বিবেক….পরাজয়

মনির হোসেন মমি ৬ নভেম্বর ২০১৩, বুধবার, ০৮:৫৪:৪৭অপরাহ্ন একান্ত অনুভূতি ১৫ মন্তব্য

মানুষ মানুষের জন্য

জীবন জীবনের জন্য

একটু সহানুভুতি কি……

মানুষ পেতে পারেনা………ও বন্ধু।

 

ভুপেন হাজারিকার সেই কালজয়ী গান।কত বার কত দিন কত জন যে গানটি শুনেছে তা আর বলার অপেক্ষা রাখেনা।কিন্তু কয়জনই বা গানটি মহত্ত্ব বুঝে…তাই গান গানের যায়গায় রয়েই আর গেলো আমরা আমাদের যায়গায় এখনও অটল।গত কাল আমি এবং বন্ধু বাশারকে নিয়ে গিয়েছিলাম এলাকার চিটাগাং রোড বর্তমান ওয়ার্ড কমিশনার এবং আলোচিত ব্যাক্তি নুর হোসেন এর বাড়ীর পাশে মাছ বাজারের সাথে ডেমড়া রোডের ডি,এন,ডি বাধ ঘেষে ময়লা আর্বজনায় মাথা হাটু এক করে নিশ্চুপ শুয়ে আছে এক বৃদ্ধ মহিলা ।তার পাশ দিয়ে মিনিটে হেটে যাওয়া আসা করছে অসংখ্য মানুষ।সে দিন আমরা সেই দিক দিয়ে চলে আসছি হঠাৎ চোখে পড়ল এই দৃশ্য ।চোখ ফেরাতে পারলাম না পিছু হটে ফিরে এলাম তার কাছে।জরাজীর্ন ময়লা টুকরো কাপড়ে ঢাকা ছিল তার সম্মানটুকু ।পকেট থেকে মোবাইল বের করলাম ছবি তুলে ব্লগে কিছু লিখতে কিন্তু আমার ভিতরের আমিটা বিদ্রোহ করে বসে…হলুদ সাংবাদিকদের মত একজন অসহায়ের ছবি তুলে বাহবা কামাবে?স্বর্থপরের মত একজন হতদরিদ্র অসহায় মানুষকে  দিয়ে মানুষ হিসাবে বানিজ্য করতে লজ্জা করেনা।সেওতো তোমারই মত মানুষ ।সেওতো কারো মা।আরো অবাক হলাম যখন দেখলাম খাদ্যের সন্ধানে একটি কুকুর এসে বৃদ্ধ মহিলাটির এক পা জিহবা দিয়ে চাটছে যেন মনে হল কুকুরটি তার পায়ে জমে থাকা ময়লাগুলো পরিষ্কারে ব্যাস্ত অথচ মানুষ বলে সৃষ্টির সেরা জীব ..মানুষ হয়ে মানুষের কোন খবরই রাখিনা।ফিরেও তাকাইনা সহযোগিতার ভয়ে। ইসলাম ধর্মে যাকাতের মত সংস্হা তৈরী করেছিল এ সব হত দরিদ্র মানুষের জন্য।সংস্হা সংস্হার  যায়গায় ঠিকই আছে কতিপয় কর্মকর্তারা এ থেকে সুবিদাও নিচ্ছে শুধু এ সব হত দরিদ্র ছাড়া।এ দেশে যে পরিমান ধনী আছে শুধু তাদের সম্পদ হতে ইসলামিক মতে জাকাতগুলোকে সুষ্ঠুভাবে বন্টন করলে আর দরিদ্র থাকার কথা নয়।বলতে পারেন যদি তাই হয় তবে ধনীরা কাদের শোষন করে আরো ধনী হবেন,রাজনিতীবিদেরা কাদের নিয়ে রাজনিতী করবেন।এখানেই মানবতার বড় পরাজয়।আর একটি জিনিস লক্ষ্যনীয় দরিদ্র বৃদ্ধ মহিলা হতে  সামান্য দূরে বাস কাউন্টার কিংবা সিনেমা টিকেট কাউন্টারের মত ওপেন বিক্রি করছে সর্বনাশী মরন নেশা ফেনসিডিল,গাজা,ইয়াবা।১০০০টাকা করে প্রতিটা ফেনসিডিল বোতল।সেখানকার আওয়ামিলীগের  প্রভাবশালী সমাজ পতি এরশাদ শিকদার খ্যাত ওয়ার্ড কমিশনার এবং থানার যোগ সাজসে চলছে এ সব অবৈধ ব্যাবসা।এ ব্যাপারে অনেক বার পত্রিকায় প্রকাশ হওয়ার পরও সে অক্ষত চলমান।জানা মতে দৈনিক প্রায় তিন হাজার বোতল বিক্রয় হয়।প্রতিটা বিক্রিত বোতলে ২০০ টাকা সমাজপতি এবং থানায় কিছু মানতির বিনিময়ে চালাচ্ছে তাদের রমরমা ব্যাবসা।সরকারী ভাষ্যমতে আইন শৃংখলার কঠোর নজর দারিতে আছে দেশের প্রতিটি অঞ্চল সেখানে এমন ওপেন অবৈধ ব্যাবসা সত্যিই অবাক হবার মতন।অথচ দৈনিক হাজার হাজার মানুষ সে পথে যাতায়াত করছে হাজার হাজার টাকা অপচয়ে ব্যাস্ত কারো কোন মাথা ব্যাথা নেই সেই অসহায়ের মত পড়ে থাকা বৃদ্ধটির জন্য।যেহেতু সামর্থের বাহিরে তাই নিরবে চলে এলাম সেখান থেকে।কিন্তু মনকে সামান্য বুঝাতে আমার এ লেখা।ভুলতে পারবনা সেই অসহায়ত্ত্বের কথা বিবেকের কাছে সত্যিই হেরে গেলাম।

এ তো গেলো সমাজপতিদের কথা।রাষ্ট্র কি ভাবছে তাদের নিয়ে নিছক লোক দেখানোর নামে তাদের জন্য বিভিন্ন নামের মন্ত্রনালয় সৃষ্টি করে শুধু তথাকথিত রাষ্ট্র কর্ণধারদের ব্যাবসার পরিধি বাড়ানো ছাড়া আমজনতা আর কি পাচ্ছে।কাজের বিনিময়ে খাদ্যের নামে চলছে দূর্নিতী।সাহায্যের অর্ধেকটা চলে যায় মন্ত্রী-সচিবদের পেটে যা আসে কেন্দ্রে তার ৮০% চলে যায় চেয়ারম্যান আর মেম্বারদের উদরে বাকী ২০% যায় হত দরিদ্রের মাঝে যা চাহিদা মতে অপ্রতুল।মাঝে মাঝে আমজনতা জানতেই পারেনা তাদের সাহায্যের খবর।লোভ লালসা আর রাজনিতীর নোংরামীর কারনে মানবতা আজ অসহায়।

আমাদের সবার প্রিয় সাংবাদিক দম্পত্তি সাগর-রুনি হত্যা।তাদের আদরে ছোট্ট সন্তানটি ঘুমের গোড়ে মা..মা বলে কেদেঁ উঠে।কি অপরাধে কারা করল তা এখনও আমাদের অজানা।প্রকাশ্যে বিশ্বজিৎকে হত্যা করল, টিভি লাইভে সারা বিশ্ব দেখল যেন এক হলিউডের ছবির দৃশ্য সেই হত্যাও যেন ঘটনার পরিক্রমায় হারিয়ে যাচ্ছে ।উচিত ছিল এ সব অপরাধীদের এনকাউন্টারে ফেলে দেয়া।রাজনিতীর নোংরামী ঢাকতে এনকাউনটারে ফেলেছে মিল্কী হত্যার দায়ে তারেককে।

হয়তো আমরা যারা কেবল বলেই যাব আর তারা তাদের অবস্হানে অনড়।তাহলে মানবতার ঠায় কোথায়।

২০৭জন ২০৭জন
0 Shares

১৫টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

ফেইসবুকে সোনেলা ব্লগ

লেখকের সর্বশেষ মন্তব্য