বর্ণিল – বিবর্ণ সময়

উর্বশী ৮ সেপ্টেম্বর ২০২০, মঙ্গলবার, ১১:২৫:৫৮অপরাহ্ন কবিতা ৩০ মন্তব্য

 

প্রবাহমান দুঃস্বপ্নের স্রোত
বেদনাহত আঁখি পল্লব
বহুদিন ধরে আমার ভেতরে।
একসময় তোমার বিষণ্ণ দু’চোখে
আলোময় বিনিদ্র তারার উজ্জ্বলতা ছিল ভরে।
চাওনি,তবু দ্বিধাহীন ভাবে চলে গেলে
তোমার জন্য পথ চেয়ে নিশিদিন অপেক্ষায়।
অধরা পুষ্প সৌরভ ছড়ায়না উজ্জ্বলতায়।
কথা ছিল সরোবরের স্বচ্ছ জলে
বাহারী পালের সাম্পান ভাসাবে।
সবুজ গহীন অরণ্যে নিয়ে যাবে।
স্বর্গের নিস্তব্ধতা যেখানে ডানা মেলে উড়ে।
সদ্য গজিয়ে ওঠা কিশোরীর ঝোঁপে
হীরন্ময় বিকেল কাটাবে
গোধূলী বেলায় নদীচরে।
ফেরারী বাতাসে উর্বশী কাশফুল হয়ে
সারাদিন মেতে থাকবে নির্জনতায়।
মিষ্টি বিকেলের স্বপ্নীল সেইক্ষণে
সবুজাভ লাবন্য ছড়িয়ে স্বচ্ছ জলে ভেসে যাবে আনমনে।
একটি নদী ছিল।
যে নদীটির শুকিয়েছে জল।
দুই তীরে ছিল তার সোনাঝরা দিন।
সেই স্রোতস্বিনী পিছনে ফেলে
শহর, বন্দর হয়েছে।
অবশেষে সেই ঠিকানা ই রয়েছে।
দু’চোখে আলো জ্বেলে অভিযোগ অনুযোগ
তবু পাশাপাশি ছিলাম বহমান।
আমায় ফাঁকি দিয়ে লুকিয়ে গেলে
ফেরারী বাতাস যেমন পালায় সুদূরে…
যখন যেখানে ইচ্ছে উড়ে!
দূর্ভাগ্য কতটা প্রলম্বিত হলে,
কতটা রক্ত নহরে ভাসিয়ে নিয়ে যাবে দুঃখের সাগরে।
ম্রিয়মান হয়ে যায় সতেজ পুষ্পেরা,
পাখিরা নীড়ে ফেরা ভুলে যায়।
তবুও মহান স্রষ্টাকে শ্রদ্ধা জানাই
বয়ে চলা তরীর এ ধরায়।
হয়তো আবার ফিরবে থাকি অপেক্ষায়।
স্বর্গের পাখী হয়ে সোনালী ডানা মেলে
ছন্দ তুলে আসবে উড়ে
আমার পুরানো ঠিকানায়।
উৎসর্গঃ– ডাঃ কাজী সুপ্রিয় হিল্লোল।

২১৭জন ১২১জন
0 Shares

৩০টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

ফেইসবুকে সোনেলা ব্লগ

লেখকের সর্বশেষ মন্তব্য