বিজয় দিবসের তাৎপর্য

উর্বশী ১৬ ডিসেম্বর ২০২০, বুধবার, ০১:০৩:৩৬পূর্বাহ্ন ইতিহাস ২২ মন্তব্য

🇧🇩🌹মহান বিজয় দিবসের তাৎপর্য🇧🇩🌹( নিবন্ধ)
—————–
১৯৭১ সালে এইদিনে ৩০ লক্ষ শহীদের রক্তের বিনিময়ে বাঙালী জাতি একটি স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র অর্জন করে।

এই বাঙালি জাতির বিজয়ের মাস ডিসেম্বর। মুক্তিযোদ্ধা তথা সমগ্র জনসমষ্টির সার্থকতা ও গৌরবের মাস এটি। আমাদের জাতীয় জীবনের সবচেয়ে গৌরবদীপ্ত অধ্যায় রচিত হয়েছে এ মাসেই। তাই ডিসেম্বরে পা দিয়ে সবাই আমরা অনুভব করি শক্ত মাটির স্পর্শ। লাভ করি এক অনির্বচনীয় আত্মবিশ্বাস। এক অনিন্দ্য সুন্দর আত্মমর্যাদা।
নয় মাসের রক্তঝরা সশস্ত্র সংগ্রামের মাধ্যমে এই গৌরব দীপ্ত বিজয় ।
সকল মুক্তিযোদ্ধা তিরিশ লক্ষ মা বোন আর বীরাঙ্গনাদেরপ্রতি গভীর শ্রদ্ধা , পুষ্পাঞ্জলী সহ দিবসটি পালন করা হয়।
এবার করোনার সংকটময় মুহূর্তে ঠিক সেই একাত্তরের বিজয় মাস এসেছে।
নিষ্ঠুর নির্যাতনে সারা পূর্ব পাকিস্তান ঐ পাক সেনাদের বর্বরতার শিকার হয়েছে ঘরে ঘরে। আজ অনেকের কাছেই তা যেন রুপকথার গল্প বলে মনে করে।
বোন হারা, ঘর বাড়ি আগুনে ছাই হয়ে গিয়েছিল সবার চোখের সামনেই।
বাড়ির সব ছেলেরা মুখ ফুটে কিছুই না বলতে পেরেই গোপনে রণক্ষেত্রে চলে যায় অনেকেই জাতি ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে …
সব গাঁ যেন আপন গাঁ।
সেই একাত্তর ডিসেম্বর মাসে তীব্র শীত পড়েছিল।
সব শীত বস্ত্র উপেক্ষা করে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল ঐ সব ছেলে, মেয়ে, আবাল বৃদ্ধ বণিতা কাউকে ওরা বাদ দেয়নি।

একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের অর্জন এই জাতির শ্রেষ্ঠতম অর্জন। মাত্র কিছুসংখ্যক বিপথগামী ছাড়া সবাই এ জন্য সংগ্রাম করেছেন। সহ্য করেছেন সীমাহীন যন্ত্রণা। কিন্তু লক্ষ্য অর্জনে দৃঢ়সঙ্কল্প ছিলেন সবাই। তাই অতি অল্প সময়ের মধ্যে এতো বড় অর্জন সম্ভব হয়েছে। বৃহৎ অর্জনের জন্য ঐক্যবদ্ধ জাতীয় উদ্যোগের কোনো বিকল্প নেই।

এমন বৃহৎ অর্জনের পরও কিন্তু জাতি তা ধরে রাখতে ব্যর্থ হয়। মাত্র চার দশকের মধ্যেই জাতীয় ঐক্য ছিন্ন হয়েছে। জাতীয় লক্ষ্যও অস্পষ্ট হয়েছে। জাতীয় সংস্কৃতির প্রাণশক্তি আজ ক্ষয়িষ্ণু। দুর্যোগে অনেকটা ম্রিয়মাণ। জাতিশক্তির যে অমিত তেজ বিন্ধ্যাচল টলিয়ে দিতে সক্ষম হয়েছিল, তা অনেকটা চলৎশক্তিহীন, নিশ্চল। কিন্তু কেন এমন হলো?

সাম্প্রতিককালে কিছু কিছু কথা প্রচলিত হয়েছে। ‘স্বাধীনতার পক্ষের শক্তি’ তেমনি একটি বাক্যাংশ। ‘মুক্তিযুদ্ধের চেতনা’ তেমনি আরেকটি। জোড়েশোড়ে প্রচারিত হচ্ছে একটি বিশেষ মহল থেকে। একটি সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য সামনে রেখে। ডিসেম্বর মাসে এসবের প্রচার যেন আরেকটু বেশি। সরকার নিয়ন্ত্রিত টেলিভিশন ইদানীং অনেকেই দেখেন না। যারা মাঝে মধ্যে খোলেন তাদের কান ঝালাপালা এ ধরনের অপপ্রচারে। কিন্তু কেন এই অপপ্রচার? ‘স্বাধীনতার পক্ষের শক্তি’ না হয় এই প্রচারকরাই, কিন্তু স্বাধীনতার বিপক্ষে তো কোনো শক্তি ছিল না। তখনো ছিল না, এখনো নেই। তখন কিছুসংখ্যক চিহ্নিত ঘৃণ্য নরাধম মুক্তিযুদ্ধের বিপক্ষে অবস্থান গ্রহণ করেছিল বটে, কিন্তু ‘শক্তি’ বলতে যা বোঝায় তা তখনো ছিল না। ওইসব বিভ্রান্ত, স্বার্থপর, পলায়নপর, কাপুরুষদের ‘স্বাধীনতার বিপক্ষে শক্তি’ বলে তখন কেউ তাদের চিহ্নিত করেননি।

‘মুক্তিযুদ্ধের চেতনা’ সম্পর্কেও একই কথা। এতো কোনো ব্যক্তির চেতনা নয়, নয় কোনো গোষ্ঠীর চেতনা। নয় কোনো দলের চেতনা। মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্দীপ্ত হয়েছিল সমগ্র জাতি, ধর্ম-বর্ণ-বিশ্বাস নির্বিশেষে। এই চেতনা আত্মপ্রতিষ্ঠার। আত্মনির্ভরশীলতা, আত্মবিশ্বাসের। মর্যাদাসম্পন্ন জীবনব্যবস্থার। বলিষ্ঠ জীবনবোধের। ‘সাম্য, মানবিক মর্যাদা এবং সামাজিক ন্যায়পরায়ণতা’ যা ১০ এপ্রিলে ঘোষিত ঐতিহাসিক স্বাধীনতা সনদের মূলকথা, যা মুক্তিযোদ্ধাদের প্রাণপণে উদ্বুদ্ধ করে।

এখন সেই চেতনা বিকৃতির কবলে পড়েছে। কোনো কোনো প্রচারক বলে থাকেন, মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করলেই মুক্তিযোদ্ধা হওয়া যায় না। মুক্তিযোদ্ধা হতে হলে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার অধিকারী হতে হবে এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনার অধিকারী হতে হলে বিশেষ গোষ্ঠী বা বিশেষ দলের সঙ্গে গাঁটছড়া বাঁধতে হবে। এসব কারণে তাদের মতে, মুক্তিযুদ্ধের সেক্টর কমান্ডারদের কেউ কেউ মুক্তিযোদ্ধা হতে পারেননি, কেননা সেই বিশেষ গোষ্ঠী বা দলের অন্তর্ভুক্ত তারা হতে পারেননি।

ইতিহাস সচেতনতা আমাদের তেমন প্রখর নয়। স্মৃতির ধারণক্ষমতাও তেমন সুদৃঢ় নয়। এসব কারণে মাঝে মধ্যে ভীতসন্ত্রস্ত হই। সিরাজউদ্দৌলা বিদেশি বেনিয়াদের যতোটুকু ঘৃণা করতেন, মীর কাসেমের ঘৃণাও ছিল তেমনি। কিন্তু ১৭৫৭ সালের পলাশীর যুদ্ধে পরাজিত হয়ে ১৭৬৪ সালে বক্সারের যুদ্ধে জয়লাভ যে সম্ভব নয়, তা অনুধাবনে উভয়ের মধ্যে পার্থক্য ছিল আকাশ-পাতাল। এ জন্য দু’জনকেই পরাজয়ের গ্লানি নিয়েই নিঃশেষ হতে হয়। কেউ পাননি বিজয়ের আস্বাদ। আমরা কিন্তু ১৬ ডিসেম্বরকে ধরে রাখতে চাই।

বিজয় দিবসের মূল তাৎপর্য হলো ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে জাতির উজ্জ্বল ভবিষ্যতের ভাবনাকে ধারণ করা এবং অগ্রগতির শতপথকে নির্বিঘ্নে করে তোলা, যেন কোনো অপরিণামদর্শী চিন্তা বা উচ্চরণ বা কর্মজাতীয় ঐক্যে ভাঙন ধরাতে সক্ষম না হয়। বিজয় দিবসের তাৎপর্য হলো এই ঐতিহাসিক বিজয়কে দেশের বৃহত্তর জনসমষ্টির কাছে অর্থপূর্ণ করে তোলা। প্রতি মুহূর্তে স্মরণ রাখা প্রয়োজন, এই বিজয় সমগ্র জাতির বিজয়।…..🇧🇩

এই বিজয় দিবস আমাদের জন্য অতি আনন্দ আর গৌরবের দিন হলেও এর সাথে জড়িত আছে একাত্তরের মুক্তিযোদ্ধাদের , আর হারিয়ে যাওয়া স্বজনের আর্তনাদ, ও যুদ্ধাহত , ঘরহারা আসল মুক্তিযোদ্ধাদের করুণ বিউগলের সুরের দীর্ঘশ্বাস।
এই মাস আমাদের বাঙ্গালীদের চেতনার ও দেশ প্রেমের উজ্জীবিত একটি বিশেষ দিন।
তাই এই নব প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে চাই তারা যেন নতুন করে সঠিক পথে ইতিহাস পড়ে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হয়ে দেশকে এগিয়ে নিয়ে চলে সুন্দর একটি সবুজের সমারোহ কাননের ফুল ফোঁটার সুখের বসতি স্থাপন করতে।
এই তো মোক্ষম সময় তাদের জন্য দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করার আর তরুণদের মনে প্রাণে মাতৃভূমির সম্মান রক্ষা করার।
— যেন বিশ্বের দরবারে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে বলতে পারে “আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালোবাসি” ….🇧🇩
—- এখন এসব স্বপ্ন কথা, দূরের শোনা গল্প,
তখন সত্যি মানুষ ছিলাম এখন আছি অল্প ‘( কবি আসাদ চৌধুরী)( এই দুই লাইন আসাদ স্যারের লেখা)। আরও সহযোগিতা করেছেন কিছুটা আমার  একজন সিনিয়র আপা।

বিঃ দ্রঃ–সবাইকে বিজয় দিবসের শুভেচ্ছা  সহ সালাম।দীর্ঘ  বিরতির পরে হাজির হলাম। মহামারীর এই দোলাচলে কে , কখন, কোথায় কিভাবে চলে যাই কেউই আমরা জানিনা।শুধুই নিয়ম মেনে চলা,সচেতনতার  পথ অবল্মবন করা।শ্বশুর বাড়ির  আত্মীয় তিনজন মারা গিয়েছেন।আম্মা এখনো ঠিক হন নি, দুই ভাই হাসপাতালে, ছেলেটিও অসুস্থ।মৃত্যুর  মিছিলে আমিও সামিল হতে পারি।দোয়া করা ছাড়া কোনো  ভাষাই নেই।মহান আল্লাহ পাক সবাইকে যেন  ভাল থাকার তৌফিক দান করেন। — আমীন।

২৪৭জন ৬০জন
0 Shares

২২টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

ফেইসবুকে সোনেলা ব্লগ

লেখকের সর্বশেষ মন্তব্য