বাতাসের জন্য এলিজি

নুরুন্ননাহার শিরীন ৩০ সেপ্টেম্বর ২০১৩, সোমবার, ০১:২৭:২৫পূর্বাহ্ন কবিতা ২৭ মন্তব্য

বাতাসের জন্য এলিজি

শিরোনামটি অনেক আগের একখানা কাব্যগ্রন্থের। যার পঙক্তিমালা এখনও যৌক্তিক, সমসাময়িক প্রেক্ষাপটের সঙ্গে যথেষ্ট মেলে বলেই আজ এখানে শেয়ার করার জন্য মনস্থ করলাম।

উতসর্গ পঙক্তি-

আজকাল কুয়াশার চোরাগন্ধে ঘুম আসেনা অলিন্দেরও!
তবু কিন্তু স্বপ্নপোড়া ছায়ারা প্রস্তুতি নিচ্ছে নিষেধাজ্ঞা অগ্রাহ্য করেও!
দমবদ্ধ জগতগুহায় ঝাঁপ দিয়ে শুনে নিতে চায় অমল ধুমতানানা!
আহ ফুসফুসে এক চিলতে আকাশরেখা মেলে কি না!

বাতাসের জন্য এলিজি- ১

এইতো খানিক আগেও অনর্থ ছিলো, ছিলো ক্ষোভ।
যথারীতি ছিলো রাজ্যের জ্বলন্ত লোভ।
অন্যদিকে ছিলো গান, হৃদিভর্তি হাতছানিমালা –
ধূলিকাব্য, মেঘের গন্ডোলা।
অথচ মুহূর্তে অন্ধ-কানা
হিংসাযজ্ঞে বাতাসেরও পুড়লো ডানা।
এখনতো প্রিয় ঘরভর্তি খাদ –
এবঙ পথেবিপথে রিরংসামাখা হাত।
হায় কোথায় হারালো সেই এশীয় সম্প্রীতি!
চারপাশে চিলথাবা, বিশ্রী খেয়োখেয়ি যথারীতি!

বাতাসের জন্য এলিজি-২

যথারীতি আলো আর কুটিল কবন্ধ
যত অন্ধকারের অসম যুদ্ধ।
বলো বন্ধু, এখন কি এত কালো
হদ্দ-ধর্মান্ধ রাজত্ব নিয়ে দম্ভ করা ভালো!
এখন কি এত মিথ্যুক দাঁতালো
অধর্মের কুঠারবিদ্ধ হওয়া ভালো!

বাতাসের জন্য এলিজি-৩

বলি, ভালো না, ভালো না এত রক্তখাকি চাপগুলি।
সন্ধে হতে না হতেই ঝপ করে নামা বিকট রঙের পর্দাগুলি।
নক্ষত্র না ক্ষত ধন্দে কাঁপে হৃদয়ের ঘুড়ি।
কাঁপে না কেবল খুনে ধড়িবাজ আদমের ছুরি।
কেবল ছুরি না, ছেনি, দা-কুড়ালে ফালাফালা বুক।
কত যে দিয়েছি বুক থেকে কন্ঠনালিচেরা সুখ।
মুখ ও কপাল ভেদ করেছে ধাতব গুলি অবাঙ অবাধ।
তথাপি রক্তের সাধ!
আর কত রক্তপাতে শান্ত হবে পিশাচের হাত!
আর কত পাপাচারে ক্ষান্ত হবে নির্লজ্জের ঘাতপ্রতিঘাত!

বাতাসের জন্য এলিজি-৪
হাড়বজ্জাত বেড়েছে বড় বাড়।
তাদের নখরে কেউ এমন কি শিশুও পায় না ছাড়।
সকালে টেবিলে শোয়া অন্তহীন
রক্তাক্ত সংবাদ, লজ্জাহীন।
অথচ হেডলাইনে কেন যে হৃদয় মথিত, লজ্জিত ঝরে!
চোখ ভেসে যায় জলের অধিক রক্তজলের অক্ষরে!

 

আজ এ পর্যন্তই। বাকিগুলো অন্য কোনও দিনে যখন আবারও পড়বে মনে …

আশ্বিন ১৪২০ বঙ্গাব্দ।।

২১৩জন ২১৩জন
0 Shares

২৭টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

ফেইসবুকে সোনেলা ব্লগ

লেখকের সর্বশেষ মন্তব্য