বিচার, অবিচার, এ কেমন বিচার

আগুন রঙের শিমুল ৪ জুন ২০১৮, সোমবার, ০৮:৩০:২৬পূর্বাহ্ন রম্য ১৬ মন্তব্য

ইউনুস ভাড়া খাটে।
এই পর্যন্ত ১৭ টার উপর ভাড়ায় গেছে সে, কত স্মৃতি সেইসব ভাড়ায় যাওয়ার। ইউনুসের পছন্দের কাজ অবসরে তার হাতে খুন হওয়া মানুষগুলোর শেষ ইচ্ছার কথা গুলো নিয়ে ভাবা। কি বিচিত্র সব ইচ্ছা, বিচিত্র মানুষ।

বেলতলা মাঠের কথা ভেবে ভ্রু কুচকে ওঠে ইউনুসের, সেই ছেলেটা … আহা, সুকুমার মুর্তি। তার চোখের দিকে তাকায়ে ট্রিগার টিপে দেওয়ার আগে অভ্যাস মতো তাকে জিজ্ঞেস করেছিল কোন শেষ ইচ্ছা? ছেলেটা বলল হ্যাঁ, লাস্ট একবার ফোনে এক মিনিট কথা বলতে চাই – রেহানার সাথে। ইউনুস বলে বলো, কিন্ত লাউডস্পিকার দিয়া বলবা, উল্টাপাল্টা কিছু কইলেই … বুচ্ছ তো

লাউডস্পিকার ফোনে .. তিনবার রিং বাজার পর একটা ঘুমজড়িত নারীকন্ঠ বলে
– হ্যালো
– আমি হারুন
– তোর শরম নাই কুত্তার বাচ্চা আবারও ফোন দিছস, তোরে হাজার বার কইছি আমার জামাই আছে সংসার আছে, বাচ্চা আছে .. আমারে কল দিবি না। বেহায়া, কাপুরুষ। কতবড় বেইজ্জতি করছিস আমারে ভুইলা গেছস। সব ছাইড়া তোর বাড়িতে যাইয়া উঠেছিলাম, আর তখন তুই আমারে চিনসই নাই। আমার আবার বাড়িতে ফিরে আসতে হইছে … এই লজ্জার চেয়ে মইরা যাওয়াও ভালো ছিলো।
– শোন, আমার মাথায় পিস্তল ঠেকানো। আর একমিনিট পর মাইরা দিবে, জীবনের লাস্ট কল এইটা
– ইয়াল্লা, কি কও এইগুলা … আল্লাগো আমার জান নিয়া অরে বাঁচাও

 

ফোনের অইপাশের চিৎকার শুনে ইউনুসের মন ও আদ্র হয়ে ওঠে।

 

হারুন বলে – হ্যালো, শোন .. আমার সময় নাই তোমারে শেষ কথাটা বইলা নেই
– বলতে হবেনা, তোমাকে মাফ কইরা দিসি সোনা .. আল্লাহর ওয়াস্তে বাঁচার চেষ্টা করো।
– আরে শোনই না
– জানি, জানি তুমি আমারে এখনো ভালোবাসো।

– আরে শোনই না বাল, গুরুত্বপূর্ণ কথা
– ( ফুপিয়ে কান্নার সাথে) তুমি এখনো আগের মতোই পাগল আছো, বলো কি বলবা
– রেহানা, শেষ বারের মতো বইলা যাই – আমরা আর্জেনটিনা বিশ্বকাপ না পাইতে পারি, কিন্ত তোমরা ব্রাজিল সাত গোল খাইছো।

ইউনুস সালার মানোশ বইলা ট্রিগার টিপে দেয়।

 

 

১০৫জন ১০৫জন
2 Shares

১৬টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

লেখকের সর্বশেষ মন্তব্য