#বিশ্বাসে_বেশ্যালয় (পর্ব ২)

হৃদয়ের স্পন্দন ২২ মার্চ ২০১৭, বুধবার, ১২:৪১:০৬অপরাহ্ন বিবিধ ১২ মন্তব্য

দৌলতদিয়া, যেখানে সরকারের হিসাবে ১৩০০ যৌনকর্মী থাকলেও তাতে রয়েছে ৭০০০ এর বেশি। সে পল্লীতেই নতুন মুখ এসেছে। নাম রমা রয়। এসেই লীড চেয়ে বসেছে, ভাবখানা এমন যে সে এই পল্লীর কত বছরের পুরোনো বাসিন্দা। তার নিজের একটা ঘর লাগবে, সে স্বাধিন ভাবে কাজ করবে, বিনিময় সে ঘর ভাড়া আর প্রতি মাসের মানতি সর্দার এর ঘরে পৌছে দিবে, এলাকার কোনো নেতা মন্ত্রী বা কোন পাতি মাস্তান এলে কেউ তাকে অনুরোধ বা আদেশ করতে পারবেনা যেনো ফ্রী তে আসনে বসানো হয়। তাহলেই সে থাকবে নয়তো চলে যাবে। এ আহামরী কোনো সুন্দরী নয়, সে চলে গেলেও এ পাড়ার কিছু হবেনা, বরং পুরাতনেরাই খদ্দের পায়না, এ আবার আরেক যন্ত্রণা। কিন্তু তাকে এইখানে দিয়ে গেছে উঠতি মাস্তান পরেশ। দৌলতদিয়া পল্লী তে তার কিছু না থাকলেও পল্লীর বাহিরে চারপাশে রয়েছে তার রাজত্ব। মাঝে মাঝে আসে, ফ্রী তে মদ খায়, কারো ঘরে যায়, টাকা দেয়না। এতে তাকে কেউ কিছু বলেনা, বরং উঠতি বেশ্যাদের কাছে তার রয়েছে অগাধ সম্মান। ভাবনায় পড়ে যায় সর্দারের চ্যালা নিশিতা। সর্দারের বাচ্চারমা সে, সর্দার গেছেন ইন্ডিয়া, নতুন কিছু শিখ মেয়ে আনতে। এদের চাহিদা বেশি। তারসাথে যোগাযোগ নাই, আসতে বেশ কয়েকদিন লাগবে। আবার এই মেয়ে যা শুরু করেছে যা চাচ্ছে তা হয়তো দেয়া যাবে, একটা ঘর এমন কিছু না, কিন্তু মান্যগণ্য ব্যাক্তিদের কেউ যদি তার ঘরে বসতে চায়, সে যদি না করে তাহলেই যন্ত্রণা হবে। এমনিতেই গত মাসে স্থানীয় গুন্ডা রহিম নাজনীন কে চড় দিয়েছিলো। সব মেয়ে মিলে বেটাকে মেরে ফেলে, তা নিয়ে পুলিশের হ্যাস্তন্যাস্ত, ধরপাকড়, খদ্দের কমে যাওয়া সব মিলিয়ে পরিস্থিতি ঘোলাটে। অনেক ভেবে চিনতে অবশেষে সিদ্ধান্ত নিয়েছে নিশিতা। এই মেয়েকে ঘর দেয়া হবে। লাঠি যেভাবে চলে সেভাবেই চালাবে সে। মেয়েরযে ত্যাজ, তাতে তাকে দিয়েই হয়ত চালিয়ে নেয়া যাবে পল্লীর অন্যান্য কাজ। সাধারণ মেয়েরা হীনমন্যতা থেকে ঘাড়ত্যাড়া হয়, জেদী হয়, কিন্তু বোকাই থেকে যায়, হয়তো ধুরন্ধর হয়, তবে চালাক না। এই মেয়ে চালাক আছে। অতএব শেষ সিদ্ধান্তে আসে নিশিতা। তাকে ঘর দেয়া হবে, কিন্তু এ মুহুর্তে ঘর খালি নাই, তাই তাকে কয়েকদিন নিশিতার ঘরেই থাকতে হবে। এ সুযোগে মেয়েটার হাবভাব বুঝে নিতে চায় সে।
**-**
অমলেশের মেজাজ খারাপ রয়েছে, তার মায়ের বিরুদ্ধে কিছু না পাওয়া গেলেও আদেশ হয়েছে এ মহিলা যেহেতু না বলে সর্দারনীর ঘরে ঢুকেছে তাই তাদের আসন পাতা নিষেধ এক মাস। এরকম একটা পরিস্থিতিতে অমলেশ পড়বে সেটা সে ভাবেনি। বোন টা বড় হচ্ছে গ্রামে, সে জানেনা তার মায়ের কাজ বা ভাই কই থাকে। এ মাসেই বোনের বিয়ে। প্রয়োজন প্রায় লক্ষাধিক টাকার, বর এ পাড়ায় মদ বেচা কানা আলমগীর এর ছেলে। সেও জানেনা তার বাবা বা মা কি করত। আলমগীরের বউ আমৃত্যু ছিলো গাঙ্গিনার পাড়ের সর্দারনী। যদিও ছেলে জানেনা তার কিছুই। আর যদি দৈবক্রমে দুজনে দুজনের ইতিহাস জেনে যায়, তাতে কোনো সমস্যা হবেনা বলেই মনে হয়। মেতরদের কখনো সম্মান নিয়ে ঝগড়া লাগেনা, লাগে টাকা নিয়ে। এদের ও তাই হবে, আত্মসম্মানে কেউ কাউকে আঘাত করতে পারবেনা, বাকি যেটা থাকে সেটা ভালোবাসা, কিন্তু টাকার যোগার কই হবে? মায়ের কাজ বন্ধ!
অনেক ভাবনা চিন্তা করে সিদ্ধান্তে উপনীত হয় অমলেশ। একটা কিছু তাকেই করতে হবে। কিন্তু কি করবে সে? মাগীর দালাল? এ পাড়ায় আসলে এই দালালী হয়না। উন্মুক্ত দরজা। যখন তখন যারতার প্রবেশ। এলেই মেয়েদের টানাটানি, কেউ একজনের ঘরে চএল যায়, হাই লেভেলের দালালী হবেনা, হাই লেভেলের দালাল দের কাজ ভিন্ন রকম। তারা খোজ রাখে কোনঘরে নতুন মেয়ে এসেছে, বয়স কত। চোখের দেখায় একদম নিখুত মাপ নিয়ে যায় তার বডির। তারপর ফোন করতে হয়, স্যার, এইরাম মালটা। এখনো বেশি মাইনষের নজরে পড়েনাই। আপনে চাইলে বাসায় নিতে পারেন, আর আইতে চাইলে কন, এক সপ্তাহ ব্যবসা ছাড়া রাখুম, তাতে আহমনে অনেকটা ইন্টেক পাইবাইন। আরযা দেখলাম, কি কইতাম স্যার লুব আমারোই মানেনা, আহমনের লাইউগা খালি অহনো গেছিনা। এই একটাই ফাপড় দিতে হবে জনা বিশেক কে। যাদের সবাই বড় মাপের। আর্মি বা পুলিশ অফিসার, স্বনামধন্য ব্যবসায়ী, ব্যবসায়ীর ছেলে কোনো বড় কর্পোরেট অফিসা, বা গুন্ডা। রাজনৈতিক কেউ না। গুন্ডারা এলে টাকা দেয়, কিন্তু ঐ শালারা ছ্যাচড়া। এ কাজ ও অমলেশ কি দিয়ে হবেনা। কেননা বেশ্যাপল্লী তে বেড়ে উঠলেও তার শিক্ষা ছিলো অন্যরকম। আর দশটা ছেলের মত নয়।
তাই তাকে ভিন্ন কিছু করতে হবে। সে শরণাপন্ন হয় তার বন্ধু সুমনের। সুমনের কাছে রয়েছে রমার নাম্বার।
**_**
আজ তিনদিন, নিজের ঘর পায়নি এখনো রমা। আগে খদ্দের এলে শুধু খদ্দের কে তৃপ্ত করা ছিলো লক্ষ্য, কিন্তু আজ কিছুদিন যাবৎ মানে গত তিনদিন যাবৎ সে নিজেই ক্ষুধার্ত। নিজের এ আকস্মিক পরিবর্তনে নিজেই অবাক হয় সে। এও কি সম্ভব? কাম জাগে তার, জাগে প্রেম। নিজের অজান্তেই মনে পড়ে অমলেশ কে। ১৯ বছরের তাগড়া যুবক। বয়সে তার থেকে কিছু ছোটো সে। সেসব কোনো ব্যাপার না। এসেছে বেশ্যা ব্যবসায় তার আবার ধর্ম। ধর্ম না থাকলেও তার কর্মের একটা রকম রয়েছে। পুরুষ মানুষ কে হাড়ে হাড়ে চেনে সে। এরাই দেবতা এরাই নর্দমার কীট। যৌনতা, এদের শুধু ঐ পর্যন্ত গেলেই হলো, সঙ্গীনি তৃপ্ত হলো কিনা সেটা জানার দরকার নাই তাদের, অবশ্য এটাও ঠিক নয়, তার কাছে যারা আসে তারা কেবল নিজের চাহিদা মেটাতেই আসে। সঙ্গিনীর তৃপ্তির জন্য ঢালে টাকা। সঙ্গিনী ও তাতেই তৃপ্ত হয়। এসব ভাবার ফাকে তার সেলফোনে আওয়াজ হয়, ছোটো এক মেসেজের শব্দ। খুদেবার্তা দেখে সে, তাতে লেখা ছিলো
“কেমন আছো? না জানিয়ে চলে গেলে! খদ্দের আছে কিনা জানিনা, হয়তো আমাকে পেলে আর খদ্দের পাবেনা তাই পালিয়ে যাওয়া, ফোন দিয়ে বিরক্ত করলাম না, খদ্দের না থাকলে ফোন দিও- অমলেশ”
ভিতর টা দুমড়ে মুচরে যায় তার, ডায়াল করে ফোন কানে নেয় সে। তার মনেই থাকেনা তার ফোনে টাকা নেই।
ভাবতে বসে রমা সে কেনো এসেছিলো নীরবে পালিয়ে। কিছু টাকা ক্যাশ হলেই সে চলে যেতো এখান থেকে। মাতাল স্বামী আছে তার। সবার অলক্ষ্যে খদ্দের সেজে যে আসে রমার কাছে। টাকা নিয়ে যায়। এভাবে চলতে থাকলে কোনোদিন অমলেশ কে পাওয়া হবেনা তার! আর সেই কিনা ভুল বুঝলো!!!!16938898_1265844663502095_1418740441975113948_n

৪৪৮জন ৪৪৮জন
0 Shares

১২টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

লেখকের সর্বশেষ মন্তব্য

ফেইসবুকে সোনেলা ব্লগ