আমি একজন স্বাধীন বাংলাদেশের নাগরিক। আর স্বাধীন দেশের নাগরিক হিসিবে আমি রাস্ট্র থেকে অবশ্যই সুযোগ সুবিধা ভোগ করছি। আমার এই স্বাধীনতার সুখভোগ পাওয়া এতোটা সহজ হয়নি। সেই বর্গী, বৃটিশ, মারাঠা দস্যু, বর্বর পাকিস্তানিদের দমন নিপিড়ন শোষণ কারো অজানা নয়। আসলে সমস্যা হচ্ছে আমরা আমাদের সন্তানদের সে সব জানাতে অক্ষম হয়েছি। আমাদের পাঠ্যবইগুলোতে তা তুলে ধরতো অক্ষম। নতুন প্রজন্মের মস্তিষ্কে আমার ঢোকাতে পারিনি বাংলার মানুষ কতোটা অত্যাচার সহ্য করেছে। ইতিহাসটাকে আমরা এখন অনেকেই হাস্যকর একটা বিষয়ের মধ্যে ফেলে দিয়েছি।
বাংলাদেশ ছোটো একটা দেশ। জনসংখ্যা তার তুলনায় অনেক বেশি। আর প্রতিটা মানুষের মাঝে এখন বাস করছে এক অসুস্থ প্রতিযোগিতা। কে কাকে ডিঙ্গিয়ে উপরে যাবে সেই প্রতিযোগিতা। মূলত মানবিক বা মানবাধিকার শব্দটা যখন আবিষ্কার হলো তখনই মূলত মানুষ এই শব্দটাকে বার বার খামছে ধরলো। ছিঁড়ে ক্ষতবিক্ষত করে ফেলল একেবারে।
আমি মানছি, বাংলাদেশের প্রতিটা সেক্টরে সমস্যা আছে। কিন্তু এজন্য কি বঙ্গবন্ধু দায়ী? আসলেই তিনি দায়ী। তিনি ভুল করেছেন কামলাখাটা বাঙ্গালীকে মুক্তির পথ দেখিয়ে। মুক্তি দিয়ে। একটা ছোটো কথা বলি কেউ কিছু মনে করলে আমার কিচ্ছু যায় আসে না। কারণ, ধর্মীয় ভেদাভেদ আমার মধ্যে কোনোকালেই ছিলো না। কথাটা হচ্ছে, বাঙ্গালী নমঃসুদ্ররা যখন কেউ কেউ স্থান পাল্টিয়ে অন্য একটি নতুন যায়গা আসলো তারা ভুলে গেলো যে সে একজন নমঃসুদ্র ছিলো। আর নমঃসুদ্রদের সাথে অচ্ছুত হিসেবে আচরন করতে লাগলো। কারো এই বিষয়ে দ্বিমত তাকলে ইতিহাস পড়ে নিতে পারেন।
আমাদের দেশটা আজ কয়েকটা ভাগে ভাগ হয়ে গেছে। কারো এতোটুকু ধৈর্য্য নেই। আমার কাছে প্রশ্ন, যে তুমি নীতির দিকে আঙ্গুল তুলছো সেই তুমি তোমার বাবাকে একবারও বলেছো, আমার তেমন কিছু লাগবে না,শুধু তুমি ভালো থেকো।” যেকোনো কিছু হলে সরকার প্রধান দায়ী? তার বাপ মা চৌদ্দগোষ্টির গুষ্ঠী উদ্ধার করতে থামো না।
পরিবহন সেক্টরের যা তা অবস্থা। আমরা প্রতিনিয়ত তা উপলব্ধি করতে পারি। কিন্তু এখানে কি শুধু বাস মালিকরা একারাই দোষী? বাংলাদেশ রেলওয়ে খাতও নয় কেনো? তারা কোন মধুর লোভে ট্রেনে যাত্রীসেবা দিতে পারছে না তা কিন্তু আমরা একটু হলেও জানি। কেনো বাংলাদেশে সেনকম বগী তৈরি হচ্ছে না? কেনো প্রতিটা জেলায় জেলায় ট্রেন হচ্ছে না। মেরুদন্ড কি সেখানেও দুর্বল নয়? স্বাস্থ্যখাতের কথা বললে বাংলাদেশে আমার ও আমার চৌদ্দগুষ্ঠির চিকিৎসা করাই বন্ধ করে দিবে চিকৎসকরা। কোনো মামলায় ফেঁসে যদি একবার কোর্টে গেলেন তো আপনার দশা উকিল বাবু কি করবে তা মনু আপনিই ভালো বলতে পারবেন। আপনি মরে যাবেন তবু আপনার জমিজমার কেস শেষ হবে না। আমাদের জমির পর্চা আছে তবু আমাদের জমি অন্য খাচ্ছে। কোর্ট খালি তারিখ দেয় আর তারিখ দেয়। আর ভূমি অফিসের কথা, পাসপোর্ট অফিসের কথা, খাদ্য, শিক্ষা কোন সে সেক্টর নেই যে সেখানে দূর্ণিতি আমরা করছি না? কনস্ট্রাকশন কাজ করার সময়ও কি সরকার প্রধান সেখানে দাঁড়িয়ে থাকবে? আসলেই সরকার প্রধানের শরীরে অনেক মাথা আর মা দুর্গার মতো অনেকগুলো হাত হলে ভালো হতো তাই না?
উনি একাই সব করতে পারতো তাইলে। এলাকায় এলাকায় পাতি নেতার আর জন্ম হতো না।
পুলিশ খুব খারাপ মেনে নিলাম। খারাপই তো, তাদের সামনে যা তা ভাষায় গালি দিলেও তাকে মাথা নতো করে স্পিক্টি নট হয়ে থাকতে হবে। তার সামনে তার মাকে অনেক বাজে ভাবে শব্দ দূষণমূলক কথা বললেও চুপ করে থাকতে হবে।
যাইহোক, মূল কথায় আসি। আজ এই বাচ্চাদের আন্দোলনের সাথে যারা পুলিশ ও বঙ্গবন্ধুকে গালি দিলেন তাদের একটা পুরষ্কার দেয়া উচিৎ। কারণ, তারা যে নমঃসুদ্র এটা প্রমাণিত। তারা কামলা খেটেই পার করে দিতে পারতো প্রজন্ম থেকে প্রজন্ম। কতো সুন্দর স্লোগান আমরা দেখলাম তাই না? পুলিশকে গালি দেয়, পুলিশ গালি খেয়েই অভ্যস্ত। এই পুলিশই সর্ব প্রথম বাংলার স্বাধীনতা যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলো। যারা গালি দেয় তারাই আর কয়েকদিন পর পুলিশে ঢোকার জন্য লাইন দিবে। সেই পুলিশের বাড়িতেই তদবিরের জন্য ঘুরতে থাকবে। বিসিএস এ তাদের প্রথম চয়েজ থাকবে পুলিশ। বঙ্গবন্ধুর হত্যার জন্য তারা বঙ্গকন্যাকে টাকা দিতে চাচ্ছে আজ চাঁদা তুলে। কেউ লিখছে ‘বঙ্গবন্ধু ঠ্যালা সামলা’ ‘জয়বাংলা ঠ্যালা সামলা।’
কোন বঙ্গবন্ধু? যে বঙ্গবন্ধু এ জাতিকে হাজার বছরের গোলামি থেকে মুক্তি দিয়ে গেছে সেই বঙ্গবন্ধুকে। দিনের পর দিন কারাগারে থেকেছেন স্ত্রী,সন্তান থেকে বাবা মা থেকে।
আমি ব্যাক্তিগতভাবে আজীবন বঙ্গবন্ধুকে আদর্শ মানি মানব। ভালবাসা, শ্রদ্ধা এমন একটা জিনিস যা কোনো কথা কোনো কিছুতে নস্ট হতে পারে না। আমার অন্তত তা হয়না। আমার তাকে আমি দেখেছি সে কতোটা শান্ত মানুষ। সে আজিবন বঙ্গবন্ধুকে ভালবেসেছে। কৃতজ্ঞ থেকেছে। কারন, সে যুদ্ধের অনেক স্মৃতিই মনে করতে পারে, তার মনে পড়ে কি করে সে তার মায়ের হাত ধরে দৌড়াদৌড়ি করেছে যখন তার বাবা অর্থাৎ আমার শশুর ও আমার অন্যান্য চাচাশশুরকে ধরে নিয়ে না’পাক বাহিনী নৌকায় তুলেছিলো। আত্রাই এর ঘটনা বলছি। আমার শশুরের কর্মজীবন সৈয়দপুর রেলকারখানা ও সৈয়দপুর বিহারিদের অত্যাচার ও হুঙ্কার তার মনে আছে। আর ঠিক সে কারণে সে আজও মনে মনে চির কৃতজ্ঞ হয়ে থাকে মাথা নত করে থাকে বঙ্গবন্ধুর প্রতি।
তাকে যারা ব্যাক্তিগতভাবে চেনে, জানে সে কেমন।
আমি ব্যাক্তিগতভাবে যাদের আদর্শ মানি আজ তাদের অনেককে দেখে বিস্মিত হয়েছি। কষ্ট পেয়েছি। যাইহোক, দেখি তারা কতোটুকু বঙ্গকন্যাকে চাঁদা তুলে টাকা দিয়ে তার ঋণ শোধ করতে পারে। আমি মনে করি এজন্য তাদের ক্ষমা চাওয়া উচিৎ। আরে! এই ক্ষতিপূরণ তো সব সময় আপনারাই চেয়ে এসছেন। আপোষের টাকা পাওয়ার সংস্কৃতি কারা তৈরি করছে, মৃতের স্বজনরাই কিন্তু।
বঙ্গবন্ধু আপনি নির্মভাবে নিহত হয়েও শান্তি পেলেন না। মুখোশপরা এ জাতি পারলে আপনাকে কবর থেকে তুলে এনে বসিয়ে থেকে পঁচা কথা শোনাত।
বিনম্র শ্রদ্ধা রইলো বঙ্গবন্ধু। তবু আমাদের ক্ষমা করে দিয়েন।
(আমি খুব সংক্ষেপে লিখেছি তাই পুরো ইতিহাস ও তথ্য সেরকম তুলে ধরিনি)
,,রিতু,,

৪০৬জন ৪০৬জন
0 Shares

৮টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

লেখকের সর্বশেষ মন্তব্য

ফেইসবুকে সোনেলা ব্লগ