সকালের রোদ তখনও কৈশোর পেরিয়ে যৌবনে পদার্পণ করেনি, এমনি এক আলোকময় ক্ষণে বিভার জন্ম। সবার চোখ ধাঁধিয়ে গেল তার রূপের ঝলকে। বাবা-মায়ের অনেক সাধনার ধন এইমাত্র ধরিত্রীর বুকে অবস্থান নেয়া বিভা। বিভা এক পা হাঁটে দু’পা হাঁটে চারিদিকে শুধু আলোকরশ্মি ছড়িয়ে পড়ে।

 

কিন্তু বিভার জীবনের আলো একটু একটু করে নিভতে থাকে, জীবনের ভালো লাগা গুলো পরিণত হয় দূর্বিসহ যন্ত্রণায়। যেন প্রদীপের নিচে অন্ধকার বিভার জীবন । বিভা বের হতে চায় , হাসতে চায় কিন্তু অশুভ, শক্ত, নিষ্ঠুর করতলে চাপা পড়ে বিভার শৈশব, কৈশোর। বিভা নোংরা থাবায় বারবার কলুষিত হয়। চিৎকার করা কান্নাগুলো ঘরের বাইরে যেতে পারে না, হৃদয়ের গহীন অরণ্যে চাপা পড়ে, প্রতিফলিত হয় অন্ধকার হৃদয়-কুটিরে।

 

স্বপ্নের রঙীন পাখাগুলো একটি একটি ঝরে পড়ে অকালপ্রয়াত নোটিশে। এমন করেই বিভা হয়ে পড়ে স্বপ্নহীন, ধূসর বিবর্ণ মাতৃজঠরে। যেখানে কোনো নতুন আকার, রক্ত ধাবিত হয় না প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে বিস্তারে। বিভারা এভাবেই উল্কাপিন্ডের মতো আলো ছড়িয়ে ঝরে পড়ে , হারিয়ে যায় কোনো গভীর খাদে যেখান থেকে আর ফেরা হয় না আকাশের চাঁদ, তারা হয়ে আলোর বাহক হবার।

 

‘নারী দিবসে’ নারীর মুক্তি আদৌ কি মিলেছে?? বিভারা জন্মায় মাংসপিন্ডের দলা নিয়ে, রাতের আঁধারে অন্ধ কুঠিরে শাহী খাদ্যভান্ডারে রূপান্তরিত হতে। নারীর মুক্তি নেই, মহাকাশে যতই নক্ষত্রের আলোক উৎসব পালন করো –

“বিভা-রা চিরবন্দী ঘরে-বাহিরে।”

 

ছবি-গুগল

১৯৪জন ৩১জন
0 Shares

১৮টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

ফেইসবুকে সোনেলা ব্লগ

লেখকের সর্বশেষ মন্তব্য