সেই বহু আগের কথা তবে আমার দৃষ্টিতে মনে হয় এইতো সে দিনের কথা।কি সবুজ শ্যামল পরিবেশটিই না ছিলো সে সময়ে।আমাদের এলাকাটি মানে সিদ্ধিরগঞ্জ বাজার নারায়ণগঞ্জ এলাকাটি তখনো মফস্বল অঞ্চল অথচ অতি নিকটেই ছিলো ঢাকা শহর,ছিলো এশিয়ার বৃহত্তম আদমজী পাটকল,ছিলো দেশের অন্যতম বিদ্যুত কেন্দ্র তবুও ছিলো খাল পুকুরের ছড়ছড়ি,ছিলো ভরপুর গাছ গাছালি,তখনো শীতলক্ষ্যা নদীর শাখা নদী কংস নদীটি আজকের এ ভরাট ছিলো না!সে এক অন্য রকম পরিবেশ প্রায় সারা বাংলাদেশে।এমন এক পরিবেশে সে কালে এ অঞ্চলে হাতে গুণা দু এক জনের বাসায় ছিলো সাদা কালো টিভি।ক্লাবগুলোতে টিভি থাকলেও বড়দের জন্য আমরা দেখার চান্স পেতাম না,দুর দুর করে তাড়িয়ে দিতো তাই বিশেষ ভাল কোন অনুষ্ঠান হলে দল বেধে চলে যেতাম পাওয়ার হাউজের ভিতরে একটি ক্লাবে কিংবা চলে যেতাম আদমজীর বিশাল খোলা মাঠে।প্রচুর দর্শক ছিলো!যাওয়া পথে বহু দুর হতে যখন উমুক্ত টিভির আলো যখন দেখতে পেতাম তখন মনে এক প্রকাশহীন ভাল লাগার অনুভুতি জাগত।মনে হত এখানেই বুঝি সব সুখ সব আনন্দ।তখন প্রতি সপ্তাহে ইংরেজী ছবি ও ভিন দেশীয় ছবির খুব চাহিদা ছিলো।
ছবিগুলোর মধ্যে ছিলো :
(y) স্পেলবাইন্ডার- ল্যান্ড অফ দ্যা ড্রাগন লর ,কেয়ার বেয়ারস,ডালাস,ফেয়ারী টেল থিয়েটার,আলিফ লায়লা,ফ্যামিলি টাইস,নাইট রাইডার,ম্যাকগাইভার,মিয়ামি ভাইস.পারফেক্ট স্ট্রানজারস,রভেন,স্মার্ফস,দ্যা বিল কসবি শো,দ্যা গার্ল ফ্রোম টুমোরো,দ্যা টুইলাইট জোন,দ্যা এক্স-ফাইলস,থান্ডার ক্যাটস,টুইন পিকস,জুয়েল ইন দ্য প্যালেস,রবিনহুড,টারজান,সিক্সমিলিয়ন ডলার ম্যান,বাইনিকওমেন প্রমুখ।
(y) আর স্ব-দেশীয় বাংলাদেশী রূপালী পর্দার সিনেমা দেখাত প্রতি তিন মাসে একটি যা পরবর্তীতে মাসে একটি সাদা কালো ছবি দেখাত যা দেখতে নাওয়া খাওয়া লেখা পড়া ছেড়ে মায়ের বকুনিকে উপেক্ষা করে আগে বাগে দেখার স্থানে পৌছতাম।
(y) এ ছাড়াও তখনকার নাটকগুলো ছিলো অসম্ভব জনপ্রিয় এবং খুব ভাল মানের শিক্ষণীয় নাটক।সংশপ্তক,কোথাও কেউ নেই,আজ রবিবার,বহু ব্রীহি,নক্ষত্রের রাত,অয়োময়,সকাল সন্ধ্যা,আমি তুমি সে,এই সব দিন রাত্রী ইত্যাদি ধারাবাহিক নাটক।‘এইসব দিনরাত্রি’নাটকে টুনির মৃত্যুর মাধ্যমে ধারাবাহিকটি শেষ করেন হুমায়ূন আহমেদ।পর দিনই প্রেস ক্লাবের সামনে টানানো হয়েছিল ব্যানার ‘টুনির কেন মৃত্যু হলো,হুমায়ূন আহমেদ জবাব চাই’।
কোথাও কেউ নেই নাটকটি এতই জনপ্রিয়তা পায় যে সে সময় নাটকের নায়কের ফাসির রায়কে কেন্দ্র করে বাস্তবে পাড়ায় মহল্লায় এর প্রতিবাদী মিছিল পোষ্টার ফেষ্টুন ইত্যাদি দিয়ে প্রচার  চালায় সে সময়ের টিনএজরা,বলতে শুনা যায় “বাকের ভাইয়ের কিছু হলে জ্বলবে আগুন ঘরে ঘরে”।বর্তমান নীলফামারীর সাংসদ আসাদুজ্জামান নুর রাতারাতি হয়ে গেলেন ভিলেনের অভিনয় করে হয়ে উঠলেন হৃদয়ের হিরো।এ ছাড়া সে সময় আফজাল-সূর্বনা ঝুটির নাটকগুলো ছিল অসম্ভব অনেক জনপ্রিয়।প্রতিটি ঈদে আমজাদ হোসেনের বিশেষ নাটক “জব্বর আলী” ছিলো ঈদ আনন্দ পিয়াসীদের জন্য বাড়তি আনন্দ।এ নাটকে উঠে আসতো সমাজের যত অনিয়ম দূর্নিতীর বাস্তব চিত্র যার একটি ডায়লগ “টাকা দাও দুবাই যাবু” টেলি সামাদের এ ডায়লগটা মানুষের মুখে মুখে ছিল।এর পর আমাদের প্রজন্ম আবুল হায়াতের মেয়ে বিপাশা হায়ৎ,শমী কায়সার,আফসানা মিমি,টিসা,জাহিদ হাসান,টনি ডায়েস,আজিজুল হাকিম,মাহফুজ,খায়রুল আলম,আসাদ, প্রমুখ অভিনেতারা টিভিকে মাতিয়ে রাখেন তাদের অনবদ্য অভিনয় দিয়ে।এ ক্ষেত্রে হুমায়ুন ফরিদির নাম না আনলে অনেকটা তার প্রতি অবিচারই করা হবে।
টিভির প্রথম দিকের নাটক গুলোর মধ্যে যতটুকু জানা যায় সৈয়দ শামসুল হকের ‘কবি’, সেলিম আল দীনের ‘দেব দূত’, ‘এক দিন এক রাত্রি’,কবর,আমজাদ হোসেনের’অস্থির পাখিরা’,মামুনুর রশীদের ‘এখানে নোঙর’, মমতাজ উদ্দিন আহমদের ‘হরিণ চিতা চিল’,সেলিনা হোসেনের ‘চাঁদবেনে’, হুমায়ূন আহমেদের ‘প্রথম প্রহর’, প্রভৃতি। এ দেশের টেলিভিশন নাটকের ইতিহাসে মুনীর চৌধুরীর ‘একতলা দোতলা’র কথা না বললেই নয়।আশির দশকের সফল ভাবে প্রচারিত হওয়া নাটকের মধ্যে উল্লেখ যোগ্য হলো ‘ত্রিরত্ন’,’ঘরোয়া’,’আমাদের মাসুম’,’নতুন বাড়ি’,’দম্পতি’,’সত্যই সেলুকাস’,’অভ্যুদ্বয়’,’নাইট গার্ড’,’সামনের মাসে’,’আরেক ফাল্গুন’,’কত গুলো মৃত্যু’,’বিষুব রেখা’,’যখন চেতনা’,’পিনিস’,’কুশল সংবাদ’,’মুখরা রমণী বশী করণ’ প্রভৃতি নাটকগুলো ছিল।

নাটক ছাড়াও আরো যে সব অনুষ্ঠান হতো তা ছিল মধ্য বিত্ত মানুষের এক মাত্র চিত্ত বিনোদন অনেকটা পেটে ক্ষুধা নিবারণের মতন মনের ক্ষুধা নিবারণ ছিল।এর মধ্যে কৌতুক অভিনেতা আনিস এর “কইচ্চান দেহি” কৌতুক প্রশ্নের উত্তরের পর্বটি ছিলো অত্যন্ত জনপ্রিয় একটি ম্যাগাজিন অনুষ্টান “যদি কিছু মনে না করেন”।এখনো চোখে ভাসে সেই মহান মানুষ উপস্থাপক ফজলে লোহানীর উপস্থাপনার ঢং শব্দের কারুকার্য যা সে সময় দেশের সর্বোস্থরের দর্শকদের মন জুগিয়েছেন,কুড়িয়েছেন প্রসংশা।যদি কিছু মনে না করেন সম্প্রচার কাল ছিল ১৯৬৭-৬৮,১৯৮২-৮৫ কিছু দিন অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করার পর ফজলে লোহানী লন্ডনে চলে যান এবং অনুষ্ঠানটির প্রচার বন্ধ হয়ে যায়। পরবর্তীতে ১৯৮২ সালের দিকে দেশে ফিরে এসে তিনি আবার অনুষ্ঠানটি পাক্ষিক ভাবে আবার শুরু করেন।এবার অনুষ্ঠানটিতে বিনোদনের অংশে মূল কাজ করেন হানিফ সংকেত,লোহানী থাকেন প্রতিবেদন অংশে।১৯৮৫ সালে লোহানীর মৃত্যুর পর অনুষ্ঠানটি বন্ধ হয়ে যায়।তার উত্তরসরী হিসাবে হানিফ সংকেত আজকের জনপ্রিয় ম্যাগাজিন ইত্যাদি ১৯৮৯-বর্তমান।সম্প্রচার শুরু করেন একটু ভিন্ন আঙ্গিকে।এছাড়াও সে সময় ছিল আব্দুল্লাহ আবু সায়ীদের এর ধাধাঁ বিষয়ক অনুষ্টান (y)  হারজিত ১৯৭৩-৭৪ ও (y)  সপ্তডিঙ্গা ১৯৭৫ হতে-৭৬ যাতে অংশ গ্রহন করেছিলেন দেশের নামীদামী শিল্পীবৃন্দ।এই অনুষ্ঠানের মাধ্যমেই সেসময় নবপরিচিত পপ সংগীতকে (এখন ব্যান্ডগান) প্রথম জাতীয় কোনো গণ মাধ্যমে উপস্থাপন করা হয়।অনুষ্ঠানের গান নির্ভর ধাঁধাগুলোতে অংশ নেন পপ শিল্পী ফেরদৌস ওয়াহিদ,ফিরোজ সাঁই,ফকির আলমগীর ও পিলু মমতাজ।অনুষ্ঠানটির শেষ পর্বে পপ শিল্পী আজম খানও উপস্থিত হন এবং তার নতুন গান আলাল ও দুলাল গেয়ে শোনান।অনুষ্ঠানটির জন্য সায়ীদ ১৯৭৭ সালে শ্রেষ্ঠ টিভি উপস্থাপকের পুরস্কার লাভ করেন।
(y) আনন্দমেলা  যার শুরুর কাল ১৯৭৫ বর্তমান…
আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ এই অনুষ্ঠানের মাধ্যমেই “ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান” নামক ধারাটি সৃষ্টি করেন।শুরুতে ১৯৭৫ সালে ঈদ উপলক্ষে এই বিনোদন মূলক অনুষ্ঠান তৈরি করা করা হয়,প্রথম ৫ বছরে এর ১০টি পর্ব প্রচারিত হয়,যার আটটি সায়ীদ করেছিলেন।পরবর্তীতে অন্য অনেকে এটি উপস্থাপনা করে চললেও তেমন একটা ভাল মানের আনন্দ মেলার আয়োজন করতে পারেননি।
এ ছাড়াও আব্দুর নূর তুষারের “শুভেচ্ছা” শাইখঁ সিরাজের মাটি ও মানুষ,মোস্তফা জামান আব্বাসী পল্পীগীতি  অনুষ্টান “ভরা নদীর বাকে”,সিসিম পুর এবং শিশুদের এক মাত্র আজ অব্দি জনপ্রিয় অনুষ্টান নতুন কূড়িঁ ১৯৬৬-৭৬,২০০৬।যখনি টিভিতে “আমরা নতুন আমরা কূড়ি” শুরুর সময় গানটি কানে আসত তখন কান পেতে রইতাম।অনুষ্ঠানটি উপস্থাপনায় ছিলেন মুস্তফা মনোয়ার।চতুরঙ্গ ১৯৭৮-৭৯,আপনার ডাক্তার ১৯৭০,টিভি বিতর্ক প্রতিযোগীতা,ইত্যাদি ভিন্ন ভিন্ন আয়োজনে বিটিভি ছিল অনন্য।এবার আসি টিভির গোড়ার কথায়:
দ্বিতীয় বিশ্ব যুদ্ধের পর পরই যখন উন্নত বিশ্ব টেলিভিশনের নিয়মিত সম্প্রচার শুরু করে খন আমাদের এ  উপমহাদেশে টিভি এসেছে তারও প্রায় দু’দশক পরে।যা বাংলাদেশে ১৯৬৪ সালের ২৫ ডিসেম্বর বেসরকারি উদ্যোগে টেলিভিশনের প্রথম সম্প্রচার শুরু হয়।ঢাকা শহরের ডি আই টি বর্তমান রাজউক ভবন থেকে মাত্র তিনশ ওয়াট ট্রান্সমিটারের সাহায্যে ঢাকা ও এর আশপাশে দশ মাইল এলাকার জন্য প্রতি দিন তিন ঘণ্টার অনুষ্ঠান প্রচার করা হতো।পাকিস্তান সরকার ঢাকা টেলিভিশন সেন্টারকে পাকিস্তান টেলিভিশন কর্পোরেশন হিসেবে গ্রহণ করে।যুদ্ধ বিধ্বস্ত একটি নতুন দেশের পুর্ণগঠনের বলিষ্ঠ ভূমিকা বিবেচনা করে ১৯৭২ সালে টেলিভিশনকে জাতীয়করণ করে বাংলাদেশ টেলিভিশন  নাম করণ করা হয়।পূর্বে এটি একটি স্বায়ত্ত শাসিত প্রতিষ্ঠান ছিল।কিন্তু সীমিত সম্প্রচার এলাকা এক্ষেত্রে একটা বাধা হয়ে দাঁড়ায়।যার ফলে পর্যায় ক্রমে বিভিন্ন স্থানে এর উপ কেন্দ্র স্থাপন করা হয় ।
১৯৭৫ সালের ৬ মার্চ ডি আই টি থেকে টেলিভিশন কেন্দ্র রাম পুরার বৃহত্তর পরিমন্ডলে স্থানান্তর করা হয় যা বর্তমানে ১২টি উপকেন্দ্রের মাধ্যমে সারাদেশে পঁচানববই ভাগেরও বেশি এলাকা টিভি সম্প্রচারের অধীনে এসেছে।এর মধ্যে চট্টগ্রামই প্রতি দিন সীমিত সময়ের জন্য নিজস্ব অনুষ্ঠান প্রচার করতে পারে।বাকি সব উপ কেন্দ্র ঢাকার অনুষ্ঠান ‘রিলে’ করে থাকেন।২০০৪ সালের ১১ এপ্রিল বিটিভি ওয়ার্ল্ড স্যাটেলাইটের মাধ্যমে সম্প্রচার শুরু করে।ফলে বিটিভির সম্প্রচার এখন দেশের সীমানা ছাড়িয়ে পৃথিবীর বিভিন্ন স্থানে দর্শকদের কাছে পৌঁছে যাচ্ছে।বিটিভি ওয়ার্ল্ড ২৪ ঘন্টা বিরতিহীন স্যাটেলাইট সম্প্রচার করে যাচ্ছে।
বিটিভিতে যা কিছু প্রথম এর কিছু তথ্য:
 (y) বাংলাদেশ টেলিভিশনে প্রথম প্রচারিত অনুষ্ঠানে প্রথম গান গেয়েছিলেন ফেরদৌসী রহমান,গানটি ছিল আবু হেনা মোস্তফা কামালের লেখা “এই যে আকাশ নীল হল আজ /এ শুধু তোমার প্রেমে।
(y)  প্রথম প্রযোজক ছিলেন মুস্তাফা মনোয়ার, জামান আলী খান ও মনিরুল ইসলাম; পরবর্তীতে আসেন শহীদ কাদরী, আবদুল্লাহ আল মামুন, সৈয়দ আবদুল হাদী, দীন মোহাম্মদ, মোহাম্মদ জাকারিয়া, আতিকুল হক চৌধুরী।
(y) অনুষ্ঠান বিভাগের প্রথম ব্যবস্থাপক ছিলেন কলিম শরাফী।
(y) প্রথম প্যাকেজ নাটক:কাজী আনোয়ার হোসেনের সৃষ্টি জন প্রিয় চরিত্র মাসুদ রানা কেন্দ্রিক ‘প্রাচীর পেরিয়ে’।রচান ও পরিচালনায় ছিলেন প্রয়াত আতিকুল হক চৌধুরী। অভিনয়ে ছিলেন নোবেল ও বিপাশা হায়াত।
(y) বিটিভির নিজস্ব প্রথম ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান : বিটিভির প্রথম ম্যাগাজিন অনুষ্ঠানের নাম ‘সপ্তবর্ণা’। আব্দুল্লাহ আবু সায়ীদের গ্রন্থনা ও উপস্থাপনায় এ ম্যাগাজিন অনুষ্ঠানটির প্রচার শুরু হয় ১৯৭৫ সালে।‘সপ্ত বর্ণা’ দেশের অনেককেই তারকা খ্যাতি দিয়েছে।তাদের মধ্যে ফিরোজ সাঁই,ফকির আলমগীর,পিলু মমতাজ ও ফেরদৌস ওয়াহিদের নাম বিশেষ ভাবে উল্লেখযোগ্য।
(y) বহিরাগত প্রথম প্যাকেজ ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান : যদি কিছু মনে না করেন বন্ধ হয়ে যাবার পর বহিরাগত প্রথম ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান “ইত্যাদি” নব্বই দশকে শুরু হয়।
(y) প্রথম ঈদের বিশেষ নাটক : ‘এই যে দুনিয়া কিসেরও লাগিয়া’ আমজাদ হোসেনের লেখা ‘জব্বার আলী’ সিরিজের ঈদের প্রথম বিশেষ নাটক।অভিনয় করেছিলেন আমজাদ হোসেন, সুবর্ণা মুস্তফা, জাহানারা আহমেদ, ফরিদ আলী, টেলি সামাদ প্রমুখ।
(y) প্রথম কৃষি বৃত্তিক অনুষ্ঠান : বিটিভিতে কৃষি ভিত্তিক প্রথম অনুষ্ঠানের নাম ‘আমার দেশ’।আশির দশকে এ অনুষ্ঠানটির প্রচার শুরু হয়।প্রযোজনায় ছিলেন আলীমুজ্জামান দুলু।
(y) প্রথম অনুষ্ঠান ঘোষক : এ দেশে টেলিভিশন যাত্রা শুরু করার পর দর্শকরা প্রথম যে ঘোষককে  দেখেন তার নাম মোডি কোহেন। তিনিই ছিলেন উদ্বোধনী দিনের অনুষ্ঠান ঘোষণায়।
(y) প্রথম খবর বা সংবাদ পরিবেষনায় : এ দেশে টেলিভিশন যেদিন যাত্রা শুরু করে সে দিন থেকেই সংবাদ প্রচার শুরু হয়।বাংলায় প্রথম সংবাদ পাঠ করেন হুমায়ূন চৌধুরী।তিনি ছিলেন মূলত রেডিওর ঘোষক।টেলিভিশনের ঘোষক হিসেবে তাকে নিয়ে আসা হয়েছিল।এর পর অনেকটা জোর করেই তাকে খবর পড়তে বসিয়ে দেয়া হয়েছিল।এর পর হুমায়ূন চৌধুরী টেলিভিশন সংবাদে নিয়মিত হয়ে উঠেন।আর প্রথম দিনের  ইংরেজি খবর পড়ে ছিলেন আলম রশিদ।
(y)  প্রথম সঙ্গীত শিক্ষার আসর : ১৯৬৪ সালে ২৭ ডিসেম্বরই প্রচারিত হয় প্রথম সঙ্গীত শিক্ষার আসর।অনুষ্ঠানটির সঞ্চালনায় ছিলেন ফেরদৌসী রহমান।প্রথম দিন শিল্পী শিখিয়ে ছিলেন একটি নজরুল গীতি ‘বউ কথা কউ-বউ কথা কও’।
(y)  প্রথম নাটক : ডি আই টি ভবনে থাকাবস্থায় স্বল্প কারিগরী সুবিধা নিয়ে প্রচারিত হয়েছিলো প্রথম নাটক ‘এক তলা দো তলা’।শহীদ মুনীর চৌধুরী লিখেছিলেন এই নাটকটি।প্রযোজনায় মনিরুল আলম।
(y)  ইলেকট্রনিক রিপোর্টিং এ প্রথম : ” দেশে আজ বিটিভি সহ অনেক চ্যানেলেই নানা রিপোর্ট প্রচারিত হচ্ছে।দেশে এমন সব রিপোর্টিং ধারার পথিকৃত ছিলেন প্রয়াত ফজলে লোহানী।তিনি তার জন প্রিয় ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান ‘যদি কিছু মনে না করেন’-এর জন্য বেশ কিছু আলোচিত বিষয়ের ওপর প্রতিবেদন তৈরি করেছিলেন।এর মধ্যে উল্লেখ যোগ্য ছিল নিপা নামের এক অসহায় কিশোরীর ওপেন হার্ট সার্জারির জন্য অর্থ সংগ্রহের ব্যবস্থা আর ওই সার্জারি সরাসরি সম্প্রচার করা হয়েছিল।
(y)  প্রথম বিজ্ঞাপন ভিত্তিক অনুষ্টান : বিটিভির শুরুতে বিভিন্ন স্পন্সরের পণ্য বিজ্ঞাপন প্রচারে ব্যাবস্থা ছিল না তাই “ঘরোয়া” নামের একটি অনুষ্ঠানে বিভিন্ন পণ্যের নাটিকার মাধ্যমে  পরিচিতি তুলে ধরতেন।নিয়মিত ভাবে অভিনয় করতেন নায়ক রাজ রাজ্জাক,আনোয়ারা আহমেদ,লালু,মুসা আহমেদ,শিমুল বিল্লাহ প্রমুখ।দেখতে পারেন আশির দশকের কিছু বিজ্ঞাপন। নব্বই দশকের বিজ্ঞাপন।
নিজস্ব ভাবনা:
বিটিভির একটি বিজ্ঞাপন ছিলো “মালা শাড়ী”।খুব জনপ্রিয় এই বিজ্ঞাপনের কারনে এক সময় এ দেশে কোন বিয়ে সাদী হলে অবশ্যই মালা শাড়ী লাগবে নতুবা অনেকাংশে সামাজিক ভাবে এ বিয়ে ভয়কট করা হত।বর্তমানে দেশে প্রায় ৪৪টিরও বেশী বেসরকারী টিভি চ্যানেল আছে যা নিত্য নতুন আঙ্গিকে সাজিয়েঁ প্রথম সারিতে আসতে রীতিমত প্রতিযোগীতায় লেগে আছে সে অর্থে বিটিভি অনেক পিছিয়ে তবে বিটিভিতে যে ধরনের অনুষ্ঠান প্রচারিত হয় তার সবগুলোই সামাজিক ভাবে এ সমাজের প্রতিচ্ছবি যা শিক্ষনীয় আর দেশ ্প্রেমের ছোয়াঁ থাকে।আমার সব চেয়ে ভাল লাগে বিটিভির প্রতিটি খবরের আগে “এক সাগর রক্তের বিনিময়ে আনলো যারা আমরা তোমাদের ভুলবো না,,ভুলবো না” এই যে সূর এই যে সাভারের স্মৃতি সৌধের দৃশ্য শরীরে শিহরণ জাগায়,মনে দেশপ্রেম জাগ্রত করে।এ রকম ধারাবাহিক প্রচার দেশের অন্যান্য টেলিভিশনগুলোতে সাধারনতঃ দেখতে পাই না।এ রকম প্রচারে কি বেসরকারী টিভিগুলোকে বাধ্যবাধকতায় ফেলা যায় না?কারন প্রচারই প্রসার।যদি ভারতীয় মিডিয়া গুলোর দিকে তাকাই তাদের প্রত্যাকটি টিভি চ্যানেলে প্রত্যহ কিছু না কিছু দেশ নিয়ে,দেশ প্রেমের শ্লোগান নিয়ে অনুষ্ঠান থাকবে আর প্রায় সিনেমাগুলোতে “জয় হিন্দ ” উচ্চারতো হরমোশাই আছে।এতে জনগণের মনে দেশপ্রেম জাগ্রত থাকে সর্বোক্ষণ।
মাত্রাতিরিক্ত বিজ্ঞাপন কমিয়ে বিটিভিকে আরো আর্কষনীয় করতে মাননীয় সরকার মন্ত্রীদের প্রতি আহবান।আমরা আগের সেই জনপ্রিয় বিটিভি দেখতে চাই,চাই নিয়ন্ত্রহীন উম্মুক্ত বিটিভির আকাশ।বিভিটির জন্য রইল শুভ কামনা।

সবাইকে ধন্যবাদ
তথ্য ও ছবির জন্য কৃতজ্ঞ:উইকিপিয়া ও বিভিন্ন অন লাইন মাধ্যম।

১৬৯জন ১৬৮জন
0 Shares

১৩টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

লেখকের সর্বশেষ মন্তব্য