবনা আছে এবং উচ্চতাও অনেক কম হবে।
ব্যাবিলনের শূন্য উদ্যান বা ঝুলন্ত বাগান টির নাম শুনে মনে হতে পারে এটি তার বা রশি দিয়ে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছিল।প্রকৃত পক্ষে মূলত এটি বিশাল আকার নিয়ে তৈরি ছাদ বাগানই ছিল।ঝুলন্ত বাগান নামটি আসলে এসেছে গ্রীক ইতিহাস বিদদের ব্যবহার করা শব্দ “ক্রিমাসটোস” থেকে যা শুধু ঝুলন্ত নয় বরং উদগত বা বের হয়ে আসাও বুঝায়।
jbkbk    klhnjkln
চতুর্ভুজা কৃতি বাগানটি দৈর্ঘ্যে ও প্রস্থে ছিল ৪০০ ফুট।আর এর উচ্চতা ছিল শহরের দেয়ালের সমান।যেহেতু শহরের দেয়াল এর উচ্চতা নিয়ে বিতর্ক আছে তাই এই বাগান ভূমি থেকে ঠিক কতটা উঁচুতে অবস্থিত ছিল তা নিয়েও এখনো বিতর্ক আছে।তবে সবচেয়ে বিশ্বাস যোগ্য ধারনা হল বাগানটির সবচেয়ে উঁচু অংশটি ভূমি থেকে সর্ব্বোচ্চ ৮০ ফুট উঁচুতে ছিল।
চতুর্ভুজা কৃতির এই বাগানটির ছাদেই গাছ রোপণ করা হয়েছিল। তবে বাগানের ছাদ সমতল ছিল না। ধনুকাকৃতিতে করা একটির চেয়ে আরেকটি ক্রমান্বয়ে উঁচু হওয়া ছাদ তৈরি করা হয়েছিল প্রথম।ছাদ গুলো কিউব আকৃতির ছক কাটা স্তম্ভর উপর দাড় করানো ছিল।ভিত্তি গুলো পর্যাপ্ত ভার যাতে সামলাতে পারে তাই মাটির বেশ গভীর পর্যন্ত ঢালাই করা হয়েছিল।এই আকৃতিতে ছাদ তৈরির ফলে সামনে থেকে বাগানটিকে পাহাড়ের মত মনে হত।ছাদের উপরে উঠার জন্য পেঁচানো সিঁড়ি তৈরি করা হয়েছিল।কিছু ইতিহাসবিদের বর্ণনায় সিঁড়ির পাশ দিয়ে মোটা নল রাখার স্থান ছিল যাতে করে ছাদের একদম উপর পর্যন্ত পানি উঠানো যায়।এই বিষয়টি বেশ বিতর্কিত কারণ যদি কমপক্ষে ৮০ ফুট উঁচুও বাগানটি হয় তবু এত উপরে নল দিয়ে পানি তুলতে হলে মোটর-পাম্প ব্যবহার করতেই হবে।ছাদ,স্তম্ভ এবং সিঁড়ি সবকিছুই তৈরি করা হয়েছিল ইট এবং বিটুমিন দ্বারা।অবশ্য কারো মতে স্তম্ভ ও ছাদ তৈরিতে পাথর ব্যবহার করা হয়েছিল।
ছাদে প্রথম বসানো হয়েছিল নল খাগড়া বিটুমিন এর দ্বারা।তার পর দুই স্তরে ইট বসানো হয়েছিল জিপ সাম এর উপর।মাটির আর্দ্রতা যাতে বজায় থাকে এবং পানি যেন অধিকসময় থাকতে পারে তাই সীসার একটি আবরণ বসানো হয়েছিল এর উপর। সর্বশেষ ঢালা হয়েছিল পর্যাপ্ত পরিমাণ মাটি।
সব চেয়ে আলোচিত বিষয় ছিল এ উদ্দ্যানে জল সরবরাহ করা৴৴৴
কোনও সন্দেহ নেয় বাগানে নিয়মিত পানি সরবরাহটি ছিল সবচেয়ে জটিল কাজ। ইরাকে সাধারণত সারাবছরে বৃষ্টিপাত তেমন একটা হয় না তাই পুরো বছরই কৃত্রিমভাবে পানি সরবরাহ করতে হত বাগানটিতে।বাগানের সর্ব্বোচ্চ অংশ যা কমপক্ষে ৮০ ফুট ছিল তাতে পানি উঠানোটা বেশ শ্রমসাধ্য ও ব্যয়বহুল বটে। তাই কেউ কেউ ধারনা দিয়েছেন বাগানটিতে পানি উঠাতে নিশ্চয় পাম্প ব্যবহার করা হত। তবে কিছু ইতিহাসবিদের বর্ণনায় পাওয়া যায় বাগানটিতে ১০৫০ জনের মত মালী কাজ করত।বাগানটি ছিল ইউফ্রেটিস নদীর তীরে অবস্থিত তাই ম্যানুয়ালি পানি উঠানো শ্রম সাধ্য হলেও অসম্ভব ছিল না।

মিশরের পিড়ামিড

maxresdefaultআল-জিজাহ-র কাছে অবস্থিত,গিজার পিরামিড,মিশরের এক জনপ্রিয় স্থান।এই প্রত্ন তাত্ত্বিক স্থানটি নীল নদের পশ্চিম তীরে অবস্থিত এবং বৃহৎ স্ফিংক্স (গ্রীক পুরাণে উল্লিখিত মানব মস্তক ও সিংহের দেহ বিশিষ্ট মূর্তি) দ্বারা পাহারা রত চতুর্থ রাজ বংশের (২৫৫০ খ্রীষ্টপূ্র্বাব্দ নাগাদ) আমলের সমস্ত বিশিষ্ট শাসকদের যথা খুফূর পিরামিড (জি.আর চেওপস),খাফরে (জি.আর চেফরেন) এবং মেন কৌরে (জি.আর মাইসেরিনাস)-এর পিরামিড সমন্বয়ে গঠিত।পিরা মিডের সামনে, একটি মন্দিরের ধ্বংসাব শেষ রয়েছে,যেখানে থেকে ভ্রমণার্থীরা পিরামিডের ছবি তোলেন।
গিজার গ্রেট পিরামিড বা খুফূর পিরামিড:
বৃহৎ পিরা মিডটি খুফূ-র (কেওপস)-পিরামিড নামেও অভিহিত,যিনি ফারাও হওয়ার পর সম্ভবত পিরামিড নির্মাণ করেছিলেন।৪৮১.৪ ফুট (১৪৭ মিটার) উচ্চতা সমন্বিত,গ্রেট পিরামিড ১৮০০ খ্রীষ্টাব্দ পর্যন্ত সব চেয়ে লম্বা মনুষ্যসৃষ্ট পরিকাঠামো ছিল।এই বৃহৎ পিরামিডটির প্রতিটি দিক কম্পাসের চারটি দিক ভিত্তিক যথা পূর্ব, পশ্চিম,উত্তর ও দক্ষিণ।এই এ এই এই এ দর্শকরা স্হাপত্যের একটি উত্তরণের মাধ্যমে গ্রেট পিরামিডে প্রবেশ করতে পারেন।খুফূর পিরা মিডটি ২০.৩ লাখ পাথরের ব্লক নিয়ে গঠিত এবং ৫৭.৫ লাখ টন ওজন সমন্বিত।
খাফরে (কে ফরেন)-এর পিরামিড:
দ্বিতীয় পিরা মিডটি, খাফরে (কেফরেন)-এর পিরামিড,যেটি কূফু-র পিরামিডের দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত রয়েছে।যদিও এটি গ্রেট পিরামিডের তুলনায় বেশি লম্বা বলে মনে হবে,প্রকৃত পক্ষে এটি কূফু-র চেয়ে ছোট,এটিকে লম্বা দেখায় কারণ এটি উঁচু ক্ষেত্রের উপর দাঁড়িয়ে রয়েছে।এই পিরামিডটি কূফু-র ছেলে খাফরে নির্মাণ করেছিলেন।
মেন কৌরে (মাইসারিনাস)-এর পিরামিড:
তৃতীয় পিরামিডটি,মেন কৌরে(মাইসারিনাস)-এর পিরামিড,এটি তিনটি পিরামিডের মধ্যে এটি সবচেয়ে ছোট এবং এটি প্রায় ৬৭ মিটার (২২০ ফুট) উচ্চতা নিয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে।এটি খাফরে-র ছেলে মেনকৌরে শুরু করেছিলেন।পিরামিড গুলি,চুনা পাথর এবং গ্রানাইট পাথরে নির্মিত,তার অতুলনীয় নির্মাণের জন্য উল্লেখ যোগ্য হয়ে রয়েছে;উচ্চ ডিগ্রী সহ গাণিতিক নির্ভুলতার অতিরিক্ত বৈশিষ্ট্য গুলিও উপস্থিত রয়েছে।কোনো রকম আধুনিক যন্ত্রের সহয়তা ছাড়াই পিরামিড গুলি কিভাবে তৈরি হল,সে সম্পর্কে অনেক তথ্য স্বীকার্য হয়েছে।তবে,পিরামিডের রহস্যের এখনো আরো সমাধান বেরোতে পারে।
বৃহৎ স্ফিংক্স:
গ্রেট পিরামিড বা বৃহৎ পিরা মিডটির সামনে স্ফিংক্স,এটি একটি প্রাণীর মূর্তি যার শরীরটি সিংহের এবং মস্তকটি মানুষের স্ফিংক্স-টি ২০  মিটার (৬৬ ফুট)উচ্চতা নিয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে এবং দৈর্ঘ্য প্রায় ৭৩.৫ মিটার এবং এটি সম্ভবত ৪৫০০ বছরেরও আগে বেলে পাথর দ্বারা উৎকীর্ণ হয়েছিল।
পিরামিডের ইতিহাস:
প্রাচীন তম পিরা মিডের সমষ্টিকে গ্রেট পিরামিড বা বৃহৎ পিরামিড নামে অভিহিত করা হয়।ফারাও কুফূর নামানুসারে এটির নাম করণ করা হয়েছিল,যিনিই murad_05_1285095443_1-p5_ekhono-jader-kobor-deaসম্ভবত পিরামিডটির অনুমোদন করেছিলেন।তিনি চতুর্থ রাজ বংশের দ্বিতীয় রাজা ছিলেন।মধ্যবর্তী পিরামিডটি খাফরের জন্য নির্মিত হয়েছিল।ইনি ওই রাজ বংশের আট জন রাজার মধ্যে চতুর্থ তম রাজা ছিলেন।মেন কৌরের পিরামিড নামেও পরিচিত,অন্তিম পিরামিডটি রাজ বংশের পঞ্চম রাজার নিমিত্তে তৈরি করা হয়েছিল।তবে তখন কার দিনে পিরামিড গুলি কিভাবে নির্মিত তা আজও অধরা রয়ে গেছে।গ্রীক ঐতিহাসিক হেরো ডোটাসের তথ্য অনুযায়ী,গ্রেট পিরামিড নির্মাণ করতে প্রায় ১০০০০০ জন কর্মীদের দীর্ঘ ২০ বছর সময় লেগেছিল।তবে বিংশ শতাব্দীর শেষের দিকে উল্লেখযোগ্য প্রত্নতাত্ত্বিকরা একটি উপসংহারে উপনীত হন যে, এটি ২০০০০ জন কর্মীদের দ্বারা নির্মিত হয়েছিল।তিনটি পিরামিডই প্রাচীন ও মধ্যযুগীয় সময়ে বহু আক্রমণের সম্মুখীন হয়েছিল।

ইফেসাস এর আর্টেমিসের মন্দির:
ইফেসাস এর আর্টেমিসের মন্দিরটি বিশ্বের সাতটি প্রাচীন বিস্ময়ের একটি । ইফেসাস,তুরস্কের ইজমির প্রদেশের পশ্চিম তীরে অবস্থিত যা গ্রিকদের শহর বলে পরিচিত।ধরে নেওয়া হয়,আর্টেমিসের মন্দিরটি ব্রোঞ্জ যুগ তৈরিকরা হয়েছিলো।কিন্তু পরে এক ভয়াবহ বন্যা, অগ্নি সংযোগ ও উপজাতিদের আক্রমণে এটি image_58687ধ্বংস হয়ে যায়। এখন এখানে আছে শুধু ধ্বংসাবশেষ, ভিত্তি প্রস্তর ও স্থাপত্যের কিছু অংশ বিশেষ।

এই চমৎকার মন্দিরটি ৫৫০ খ্রিস্ট পূর্বাব্দে পুনঃনির্মাণ কাজ নির্মান শুরু হয়েছিল।দেবীর মূর্তির ঘরের চারি দিকে দুই সারিতে ৩৬টি কলাম ছিল।যার উচ্চতা ছিল ৪০ ফুট।মন্দিরটির পুরোটাই ছিল মার্বেল পাথর দিয়ে তৈরি।এর ছাদ তৈরি করা হয়েছিল নকশা করা কাঠ দিয়ে।ধারণা করা হয় খ্রিস্টপূর্ব ৮০০ অব্দে গ্রিকরা এই আর্টেমিস মন্দির নির্মাণ করে। মন্দিরটি লম্বায় ৩৭৭ ফুট ও প্রস্থে ১৫১ ফুট। এ মন্দিরটি তৈরি করতে সময় লেগেছিল ১২০ বছর।আনুমানিক খ্রিস্টপূর্ব সপ্তম শতাব্দীতে এক ভয়াবহ বন্যায় মন্দিরটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।মন্দিরের অনেকাংশ বালু ও পলিমাটিতে চাপা পড়ে।

মহান সম্রাট আলেক জান্ডার এর জন্মের সময় মন্দিরে অগ্নি সংযোগ হয়ে মন্দিরটি ধ্বংস হয়ে যায় ।জনৈক ব্যাক্তি ব্যক্তি বিখ্যাত হবার আশায় মন্দিরটিতে অগ্নি
dgzzসংযোগ ঘটায়।পরবর্তিতে আলেক জান্ডারের মৃত্যুর পর খ্রিস্টপূর্ব ৩২৩ অব্দে মন্দিরটির পুনঃ নির্মাণ কাজ শুরু হয়।অনেক বছর ধরে নির্মাণ কাজ চলার পর মন্দিরটি নতুন রূপ পায়।এবার এর আয়তন ছিল আগের চেয়ে অনেক বড়।লম্বায় ৪৫০ ও প্রস্থে ২২৫ ফুট এবং উঁচু ৬০ ফুট।কলাম ছিল ১২৭টি।দেয়ালে ছিল অনেক চিত্র কর্ম আর কলাম গুলো ছিল সোনা-রূপায় মোড়ানো।তাছাড়া প্রতিটি দেয়ালে ছিল মণিমুক্তা ও হীরার মতো মূল্যবান জিনিস।প্রবেশ পথে ছিল দুটি ডায়নার মূর্তি।যা ছিল মার্বেল পাথরের তৈরি ও রত্ন খচিত।মন্দিরটি মার্বেল তৈরির কারণে অনেক দূর থেকে দেখা যেতো এবং রাতে চাঁদের আলোতে চকচক করতো।মন্দিরের ভিতরে ব্রোঞ্জ দ্বারা নির্মিত চারটি নারী এবং আর্টেমিস এর মূর্তি ছিল।
পরবর্তিতে ২৬৮ সালে পূর্ব জার্মানির গোথ উপ জাতি আক্রমণ ও লুটপাট করে এটি ধ্বংস করে লুটপাটের সামগ্রী দেয়।জাহাজে করে নিয়ে তারা চলে যায়। এর dfhjndhপর পুনঃনির্মাণ বা মেরামতের উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল কিনা তা জানা যায়নি।মন্দিরটি এত আকর্ষণীয় ছিল যে দূর-দূরান্ত থেকে ব্যবসায়ীগণ,দর্শনার্থীরা দেখতে আসতো।আবার অনেকে দেবী আর্টেমিসকে শ্রদ্ধা জানাতো স্বর্ণসহ বিভিন্ন জিনিস অর্ঘ্য দিয়ে।ইফেসাসে এখনো দেবী ডায়না বা দেবী আর্টেমিসের স্মরণে খেলাধুলা, প্রতিযোগিতা,নাটক ছাড়াও নানা উত্সবের আয়োজন করা হয়।গ্রিকরা দেবতাদের এবং ইফিষে মাকে প্রচুর সম্মান করতো।উপরন্তু তার সম্মানার্থে Ephesia নামক একটি সিটি ওয়াইড উদযাপন অনুষ্ঠিত হয়।
‘আর্টেমিস মন্দির’ গ্রিকদের হলেও রোমানরা এটিকে ‘ডায়না মন্দির’ বলে।গ্রিক পৌরণিক মতে আর্টেমিস ছিলেন গ্রিকদের দেবী। রোমানরা আবার তাকে বলতো ‘দেবী ডায়না’।দেবী ডায়না বা দেবী আর্টেমিস ছিলেন শিকারের দেবী। প্রাচীনকালে মানুষ শিকার করে জীবিকা নির্বাহ করতো বলে তারা এ দেবীর উপাসনা করতো।
আলেক্সান্দ্রিয়ার বাতি ঘর:
fjmnf
এটিকে অনেক সময় আলেক্সান্দ্রিয়ার “আলোক গৃহ” নামেও বলা হতো,যা নির্মীত হয় টলে মাইক রাজ বংশের রাজত্ব কালে(খ্রিস্টপূর্ব ২৮০-২৪৭),মিশরের fffআলেক্সান্দ্রিয়া থেকে কিছু দূরে সমুদ্রো পকূলের নিকট বর্তী দ্বীপ ফ্যারোসে।এই বাতিঘর নির্মাণের উদ্দেশ্য ছিল নাবিকদেরকে সমুদ্র বন্দরের ভেতরে দিক-নির্দেশনা দেয়া।৩৯০ হতে ৪৫০ ফুট উচ্চতার এই বাতিঘর বহু শতাব্দী ধরে মানুষের নির্মীত সর্বোচ্চ স্থাপনা হিসেবে পৃথিবীর বুকে সগর্বে দাঁড়িয়ে ছিল।৯৫৬ খ্রিস্টাব্দ থেকে ১৩২৩ খ্রিস্টাব্দের মাঝে সঙ্ঘটিত তিন তিনটি ভূমিকম্প দ্বারা বাতিঘরটি ভয়াবহভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ১৪৮০ সালে কুইটবে শহরের নগর দূর্গ বানানোর কাজে এই বাতি ঘরের ধ্বংসাব শেষের পাথর গুলো ব্যবহার করা হয় ১৯৯৪ সালে একদল ফরাসি প্রত্নতাত্ত্বিক আলেক্সান্দ্রিয়া পূর্বাঞ্চলীয় পোতা শ্রয়ে এই বাতি ঘরের কিছু ধ্বংসাবশেষ খুঁজে পান।

অলিম্পিয়ার জিউসের মূর্তি
পৃথিবীর প্রাচীন স্থাপনা গুলোর মধ্যে অলিম্পিয়ার জিউসের মূর্তি একটি।অলিম্পিয়ার জিউসের মূর্তি ফিডিয়াস (Phidias) নামে একজন ভাস্কর দ্বারা নির্মিত
jyp4w7qzহয়েছিল।তার এই মূর্তি সম্পূর্ণ করতে, ৪৩০ থেকে ৪২২ মোট ১২ বছর সময় লেগেছিলো।জিউসেকে গ্রিক দেবতাদের রাজা হিসেবে বিবেচনা করা হত এবং এই মহৎ মূর্তি তাকে সম্মান জানানোর জন্যই তৈরি করা হয়েছে।অলিম্পিয়ায় মন্দিরে এটি স্থাপন করা হয়।যেখানে প্রতি চার বছর পর পর অলিম্পিয়া নগরীতেই জনপ্রিয় ক্রীড়া প্রতিযোগিতার আসর অলিম্পিক অনুষ্ঠিত হয়।বিশ্বের বৃহত্তম এ খেলার আসরটিতে দেবতা জিউসের আশীর্বাদ পেতেই এ বিশাল মূর্তিটি স্থাপন এখানে করা হয়েছিল।পঞ্চম শতাব্দিতে মূর্তিটি অগ্নি দ্বারা ধ্বংস হয়।

চলুন জেনে নেই অলিম্পিয়ার জিউসের মূর্তির আকর্ষণীয় কিছু তথ্য:
৴অলিম্পিক গেমস জিউসের সম্মানে প্রতি চার বছর অনুষ্ঠিত হয়। জিউসেকে ‘দেবতা এবং পুরুষদের জনক’ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তিনি অন্য সকল দেবতাদের রাজা।
৴অলিম্পিয়ার জিউসের মূর্তিটি প্রথমে প্রায় ৪২ ফুট লম্বা ছিল।
৴মূর্তিটি একটি কাঠের ফ্রেম দিয়ে তৈরি এবং আইভরি ও স্বর্ণ প্যানেল দ্বারা আবৃত ছিল।
৴ভাস্কর ফিডিয়াস গ্রীক পুরাণের দেবী আথেনা অনুরূপ আকারের মূর্তিটি তৈরি করেছেন। Athena এর ভাস্কর্য এথেন্সের পার্থেনন জন্য তৈরি করা হয়েছিলো।৴যে দ্বীপের উপর মূর্তিটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল তার পুরোটা জুড়ে এর ভিত্তি তৈরি করা হয়েছিল। এটি ছিল ৪০ ফুট উচু ও ৬ ফুট ব্যাসার্ধের। সাতজন মিস্ত্রী আড়াই বছর অক্লান্ত পরিশ্রম করে মুর্তিটি তৈরি করেন।
৴অলিম্পিয়ার জিউসের মূর্তি পঞ্চম শতাব্দিতে অগ্নি দ্বারা ধ্বংস হয় এবং এরপর এর কোন কপি পাওয়া যায়নি। এখন মূর্তিটি সম্পর্কে সমস্ত বিবরণ কয়েন এবং প্রাচীন গ্রিক বিবরণ ও অঙ্কন থেকে পাওয়া যায়।
৴কাঠ দ্বারা মূর্তিটির ফ্রেম তোইরি করা হয়েছিলো। মুর্তিটির যাতে কোনো ক্ষত্যি না হয় এর জন্য খুব স্যাঁতসেঁতে এবং আর্দ্র জায়গায় বিশেষ যত্নে তৈরি করা হয়। এবং এর সংরক্ষণের জন্য নিয়মিত এর কাঠে জলপাই তেল প্রয়োগ করা হতো।
৴মূর্তিটি ভূমিকম্প দ্বারা ১৭০বিসি ক্ষতিগ্রস্ত হয়, কিন্তু এটি মেরামত করা হয়।
৴চতুর্থ শতকে সম্রাট কনস্টান্টটাইন খ্রিস্টান ধর্মে রূপান্তরিত হলে, তিনি অলিম্পিয়ার সব স্বর্ণ ও জিউসের মূর্তি সহ সবকিছু পৌত্তলিক মন্দির থেকে ছিনতাই করার আদেশ দেন।
৴৪২৫ খ্রিষ্টাব্দে খ্রিস্ট ধর্মের প্রসারের সাথে সাথে ধ্বংস করে ফেলা হয় মুর্তিটি।
৴প্রত্নতত্ত্ববিদগণ ১৯৫০ সালে ফিডিয়াস কর্মশালা আবিষ্কার করেন। তাদের খনন এর সময় তারা সে সময়ের অলিম্পিয়ার জিউসের মূর্তি তৈরি করতে ব্যবহার করা সরঞ্জাম আবিষ্কার
কলোসাস অব রোডস বা রোডস দ্বীপের বিশাল মূর্তি
এই মূর্তিটি নির্মাণ করা হয় মহান গ্রীক টাইটান যোদ্ধা হেলিওস এর সম্মানে।চ্যারেস অব লিনডন গ্রিসের রোডস শহরের উপকূলে রোডস দ্বীপে ২৯২-১৮০ 3uya2mnxখ্রিস্টপূর্বাব্দে মূর্তিটি নির্মাণ করেন রোডস দ্বীপ দখলে সাইপ্রাস রাজ এন্টিগনাস-আই মনো পথনাসের ছেলের পরাজিত হবার ঘটনাকে দ্বীপ বাসীর কাছে স্মরণীয় করে রাখার জন্য।এই যুদ্ধটি ৩০৫ খ্রিস্টপূর্বে সংঘটিত হয়।২২০ খ্রিস্ট পূর্বাব্দের ভূমি কম্পে ধ্বংস হয়ে যাবার আগ পর্যন্ত ৪৩ মিটার উচ্চতার এই মূর্তিটি পৃথিবীর সবচেয়ে উঁচু মূর্তিগুলোর একটি ছিল।
মহা বীর আলেক জেন্ডার বেঁচেছিলেন মাত্র ২৩ বছর।এই অল্প জীবনে সে পৃথিবীর অনেক অংশ জুড়ে তার রাজ্য বিস্তার করেছিলেন।তার রাজ্যের মধ্যে আটলান্টিক সাগরের মেডিটেরিয়ান অঞ্চলের রোডস দ্বিপটিও ছিলো।রোডস দ্বিপটি ছিলো প্রাচীন গ্রীস দেশের একটি অংশ।এই দ্বিপটি ছিলো ব্যবসা বাণিজ্যের কেন্দ্রবিন্দু। মহাবীর আলেকজান্ডার অল্প বয়সেই কোন এক পোকার কামড়ে  খ্রিষ্টপূর্ব ৩০০ অব্দে মারা যান।আলেকজান্ডার এর মৃত্যুর পর তার তিন সেনা পতির মধ্যে রোডস দ্বিপটি দখল করা নিয়ে মত বিরোধ দেখা দেয়। রোডস দ্বীপের মানুষ জেনারেল টলেমির পক্ষে ছিলো।দু’র্ভাগ্যবশত জেনারেল টলেমি মিশর দখল করলেও গ্রীসের এই অংশটি দখল করতে পারেন নি।অন্য একজন জেনারেল দ্বীপটির দখল নেন।কিন্তু রোডস দ্বীপের মানুষ এই জেনারেলকে সমর্থন না করায় তিনি বেদম রেগে যান।তিনি তার ছেলেকে রোডসের মানুষদেরকে শায়েস্তা করতে বলেন।শায়েস্তা করতে এসে ঐ জেনারেলের ছেলে ব্যর্থ হন।অন্য দিকে জেনারেল টলেমি মিশর থেকে একটি সৈন্য দল পাঠান দ্বীপটিকে শত্রু মুক্ত করতে।তখন রোডসের জনগণ ও সৈন্য বাহিনী মিলে শহরকে শত্রু মুক্ত করেন।শত্রুদের ফেলে দেওয়া অস্ত্র ও অন্যান্য ফেলে দেয়া জিনিস গলিয়ে প্রচুর তামা পেয়েছিলো রোডস এর মানুষরা।এই তামা দিয়ে তখন তারা সূর্য্য দেবতা হিলিয়াসের এক বিশাল মূর্তি নির্মাণ করে।মূর্তিটি ছিলো ১১০ ফিট উঁচু।এর ভিত্তি প্রস্তরের উচ্চতা ছিলো ৫০ ফিট।এই সুবিশাল মূর্তিটি তৈরী করতে সময় লেগেছিলো  প্রায় ১৫ বছর ।
হ্যালিকার্নাসাস-এর সমাধি স্তম্ভ:
সমাধি স্তম্ভটি নির্মীত হয় ৩৫৩-৩৫০ খ্রিস্ট পূর্বাব্দে পারস্য সাম্রাজ্যের একজন প্রাদেশিক শাসন কর্তা মৌজুলাস ও তার স্ত্রী আর্টেমিসিয়া অব ক্যারিয়ার স্মরণে।এর নকশাঁ করেন গ্রিক স্থপতি সাইরটস এবং পিথিয়াস অব প্রিন।সমাধিটি ছিল ৪৫ মিটার উঁচু এবং এর চার প্রান্ত যথা ক্রমে চার জন গ্রিক স্থপতি নির্মাণ করেন- লিওক্যারিস,ব্রিএক্সিস,স্কপাস অব প্যারোস এবং টিমোথিউস।এটার নান্দনিক সৌন্দর্য সবাইকে এতোটাই মুগ্ধ করে যে তা প্রাচীন পৃথিবীর সপ্তাশ্চর্য তালিকায় স্থান লাভ করে।বর্তমানে এর কিছু ধ্বংসাব শেষ ব্রিটিশ মিউজিয়ামে সংরক্ষিত রয়েছে।
………………………………………………………………………………..ধন্যবাদ।

এই লেখাটি সন্মূর্ণ বিভিন্ন অনলাইনের বিভিন্ন মাধ্যমে যে তথ্যটি বেশীর ভাগ সঠিক তাই ইউজ করা হয়েছে।হয়তো আপনাদের কাছে আরো নতুন কিছু তথ্য জানা থাকতে পারে তা কমেন্টসসে যোগ করলে কৃতার্থ হব।
সহযোগিতায়:অনলাইন ও উইকিপিয়া  অন্যান্য।

১৯৩১জন ১৯১২জন
0 Shares

১৮টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

লেখকের সর্বশেষ মন্তব্য

ফেইসবুকে সোনেলা ব্লগ