বহুমাত্রিক চ্যালেঞ্জের অপর নাম নারী

রেজওয়ান ২৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯, শুক্রবার, ০১:২৪:৩৩অপরাহ্ন একান্ত অনুভূতি ২৫ মন্তব্য

অনেক রাত হয়েছে ঘুমানো দরকার বলার পরঃ

স্ত্রীঃ
ড্রয়িং রুম গোছালো।
থালা বাসনগুলো ধুয়ে কিচেনে রাখলো।
দরজা বন্ধ আছে কিনা দেখলো।
হাতমুখ ধুয়ে দাঁত ব্রাশ করে ফ্রেশ হলো।
বাতি সব নেভালো।
বিছানায় গিয়ে শুয়ে ভাবলো সকালে উঠে স্বামীর লাঞ্চ বক্স রেডি করতে হবে ভেবে ফোনে এলার্ম দিলো ও কাল কি কি করতে হবে সেটার একটা ছোট নোট করে নিলো!
তারপর ঘুমালো!!

স্বামীঃ
বিছানায় গিয়ে শুয়ে পড়ল ও নাক ডাকতে শুরু করলো.. (মাঝে মাঝে অন্যকিছুর জন্যও ঘাপটি মেরে বসে থাকে স্বার্থপরের মত। ভাবার প্রয়োজন বোধও করে না তাঁর ইচ্ছা বা চাহিদা)

অপরাহ্ন ভাইয়ের একটি লেখার (কিছুটা পরিবর্ত) এই অংশটা পড়ে চোখে পানি এসে পরেছিলো। আমাদের সমাজের প্রতিটা মা/স্ত্রী এমন কাজই কর যাচ্ছে বিনা পারিশ্রমিকে প্রতিনিয়ত। আর যেসব নারী কমার্শিয়াল  চাকুরী করে বাড়ির এই কাজগুলো সামাল দেন তাদের কথা ভাবলে আমি শিউরে উঠি।

মা’কে ছোটবেলা থেকে এই এক রুটিনই ফলো করতে দেখছি আমি। প্রাইমারী স্কুলের শিক্ষিকা তিনি। সেই ভোর পাঁচটায় ঘুম থেকে উঠে সকলের নাস্তা তৈরি করে। আমার স্কুলের টিফিন, বাবার লাঞ্চবক্স গুছিয়ে তারপর নাকেমুখে খেয়ে নিজের স্কুলে যেতেন প্রতিদিন। এখন প্রমোশন হয়ে সহকারী শিক্ষিকা থেকে প্রধান শিক্ষিকা হয়েছেন কিন্তু বাড়িতে উনার প্রমোশন হয়নি। এখনো সেই একই রুটিনেই আছেন।

জীবনের প্রথম বিশটা বছর কোনো অনুধাবন হয়নি এই বিষয়ে, কখনো বোঝার চেষ্টা করিনি বা আন্দাজও করিনি বাড়িতে যে এত কাজ করতে হয়। প্রথম অনুধাবন করলাম দেশের বাহিরে আসার পর। রান্না, ঘর গোছানো, পার্ট টাইম জব, পড়াশোনা, পরীক্ষা সব একসাথে সামাল দেওয়া মুশকিলই হচ্ছিলো। অন্যদিকে নারী সহপাঠীরা সবই ঠিকমত করে নিচ্ছিলো! ওদের দেখে আমিও চেষ্টা করলাম কিন্তু তারপরেও হিমশিম খেতে হয়। রাতে অনেক দূর্বল লাগে, প্রচন্ড ঘুম আসে। ঠিকমত ক্লাশে যেতে পারি না। বা ক্লাশে ঘুমাই। কিন্তু চেষ্টা চালালাম বেশ কিছুদিন। এখন আমি সময়মত সবকিছুই করতে পারি।

তখনই ভেবেছিলাম পড়াশোনা শেষে বিয়ে করার পরে সব সময় স্ত্রীকে সাহায্য করবো। বিয়ের পাঁচ বছর ভালই চলছিলো কিন্তু ইদানীং আমার যেন কি হয়েছে! খুব টায়ার্ড লাগে বাসায় গিয়ে প্রায়ই কাজ ফাকি দেই, আলসেমিকে প্রাধান্য দিচ্ছি ইদানীং। যেমন    সকালে নাস্তা করে রেডিমেইড লাঞ্চ বক্স নিয়ে অফিসে আসি! বাসায় গিয়ে ডার্টি বক্স বেসিনে রেখে গোসল করে, রেডি ডিনার প্লেটের সামনে বসি। খাওয়া শেষে ফোন নিয়ে বা মুভি নিয়ে বসি! এইটা কোনো কথা?😫 বেচারি সারাদিন অফিসের কাজ শেষ করে আবার বাসায় একা একা এই কাজগুলো করে কিছু বলে না। তবে আমি বুঝি নারীদের বেশ ভালই কষ্ট হয় সারাদিন কাজেরই উপর থাকেতো..

পুরুষতান্ত্রিক সমাজে আমরা অর্ডার দিয়েই শেষ! না আমি আর আলসেমিকে প্রাধান্য দিবো না। আগের মত যতটুকুন পারি সাহায্য করবো।

জগতের সকল মা/স্ত্রী/কন্যা সহ সকলেই ভাল থাকুন এটাই প্রত্যাশা❤

১৫৭জন ১৫জন
34 Shares

২৫টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

ফেইসবুকে সোনেলা ব্লগ

লেখকের সর্বশেষ মন্তব্য