সোনেলা দিগন্তে জলসিড়ির ধারে

কর্পোরেট দুনিয়ার হাত ধরে মিডিয়া অসভ্যতা-অসুস্থতাকে প্রমোট করে যাচ্ছে বহুদিন ধরে। কর্পোরেট দুনিয়ার চেয়েও অসভ্য-অসুস্থ এখনকার বাবা-মা। তারা তাদের সন্তানকে সভ্য হবার দীক্ষা দেয় না। তাদের সামাজিক-মানবিক আচরণ শেখায় না। তাদের শেখায় শুধুমাত্র আয় করার দীক্ষা। বাচ্চার হাতে পাঠ্যপুস্তকের বাইরের বই তুলে দেয়া হয় না। এখনকার ৮-১৫ বছরের বাচ্চারা ‘প্রজাপতি প্রজাপতি/ কোথা পেলে ভাই/ এমন রঙিন পাখা’ গানটা শুনেই নি। বাচ্চাদের হাতে আমরা হারমোনিয়াম দেই না। যদি দেই, তাহলে তা রিয়েলিটি শো’র প্রস্তুতির লক্ষে। দুটো গান ভাল গাইলেই মঞ্চ থেকে আসবে টাকা আর টাকা। আমি ৮/৯ বছরের বাচ্চাকে মঞ্চে গাইতে দেখেছি ‘বসন্ত বাতাসে সই গো বসন্ত বাতাসে’।
বাচ্চাদের জন্য মাঠ নেই। বয়লার মুরগীর মতো এক জায়গায় বন্দী। পরিবারের আয় করা লোকগুলো হয় দূর্নীতি না হয় রাজনীতিতে ব্যস্ত। অবৈধ আয়ের টাকায় সবাই ভাত-মাংস খায়। পরিবার থেকে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের কোন শিক্ষাই পায় না, এখনকার বাচ্চারা। অসভ্য বাবা-মায়েরা বাচ্চাদের হাতে তুলে দিয়েছে মোবাইল ফোন। পাপাজি-গাবজি খেলতে খেলতে মানসিক জানোয়ার হয়ে উঠছে তারা। হাত থেকে মোবাইল নিয়ে গেলে পারলে মারতে আসে। বিশেষ করে মায়েদের স্বপ্ন একটাই। স্কুল-কোচিং-প্রাইভেট। তারপর আবার স্কুল কোচিং প্রাইভেট। সন্তানকে জানোয়ার হিসেবে দেখতে মায়েরা দিন-রাত প্রার্থনায় ব্যস্ত।
আমরা আমাদের বাচ্চাদের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির শিক্ষা দেই না। শিক্ষা দেই ভন্ড ধর্ম ব্যবসায়ীদের বিকৃত বক্তব্য কে।
এক মর্মান্তিক দূর্ঘটনায় আমাদের কিছু মানুষ মৃত্যুর সাথে লড়ছে। আমরা তাদের জন্য প্রার্থনা করবো। একটু খোঁজখবর নেবো। কিন্তু না! আমরা তাদের গালিগালাজ করছি। তাদের মৃত্যু কামনা করছি। আমরা হাহা রিএ্যক্ট দিচ্ছি। তারা কি যুদ্ধাপরাধী? তারা কি জামাতী? তাদের প্রতি এত ক্রোধ কেন?
যারা এই কাজটি করছে তাদের পারিবারিক চিত্র খুঁজতে গেলে দেখা যাবে, প্রতিটা পরিবার নানা রকম সমস্যায় জর্জরিত। পরিবারে সার্টিফিকেটধারী কেউ থাকলেও, মানসিক শিক্ষিত লোকজন নেই। পরিবারের সদস্যদেরই নিজেদের মধ্যে ভাল সম্পর্ক নেই। তারা জীবনে ক্ষয় হতে হতে নর্দমার মধ্যে হাবুডুবু খাচ্ছে। আর তাদের সেই ক্ষোভ এবং ক্ষোভ থেকে জন্ম নেয়া বিকৃত মানসিকতার বহি:প্রকাশ ঘটছে ফেসবুকের আনাচে কানাচে।
এত বর্বর আর বিকৃত মানসিকতার গড় পৃথিবীতে আর কোন দেশে আছে বলে মনে হয় না। এখানে কারো ভালো চেয়ে প্রার্থনা হয় না। এখানে প্রার্থনা হয় ধ্বংস চেয়ে। এখানে ভালবাসার জয় হয় না। এখানে জয় হয় দূর্নীতির। এখানে যে যত বড় ঠগ, সে তত বেশী সুবিধাভোগী।
বর্বর-অসভ্য জাতি হিসেবে গিনেজ ওয়ার্ল্ড রেকর্ডের দাবী করতেই পারি। জাতির দুর্বল-অসভ্য অংশ দিয়ে অন্ত:ত একটা কিছু অর্জন আসুক।
২৩৩জন ১০জন
0 Shares

২৬টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

ফেইসবুকে সোনেলা ব্লগ

লেখকের সর্বশেষ মন্তব্য