বিবেকের কারাগার

আরজু মুক্তা ১২ ফেব্রুয়ারী ২০২০, বুধবার, ০৯:১১:০৫অপরাহ্ন ছোটগল্প ২৭ মন্তব্য

ফিনিক ঝরা জোসনা দেখা আর সেই সাথে খোলা মাঠে  বা নির্জন রাস্তায় একাকী হাঁটার একটা রোমান্টিকতা আছে। জোসনা বিলাস না হয়ে জোসনায় অবগাহন হবে। ইচ্ছেটাকে প্রাধান্য দিতে আয়তুল কুরসি পড়ে হাঁটা শুরু করলাম। শর্টকাট রাস্তা কিন্তু যেতে হবে কবরস্থানের পাশ দিয়ে।

জোসনায় গাছপালা সাদা হয়ে থাকে। রূপালী আলোর বন্যা। “আজ জোসনা রাতে সবাই গেছে বনে” কিংবা চাঁদের হাসির বাঁধ ভেঙ্গেছে!” গানগুলি সেটিং করে হেড ফোন লাগিয়ে নিতে নিতে ভাবলাম, রবীন্দ্রনাথ না থাকলে কী যে হতো!

কবরস্থান শুরু হতেই দেখি, ওর গেটের মুখে জটলা। শুধু মেয়ে আর মেয়ে। রহস্যজনক মনে হলো। আমি একটু দাঁড়িয়ে চিনতে চেষ্টা করলাম মেয়েটিকে। খুব চেনা লাগছে। পত্রিকার পাতা চোখে ভাসছে। কোথায় জানি ডায়াসের মেয়ে দুটিকে দেখেছি। মেমরি কি ফ্যাকাশে হয়ে গেছে? মনে পরছে নুসরাত, সাথে তনু।

নুসরাত বলছে, ” বাংলাদেশে একটা ছেলেও রাখবোনা। সব ছেলেরা একই। এরাই পেট্রোল ঢেলে আগুন লাগিয়ে দিয়েছে, আনন্দ করার জন্য। আমি জানতামনা ; নিষ্ঠুরতার মাঝে এতো আনন্দ থাকে। জানতামনা মানুষকে কষ্ট দিতে আনন্দ হয়। পুরুষরা ভেবেছে, আমি মরে গেছি। আমি মরিনি। আল্লাহ আমাকে বাঁচিয়েছে। নিশ্চয় তাঁর কোন উদ্দেশ্য আছে।

আল্লাহ চান, বাংলাদেশে কোন নিষ্ঠুরতা থাকবেনা। কোন হিংস্রতা থাকবেনা, কোন ভায়োলেন্স থাকবেনা। পৃথিবী হয়ে যাবে শান্ত, সুন্দর আর ভালোবাসার।

বাংলাদেশ থেকে সকল পুরুষকে সরায় দিতে আমি এটা করতে চাই। পুরুষ মানুষদের ভিতরেই আছে ভায়োলেন্সের বীজ। অন্যায় অবিচারের বীজ। শরীরে একের অধিকে ওয়াই ক্রোমোজোম থাকলে মানুষ হতো বড় অপরাধী। যদি আইনের ভয় না থাকে, তাদের ভিতরে জন্ম নেয় হিংস্র পশু।

ছেলেদের ভালোমানুষি হচ্ছে লোকদেখানো।  তাদের হৃদয়ের ভিতর লুকানো আছে তাদের প্রকৃত রূপ। আজ যতো মেয়ে আমার সামনে দাঁড়িয়ে সব মেয়েকে প্রশ্ন করলে একটাই উত্তর মিলবে। নৃশংতা আর হিংস্রতা।

আমি বাংলাদেশের আনাচেকানাচে ঘুরে এইসব মেয়ে জোগাড় করেছি। সশস্ত্র করেছি। সংগঠিত করেছি। শুধুমাত্র পুরুষমুক্ত সমাজ গড়তে।

প্রশ্ন হতে পারে, পৃথিবীতে নতুন মানুষ জন্মাবে কেমনে? আমরা মেয়েদের ছেচল্লিশটি ক্রোমোজোম আলাদা করবো। এককথায় ক্লোনিং করবো। পুরুষ মানুষ জন্ম দিতে পারেনা। একজন নারীই পারে শ্বাশত, সুন্দর দৃশ্যের রূপ দিতে।

পুরুষ মানুষ দেখলে এখন আমার অনুকম্পা হয়।

মেয়েরা, তোমরা তোমাদের কাজ শুরু করো। যন্ত্রণাহীন মৃত্যু যেনো তাদের হয়—- এতোটুকু অনুরোধ থাকলো।

সব মেয়ে একসাথে মাথা নাড়লো।

হঠাৎ ঘাম ছেড়ে ঘুম ভাঙ্গলো। এ আমি কোথায়? দেখি, বাসার সামনের মাঠে জোসনা দেখতে দেখতে ঘুমিয়েছিলাম কিন্তু আমি তে কবরস্থানের রাস্তাটাতে ভাষণ শুনছিলাম। স্বপ্ন  আর বাস্তবের মুখোমুখি। কীভাবে পারবো এই দায় এড়াতে? আমি ছেলে হয়েই কী বদলায় দিতে পারবো এই হিংস্র সমাজকে? বিবেক জাগ্রত হয়ে বলছে, “ইমন রুখে দাঁড়াও! একজন সাহসী হয়ে সামনে দাঁড়ালে আরও একশো লোক দাঁড়াবে।”

 

৪২৩জন ১জন
79 Shares

২৭টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

ফেইসবুকে সোনেলা ব্লগ

লেখকের সর্বশেষ মন্তব্য