বাঙ্গালী ভয়ংকর

ইঞ্জা ১৪ জানুয়ারী ২০২০, মঙ্গলবার, ০৯:৩৬:৪৭অপরাহ্ন সমসাময়িক ৩৮ মন্তব্য

গত কয়েকদিন আগের কথা, নিউজে দেখা গেলো সদ্য যোগ দেওয়া বোয়িং ড্রিমলাইনার “সোনারতরী” ম্যানচেস্টার – ঢাকার প্রথম ফ্লাইটেই ঘটে গেলো দুঃখজনক অপ্রীতিকর ঘটনা, ম্যানচেস্টার থেকে উঠা বাঙ্গালী যাত্রী / যাত্রীদের কয়েকজন বিমানের সিটের এলইডি ডিসপ্লে টেনে ভেঙ্গে ফেলেছে।

 

কতটা অসভ্য বর্বর হলে লন্ডন ফেরত যাত্রী এই কাজ করতে পারে যা আমাকে যেমন অবাক করেছে, তেমনই আহত করেছে।

বিশ্বাস করুন, এই অসভ্যতা দেখে নিজেই নিজেকে দোষারোপ করছি বাঙ্গালী হিসাবে, মনে মনে নিজেকেই ধিক্কার দিচ্ছি যেন বাঙ্গালী হিসাবে, ভাবছি এই অসভ্যতার শেষ কোথায়?

বুঝতে পারছেন লন্ডন ফেরত যাত্রী কতটা সভ্য হওয়া উচিত ছিলো, কিন্তু দুঃখজনক ভাবে তারাই এমনটা অসভ্যতা করলো, ছিঃ।

 

শুধু কি সোনারতরী বিমানে, আরেক ড্রিমলাইনারের আংশিক ভিডিও দেখলাম গতকাল, এ ড্রিমলাইনারও বেশি সময় হয়নি বাংলাদেশ বিমান বহরে যোগ হয়েছিলো।

এই বিমানের টয়লেটের দরজা ভেঙ্গে ফেলা হয়েছে ধাক্কা দিয়ে, আসেপাশে প্রচুর ময়লা ছড়িয়ে আছে, এক যাত্রী সিটে দাঁড়িয়ে লাফাচ্ছে।

 

আমার জিজ্ঞাসা হলো, কেন আপনারা নিজ সম্পদ এইভাবে ক্ষতিসাধন করছেন, এই ক্ষতিপূরণ তো আপনাদেরকে নয়, আমাদেরকেও দিতে হবে।

আপনারা এতো অসভ্য বর্বর কেন, আপনাদের বিবেক বলতে কি কিছুই নেই, নাকি সবই বিকিয়ে দিয়ে এসেছেন?

ছিঃ ছিঃ ছিঃ, লজ্জার কি মাথা খেয়েছেন?

 

আজ এমনই কিছু আমার অভিজ্ঞতা আপনাদের সাথে শেয়ার করছি যা সত্যি আমাকে পীড়িত করেছে, বাঙ্গালী হিসাবে করেছে লজ্জিত।

 

ঘটনা ১ঃ

 

যথাসম্ভব ৯২/৯৩ সনের ঘটনা, আমি যাচ্ছি ইটালির পন্টেডেরাতে, পথিমধ্যে লন্ডন ও মিলান হয়ে যাবো।

ব্রিটিশ এয়ারওয়েজের ইকোনমির যাত্রী আমি, রাতের ফ্লাইট থাকায় এরোপ্লেন টেকঅফের কিছু সময় পর আমাদের ড্রিংক্স সার্ভ করা হলো, আমি দুই পেগ খেয়ে ইস্তফা দিয়ে ডিনারের অপেক্ষায় আছি, কিছু সময় পর ডিনার করে দিলাম ঘুম।

হটাৎ চেচামেচি শুনে ঘুম ছুটে গেলো, এদিক ওদিক তাকিয়ে দেখলাম পিছনের মাঝের সিটের এক ভদ্রলোক এয়ারহোস্টের সাথে ঝগড়া লাগিয়ে দিয়েছে, ‘কেন তাকে আর মদ দেওয়া হচ্ছেনা”?

ব্যাটা দেখছি খেয়ে পাড় মাতাল হয়ে আছে, এরপরেও হুইস্কি চাইছে, এয়ারহোস্ট আসেপাশের যাত্রীদের সহায়তা চাইলো, বেশ কয়েকজন ভদ্রলোককে বুঝানোর চেষ্টা করছে, এক সময় বুঝিয়ে কুলাতে না পেরে কয়েকজন দিলো ধমকি পেটাবে বলে।

মাতাল দেখলাম একটু নরম হলো, সিটে বসে পড়ে প্যানপ্যান করে ঘুমিয়ে গেলো।

 

ঘটনা ২ঃ

 

সকালে ব্রেকফাস্ট দেওয়া হয়েছে, ব্রেকফাস্ট শেষে অপর পাশের সিটের এক মহিলাকে দেখলাম ব্রিটিশ এয়ারওয়েজের স্টেইনলেস স্টিলের কাটলারিজ গুলো ব্যাগে ভরে রাখছে, বলা যায় চুরিই করছে।

দেখেই আমি হতবাক, সত্যি এরা করছে কি, কাটলারিজ গুলো তো কিনতেই পাওয়া যায়, না কিনে চুরি করার দরকার কি?

 

ঘটনা ৩ঃ

 

সেইসময় মাত্রই স্মোকিং নিষিদ্ধ করা হয়েছে, আমি ফিরছি ইটালি থেকে থাই এয়ারওয়েজে, আমার দুই সিট পিছেই এক বাঙ্গালী সিগারেট ধরিয়ে টানছে, আমার নাকে গন্ধ লাগতেই ফিরে তাকালাম, এরমধ্যে এয়ারহোস্ট দৌড়ে এলো, এসেই বলছে সিগারেট নিভানোর জন্য।

আবাল বাঙ্গালী তো কথায় শুনতে নারাজ, সে স্মোক করবেই, এতে কেউ বাধা দিতে পারবেনা, সে ডলার খরচা করে সিট বুকিং দিয়েছে।

শেষ পর্যন্ত চিফ পার্সার এসে ইংরেজিতে বললো, হয় তুমি স্মোকিং বন্ধ করো, নয়ত তোমাকে ঘাড় ধরে থাইল্যান্ড পুলিশের হাতে তুলে দেবো।

অসভ্যটা সিগারেট এস্ট্রেতে সিগারেট নিভানোর আগে আরও দুই টান দিয়ে নিভালো।

পরে অন্য ফ্লাইট গুলোতে দেখলাম এস্ট্রে একদম নেই হয়ে গেছে।

 

ঘটনা ৪ঃ

 

মালেশিয়ান এয়ারলাইন্সের ফ্লাইটে যাচ্ছি নিউজিল্যান্ড, এক রাত মালেশিয়া স্টে করে পরদিন ফ্লাই করবো নিউজিল্যান্ডের পথে, সাথে উঠেছে অসংখ্য বাঙ্গালী শ্রমিক, ফ্লাইট টেকঅফের পর শুরু হলো মাছের বাজার।

চিৎকার করে করে একে আরেকজনের খোঁজ নিচ্ছে, গল্প করছে।

কিছুক্ষণ পর শুরু হলো খাবার দেওয়া, প্রিমিয়াম সিট থেকে খাবার দেওয়া শুরু হয়েছে দেখে পিছনের সিটের শ্রমিকরা ভাবলো ওদের খাবার দেওয়া হবেনা নিশ্চয়, সবগুলো সামনে চলে এসেছে খাবার নেওয়ার জন্য।

এইসব দেখে এয়ারহোস্ট গুলো দিলো ধমক, যদি ভদ্রভাবে সিটে গিয়ে না বসে, তাহলে ওদের খাবার দেওয়া হবেনা।

এতেই কাজ হলো, সবকটি সিটে ফিরে গিয়ে চুপচাপ উঁকিযুকি মেরে দেখতে লাগলো, যেন খাবার শেষ নাহয়ে যায়।

যখন খাবার পেলো তখন মহা খুশি ওরা, খাবার শেষে ওদের কয়েকজন দিলো উঠে দৌড়, টয়লেট হলো ওদের উদ্দেশ্য।

কিছুক্ষণ পর খেয়াল করলাম এয়ারহোস্ট এবং চিফ পার্সার দ্রুত এগিয়ে গিয়ে দুই টয়লেটের দরজা ধাক্কাছে, ঘটনা কি?

জানতে পারলাম টয়লেটে ওরা সিগারেট টানছে, ওদের বের করে ধমক দিয়ে নিজ সিটে ফেরত যেতে বাধ্য করা হলো।

এক এয়ারহোস্টকে বলতে শুনলাম, ওরা কখনোই ভালো হবেনা।

 

দুঃখজনক ভাবে কথা গুলো সত্যই, আমরা বাঙ্গালীরা কখনোই ভালো হবোনা, আমাদের রক্তেই বিষ আছে নিশ্চয়, নাহলে কি কবি বলেছিলো “স্বাধীনতা তুমি আমাদের বাঙ্গালী করেছো, মানুষ কোরোনি”।

 

সমাপ্ত।

২৮১জন ৪৮জন
37 Shares

৩৮টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

ফেইসবুকে সোনেলা ব্লগ

লেখকের সর্বশেষ মন্তব্য