আমার ছেলে বেলায় করা এক দেশীও জ্যোতিষি ভবিষৎদ্বাণীগুলো এখন আমি মিলাতে গিয়ে দেখলাম অনেকটা হুবহু মিলে যাচ্ছে।আমাদের দেশে সেই সময়টায় ছিলো বেদ বেদেনীদের বাড়ী বাড়ী গিয়ে সাপ খেলা দেখানো-ছিলো প্রায় প্রতি হাটে বাজারে ক্যানবেচার বা মজমা জমানো যেখানে চিত্ত বিনোদনের সাথে বনাজী কিংবা তাঁবিজ জাতীয় সর্বো রোগের মহাঔধষ হিসাবে বিক্রি করা হত।এছাড়াও কৌতুহল পাবলিকের ভাগ্য গণনা হতো কেউ টিয়া পাখি দ্বারা খাম উঠিয়ে লিখিত বক্তব্যে কেউ বা হাতের রেখা দেখে।আমাদের এলাকায় অল্প বয়সী এক গণক বাড়ী বাড়ী গিয়ে লোকের ভাগ্য গণনা করতেন।তার পূর্বে তার পিতাও ঠিক একই পেশায় ছিলেন।

একদিন আমি সবে মাত্র ঘুম থেকে উঠে মুখ হাত ওয়াসের জন্য বাহিরে টিউবওয়েলের দিকে যাব।মা আমাকে থামিয়ে দিয়ে গনকের সামনে নিলেন।ছোট বেলা থেকেই আমি এমনিতেই গণকের গণনা করাটা বিশ্বাস করতাম না।বরং গনক আমার সামনে পড়লে বলেই বসতাম-আর কিছুক্ষণের মধ্যে আপনার জীবনে কী ঘটতে চলছে তা কী জানেন? অবশ্য আজ যে গনকের সামনে আমি তাকেও হয়তো কোন একদিন এমনি প্রশ্ন করেছিলাম।আজ সেই গনক আমাকে তা মনে করে দিয়ে বললেন-কখনো কোন মানুষকে অজ্ঞ ভেবো না বরং নিজেকে সব সময় অজ্ঞ ভাববে দেখবে তুমি জীবনের সুন্দরতম পথে হাটছো।
আমি আর কিছুই বলতে পারিনি।গনক সেদিন আমার ভবিষৎ নিয়ে কিছু বাণী বলেছিলেন তার মধ্যে অনেকাংশ মিলে গেলেও দেখার বাকী আছে শেষ জীবনের ভবিষৎদ্বাণীগুলো।যদিও আমি এ সব এখনো বিশ্বাস করিনা।বিশ্বাস করি এক আল্লাহ এবং ভাগ্যের ভাল মন্দ নির্ভর করে যার যার কর্মগুণের উপর।

আজ আমি সংক্ষিপ্ত ভাবে এমনি একজন গুণী নারী মানুষের কথা বলব যিনি ইতিমধ্যেই বিশ্ব মানুষের কাছে বিশ্বের ভবিষৎদ্বাণী দিয়ে বিস্ময়কর নারী মানুষ হিসাবে স্থান পেয়েছেন।

পৃথিবীতে শতাব্দী কিংবা বছরের ব্যাবধানে কিছু আশ্চর্যজনক ঘটনা ঘটে যা পৃথিবীতেই কেউ না কেউ জ্ঞাত বা পূর্বেই আচ করতে পারেন।বিশ্ব বিখ্যাত ফরাসী জ্যোতিবিদ নস্ট্রাডমাস এর কথা আমরা সবাই কমবেশ জানি।তিনি জন্ম হতে মৃত্যু ১৫৬৬ খ্রীষ্টাব্দ পর্যন্ত বেশ কিছু ভবিষৎবাণী করেছেন যার জন্য তার সম্পর্কে জানার আগ্রহ এখনো বিশ্ব মানবের মাঝে রয়ে গেছে।তিনি যে সব ভবিষৎবাণীগুলো করে গেছেন তা মিলে গেছে বা মিলে যাচ্ছে নাকি তার করা ভবিষৎবাণীগুলোকে চাতুর্যপুর্ণভাবে বাস্তবতার সাথে মিল দেখানো হচ্ছে বিতর্ক থাকলেও তাকে জানার আগ্রহের কমতি বা কারোর শেষ নেই।তেমনি বর্তমান সময়ে এমন একজন ভবিষৎবাণী বলে যাওয়া বা ইতিমধ্যে তার করা ভবিষৎবাণী মিলে যাওয়া ব্যাক্তির সম্পর্কে জানতে বা তাকে নিয়ে রিসার্চ করতে বিশ্ব এখন বেশ আগ্রহতা দেখাচ্ছেন। তিনি হলেন একজন নারী জ্যোতিবিদ নাম তার বাবা ভাঙা বা ভাঙা বাবা।

আসুন তার সম্পর্কে একটু জেনে নেই।তিনি কে বা তার করা ভবিষৎবাণীগুলো কী ছিলো।

১৯১১ সাল ৩১ জানুয়ারীতে ওসমানীয় সম্রাজ্য যা বর্তমানে ম্যাসেডোনিয়া প্রজাতন্ত্রে স্ট্রোমিকাতে জন্ম গ্রহন করেন।পরবর্তীতে স্ট্রোমিকা প্রথম বলকান যুদ্ধের সময় বুলগেরিয়ায় অন্তভুক্ত হয়।তিনি ছিলেন বুলগেরিয়ার এক রহস্যময় ও আধ্যাত্মিক বিস্ময়কর এক নারী।তার জীবনের অধিকাংশ সময় কেটেছে বুলগেরিয়ার কুজহু পার্বত্য অঞ্চলে রুপিটি নামক স্থানে।সে ছোট বেলা হতেই ছিলেন রুগ্ন।স্বা্স্থ জটিলতা জীবনের শেষ মুহূর্তেও ছিলো।

তার নাম রাখা নিয়েও রয়েছে বেশ রহস্যময়তা।সেই সময়কার সেখানকার ঐতিহয্য অনুযায়ী শিশু সন্তান জন্ম নিলে তার নাম রাখার বিষয়ে একটি রীতি চালু ছিলো তা হলো প্রথমে তার নাম রাখা হয়না যতক্ষণ না নিশ্চিৎ হওয়া যায় যে শিশুটি বেচে থাকবেন।প্রথমে অপরিচিত একজন তার নাম রাখলেন অ্যান্ড্রোমাহা।এটা গ্রীক নামের সাথে মিলে যাওয়ায় বাদ দিলেন।এরপর আরেকজন নাম রাখলেন  ভ্যানগেলিয়া।এটা যদিও গ্রীক নামের সাথে  মিলে গেলেও বুলগেরিয়ার সংস্কৃতির সাথে মিল ছিলো তাই এটাই তার নাম রাখা হল।শেষ পর্যন্ত বাবা ভাঙার নাম রাখা হল ভ্যানগেলিয়া প্যানদেভা দিমিত্রোভা যা বিয়ের পর বদলে গিয়ে তার নতুন নাম করণ করা হয় স্বামীর নামের সাথে- ভ্যানগেলিয়া গুস্টেরোভা।

কথিত আছে,ভ্যানগেলিয়া গুস্টেরোভা ছেলে বেলা থেকেই তার খেলার সাথীদের নিয়ে রোগী ডাক্তার খেলা খেলতেন।একদিন তার বয়স যখন বার তের বছর তখন হঠাৎ এক প্রচন্ড ঝড় আসে।আকাশে বিজলী চমাকানোর সাথে ঝড় তাকে সেখান থেকে উঠিয়ে অনেক দূরে নিক্ষেপ করে।এদিকে তার অভিভাবক আত্মীয় স্বজনরা তাকে খুজতে খুজতে বেশ কয়েক দিন পর নির্ঝন এক বালুময় মাঠে পড়ে থাকতে দেখতে পান।তখন তার শরীরের অবস্থা এমন ছিলো যে তাকে চিনতে কষ্ট হয়। সে তখন দুহাত দিয়ে চোখের কাদা ময়লা পরিস্কার এবং চোখ খোলার চেষ্টা করছিলেন।হাসপাতালে নেয়ার পর ডাক্তার তাকে অনেকটা অন্ধ ঘোষনা করেন যদি না তাকে উন্নত চিকিৎসা না করানো হয়।পারিবারিক অর্থনৈতীক অবস্থা ভাল না থাকার কার তার চিকিৎসা আর করানো হয়নি ফলে সে চির জীবনের জন্য অন্ধ হয়ে যায়।

এ অবস্থায় ১৯২৫ সালে তিনি একটি বিদ্যালয়ে ব্রেইল পদ্ধতিতে তিনি পিয়ানো বাজানো, বুনন, রান্না ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা উপর শিক্ষা নিলেন।এখানে প্রায় তিন বছর লেখা পড়া করার পর তার সৎ মায়ের মৃত্যুতে ভাই বোনদের ভরণপোষনের দায়ীত্ব নিতে বাড়ীতে অবস্থান করেন।১৯৩৯ সালে সে যখন ফুসফুসে রোগে ভুগেন তখন ডাক্তার বলেছিলো সে আর বাচবে না কিন্তু সবাইকে অবাক করে দিয়ে তিনি সে যাত্রায় বেচে যান।তখন অনেকে মনে করেছেন তিনি এ যাত্রায় বেচে রইলেন তার অলৌকিক ক্ষমতার গুণে।মুলত তার অলৌকিক ক্ষমতা বেশ প্রচার পায় দ্বিতীয় বিশ্ব যুদ্ধের সময় থেকে।সে সময় সেখানকার অনেকে তার কাছে আসতেন যে,তাদের পরিবারে সদস্যরা আদৌ বেচে আছেন কীনা অগ্রিম খোজ খবর নিতে।তাদের অন্যতম বুলগেরিয় শাসক তৃতীয় বোরিস ১৯৪২ সালের ৮ এপ্রিল তার সাথে দেখা করতে আসা।এ ভাবে তার আধ্যাত্বিক অলৌকিত ক্ষমতা প্রসার এবং প্রচার হতে থাকে যার কারনে অনেকে তাকে বাবা ভাঙা বলে ডাকতে শুরু করলেন এবং বলকানের নস্ট্রাডামাস উপাদি পান।বলাবাহুল্য বুলগেরিয়ার  বাবা শব্দের অভিধানিক অর্থ দাদীমা বা জ্ঞানী মহিলা। বাবা ভাঙার ভবিষৎ দর্শন এবং মানুষকে সুস্থ করে তুলার কারনে সে হয়ে উঠেন সারা বিশ্বের বিস্ময়কর বাবা ভাঙা।

১৯৪২ সাল ১৯ মে তিনি বিয়ে করেন দিমিতার গোসতারভ একজন সৈনিককে।দিমিতার তার ভাইয়ের হত্যাকারীর ব্যাপারে অনুসন্ধান করতে এসে ভাঙার কাছে আসা যাওয়া করতেন।বিয়ের পর তারা পেরিচ গমন করেন।সেখানে তার জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি পায়।দিমিতার ১৯৪৭ সালে অতিরিক্ত এ্যালকোহল খাওয়ায় অসুস্থ হয়ে পড়েন।১৯৬২ সালে তিনি মারা যান।আর বাবা ভাঙা ১৯৯৬ সালের ১১ আগষ্ট স্তন ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে মারা যান।

মারা যাবার আগে পৃথিবীর মানুষের কাছে রেখে গেছেন কিছু ঘটে যাওয়া বারাক ওবামার প্রেসিডেন্ট হওয়া, টুইন টাওয়ারে হামলা, জলবায়ু পরিবর্তন,করোনা ভাইরাস মত যুগান্তকারী তথ্য আর কিছু ঘটতে যাওয়া বেশ কিছু ভবিষৎবাণীর তথ্য যা হয়তো তাকে বাচিয়ে রাখবে কোন কোন তথ্যে ৩০৩৫ এবং কোন কোন তথ্যমতে ৫০৭৯ সাল পর্যন্ত।

এবার আসুন জেনে আসি পৃথিবীতে তার দেয়া তথ্য কী কী ঘটেছিলো এবং কী কী ঘটতে চলছে।

০১। ২০০১ সালে আমেরিকার টুইন টাওয়ারের হামলার কথা বাবা ভাঙ্গা ১৯৮৯ সালে বলেছিলেন।
Horror, horror! The American brethren will fall after being attacked by the steel birds.The wolves will be howling in a bush and innocent blood will gush.
বঙ্গানুবাদ অনেকটা এ রকম-ইস্পাতনির্মিত (ধাতব) পাখিদের দ্বারা আক্রান্ত হওয়ার পর আমেরিকান ভ্রাতাদের পতন ঘটবে।নেকড়েরা ঝোপের আড়াল থেকে চিৎকার করতে থাকবে, আর নিরীহদের রক্ত ঝরবে।

০২। গত শতকের পঞ্চাশ দশকের দিকে ২০০৪ সালে সুনামী হবার ভবিষৎদ্বাণী করেছিলেন।
A huge wave will cover a big coast covered with people and towns, and everything will disappear beneath the water.(মানুষ ও বসতিতে পরিপূর্ণ এক সমুদ্রতীরে বিশাল বড় এক ঢেউ আছড়ে পড়বে, এবং সবকিছু পানির নিচে তলিয়ে যাবে)।

২০০৩ সালে বড় দিনের পরের দিন অথাৎ ২৬ ডিসেম্বরে ভারত মহাসাগরের তলদেশে এক ভয়াবহ ভুমিকম্প হয় যার মাত্রা ছিলো ৯.১।যখন সুনামী ইন্দোনিশায় আছরে পড়ল তখন জলের উচ্চতা ছিলো প্রায় ১০০ ফুট।সুনামীর ভয়াবহতায় ভারত সহ আঘাতপ্রাপ্ত দেশগুলোতে মৃত্যুর সংখ্যা ছিলো প্রায় দুই লক্ষ ত্রিশ হাজার জন।

০৩। আমেরিকার ৪৪তম প্রেসিডেন্ট হবেন একজন কৃঞ্চাঙ্গ যা বারাক ওবামার প্রেসিডেন্ট হবার মধ্য দিয়ে পুরোপুরি মিলে যায়।

০৪।২০১৬ সালে মুসলমানরা পুরো ইউরোপে রাজত্য চালাবে।এই ভবিষৎদ্বাণীর ফলাফলে ইউরোপে কয়েক বছর যাবৎ মুসলিম বিদ্বেষী ধ্বংসাজ্ঞ চলছে। মসজিদ এবং মুসলমানদের প্রতি হামলা হত্যা পরিপক্ষিত ইসলামের প্রতি অসংখ্য ইউরোপীয়ানদের সহানুভুতি জাগে।

০৫। ২০১৮ সালে চীন বিশ্বের সবচেয়ে সুপারপাওয়ারে থাকবে।যদিও সামরিক শক্তির ক্ষেত্রে চীন এখনো অনেক পিছিয়ে কিন্তু চীনের অর্থনৈতীক প্রবৃদ্ধি অনেকটা আমেরিকা ছুইঁ।

০৬। জলবায়ুর পরিবর্তনের কথা ১৯৫০-১৯৬০ সালের মধ্যে করেছিলেন।বলেছিলেন শীতল অঞ্চলগুলো উষ্ণ হয়ে উঠবে,মৃত আগ্নিগিরিরা জেগে উঠবে।সব কিছু বরফের মত গলে যাবে।

০৭।আই এস এর আগমন সম্পর্কে বাবা নাকি বলেছিলেন ২০১০ সালে সিরিয়াতে এক ভয়াবহ মুসলিম যুদ্ধ বাধবে।এতে চরমপন্থি মুসলিম শক্তির’ উত্থান ঘটবে এবং তারা ইউরোপ সহ বিশ্বের সর্বোত্র হামলা করবে।

০৮। ব্রেক্সিট-বাব ভাঙার এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ ভবিষৎদ্বাণী।তার মতে ২০১৬ ইউরোপের পতন ঘটবে।সম্ভবত বাবা এখানে পতন বলতে ব্রেক্সিট বা ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে ব্রিটেনের বেরিয়ে আসাটাকে ধরা হয়।

৯। সাবমেরিন কুর্স্ক এর ডুবে যাওয়া সম্পর্কে বাবা ভাঙ্গা একদম সময় উল্লেখ করে বলেছিলেন ১৯৯৯ বা ২০০০ সালের আগষ্ট মাসে কুর্স্ক সম্পূর্ণ জলের আড়ালে থাকবে এবং এর জন্য সারা বিশ্ব আফসোস করবে।

২০০০ সালের ১২ আগষ্ট রাশিয়ার উত্তরে ব্যারেন্ট সাগরে রুশ নৌবাহিনীর একটি পারমানবিক শক্তিচালিত সাবমেরিন দুর্ঘটনায় ডুবে যায়।

১০। পুতিনের উপর হামলার বিষয়ে বাবা ভাঙ্গা বলে গেছেন যে ২০১৯ সালে পুতিনের উপর দুর্ধর্ষ কোন হামলা হবে।তবে হামলায় সে বেচে যাবেন।অবশ্য ইতিমধ্যে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের উপর বেশ করেকবার হামলার প্রচেষ্টা চালানো হয়েছিলো।

১১। এশিয়া অঞ্চলে ২০১৯ সালে আগে বা পরে বড় ধরনের সুনামী হওয়ার সংকেত বাবা ভাঙ্গা দিয়ে গিয়েছিলেন।বাস্তবে ২০১৮ সালে সেপ্টেম্বরের ২৮ তারিখে ইন্দোনেশিয়ায় ৭.৫ মাত্রার এক ভয়ংকর শক্তিশালী ভুমিকম্পে ২০ ফুট উচু জলরাশির সুনামীতে বিপর্যস্ত হয়েছিলো জনপথ ঘরবাড়ী সহায় সম্পদ এবং প্রায় ১২০০ লোক মারা গিয়েছিলো।

১২।দৈনিক ইত্তেফাক নিউজে ডেইলি স্টার ইউকের এক প্রতিবেদনের বরাতে জানা যায় বাবা ভাঙ্গা ১৯৯৬ সালেই করোনা ভাইরাসের মত এমন একটি ভয়ংকর ভাইরাস আগমনের কথা নাকি বলে গেছেন।

এ ছাড়া তিনি সোভিয়েত ইউনিয়নের রাষ্ট্রনায়ক জোসেফ স্ট্যালিনের মৃত্যুর সঠিক তারিখ।চেরনোবিল নিউক্লিয়ার বিদ্যুৎ কেন্দ্রের বিপর্যয়।

এবার জেনে নেয়া যাক তিনি কী কী ভবিষৎদ্বাণী করে গিয়েছিলেন।

০১।২০২৩ সালে পৃথিবীর কক্ষ পথে পরিবর্তন আসবে।
০২।২০২৮ সালে মানুষের জীবন জীবিকার জ্বালানীর নতুন উৎস খুজতে মানুষ শুক্রগ্রহে যাবে।
০৩।২০৩৩-৪৫ সালের মধ্যে পৃথিবীর বরফের একটা বড় অংশে গলতে শুরু করবে যা পৃথিবীকে বিপর্যস্ত করে তুলবে।সমুদ্রপৃষ্টের উচ্চতা বৃদ্ধি পাবে এবং পৃথিবীর অনেক দেশ জলে তলিয়ে যাবে।
০৪। ২০৪৩ সালে ইউরোপে আইএস উত্থানে ইসলামী রাষ্ট্রের সৃষ্টি হবে যার রাজধানী হবে রোম এবং মুসলমানদের শাসনে বিশ্ব অর্থনীতিতে গতি ফিরে আসবে।
০৫। ২০৪৬ সালে চিকিৎসা বিজ্ঞানের উন্নতি ঘটবে এবং মানুষের শরিরের প্রতিটি অঙ্গ তৈরী ও প্রতিস্থাপনের সক্ষমতা অর্জন করবে।
০৬। ২০৬৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রের মসজিদে হামলা হওয়ার সময় যুক্তরাষ্ট্র একটি অস্ত্র ব্যাবহার করবে যেটা তাপমাত্রাকে কমিয়ে দিতে পারবে।
০৭।২১০০ সালে বিশ্বের তৈরীকৃত কৃত্রিম সূর্য পৃথিবীর একটা অংশের অন্ধকার দুর করে দিবে।

০৮।২১১১ সালে জীবন্ত মানুষ রোবট হয়ে যাবে অথাৎ অর্ধেক মানুষ আর অর্ধেক যন্ত্র বা রোবটের মত হবে তাদের বলা হবে সাইবার্গ বা সাইবর্স।
০৯।২১৫৪ সাল এর মধ্যে প্রানীরাও নাকি আধা মানুষে পরিনত হবে।
১০।২১৭০ বিশ্বে খরা দেখা দিবে।

১১।২১৯৫ সালে সাগর মহাসাগরের তলদেশে শহর গড়ে উঠবে এবং মানুষ বসবাস করবে।
১২।২১৯৬ সালে এশিয়া ও ইউরোপ মিলে মানুষের মাঝে নতুন এক জাতের আর্বিভাব ঘটবে।
১৩।২২০১ সালে সূর্যের আলোর ক্ষমতা কমে আসবে ফলে তাপমাত্রা কমে যাবে।
১৪।২২৮৮ সালে টাইম ট্রাভেলের সম্ভাবনার ধার খুলবে।
১৫।২৪৮০ সালে দুটো কৃত্রিম সূর্যের মুখোমুখি সংঘর্ষে পৃথিবীতে অন্ধকার নেমে আসবে।
১৬। ২১৭০-২২৫৬ সালের মধ্যে মানুষ মঙ্গলগ্রহে বসবাসের স্থাপনা তৈরীতে সক্ষম হয়ে বসবাস শুরু করবেন এবং তারা পারমানবিক অস্ত্রের অধিকারী হবেন এবং পৃথিবী থেকে স্বাধীনতা চাইবেন।
১৭।অবশেষে ৩০০৫ সালে পৃথিবীর সাথে মঙ্গল গ্রহের বিশ্ব যুদ্ধা বাধবে।তাতে মঙ্গলগ্রহের কক্ষপথ থেকে বিচ্যুতি ঘটবে।
১৮।৩০১০ সালে চাদে একটি ধুমকেতু আছরে পড়লে চাদের ভাঙ্গন দেখা দিবে।চাদের ভাঙা টুকরো ধুলো আর ছাই মিলে পৃথিবীর চারদিক শনির বলয়ের মতো বলয় তৈরী হবে।
১৯।৩৭৯৭ সালে পৃথিবী নামক গ্রহের আর কোন কিছুই টিকে থাকবেনা সবই ধ্বংস হয়ে যাবে।তবে সেই সময়ের মধ্যে মানুষ সৌর জগতের মত অন্য কোন গ্রহে নক্ষত্রে বসতি স্থাপনা করার মত প্রযুক্তিগত সক্ষমতা অর্জন করবে।
২০।৪৩০২-৪৬৭৪ সালের মধ্যে মানুষ অমরত্ব লাভ করবে এবং বহিঃজগতের প্রানী এবং এলিয়েনদের সাথে মিলেমিশে বসবাস করায় অভ্যাস্ত হয়ে পড়বে।

বাবা ভাঙ্গা আরো বলেছিলেন তখন নাকি মহাবিশ্বের লোক প্রায় ৩৪০ বিলিয়ন হবে এবং ঈশ্বরের সাথে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপনেরও সক্ষমতা হবে।

২১। ৫০৭৯ সালে নাকি পুরো মহাবিশ্বই ধ্বংসপ্রাপ্ত হবে।

এই যে এতোক্ষণ যে আপনেরা আমার বকবকানি শুনলেন তা কতটুকু সত্য হবে তা আমি নিজেও জানিনা এবং এ সব আমি তেমন একটা বিশ্বাসও করিনা তবে কিছু ঘটনার মিলে যাওয়াটাকে ফেলতেও পারিনা।সে জন্য কৌতুহল বশতঃ বাবা ভাঙ্গা সম্পর্কে জানতে গিয়ে বিভিন্ন অনলাইন পত্রিকা পড়ে যা পেয়েছি তাই তুলে ধরার চেষ্টা করেছি। এ সম্পর্কে তথ্যের ভুল বিভ্রান্তি কিংবা বিশ্বাস অবিশ্বাসের বেলায় আমি পাগল দায়ী নই।ততদিন আপনেরা কেউ একজন বেচে থাকার ভবিদ্বাণী পেয়ে থাকলে আওয়াজ দিয়েন।

করোনা ভাইরাস এবং ভবিষৎ যত মহামারী দুর্যোগ যুদ্ধ আসবে তা থেকে মানুষ নিরাপদে থাকুন সুস্থ থাকুক।সবাইকে ধন্যবাদ।

—————–

ছবি ও তথ্য কৃতজ্ঞতায়
Roar media
Dw,উইকিপিয়া, এবং বিভিন্ন অনলাইন মাধ্যম।

৫১৫জন ৩৪৫জন
0 Shares

২১টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

ফেইসবুকে সোনেলা ব্লগ

লেখকের সর্বশেষ মন্তব্য