সোনেলা দিগন্তে জলসিড়ির ধারে

বিচ্ছেদ শেষে

প্রদীপ চক্রবর্তী ১৯ আগস্ট ২০২১, বৃহস্পতিবার, ০৯:১৪:৫২অপরাহ্ন একান্ত অনুভূতি ২১ মন্তব্য

তোমাকে চাইতে গিয়ে ক্ষয় হয়ে যাওয়া আয়ু পুনরায় দীর্ঘজীবী হয়ে উঠেছে। যেখানে ঈশ্বরের পরিপূর্ণ আশীর্বাদ ছিলো।

প্রতি বসন্তে যখন নিয়ম করে অসুখ আসে,
তখন পৃথিবী আমায় মৃত মানুষের কাছে নিয়ে যায়!
অথচ এখনো সে বসন্ত আসেনি।
এবার এসেছে অন্যরকম এক বসন্ত! যে বসন্ত জুড়ে কেবল মানুষের মৃত্যুভয় আর বেঁচে থাকার আকুতি।
এসবে আমায় পাঠিয়ে দিলেন, ঈশ্বর।

অনেকদিন হলো প্রতিরাতে নিয়ম করে যে কামিনী ফুল ফুটত। যার সুগন্ধিতে পুরো বাড়ি মম করত।
তা আর নিয়ম করে ফুটে না।
পৃথিবীর প্রচণ্ড অসুখ হয়েছে তাই আর দুচোখ ভরে রাতের চাঁদ দেখতে পাইনা।
তা মেঘে মেঘে ঢেকে গেছে।

পৃথিবী সুস্থ হলে তুমি বলেছিলে নীলাকাশের বুকে একখানা বসতি গড়বে!
ডুমুরের কাঠে অগ্নিসাক্ষীতে শপথ করেছিলে আজীবন পাশে থাকার।
অথচ সে কথা বলার আজ এক যুগ হয়ে গেলো।
কিন্তু তুমি পাশে নেই।

অথচ তোমাকে ভালোবেসে এ দুর্ভিক্ষে মৃত মানুষের সম্মুখে বসে কবিতা লিখেছি!
এমনকি তোমাকে চাইতে গিয়ে কবিতার পাহাড় গড়েছি।

হয়তো তুমি জানো না, একা থাকা কতটা কঠিন।
কিন্তু তা একবার মানিয়ে নিলে,
আমিও এক শিল্পসম্মত প্রেমিক হবো!

মনে রেখো,
এক যুগের পূর্বে আমাদেরও কিছু স্মৃতি ছিলো।
তা আজ পাশে থাকার নাম করে মিথ্যা আশ্বাসে পরিপূর্ণ করলে।

আরণ্যক পড়ার পর তোমাকে আর স্পর্শ করতে ইচ্ছে করেনা!
বরং তুমি অন্যতে নিজের সমস্ত রাগরাগিণী দিয়েছ,
দীর্ঘ দিনের সম্পর্কের বিচ্ছেদ শেষে।

ছবিঃ নিজ।

১৩৪জন ৪৬জন
12 Shares

২১টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

ফেইসবুকে সোনেলা ব্লগ

লেখকের সর্বশেষ মন্তব্য