বহুভুজ মন

জাকিয়া জেসমিন যূথী ৯ ডিসেম্বর ২০২০, বুধবার, ১১:২১:২৭পূর্বাহ্ন উপন্যাস ২ মন্তব্য

#উপন্যাস
#পর্ব_০২
.
অনেকদিন পরে ফেসবুকে লগইন করলো। মানুষের সুখ দেখলে ইদানিং মন জ্বলে। মেয়েরা যে এত স্বার্থপর! যে আসতে পারতো জীবনের আনন্দ হয়ে সে চলে গেছে অন্য পথে। কেন চলে গেলো? সে যদি নিজের হবেই না তাহলে আল্লাহ কেন ভুল মানুষকে ভালোবাসালে?
যখন থেকে তাকে মনে ধরেছে তখন থেকে এ পর্যন্ত কয় বছর পেরিয়েছে? এক সাথে মানবিক আয়োজনের সব কার্যক্রমে বরাবর দু হাত মিলিয়ে কাজ করা। বছরের এতগুলো আয়োজন থাকে কোনটিতেই কেউ মিস দেয়নি কখনো। সবার মধ্যে তুহিন আর সে দুজনেই সবার আগে এসে উপস্থিত। অন্য সবাই আসার আগে অনেক সময়ই এক সাথে কেটেছে দুজনার। প্রায়ই সে নাশতা না করেই আসতো। তুহিনেরও একই অবস্থা। শেষে দেখা যেতো দুজনেই একসাথে রাস্তার পাশের টং দোকানে চা, ডিম ভাজি আর রুটি খাচ্ছে। শাফিন তো শেষে দুজনাকে পার্টনার নাম দিয়ে ফেললো। একদিন মেয়েটা দেরী করলেই অন্যরা এসে গেলে কথা উঠাতো, কিরে তোর পার্টনার কই আজকে?
তারপরে দূর থেকে তাকে আসতে দেখা গেলেই ফোড়ন কাটতো, নে, এসে গেছে তোর পার্টনার। বন্ধুদের মুখ থেকে এই দুষ্টুমীগুলো কবে যে মনের ভেতরে স্বপ্ন সাজাতে শুরু করেছে ও নিজেই টের পায়নি। দুজনে মিলে শুধু একসাথে নাশতা খাওয়াই নয় একসাথে সব কাজকর্ম তো চলেছেই সেই সাথে বাড়ি ফেরার সময়েও একসাথে। আশ্চর্য ব্যাপার এই যে সে আসতো একা একাই। কিন্তু ফেরার সময় ওকে বাড়ি পৌঁছে দিতে তুহিনকে যেতে হবে। মেয়েটা কী চাইলো শেষ পর্যন্ত এটাই বুঝতে পারেনি তুহিন। এত মাখামাখি ছিলো দুজনের যে কারো চোখে সেটা প্রেম ভিন্ন অন্য কিছু ছিলো বলে ভাবাই যায়নি। অথচ শুভংকরের ফাঁকিটা ওর কপালেই ছিলো! ও জানেইনি যে যাকে মনে প্রাণে এত ভালোবেসে যাচ্ছিলো সে ওকে নিয়ে ভাবেইনি। খুব জোর ধাক্কা পেলো সেদিন বিয়ের খবর পেয়ে। এইতো সেদিন। দলের সবাই শাহবাগে মানববন্ধনে দাঁড়াবে। আগে থেকেই কথা ঠিক করা। সকাল নয়টার মধ্যে চলে এসেছে সবাই। তুহিনের সেদিন বেশ জ্বর ছিলো। তবু ও গিয়েছিলো। নাশতা খেতে ইচ্ছে করছিলো না। মন করছিলো মনের মানুষের মুখের দিকে চেয়ে পেটে যদি কিছু ফেলতে পারে। সেজন্যেই জ্বর গায়ে নিয়েও এসেছিলো। এসে দেখলো প্রিয় মানুষটিকে ঘিরেই সবাই গোল হয়ে আছে। ও খুব অবাক হয়েছিলো। ব্যাপার কী? কাছে যেতেই অর্ধেক মুখ কালো করে দাঁড়িয়ে আর অর্ধেক যেন উপহাস করে ওর দিকে তাকিয়েছিলো। অর্ধেকের বিশ্বাস ছিলো মেয়েটা শুধু ওর। আর অর্ধেক হিংসায় জ্বলেছে তুহিনের সাথে ওর জুটি হতেই পারে না। হিংসুকদের প্রাণ জুড়িয়েছে খবর টা। খুব কাছে এসে মনের মানুষ কান জুড়িয়ে বলেছে, ও ফিরেছে। কতদিন পরে দেখা! ইস! এই বিয়ে হবে, হবেনা কত কাণ্ড! এখন প্রায় সব ঠিকঠাক। চোখেমুখে নতুন প্রেমে পরা লাজুক আলো মেখে যেন সে বলে চলেছে, তুহিন, আমার বিয়ে। তুমি না এলে কিন্তু চলবেই না। এসো কিন্তু!
তুহিন অস্ফুটে শুধু এটুকুই জিজ্ঞেস করলো, হুট করে বিয়ে? সেটল ম্যারিজ?
নাতো। বর অনেক আগের চেনা। বিয়ে ঠিক হয়েই ছিলো বছর চারেক ধরে।
এরপরে তুহিনের কানে আর কোন কথাই যায় না। দলের সবার মধ্যে সবচেয়ে হাসিখুশী উচ্ছল মেয়েটির নতুন জীবনে প্রবেশের আনন্দ ছড়িয়ে পড়ছিলো বাকী সবার মধ্যে। উত্তেজনা হাসি আনন্দের হুল্লোড় বয়ে গেলেও ও যেন ছিটকে পড়েছিল সবার অলক্ষ্যে। ঘোরের মধ্যে হাঁটতে হাঁটতে কখন যে ঢাকার মেসে নিজের ঘরের বিছানায় গিয়ে শুয়ে পড়েছিলো ও বলতেই পারবে না। এক রাত টানা ঘুমালো। ঘুম থেকে উঠে দেখে সারা শরীরের গিঁঠে গিঁঠে অসহ্য ব্যথা। ডাক্তার ডাকলো কেউ। ধরা পড়লো চিকুনগুনিয়া।
তুহিন ঐ জ্বরের সময়টায় শুয়ে শুয়ে শুধু নিজেকে জিজ্ঞেস করেছে, প্রেম কী? প্রেম আসলে কেমন সম্পর্ককে বোঝায়? কতটা গভীরতা থাকলে দুজন মানুষের মধ্যে প্রেম জন্ম নেয়!
সে অসুখে শুয়েই জানলো মেয়েটি ওর একতরফা মনের মানুষ। জানলো মেয়েটি এক কোটিপতিকে বিয়ে করতে যাচ্ছে। কী সাধারণ ভাবে চলতো মেয়েটা। কোনদিন বুঝতেই পারেনি সেও আসলে ওই উঁচুতলারই মানুষ। তাই নিজের যোগ্য সংগীকেই গলায় মালা দিবে।
অপরদিকে ও কী? গ্রাম থেকে আসা এক সাধারণ যুবক। যে চাকরির জন্য আগ্রহীই ছিলো না। গ্রাম তো আছে। আছে সবুজ প্রান্তর। সোনালী ফসল। তা থেকেই অর্থ আসে। নিজের জমির ফসল। তাকে পুরো একটা জীবন কামাই রোজগার না করলেও চলবে। ও এই ঢাকা শহরে এসেছে মানবিক দলের সাথে চারপাশের অভাবী মানুষের বিভিন্ন রকম অসহায়ত্ব থেকে মুক্তি দেয়ার প্রচেষ্টায় একাত্ম হতে।
কিন্তু প্রিয় মানুষটির বিয়ের খবর ওকে বুঝিয়ে দিলো আসলে এ যুগে নিজের একটা আস্ত গ্রাম থাকলেও সে গ্রাম্যই। তাকে কেউ সম্পদশালী বলবে না। তাকে শহুরে ধনীদের মত এপার্টমেন্ট থাকতে হবে, পাজেরো জিপ না হোক, মাইক্রো না হোক, প্রাইভেট কার না হোক, নিদেনপক্ষে নিজের একটা বাইক থাকা প্রয়োজন। লোকে জানবে তার নিজের লাখ টাকা দামের একটা বাইক তো আছে। সেই বাইকে করে রোমান্টিক আবাহনে প্রেমিকার স্বপ্ন পূরণ করা যায়। নিজের এপার্টমেন্টে বিলাসবহুল কামরায় সে বাস করে। এগুলো থাকলে না লোকে বুঝবে সে অবস্থাশালী। এ যুগের রাজকন্যাকে পেতে হলে যে এইসব দেখানো প্রয়োজন।
চাকরির জন্য ওর টনক নড়লো। বহু দেরীতে। যখন রাজকন্যাকে নিয়ে গেছে অন্য কোন এক রাজপুত্র। তাতে কী? ও নিজেকে পালটে দেখাবে। জেদ আসলো মনে। কিন্তু এই যুগে হুট করে কোথাও বড় চাকরি পাওয়া সহজ নয়। ভাগ্যও সবার প্রসন্ন নয়। হুট করে চাইলেও সব হাতের মুঠোয় আসে না। বন্ধুরা যারা মেয়েটিকে বুঝেছিলো তারা দু একবার বোঝাতে চেয়েছিলো। বলেছে, দোস, তুই হয়তো বেশি ভেবে ফেলছিস। একসাথে তো অনেকদিন হলো। ভালোবাসি কথাটা মুখ ফুঁটে বলছে না। কেমন অদ্ভুত না? মেয়েরা সাধারণত নিজের মানুষকে সম্পর্কের নাম দিয়ে দখল করে নেয়। যেন অন্য কোন মেয়ে তার দিকে আর হাত বাড়াতে না পারে। দলে তো আরও কতজন আছে। কখন কার সাথে কার জুড়ি জুড়ে যায় সেই ঝুঁকি কি কেউ নেয়?
বন্ধুরা ঠিকই বলেছিলো। ওই বোঝেনি। ভেবেছে সিনেমার মত জীবন। এটা প্রেমই। আগে থেকে ঠিক করা থাকলেও কত বিয়ের সম্পর্ক ভেঙে যায়! একসাথে কাজ করতে গিয়ে কিংবা একসাথে পথ চলতে চলতে হুট করে প্রেম হয়ে যায় এমন কাহিনীর কি অভাব এই পৃথিবীতে? আসলে বাস্তব থেকেই কি সিনেমা হয় না? কিন্তু সব গল্পই ওর নিজের জীবনে ভিন্নতা নিয়ে এসেছে। কোন সিনেমার কাহিনী মিলে যায়নি ওর টার সাথে। এখন শুধু আফসোসই। আসলেই ওর উচিৎ ছিলো আরও নিশ্চিত হয়ে স্বপ্ন দেখার। আনমনে হেসে ফেলে সে। এভাবে পরিকল্পনা করে জেনে বুঝে কি আর প্রেম হয়? প্রেম চলে তার নিজের গতিতে। অনেক বেশি আশা করে ফেলেছে। ভেবেছে সব সিনেমার মত দৃশ্যপট পালটে যাবে। আসবে সুখের দিন।
রাত দুটো পেরিয়ে যাচ্ছে। জেগে আছে তুহিন। চারদিক শান্ত। নিস্তব্ধ। ঝিঁঝিঁ পোকার গান বেজে চলেছে। এই মফস্বল শহরে রাত নামে খুব তাড়াতাড়ি। রাত দশটাও এখানে মাঝরাতের সমান। খালি পায়ে প্রায় হাঁটুর কাছে তুলে লুঙ্গিটা কোমরে গুঁজে দরজা খুলে বের হয়ে আসে ও। উপরে মস্ত আকাশ। মস্ত চাঁদের আলোয় দশ দিক আলোকিত। তার মাঝেই আবছা অন্ধকারে ছেয়ে আছে পুরো পৃথিবী।
তুহিন বান্দরবানে চাকরি নিয়েছে কয়েক মাস পেরিয়ে গেছে। বন্ধু মারুফই এই চাকরিটার খোঁজ দিয়েছিলো। সেই সময়টা এখনো ভালো লাগায়।
দোস, এই দেবদাসের সিনেমা টা আর কতদিন চলবে?
হু, জীবন ছ্যাকাময়! কী করবো বল?
কী করবি মানে? ওই একজনকে স্মৃ্তির খাতায় ধরে রেখেই জীবন কাটিয়ে দিবি? অবনী আছে। অঞ্জনা আছে। এত ভালো সব বন্ধু তোর আশেপাশে। এক মেয়ের জন্যে জীবন তিতা বানিয়ে ফেলছিস। কোন মানে হয়?
তুহিন যেন খুব ক্লান্ত। মেয়েদের নাম আমার সামনে আনিস না তো। অঞ্জনা রা আমার জন্য কী করবে? সবকয়টা তো একই। রঙিন চশমা দিয়ে দুনিয়াটা দেখছে।
শোন আর লেকচার দিস না। একটা চাকরির খবর আছে। আমার এক পরিচিত জানালো খবরটা। বেতন খুব বেশি না। অন্তত এটা নিয়ে কোন প্রেমিকা খুঁজে পাবি না। বউ তো দূর। তবু আমি চাকরিটা তোর জন্যেই ভেবেছি। কেন জানিস? তুই তাহলে কিছুদিন চেনা পরিবেশ থেকে দূরে সরে থাকবি। আমার মনে হয় তোর এখনও নিজেকে চেনার প্রয়োজন রয়েছে। মারুফ যেন ওকে খানিক ঠেস দিয়েই বলে কথাগুলো। তবু ছেলেবেলার বন্ধুর হক। তাই তুহিন রাগও করে উঠতে পারে না। বিষন্ন হেসে বলে,
কোথায় সে চাকরি, দোস?
আসলেই এই বিষন্ন শহর থেকে ওর মুক্তি চাই। এখানে ওর দম বন্ধ হয়ে আসছে। দূরে চলে গেলে ভাবার অনেক সময় পাওয়া যাবে। এ মুহুর্তের সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন তো এই।
তারপরে ঢাকা শহরের মায়া ছেড়ে, প্রিয় মানুষদের ছেড়ে চলে এসেছে এই বিজনগাঁয়। এ এক অন্যরকম পৃথিবী। জায়গাটা বান্দরবানে। বান্দরবানের এক ছোট উপজেলা। পাহাড়ের কোল বেয়ে চঞ্চলা নারীর শাড়ির আঁচল উড়ে যাবার মতন করে বয়ে গেছে এক শান্ত মিষ্টি, মন পাগল করা পাহাড়ি নদী। তার নাম শঙ্খ। শহরের নারীকে ভুলতে এসে তুহিন পেয়েছে এ শঙ্খ নামের নারীর দেখা। মায়ানমারের আরাকান রাজ্যের পাহাড় থেকে যাত্রা শুরু করেছে। বান্দরবানের ভিতর দিয়ে প্রায় পোনে দু শতক পথ অতিক্রম করে অবশেষে কর্ণফুলি পেরিয়ে বঙ্গপোসাগরকে ছুঁয়েছে। একে সাংগু নদীও বলে। বান্দরবানের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের অন্যতম অংশ এ নদী। দুর্গম এই অঞ্চলের মানুষেরা শহরের মানুষের মতন স্বার্থপর নয়। এরা খুব বন্ধুবৎসল। বর্ষাকালে নদীটির স্রোত তীব্র আকার ধারন করে। এ নদীর দুই তীরের পাহাড়, বন, নদী ও ঝর্ণার সৌন্দর্যে বিমোহিত হয়ে তুহিনের বন্ধ হয়ে যাওয়া কবিতার খাতা আবার খুলেছে আর ভরে উঠতে শুরু করেছে অপূর্ব সব কবিতায়। এক কথায় এ নদী দেখেই ও যেন নতুন জীবন পেয়েছে। আর ওর কাজ করে দিয়েছে মানুষের কাছে আরও আরও অনেক নিবিড়। এসব নিয়েই এখন বেঁচে থাকা।
মায়েদের জন্য একাকীত্বকে ভিন্নভাবে উপভোগ করার কোন উপায়ই নেই। এরা সন্তানদের পাশে জুটি সেট না করা পর্যন্ত একেবারেই সুস্থির হন না। বেশ তো আছে সে। এই পাহাড়ি পথে প্রতিদিন বিপদসংকুল মানুষগুলোর মধ্যে নতুন প্রাণের সঞ্চার করতে পেরে ও যে কি স্বর্গসুখে মেতে আছে তা মা-বাবাকে বুঝিয়ে বলা যায় না। ওরা কেউ শুনতেই চায় না ওর ভালো থাকার কাব্যের কথা।
কিছু সময় পেরিয়ে যায়। নিঃশব্দে। পায়ের তলায় পানির স্পর্শ পেয়ে ও বেশ চমকে যায়। চেয়ে দেখে কখন অজান্তেই সে এসে দাঁড়িয়েছে টলটলে জলে। পায়ের আঙ্গুলের ফাঁক গলে জলের ধারা একেঁবেঁকে ছুটছে। ওদেরও যেন ফেরার পালা। ঘরে ফেরার তাড়াহুড়ায় রাত্রি শেষের আগেই ছুটে চলা দূর্বার নেশায়।
প্রতিশোধের আগুন যতটা জ্বলে বুকের ভেতরে ততটা নিজেকে পালটে ফেলার তীব্র জেদ বুকের ভেতরে তাপায় না।
এই ভালো আছি আমি, এইতো ভালো
দেখো চেয়ে সই, জলে ধুয়ে মুছে যায় আমার যত কষ্ট-কালো
ঢাকা থেকে দূরে বহুদূরে
এই অজানা পৃথিবীতে এসে একাকী চলছে জীবন
চলছি একদম একা, নিঃস্বংগ, ফেরার আসামীর মত
ফেরার হয়েছি আমি, হারিয়ে গেছি
তোমার বুকের চেনা গন্ধ আজ বিস্মৃত
দূরের তুমি, ভালো থেকো স্বপ্নে বিভোর হয়ে
মনে মনে গুছিয়ে ওঠা বাক্যগুলো আওড়াতে আওড়াতে পানি থেকে উঠে আসে তুহিন। নিজের বাসা থেকে সরে এসেছে অনেকটা। হেঁটে ফিরতে থাকে। বাসায় ঘরের ভেতরে প্রবেশ করে মোবাইলে নোটপ্যাড হাতে নেয়া পর্যন্ত দম নেয় না। তারপরে ভেসে ওঠে কবিতার কটা লাইন ওর ফেসবুক ওয়ালে। ভোরের আজান ভেসে আসছে। নামাজটা পড়ে নিয়ে ঘুমোন দরকার। ওজুর জন্য ওয়াশরুমের দিকে এগোয়।
মনে মনে কথা বলতে থাকে। দেখো মেয়ে দেখো। তোমার তুহিন তোমার স্বপ্নে হয়নি বাঁধা। ইচ্ছে করলেই এই তুহিন পারতো তোমাকে স্বপ্নের রাজ্যে যাওয়ার পথে বাঁধা দিতে। বলতে পারতো তুমি শুধু আমার, এভাবে একজনের স্বপ্ন ভেঙে দিয়ে তুমি যেতে পারো না। কিন্তু তুহিন অতটা নিষ্ঠুর নয়। নিজে ভেঙে টুকরো হয়ে যাবে কিন্তু অন্যের সুখের অন্তরায় হবে না। নিজের জীবনকে সে বিলিয়ে দিতে জানে অপরের সুখে। তোমার স্বপ্নে বিভোরতায় আজ নেই কোন দেয়াল।
সব দিক সুনসান। নামাজ শেষে বিছানায় উঠে আসে। তুহিনের দু চোখ বুঁজে আসে গভীর ঘুমে। মোবাইলটা হাত থেকে আলতো করে পরে যায় বালিশের ধারে।

.
চলবে…

#পর্ব_০১ঃ

২৪৭জন ১৫৫জন
0 Shares

২টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

ফেইসবুকে সোনেলা ব্লগ

লেখকের সর্বশেষ মন্তব্য