বাস যাত্রী

খুরশীদা খুশী ৭ আগস্ট ২০১৯, বুধবার, ০৮:০৭:১৮অপরাহ্ন গল্প ৭ মন্তব্য

চাচা এখানে বসেন,জানালা দিয়ে বাতাস আসছে, আপনার ভালো লাগবে।

ছেলেটার আন্তরিকতায় মুগ্ধ হলেন বারেক সাহেব,ইদের সময় বাসে যে পরিমাণ ভীর হয় তাতে বাসে দাঁড়ানোর জায়গা পাওয়াই মুসকিল,সেখানে ছেলেটা নিজের জায়গাটা ছেড়ে দিলো বারেক সাহেবকে।সত্যিই বড্ড ভালো ছেলে,আজকালকার ছেলেপুলেরা তো মুরুব্বিদের সম্মান করতেই জানেনা।বারেক সাহেব কৃতজ্ঞতার হাসি দিয়ে ছেলেটার সীটে বসলেন।ছেলেটাও পাশেই গুটিশুটি হয়ে বসে রইলো।

বারেক সাহেবের ব্যাগে দুইলাখ টাকা,ছেলেরা তাদের সারা বছরের জমানো টাকাটা বাবার হাতে তুলে দিয়েছে কোরবানীর গরু কেনার জন্য,বছরে এই একবারই গ্রামের বাড়ি যাওয়া হয় বারেক সাহেবের।ছেলেরাও আসবে,আসবে পরিবারের সবাই তবে তারা আসবে ইদের আগের দিন,বারেক সাহেব প্রতিবছরই কয়েকদিন আগে চলে আসেন গরু কেনার জন্য।হাঁটে হাঁটে ঘুরে, বুঝেশুনে ভালো গরু কেনেন।

চাচা পানি খাবেন? বলেই ছেলেটা পানির বোতল এগিয়ে ধরলো,বারেক সাহেব খুশি হলেন,অনেক্ষণ ধরেই তার মনটা পানি পানি করছিলো,বাসে ওঠার সময় তাড়াহুড়োতে পানির বোতল কেনা হয়নি।পানির বোতলটা হাতে নিয়ে একমিনিটও দেরী না করে ঢগ ঢগ করে পুরো বোতলটাই শেষ করে ফেললেন।পানি খেয়ে বারেক সাহেবের মনে হলো দেহে আত্মা ফিরে আসলো।ছেলেটাকে ধন্যবাদ জানানোর ভাষা খুঁজে না পেয়ে বললেন ‘বেঁচে থাকো বাবা, অনেক বড় হও”।

কখন ঘুমিয়ে পড়েছিলেন সেটা এখন মনে করতে পারছেন না,বাসের অন্যান্য যাত্রীদের কথাবার্তায় মনে হচ্ছে যাত্রা বিরতী চলছে,এবং তারা কারও উপর বিরক্ত। কেউ একজন বাস থেকে নেমেছে কিন্তুু এখনও ফিরে আসছেনা,আর এজন্য বাস ছাড়তে দেরী হচ্ছে।বারেক সাহেব এতোক্ষণে খেয়াল করলেন তার পাশে বসা সেই উপকারী ছেলেটা নেই,তারমানে এই ছেলেটাই সবার বিরক্তির কারন।পাশে রাখা কালো ব্যাগটার দিকে তাকাতেই তার বুক ধক করে উঠলো।ব্যাগটা নেই।তিনি পাগলের মতো এদিক সেদিক ব্যাগটা খুঁজতে লাগলেন।কোথাও ব্যাগটা না পেয়ে হাউমাউ করে কেঁদে ফেললেন,অন্যযাত্রীরা কাছে আসলেন।শান্তনা দিতে লাগলেন।কিন্তুু টাকার ঘা শান্তনার মলমে সারে না।ছেলেটা একবোতল পানির দাম হিসেবে শুধু দুইলাখ টাকাই নিয়ে যায়নি,বারেক সাহেবের মোবাইলটাও নিজের মনে করে নিয়ে গেছে।।।

১৩৯জন ৮১জন
8 Shares

৭টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

ফেইসবুকে সোনেলা ব্লগ

লেখকের সর্বশেষ মন্তব্য