মানুষ মাত্রই কৌতুহলী আর সেই কৌতুহল যদি হয় রহস্যের সন্ধানে তবেতো এ্যাডভেঞ্জার জীবনের মজাই আলাদা।বিশ্বে বিভিন্ন স্থান ঘটনার রহস্যময় তথ্যের সাথে আমাদের বাংলাদেশেরও বেশ কিছু রহস্যে ঘেরা স্থান ও ঘটনা রয়েছে।এ সব রহস্যময় ঘটনা নতুন প্রজন্মের নিকট অবিশ্বাস্য হলেও এ যাবৎকাল রূপকথার ভিত্তিতে সত্য বলেই চলে আসছে।তাই আজ আমাদের প্রিয় মার্তৃভুমি বাংলাদেশের আনাচে কানাচে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা অসংখ্য রহস্যময় স্থান ও ঘটনা হতে সংক্ষিপ্তকারে কিঞ্চিত পরিমান রহস্যময় ঘটনা ও স্থান সোনেলা আমার প্রিয় ব্লগে তুলে ধরার চেষ্টা করছি।উদ্দ্যেশ্য একটাই নয়াভিরাম প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ভরপুর বাংলাদেশের রূপকথার জানা অজানা রহস্যগুলো বিশ্বের লেখক/পাঠক সমাজে তুলে ধরা।
ভুল ত্রুটি ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন- চলুন ঘুরে আসি বাংলাদেশের রহস্যময় স্থানগুলো হতে…..


গানস অফ বরিশাল
গানস অফ বরিশাল বাংলাদেশের অভ্যান্তরে  তৎকালীন পূর্ব বঙ্গের এ এক রহস্যময় স্থান।ব্রিটিশরা যখন বর্তমান বাংলাদেশ এর বরিশাল অঞ্চলে আসে তখন এর নাম ছিলো বাকেরগঞ্জ।তৎকালীন এক ব্রিটিস সিভিল সার্জন প্রথম বারের মত গভীর সাগরের দিক থেকে বেশ কয়েকটি এক সঙ্গে কামান ছুড়া গুলির আওয়াজের মতন শব্দ শুনতে পান।বরিশালের এ আওয়াজের মত বিশ্বে অন্যান্য দেশেও এমন কামানের বিকট শব্দ অনেকে শুনতে পেত।১৮৭০ সালে প্রথম বারের মতো বরিশাল গানসের কথা শোনা যায় বলে নথিপত্রে পাওয়া যায়। ১৮৮৬ সালে কল কাতার এশিয়াটিক সোসাইটির হিসাব অনুযায়ী বরিশাল সহ অন্যান্য যেমন  নোয়াখালী, নারায়ণগঞ্জ, হরিশপুর খুলনা জেলা গুলোতেও  বরিশালের মত গানস এর ন্যায় ভয়ংকর শব্দের আওয়াজ শোনা যেত। টি ডি লাতুশ ১৮৯০ সালে এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন, বরিশাল গানস কেবল গাঙ্গেয় ব-দ্বীপ নয়, ব্রক্ষ্মপুত্রের ব-দ্বীপেও শোনা যেত। সেই শব্দ আছড়ে পড়া সমুদ্রের ঢেউ এর শব্দের চেয়ে সেই শব্দগুলোকে কামানের শব্দই বেশী বলে মনে হত।
কবি সুফিয়া কামাল তার এক আত্ম জীবনীতেও লিখেছেন যে তিনিঁ তরঁ শৈশবেও এ ধরনের আওয়াজের কথা বড়দের মুখে শুনেছেন। তবে তিনি এও বলেন যে  ১৯৫০ সালের পর এ ধরনের শব্দ আর কেউ শুনেছে বলে তার জানা নেই। তবে সেই সময় ব্রিটিশরা তারা সেই শব্দগুলোকে সাগরের জলদস্যুদের কারসাজি মনে করে অনেক খোজাঁখুজিঁ করেন কিন্তু এর রহস্যে ভেদ এর কোন কুলকিনারা খুজেঁ পাননি।

সোয়াচ অব নো গ্রাউন্ড
নামটি ব্রিটিশদের দেয়া।বাংলাদেশের সুন্দর বনের দুবলার চর থেকে প্রায় ত্রিশ চল্লিশ কিলো মিটার দূরে অবস্থিত এই সোয়াচ অব নো গ্রাউন্ড। প্রায় তিন হাজার আট শত বর্গ কিলোমিটার এলাকা নিয়ে এর বিস্তৃতি এ সোয়াচ অফ নো গ্রাউন্ড যাকে আমরা অতলস্পর্শীও বলে থাকি।মেঘনা নদী যেখান থেকে সাগরে মিশেছে সেই ঠিক জায়গাতে এক বার দু-মুখী স্রোতের ঠেলায় ১৮৬৩ সালে গ্যাড ফ্লাই নামে ব্রিটিশদের একটি গানবোট তলিয়ে যায়।যার ভিতরে ছিলো ভারত থেকে ইংল্যান্ডে নেয়া বিপুল পরিমাণ ধনরত্ন।অনেক খোজাঁ খুজিঁ করেও গান বোটটি আর খুঁজে পাওয়া যায়নি।ব্রিটিশদের ধারণা এই খাদটির কোন তল নেই।
বঙ্গোপসাগরের নিকটে একটি গভীর উপত্যাকা আছে যাকে ওয়াটার ক্যানিয়ন বলে।বাংলাদেশের জেলেরা সেখানে মাছ ধরতে যান।সেখানে প্রচুর মাছ পাওয়া যায়।জেলেরা মাছ ধরতে গিয়েই প্রথম ওখানকার জলের রং আলাদা আলাদা দেখতে পান।কেউ এর রহস্যের সন্ধানেও কোন চমকপ্রদ তথ্য পাননি।

বগা লেক
বাংলাদেশের এ এক আশ্চর্য রকমের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্যে ভরপুর বগা লেন যাকে অনেকে বগাকাইন হ্রদ বলে থাকি।বান্দর বনের রুমা সদর উপজেলে থেকে এই লেকটি ১৮ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত।সমুদ্র পৃষ্ঠ হতে প্রায় তিন হাজার ফুট উচ্চতায় প্রায় পনের একর জমি নিয়ে বিস্তৃত।এখানে বাউম ও খুমি সম্প্রদায়ের লোক বসবাস করেন।নীল পানির এই দীপটিতে শীতের মৌসুমে বহু পর্যটক এখানে ঘুরতে আসেন।
লোক মুখে জানা যায় সেখানে এক রহস্যময় ঘটনার কথিত ইতিহাস আছে।প্রথম কথিত ইতিহাস- সেখানকার অধিবাসীদের মতে সেখানে এক ভয়ংকর বম বা ড্রাগন বাস করত।গবাদি পশু সহ ছোট ছোট শিশু কিশোরদের বম ধরে ধরে খেয়ে ফেলত।প্রথম দিকে নিজেদের গোত্রের দ্বন্দকে মনে করলেও যখন দেখল সব গোত্রের লোকেরাই নিখোজঁ হচ্ছেন তখন ভাবলেন নিশ্চয় ভয়ংকর কোন প্রানীর এ কাজ।তাই তারা একদল যুবক রহস্য সন্ধ্যানে নেমে পড়লেন।যুবক দল কথিত সেই বম এর পায়ের চিহ্ন দেখে দেখে খোজঁতে থাকলেন রহস্যের ভেদ।এক পর্যায়ে তারা বগ বা ড্রাগনের চলার পথের পায়ের চিহ্নগুলো ফলো করতে করতে চুঙ্গাকৃতি উচু এক পাহাড়ে দেখলেন বগের ন্যায় এক বিশাল দেহীর ড্রাগন।দল বলে লাঠি টেঠা ঝুইত্তা নিয়ে সেখানে গিয়ে অবাক হয় ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা মানুষ ও জন্তু জানোয়ারে রক্তাক্ত হাড় মাংস।তখনি তারা ঘুমন্ত ড্রাগনকে আঘাত করে কুপোঁকাত করেন।অনেকের ধারণা সেই সময় ড্রাগন তার আত্ম রক্ষার্থে যে আগুনের লেলিহান শিখা ছুড়ে মেরেছিলো তার তীব্রতায় এই হ্রদের বা বগা লেকের সৃষ্টি হয়।

দ্বিতীয় কথিত ইতিহাসটি ছিলো- প্রায় ২০০ বছর পূর্বে বান্দর বন তথা সেই অঞ্চলে বসবাস রত খুমী গোত্রের মাঝেও ছিলো বিভিন্ন দেবতার পূজোঁ করার প্রচল।দেবতাদের মধ্যে এক দেবতা একদিন এক পূজারীর উপর খুব চটে গিয়ে নিজের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ড্রাগন রূপ ধারণ করে পূজাঁরীদের ধরে ধরে খেয়ে ফেলতে লাগল।ড্রাগন রূপী সেই দেবতা একদিন খুব জোরে হুংকার ছেড়ে মুখ হতে অগ্নি নিক্ষেপ করলে প্রচন্ড ভুমিকম্পের সৃষ্টি হয়ে সেখানে একটি বিশাল গর্ত তৈরী হয় আর সেই গর্তটিই হল বগা হ্রদ। এক সময় বৃষ্টির জলে গর্তটি ভরে একটি পরিপূর্ণ হ্রদের সৃষ্টি হয়।তারপর হতে সেই গর্তে জল প্রবেশের আর কোন সুযোগ না থাকলেও হ্রদটি কখনো জল শুন্যতায় পড়েনি বরং প্রতি বছরেই জলের রং পাল্টাতে থাকে যা অধিবাসীদের মনে লোক গাথাঁ হিসাবে বিদে যায় এবং সত্য বলে মনে করতে থাকেন।

এবার জানবো ভূতাত্বিবিদদরা হ্রদটির সম্পর্কে কি বলেছিলেন।তাদের মতে এ হ্রদ সৃষ্টির মুলে-হয় কোন বড় ধরনের ভুমিকম্প হয়েছিলো নতুবা উপর হতে কোন উল্কাপিন্ড পতিত হয়ে এই গর্তের সৃষ্টি হয় যা বৃষ্টির জলে নয়াভিরাম হ্রদের সৃষ্টি হয় তবে এই হ্রদে জল প্রবেশে ঝর্ণা বা অন্য কোন উপায় না থাকলেও জল জমে থাকার রহস্য এবং বছরে বছরে জলের রং পরিবর্তনের রহস্যে জাল রহস্যই রয়ে যায়। এসব হয়তো রূপ কথার গল্প কিন্তু এ ছাড়া এ সত্যতা জানতে এর চেয়ে বিশ্বস্ত কোন তথ্যওতো কারো জানা নেই।তাই এ তথ্যগুলোকে বিশ্বাস করে উপজেলা পরিষদের লাগানো সাইন বোর্ডে সরকারী ভাবে এই রহস্যের কথাগুলো লেখা আছে।এর গভীরতা এখনো অনুমান ভিত্তিক প্রায় ইকো মিটার ১৫০+।ভিডিওটি দেখুন (তথ্য roar.com)


চিকনকালা:
বাংলাদেশ ও বার্মার নো ম্যান্স ল্যান্ডের কাছা কাছি লোকেরা প্রায় প্রতি বছর বনের ভিতরে গেলে ধুম-ধাম শব্দ পেয়ে তারা ভয়ে বনের ভিতর হতে দ্রুত পালিয়ে আসতে চেষ্টা করে।তখন যারা দৌড়ে পালিয়ে না এসে বনের ভিতরই থেকে যান তারাঁ আর ফেরত আসতে পারেন না।কয়েক দিন পর তাদের খোজঁ আনতে গেলে তাদের মৃত দেহ পাওয়া যায় তবে মৃত ব্যাক্তিদের শরিরে আঘাতের কোন চিহ্ন না থাকলেও তাদের মুখমন্ডলে আতংকের ছাপ স্পর্ষ্ট বুঝা যায়।

লালবাগ কেল্লার সূড়ঙ্গ ও পরিবিবি

লালবাগ এর কেল্লা দেশের রাজধানী ঢাকার একটি বিষ্ময়কর ও সৌন্দর্য্যমন্ডিত স্থান।এর নির্মাণ কাজ নিয়েও রয়েছে বেশ চানচল্যকর কিছু তথ্য।এর উৎপত্তি বা নির্মানকাল যতটুকু জানা যায় ১৬৭৮ সালে সুবেদার আজম শাহ অল্প সময়ে থাকার জন্য স্থায়ী কোন ভবন নির্মাণ করার আগ্রহ দেখাননি।প্রথম আগ্রহ দেখান যুবরাজ আযম শাহ্।তিনি এক জটিল নকশা হাতে নিয়ে দূর্গের কাজ শুরু করেন।তার নাম দেন কিল্লা আওরঙ্গবাদ কিন্তু পরের বছরই তার দিল্লীতে চলে যাওয়াতে দ্বিতীয় বারের মতন সুবেদার হয়ে আসেন শায়েস্তা খাঁ।যুবরাজ আযম শাহ তাকে দূর্গের অসমাপ্ত কাজটি বুঝিয়ে দিয়ে সেটা নির্মাণ সমাপ্ত করার অনুরোধ করেন। শায়েস্তা খাঁ যুবরাজের নকশা মত দূর্গের কাজে এগুতে থাকলেন কিন্তু এক সময় ১৬৮৪ সালে রহস্য জনক ভাবে তার অতি আদরের মেয়ে পরি বিবি হঠাৎ মারা গেলে দূর্গটিকে অশুভ মনে করে দূর্গের কাজ সেখানেই বন্ধ করে দিয়ে তিনি এর পরিবর্তে সেখানে নির্মাণ করেন কন্যার প্রতি পিতার ভালবাসার নির্দেশন স্বরূপ অত্যান্ত চিত্তাকার্ষ পরি বিবি স্মৃতিসৌধ।পরিবিবি ১৬৬৮ সালে ৩মে যুবরাজ আযমের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে মাত্র বিবাহীত জীবনের ১৬ বছরে সে অকস্মাত পরলোক গমন করে।

লালবাগ কেল্লার একটি ভবনের নাম পরিবিবি স্মৃতিসৌধ কিন্তু কেল্লার অসমাপ্ত অন্যান্য যে বাকী অংশগুলো বা সূড়ঙ্গগুলো ছিলো তা পরবর্তীতে পর্যটকদের নিকট এক অজানা রহস্যময় হয়ে উঠে।লোক মুখে জানা যায় সেখানে এমন একটি সূড়ঙ্গ আছে যার ভিতরে কেউ প্রবেশ করলে আর ফিরে আসে না।কথিত আছে যে সেই সূড়ঙ্গের ভিতরে দুটো কুকুর পাঠায় কিন্তু সেই কুকুরগুলো আর ফেরত আসেনি।এরপর আবারো কুকুর পাঠালো এবার শিকল বেধে কিন্তু শিকল টানলে শুধু শিকলগুলো ফেরত এলেও কুকুরগুলো আর ফেরত আসেনি।অনেকের মতে সূড়ঙ্গের ভিতরে এমন কিছু গ্যাস সৃষ্টি হয়েছে যাতে কেউ প্রবেশ করলে তার হাড় মাংস গলে যায়।আবার অনেকের মতে সেখানে ভয়ংকর কোন শক্তি আছে।সেই সূড়ঙ্গের অন্ধকার এতোটা গভীর যে সেখানে কোন টর্চ বা লাইটের আলোতেও অন্ধকারকে ভেদ করতে পারে না।সূড়ঙ্গটি এখন বন্ধ আছে এবং প্রবেশ নিষিদ্ধ।
ক্লিক করলেই জানতে পারবেন বিশ্বে  ভালবাসার জন্য কে কি স্থাপনা তৈরী করলেন।

খুলনার ভুতের বাড়ী
খুলনার বাহাদুর লেন এ অবস্থিত একটি ভুতের বাড়ী নিয়ে কথিত আছে যে রাজা দয়ারাম এর এক ভাগ্নী শীলা রানী রাজার তহশীলদার অমূল্য ধনের ছেলের সাথে প্রেম ঘটিত সম্পর্ক জড়িয়ে পড়েন।প্রেম করার এক পর্যায়ে তারা পালিয়ে গিয়ে বিয়ে করার জন্য ঘর হতে বাহির হয়ে ধরা পড়ে গেলে বিষয়টি লোক মুখে জানা জানি হওয়ার আগেই শীলা রানীকে নীধুরাম নামের এক ছেলের সাথে জোর করে বিয়ে দেয়া হয়।তাদের বিবাহীত জীবন যাপনের জন্য একটি পড়িত্যাক্ত বাড়ী দেন।সেই বাড়ীতে উঠে শীলা রানী তার স্বামীকে দেহ স্পর্শ করতে দেননি।এ ভাবে বিবাহীত জীবনের  এক পর্যায়ে পারিবারিক কলহ চরমে পৌছলে এক রাতে স্বামী তার স্ত্রী শীল রানীর আত্ম হত্যার লাশ দেখতে পেয়ে সেও আত্ম হত্যা করেন।পরদিন সকালে চাকর বাকররা তাদের লাশ দেখে রাজাকে খবর দিলে রাজা বাড়ীটিকে পরিত্যাক্ত ঘোষনা করেন।কথিত আছে অধিবাসীরা সেই দিন থেকে সেখানে নারী কণ্ঠের খিলখিল হাসির শব্দ বা আওয়াজ শুনতে পান এবং প্রায় তাদের আত্মার ছায়া চলাচল করতে দেখতে পান।
এই বাড়ীটির আরো একটি জঘন্য ইতিহাস রয়েছে তা হল দেশ স্বাধীনের প্রথম রাজাকার ক্যাম্প এটি।সেই সময় পাকিদের সহযোগীতা করতে জামায়াতে ইসলামী নেতা মওলানা এ কে এম ইউসুফ একাত্তরের মে মাসে এই বাড়িতে প্রায় ৯৬ জন জামায়াত যুব ক্যাডার নিয়ে রাজাকার বাহিনী গড়ে তোলে।যতটুকু জানা যায় রাজাকার”নামটি তিনিই দিয়েছিল।বর্তমানে বাড়ীটি একটি আনসার ক্যাম্প হিসাবে থাকলেও কবর স্থানের পাশে হওয়ায় অধিবাসীদের মনে আজও সেই রহস্যময় ভয় কাজ করছে।ভুতের বাড়ীর ভিডিওটি

জ্বীনের মসজিদ
লক্ষীপুর জেলার রায়পুর উপজেলায় দেনায়েতপুর নামক স্থানে এ ঐতিহাসিক স্থাপনা জীনের মসজিদটি অবস্থিত।১৮৮৮ সালে প্রায় ৫৭ শতাংশ জমির উপর নির্মিত এ মসজিদটির দৈর্ঘ ১১০ ফুট বাই ৭০ ফুট। ভারতের দিল্লীর শাহী মসজিদের আদলে নির্মিত এ মসজিদটির তিনটি গম্ভুজ আছে এবং এ মসজিদটির তলদেশে প্রায় ২৫ ফুট গভীরে একটি ইবাদতের ঘর আছে যা বর্তমানে জলে ভরাট।কথিত আছে মসজিদটির প্রতিষ্ঠাতা মাওলানা আব্দুল্লাহ ঐ তলদেশ এর ঘরটিতৈ ইবাদতে মগ্ন থাকতেন।মসজিদটির সামনে পাশে দুটো পুকুর সহ প্রায় ১৫ ফুট ভিত্তির উপর নির্মিত এর নির্মাণ কাজের গম্ভুজ কারুকার্য নকশা পর্যটকদের বেশ আকর্ষীত করে।
কথিত আছে যে এই মসজিদটি জ্বীনেরা তৈরী করেছিলো তাদের ইবাদতের জন্য।তারা সেখানে ইবাদতও করেছিলো বেশ কয়েক বছর।গভীর রাতে অধিবাসীরা সেই মসজিদ হতে জ্বীনদের জিকিরের আওয়াজ শুনতে পেতেন।কথিত এই ইতিহাসের প্রায় একশ ত্রিশ বছরের পুরনো মসজিদ ই আব্দুল্লাহ এখন এলাকাবাসীর নিকট জ্বীনের মসজিদ হিসাবেই বেশী পরিচিত হয়ে উঠে।

 

(লেখাটি কোন কপি পেষ্ট নয়।তথ্যের ভিত্তিতে নিজস্ব ভাষায় লেখা)
তথ্য ও ছবি কৃজ্ঞতায়:
ভ্রমণ গাইড
roar.com
বাংলাদেশ প্রতিদিন
ইত্তেফাক ও অন্যান্য অনলাইন মিডিয়া।

২৪৯জন ৩জন
57 Shares

২২টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

ফেইসবুকে সোনেলা ব্লগ

লেখকের সর্বশেষ মন্তব্য