পুলিশের বড়কর্তা রুবেলের মেজাজ খিটখিট করছে। বালের এক সেকেন্ড অফিসার এসেছে থানায়, যার কাজ হলো উদ্ভট কিসিমের। কাকে কি করতে হবে সে বিষয়ে কোনো জ্ঞান ই নেই। হিউমার যে স্থান কাল ভেদে ভিন্নরকম তা এই গরুছাগল কে বোঝাবে? ইদানীং কালের পোলাপান গুলাও যা হইসে, হয় এরা হিমু নয় মিসির আলী। সবজায়গায় রহস্য করবে না হলে লজিক খুজবে। আরে বেটা লজিক কি তোর বাপের সম্পত্তি? মনে মনে খিচড়ে উঠে সে। কাজ নেই কাম নেই, কোথায় কে খুন হলো, কোথায় ধর্ষণ হলো সেসব না খুঁজে বেটা পড়ে থাকে মাগিপাড়ায়। নেশাখোর, নতুন খদ্দের দেখলেই সে ধরে নিয়ে আসে। তার ধারণা নতুন খদ্দের ধরে আনলে ছেলেদের মনে ভয় ঢুকবে। তারা আর ঐসব জায়গায় যাবেনা। এই শালা হিজড়া নাকি তাও মাঝে মাঝে ভাবে রুবেল আহমেদ। আজ ধরে এনেছে মন্ত্রীর শ্যালক কে। জলে থেকে কুমিরের সাথে যুদ্ধ! শুধুই আনেনি, তাকে ধমক দিয়ে কথা বলায় ইতিমধ্যেই গরম ডিম থেরাপি দেয়া হয়েছে। সাধারণের ধারণার সাথে গরম ডিম ধারণা যায়না, সেকেন্ড অফিসারের গরম ডিম থেরাপি ভিন্ন রকম, পায়ের পাতায় বাড়ি দিবে, মুখ হা করলে মুখে গরম ডিম দিয়ে মুখ চেপে ধরে রাখবে। আর এই ডিম থেরাপি নির্ভর করে আসামীর পকেটে কত টাকা আছে! আসামীর টাকায় সে ডিম কেনে। এ নিয়ে বেশ যন্ত্রণা পোহাতে হবে তাকে। এই ছেলেটাকে বদলি করার কোনো সিষ্টেম নেই, এই শালা আরেক মন্ত্রীর ছেলের বন্ধু হয়ে বসে আছে। কি এক অবস্থা। এইদিকে তার বের হতে হবে। তার মেয়ে সানজিদার আজ পরীক্ষা। এডমিশন টেষ্ট। বড় আল্লাদের মেয়ে তার, দু মাস বয়সে তার মা মারা যায়, শুধু মেয়েটার মুখের দিকে তাকিয়ে বিয়ে করেনি রুবেল আহমেদ। এর কারণে সে যে একদম অভুক্ত তাও নয়। তখন তার পদোন্নতি হয়নি, বাসার কাজের মেয়ে ভিবিন্ন আবাসিক হোটেলে যাতায়াত ছিলো তার। সব থেকে বেশি যেত গাঙ্গিনার পারে। একবার এক কাজে গিয়েছিলো সে ময়মনসিংহ, সেখানকার এক হাবিলদার তাকে নিয়ে গিয়েছিলো পাড়ায়। সেখানের এক মহিলা নাম সীতা। মাথায় সিঁদুর, শাড়ি পড়া। দেখেই প্রেমে পড়ে যায় রুবেল আহমেদ। মাসে দু তিনদিন কুমিল্লা থেকে ময়মনসিংহ যেত সে। অনেকটা এমন যে বউ গ্রামে, স্বামী ঢাকা। মাসে দু একবার দেখা। তার কাছে মনেই হতোনা একজন বেশ্যার কাছে যাবার জন্য এতটা পথ পাড়ি দিত সে। সবই ঠিক ছিলো, শুধু ধর্মের কারণে বিয়ে হলোনা তার। দেখতে এতটা সুন্দরী না হলেও তার মাথার সিথি ই হয়তো পাগল করেছিলো রুবেল আহমেদ কে। হয়তো সিথি সিঁদুর মহিলা সে কম দেখেছে বলে, কিংবা ভিন্নরকম স্বজাতি বলেই হয়তো মুসলমান পুরুষদের ভিন্ন রকম নারীদের ভালো লাগে। গত কয়েকবছর যাওয়া হয়না তার, আগের মত শক্তি ও নেই। তবুও সে যেত, পাশাপাশি বসে কথা বলত সে। অজ্ঞাত কারণে আজ সীতা তাকে ফোন করেছে। আসছে বলেই জানালো। এদের কই জায়গা দিবে সে? আর এতদিন পর হুট করে এই যোগাযোগ বিশেষ ভালো লাগছেনা রুবেল আহমেদ এর। এলে এই মহিলা একা আসবেনা, তার সুদর্শন ছেলে অমলেশ কে সাথে নিয়ে আসবে। অন্য কোন উপায় নেই, তাদের আসতেও বলে দিয়েছে। আর তাদের নিজের বাসাতেই থাকতে দিতে হবে। সব মিলিয়ে অদ্ভুত অবস্থা তার। মন্ত্রী ফোন দিয়েছে সে আসছে, সীতা বাসে উঠেছে, মেয়ে তৈরি হয়ে অপেক্ষা করছে বাবা তাকে ভার্সিটি নিয়ে যাবে। টেনশন কমাতে একটা জন প্লেয়ার মুখে নেয় রুবেল আহমেদ।

**_**
তিশা পরিবহনের বাসে বসে আছে সীতা দেবী। গন্তব্য কুমিল্লা দ্বেবীদ্বার। তার পুরোনো খদ্দের এসপি রুবেল আহমেদ এর কাছে। যাকে একসময় তিনি রবু বলে ডাকতেন। পাশেই বসে আছে ছেলে অমলেশ। সে তার মায়ের সাথে যাবেনা বলেছে। ফেরিঘাট নেমে সে যাবে দৌলতদিয়া। তার কিছু কাজ রয়েছে সেথায়।

পর্বঃ৪

রাত প্রায় তিনটা। কিছুতেই দু চোখে ঘুম আসছেনা। মনের অস্থিরতা বেড়ে চলেছে অমলেশের। এসেছিলো কার কাছে, আর থাকতে হচ্ছে কার কাছে। মা এক পুরোনো খদ্দেরের কাছে গিয়েছে, আসার পথে সব বলেছে তাকে। পুলিশের বড় কর্তা রুবেল আহমেদ। থাকার আশ্রয় চাইবে সে, এর মাঝে এই এলাকায় একটা ফ্ল্যাট বাসা পেয়ে গেলেই হবে। তার বিশ্বাস রুবেল আহমেদ তাকে ফেরাবেনা। পুলিশের ছায়াতলে বেশ্যা ব্যবসা। এতে অমলেশ কে কি করতে হবে তাও বেশ ঠান্ডা মাথায় বুঝিয়েছে তার মা। তেমন কিছুইনা, খদ্দের কে বলা যাবেনা তাদের মা ছেলের সম্পর্ক। বরং একটু অতিরঞ্জিত কথাই বলতে হবে। যেমন "মাল টা সেই মিয়া, একদম নতুন" অথবা খদ্দের রিসিভ করে এনে মিট করানোর সময় - "স্যার যেন খুশি হয়, নাইলে তোমারে আর কাজে নিমুনা"। এসব কিছুই ভালো লাগেনি অমলেশের। পরিকল্পনা যা করেছে তা বাস্তবায়ন না হলে মায়ের মুখের উপর বলতেও পারবেনা এসব ছেড়ে দাও মা। সে রাজি হয়। কিন্তু তার মন বলে ভিন্ন কথা। অস্থিরতা কমছেনা কিছুতেই। অমলেশ এসেছে রমার সাথে দেখা করতে নিশিতা নয়। অথচ রমা নেই। রমাকে অন্য ঘরে দিয়ে নিশিতার ঘরে অমলেশ কে থাকতে বলেছে নিশিতা । মহিলা অনবরত গাঁজা খাচ্ছে। অমলেশের কামনা জেগে উঠছে কিনা অমলেশ তা বুঝতে না পারলেও এটা পরিস্কার যে আজ অমলেশ ধর্ষিত হতে যাচ্ছে। এটা যদি পত্রিকার হেডলাইন হয় তাহলে কেমন হত? "বেশ্যা সর্দারনী কতৃক বেশ্যার ছেলে ধর্ষিত "। অজান্তেই হেসে উঠে অমলেশ। মনে পড়ে রমার কথা- "মাগি ব্যবসায় আবার জাত পাত, কাটা আকাটা। হিন্দু আর মুসলিম নাই, কাপড় খুলতেই হবে"।
**_**
হাসান সাহেবের মেজাজ আজ বেশ ঠাণ্ডা, বহুদিন পর সুস্থ মস্তিস্কে খুন করেছেন তিনি। তাকে সাধারণত প্রচুর মদ খেয়ে সাথে ভাং দিয়ে শুধু ভাং দিয়ে দু সিগেরেট গাঁজা খেয়ে খুন গুলা করতে হয়। আজ সে একদম ঠান্ডা মাথায় খুন করেছে। যতটা না টাকার প্রয়োজনে ততটা নিজেকে যাচাই করতে। ইদানীং হাত খুব একটা রক্তে রঞ্জিত হয়না তার। এলাকায় তার একটা গুড উইল আছে। গুড উইল শুধু গুড উইল ই। এটা খারাপ ভালো সকল কাজেই। একজন দানশীল এর গুড উইল যেমন এলাকার সবাই তাকে দানশীল বলে জানে, সমাজসেবার জন্য তার কাছে যায়, তেমনি নিজের মেয়েকে বখাটেরা উত্যক্ত করলে অন্যরা যায় পাড়ার পাতি নেতা বা অতি গুন্ডার কাছে। হাসান সাহেবের গুড উইল হলো তার সাথে টেক্কা দেয়া যায়না। কেউ খুন হলে হাসান সাহেব জানে কেনো হয়েছে, সকলের ধারণা কে করেছে সেটাও তিনি জানেন, কিন্তু বলেন না। আর কারো ধারণা খুন তিনিই করান। এটা ভুল, তিনিই করেন, ইদানীং দু চারটে করান। একটা দুটো তো আর নয়, প্রায় প্রতিদিন ই এখানে সেখানে দু চারটে আছেই। আজ বহুদিন পর নিজ হাতে একটা খুন করলেন। এ জন্য তিনি কোনো পারিশ্রমিক পাবেন না। কুমিল্লার এ এস পি তাকে কাজটা করতে পাঠিয়েছে। গাঙ্গিনার পার এলাকার নডিপাড়ার সর্দারনি কে খুন। খুব একটা বেগ পেতে হয়নি তাকে। সর্দারনী মানুষ,,এসব করেন না আর। তাকে শুধু বলতে হয়েছে তিনি চট্টগ্রামের এডিসি। আর তাকেই তার পছন্দ হয়েছে। খুন টা করতেও বেশি বেগ পেতে হয়নি তাকে। সঙ্গম এর এক ফাকে সিরিজ টা স্পাইনাল কর্ড বরাবর পুশ। কেল্লা ফতে। ইনি হাসান সাহেব, গত বছর রাজনৈতিক কোন্দলে নিজে পড়েছিলেন, সুযোগ বুঝে একটা ফরেনার খুন। কেশ পুলিশ থানা সব আউলে গেলো জঙ্গি ইস্যুতে, তিনি রইলেন বহাল তবিয়তে।

0 Shares

২টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

মাসের সেরা ব্লগার

লেখকের সর্বশেষ মন্তব্য

ফেইসবুকে সোনেলা ব্লগ