বন্ধুতা অথবা ক্ষোভের গল্প!

জাকিয়া জেসমিন যূথী ১০ ডিসেম্বর ২০১৯, মঙ্গলবার, ০১:৩৬:৫৭পূর্বাহ্ন গল্প ১৫ মন্তব্য

 

ক্যান্টিনের এক প্রান্ত। রায়হান, রাখি, শম্পা, পারভিন আর জ্যোতি বসে আছে। সবার মধ্যে চাপা উত্তেজনা! পারভিনের চোখে মুখে রাগের ঝলক। কিছুক্ষণ আগে নোটিশ বোর্ডে রেজাল্ট দেখার পর থেকেই এই অবস্থা!

পারভিনঃ আমি বুঝি না, কি এমন লিখে যে প্রত্যেকবারই আশির উপরে নাম্বার হবে! আমরা আর কেউই কি পড়াশুনা করি না?

জ্যোতিঃ আপা, এত রাগ কেন? বাদ দিন না!

পারভিনঃ বাচ্চাকাচ্চা, ঘরসংসার, বিকেল পর্যন্ত স্কুল করে এতটা পড়াশুনায় ব্যয় করেও কেন আমাদের খাতায় আশি আসবে না বোঝাও!

রায়হানঃ আরে বাদ দাও না। দুদিনের জন্য ভার্সিটি এসেছো। একটা ফার্স্ট ক্লাস পেয়ে গেলেই শান্তি।

শম্পাঃ ঢাকা ভার্সিটির ডিগ্রি বলে কথা। ফার্স্ট ক্লাস থাকলেই খুশী।

 

বন্ধুদের সাথে কণ্ঠ মিলিয়ে হাত ঘড়িতে সময় দেখে তাড়া দিলো, “সন্ধ্যা সাতটা পঞ্চাশ! আপা, চলেন চলেন, ক্লাসে দেরীতে ঢুকলে পেছনে বসতে হলে লেকচার কিচ্ছু শুনবো না।”

পারভিনঃ “তুমি যাও। আমার জন্য জায়গা রেখো, প্লিজ।”

 

শম্পা, শিল্পী আর রাখি হন্তদন্ত হয়ে ব্যাগ কাঁধে ছুটলো এক তলার ক্যান্টিন থেকে তিনতলার দিকে। মঈন চৌধুরী স্যারের ভালনারেবল ম্যানেজমেন্ট ক্লাস। বিষয়টা নতুন এসেছে। এখন পর্যন্ত এর কোন বই বেরোয়নি। ক্লাস লেকচারই ভরসা। তার উপরে বয়স্ক স্যারের জড়িয়ে যাওয়া কণ্ঠস্বর!

 

শিল্পী, রুমা, জুঁই আর শম্পা একটা বেঞ্চে বসে আছে। জুঁই ছাড়া বাকীদের হাতে নুডলসের হাফ প্লেট। একমাত্র জুঁইই সমানে বকবক করে যাচ্ছে আর বাকীরা নিবিষ্ট মনে নাশতা খেতে ব্যস্ত।

জুঁইঃ মামার এখানে দুধ চা-টা না হেব্বি! বাসার চা না ইদানিং একটুও মজা লাগে না!

এই সময় সামনে এসে উপস্থিত হলো ছোটখাটো সোয়া পাঁচ ফুট উচ্চতার ভুড়িওয়ালা ছেলেটা। সাবধানী কণ্ঠে বলে উঠলো, “হু, আর খেয়ো না এই চা!”

জুঁই বলে উঠলো, “কেনো রে, মোটু? কি হয়েছে? আর তুই এমন হাঁপাচ্ছিস কেন?”

“আরে, তোমরা জানো নাআআ?” টেনে টেনে চোখেমুখে উত্তেজনা ঢেলে বলে সে!

জুঁই বলে উঠলো, “এই! কি হয়েছে রে তোর?”

“নিশু আপা খুব অসুস্থ! ওনার তো এই চা খেয়েই…” বাকীটা আর বলে না।

বিপদের গন্ধ পেয়েই যেন আধ খাওয়া চায়ের গ্লাসের আনন্দ মুহুর্তে উধাও হয়ে গেলো জুঁইয়ের।

ওর সাথে সাথে সব ক’জন ততক্ষণে উঠে দাঁড়িয়েছে। বিল পরিশোধ করে হাঁটা দিয়েছে আইইআর ক্যাম্পাসের দিকে। যেতে যেতে শুনতে থাকলো আগাগোড়া কাহিনী।

 

ক্যাম্পাসে পা রাখতেই মোটু হো হো করে হেসে উঠে বলে, “সবাইকে কেমন বোকা বানালাম?”

 

যেখানেই কোন ঘটনা সেখানেই জুঁই রহস্যের গন্ধ পায়। মোটুর ওরকম হন্তদন্ত হয়ে ছুঁটে আসা আর কাহিনী বর্ণনার পরে ও নিশ্চিত হয়েই গিয়েছিলো আটত্রিশ ছাড়িয়ে গেলেও চনমনে তরুণীর মতো শারীরিক-মানসিকভাবে উদ্যমী নিশু আপার আচমকা এই অসুস্থতার পেছনে কারণ টা আর কিছুই নয়। তার ভালো রেজাল্ট। প্রত্যেকবার ডিপার্টমেন্টের সব বিষয়ে এমনকি ইডি বিষয়গুলোতেও কিভাবে কিভাবে যেন এ-প্লাস পেয়ে যাবেই!

সামনের সপ্তাহ থেকে তৃতীয় পর্বের ফাইনাল শুরু। সেমিস্টার ভিত্তিক পড়াশুনায় কোন ছুটিই  থাকে না। রিলাক্স করার কোন চান্স থাকে না। এক টার্ম শেষ হওয়ার সাথে সাথেই আবার পুরোদমে নতুন টার্ম শুরু হয়ে যায়। তারপরে টুক করে এসে পড়ে টিউটোরিয়াল, ক্লাস প্রেজেন্টেশন, এসাইনমেন্ট! জীবনটা ছাড়খাড় করে দিতে শুরু করে।

জুঁই, শম্পা, মোটু এই তিন জন প্রায় না পড়ুয়া দলের। এরা শুধু ভার্সিটি আসে। ক্লাসে পাশাপাশি বসে। নিয়মিত ক্লাস করে। লেকচার শুনে। ভার্সিটির প্রফেসরদের কাছে খুবই চেনা ও সিরিয়াস মুখ হিসেবে পরিচিত হলেও বাসায় ফিরে বই খাতা নিয়ে নাড়াচাড়া করার বান্দা নয় মোটেই। নিজেদের এরা বলে থ্রী-ইডিয়টস! দলের ভেতর শম্পা আর মোটু সারাক্ষণ ঝগড়া করে। শান্তশিষ্ট স্বভাবের মেয়ে শম্পাকে মোটু সারাক্ষণ ক্ষেপায়। আর জুঁই পড়াশুনা না করেও কিভাবে কিভাবে যেন এদের মধ্যে বেশি নাম্বারটা পেয়েই যায়। জুঁই আর মোটু পাশাপাশি রোল, একই ডিপার্টমেন্টের। সামাজিক বিজ্ঞান শিক্ষা। আর শম্পা সায়েন্স ডিপার্টমেন্ট। ওর নাম্বারও ভালো থাকে। জুঁইয়ের মত যত্ন করে কোন ক্লাস লেকচার টুকে নেয় না কখনোই। ওরকম করে লিখে নেয়াটা নাকি বাচ্চাদের স্বভাব। চাকরি আর সংসার সামলে ভার্সিটিতে পড়তে এসেছে এটাই নাকি বেশি! কিভাবে যে পরীক্ষার খাতায় লিখে তা নিয়ে জুঁইয়ের বিস্ময় কাটতে চায় না কিছুতেই। এদের মধ্যে মোটু কিছুটা সিরিয়াস। পরীক্ষার দিনটিতে অন্তত স্কুল থেকে ছুটি নিয়ে ভার্সিটির লাইব্রেরীতে বসে সকাল থেকে বিকাল পরীক্ষার রুমে ঢোকার আগে পর্যন্ত পড়তেই থাকে।

শম্পাও মোটুর স্কুলেরই কৃষি বিজ্ঞানের শিক্ষক। সারাদিন বিকেল পর্যন্ত স্কুল তারপরে ভার্সিটিতে রাতের এমএড ক্লাস শেষে টিকাটুলির বাসায় পৌঁছে দেখে একমাত্র মেয়েটা ঘুমের দেশে। পরীক্ষার দিনটি এলে শম্পা আর জুঁই পড়তে বসে মহসিন হলের কাছের টং এর দোকানে। বিকেল সাড়ে পাঁচটায় পরীক্ষার হলে ঢুকবার ঘন্টাখানেক আগে টং দোকানে চা খেতে খেতে আর লেকচার খাতা উলটে পালটে দেখতে দেখতে দুই বান্ধবীর আড্ডায় আড্ডায় পড়াশুনা হয়।

 

ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহ। চাদর বিছিয়ে শীত নেমেছে বিশ্ব চরাচরে।

এমএড তৃতীয় পর্বের ফাইনাল পরীক্ষা শুরু হচ্ছে আজ থেকে। এবার আগের দুই টার্মের মতো মোট পাঁচটি বিষয়ে পরীক্ষা দেওয়া ছাড়াও পুরো এক বছরে পড়া আটটি ইডি বিষয়ের উপরে অবজেকটিভ পরীক্ষা দিতে হবে। সেই সাথে পাঁচটি ডিপার্টমেন্টাল বিষয়ের রিভাইজ হিসেবে লিখিত এবং মৌখিক আছে। এই সব বিষয়ে আলাদা আলাদা পাশ নাম্বার না তুলতে পারলে সার্টিফিকেটই নাকি দিবে না। এই কথা শুনে এই টার্মে পড়ুয়া ও অপড়ুয়া সবাই পড়াশুনা শুরু করেছে। এতদিনের হেসে খেলে বেড়ানো শম্পা আর জুঁইয়েরও টনক নড়েছে। এবার তারা বইয়ের সাথে মন বেঁধেছে।

মংগলবার বিকেল সাড়ে চারটা।

জুঁই ভার্সিটিতে পৌঁছেই শম্পাকে কল দিলো- “কি রে, তোরা দুটো মিলে কোথায় বসে আছিস?”

“আমি ক্যান্টিনে। মোটুর খবর জানি না!” বিরক্তি ঝরে পড়া কণ্ঠ।

“দাঁড়া, আসছি!”

 

রিকশা ভাড়া মিটিয়েই জুঁই ছুটলো ক্যান্টিনে। একতলার কোণার দিকে আইইআর ক্যান্টিন। শম্পার কন্ঠের সুর ওর ভালো লাগেনি। কী হলো ওর আবার! ভেতরে ঢুকে ঠিকই দেখলো, বান্ধবী তার মুখ হাড়ি করে বসে আছে! “কি রে, শীতের বিকেলে বর্ষার ঘনঘটা?” জিজ্ঞেস করে জুঁই।

“আর বলিস না! ঘোড়ার ডিমের এম এড এ এবার ফেল করে ফেলবো!”

“মানে কী? খুলে বল!”

“আর কী! মোটু কি তার স্কুলে চাকরী দিয়ে আমার মাথাডা কিনে ফেলেছে? ওর পরীক্ষা আছে, আমার নেই? স্কুলে ইচ্ছা মতন খাটায়! যখন তখন সুযোগ ধরেই থাকে অর ক্লাস আমারে গছানোর জন্য! এমনকি জেএসসি পিএসসি কোচিঙের ক্লাসও আমাকে ধরিয়ে দিয়ে কি সুন্দর লাইব্রেরীতে এসে সকাল থেকে পড়ছে সে! আবার বাসায় ফিরে বাচ্চাটাকেও তো সময় দিতে হয় আমার, তাইনা? সারাদিন একলা থেকে রাতেই তো সে মাকে কাছে পায়। আজকের পরীক্ষায় আমি কী লিখবো, বল?” এক নিঃশ্বাসে ঝড়ের গতিতে বলা কথাগুলোতে সারা পৃথিবীর অভিমান ঝরে পড়ে শম্পার।

“তুই বলেই সহ্য করছিস! আমি হলে মুখের উপরে বলে স্কুল থেকে ছুটি নিয়ে চলে আসতাম! তুই অনেক বেশি সহ্য করিস!” শাসনের ভংগীতে বলে ওঠে জুঁই।

“তার উপরে এখন আবার তাকে আমার এসাইনমেন্টটাও দেয়া চাই! কি সাধের কথা, দেখ, বললো-জমা দেয়ার আগে ফটোকপি করতে দিয়ো। টেনশন কোরো না, চেঞ্জ করে নেবো নে খানিকটা!”

জুঁই বলে, “দেখি তোর এসাইনমেন্টটা?”

শম্পা সেটা বের করে দিতেই জুঁই সেটা খুলে দেখে নিয়ে নিজের ব্যাগের ভেতরে ঢুকিয়ে রাখে। আর বলে, “তোর জমা দেয়া হয়ে গেছে! বলে দিস ও’কে!”

“আল্লাহ জুঁই, নিস না! ও স্কুলে ঝাল তুলবে!” শম্পা টেনশনে পরে যায়।

জুঁই বলে উঠে- “শোন, তুই যে সরাসরি মানা করতে পারবি না তা আমি জানি। তুই শুধু ওকে বলে দিবি, ওটা জুঁইয়ের কাছে আছে! বাকিটা আমি সামলাবো।”

“কি বলবি তুই?”

“আমি কি বলবো সেটা আমার উপরে ছেড়ে দিয়ে আরাম করে বস। আর আমার খাতাটা নিয়ে একটু পড়ে দ্যাখ! আজকের তোর আর আমার তো একই বিষয়। কাছাকাছিই বোধহয় বসতে পারবো । সব দুঃশ্চিন্তা ঝেড়ে ফেল তো এবার!

এতক্ষণ ধরে ক্ষোভে রাগে মোটুকে ছিঁড়ে ফেলতে মনে চাইছিলো ওর। কিন্তু তা করতে না পেরে যেন নিজেরই চুল ছিঁড়তে বাকী ছিলো। জুঁই এসে কি সুন্দর সমাধান করে দিলো। মুখে হাসি টেনে বলে উঠলো, “বলো বন্ধু, কি খাবা?”

জুঁই মুচকি হেসে বড় টিফিন ক্যারিয়ার বের করতেই ওর ক্ষুধা যেন জেগে উঠলো।

“নে খা! এইসব পুরি, পেঁয়াজু এক-দু’টা খেয়ে তিন ঘন্টার পরীক্ষা দেয়া যায়? আম্মা তোর জন্যে পাঠিয়ে দিলো।”

কৈ মাছের দোপেঁয়াজা সহ খিচুড়ির বাটিতে চামচ সহ জুঁইয়ের বাড়িয়ে ধরা হাতের দিকে চেয়ে শম্পার চোখে পানি চলে আসলো। জুঁইটা না সত্যি! এত ভালোবাসে ওকে! বাধ্য হয়ে ছোট মেয়ের মতো ওকে সেটা জুঁইয়ের সামনেই শেষ করতে হয়। নইলে মেয়েটা ওকে বকে আর আস্ত রাখবে না। আর জানা কথা এটা না খেলে সেই রাত দশটা সাড়ে দশটা পর্যন্ত ওকে ক্ষুধা পেটেই থাকতে হবে।

 

কদিন পর, জুঁই ভার্সিটিতে ঢুকতেই মোটুর সাথে দেখা- “এই! তোমরা কি এসাইনমেন্ট লিখেছো?”

– কোন্ এসাইনমেন্ট?

– ঐ যে সাইকোলজির!

– কেন, তুই এখনো লিখিস নি? আজই তো শেষ তারিখ!

– না। ভেবেছিলাম, তুমি তো আছোই।

– বাহ! আমি আছি মানে কী? আমি কি তোর টা সহ লিখবো?

– আমাকে তো একটু বললেও না!

– ও মা! ফাইনাল পরীক্ষা! পড়াশুনা নিয়ে সত্যি ব্যস্ত এবার! ভুলেই গিয়েছি!

– ও! জমা দিয়েছো?

– হু। পরীক্ষা শুরুর আগেই তো! শম্পার টা সহ!

– ওহ!

 

আজকে জুঁইয়ের প্রস্তুতি অনেকটাই ভালো। এদিকে চা খাওয়ার জন্যে ক্যাম্পাসের ক্যান্টিনও খোলা পেলো না। অবশেষে অনেক দিন পরে টং দোকানে গেলো চায়ের জন্য। সেই যে নিশু আপার অসুস্থতার খবর পেয়ে টং ছেড়েছিলো তার পরে পনেরো বিশ দিন পেরিয়ে গেছে।

আজকে মোটুও টঙে চা খেতে বসলো। কিছুক্ষণ পরেই শম্পা এসে হাজির। যত ঝগড়াই হোক ঘুরে ফিরে তিনটা এক জায়গাতেই আসে।

চা আর ডিম বন খাওয়ার পরে বিল না দিয়েই কিছুক্ষণ পরে মোটু উঠে হাঁটা দিলো ক্যাম্পাসের দিকে।

আর ও কিছুটা এগিয়ে গেলে সেদিকে তাকিয়ে থেকে শম্পা বলে উঠলো, “আমরা দুজন এক সাথে বসে থাকলেই ওর যেন কলিজা পুড়ে! কারবার টা দেখলি, চাকরি দিয়েছে বলে খেয়ে সোজা উঠে যায়, বিলটাও দেয়ার খবর নেই! কবে যে ওর উশুল তোলা শেষ হবে!” শম্পা আবার ক্ষেপে যেতে থাকে।

 

জুঁই তখন ফোঁড়ন কেটে বলে উঠে- “নেও দোস্ত! এত যে রাগ দেখাও, সেই তো একসাথে স্কুল থেকে আসো, আবার একসাথেই রাতের ক্লাস শেষে বাড়ি ফেরো।

শম্পার কণ্ঠে আবারো রাগ ছলকে উঠে, “আর বলিস না! এত্ত জ্বালাতে পারে! যেদিন দুজনের একই সময়ের ক্লাস থাকে, সেদিন আমার ক্লাসরুমের সামনে এসে দাঁড়িয়ে থাকে। কত পীরিত! আমার সাথে রিকশায় উঠতে পারলে তো ওর ভাড়া বেঁচে যায়! বুঝোনা?”

“মানা করলেই পারিস!”

“হ দোস্ত! আমি মানা করতে পারি না একদমই। ব্যাটা এমন চশমখোর! যেদিন দেখবি ওর ক্লাস আগে শেষ, সেদিন কিন্তু একটুও দাঁড়ায় না। ঠিকই ওইদিন অন্য কারো সাথে হাওয়া! বলেও যায় না যে ওর ক্লাস শেষ! চলে যাচ্ছে!

 

লালবাগ রহিমা খাতুন বালিকা বিদ্যালয়ে রায়হান চাকরি করতো গত পাঁচ বছর ধরে। সেখানে একটা সায়েন্সের টিচার খুব প্রয়োজন ছিলো। একমাত্র মেয়ের ভবিষ্যৎ ভাবনায় শম্পারও তখন একটা চাকরির খুব প্রয়োজন। দুইয়ে দুইয়ে চার মিলিয়ে দেয় জুঁইই। কিন্তু গোল বাঁধলো তখনই যখন শম্পা অস্থায়ী পদ থেকে স্থায়ী হয়ে গেলো বছর না ঘুরতেই, একই সাথে বেতনও হয়ে গেলো প্রায় তিনগুণ। আর মোটু ওরফে রায়হান রয়ে গেলো সেই পুরনো চার হাজার টাকা বেতনের অস্থায়ী পদেই। সে জন্যেই হয়তো বা শম্পার সাথে রায়হানের এই রেষারেষি।

 

জুঁই আর কি বলবে! জানে, এই দুটো এরকমই থাকবে। শম্পা যেমন মোটুর উপরে ক্ষেপে থাকে, তেমনি কোথাও গেলে ওটাকে ফোন করে ডেকে না আনলেও শান্তি পায় না। শুধু ওরা দুজনই নয়, তিন বন্ধুই এক রকম। এই ঝগড়া! এই মিল! হাসি ঠাট্টায় মিলে রয়েছে এক সাথে। এক সাথে সিনেমা দেখা, ভালো-মন্দ খাওয়া। মাঝেমাঝে ক্ষেপে গেলেও শম্পা দিলখোলা হাতে রায়হানের জন্য খরচ করতেই থাকে। তারপরে আবার ক্ষেপে যায়! কিন্তু যার ঝাল তার উপর না ঝেড়ে জুঁইয়ের সাথে প্যানপ্যান করতে থাকে। আর জুঁইয়ের কাজ মান ভাঙ্গিয়ে জুড়ে দেয়া। যতবার ওরা কাঁচা মিঠা খুনসুটিতে জড়াতেই থাকবে।

১৯৫জন ৬৫জন
47 Shares

১৫টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

ফেইসবুকে সোনেলা ব্লগ

লেখকের সর্বশেষ মন্তব্য

সাম্প্রতিক মন্তব্যসমূহ