যার বলিষ্ঠ নেতৃত্বে বাংলাদেশ স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র এবছর পালিত হবে সেই মহান নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী। ২০২০ সালের ১৭ই মার্চ বঙ্গবন্ধুর শততম জন্মদিনে উদ্বোধন হবে মুজিবর্ষের। নতুন প্রজন্মের কাছে জাতির পিতার আদর্শ তুলে ধরার পাশাপাশি সারা বিশ্বে বঙ্গবন্ধুর জন্মশত বার্ষিকীকে অসাধারণ মাত্রায় নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যে এরই মধ্যে নানান কর্ম পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে সরকারি ও বেসরকারিভাবে। ২০২৯ সালের ১৭ই মার্চ থেকে ২০২১ সালের ১৭ই মার্চ পর্যন্ত সরকার মুজিব বর্ষ উদযাপন করবে।

১০ জানুয়ারি আজই ক্ষণগণনা শুরু কেন?

পাকিস্তানের করাচি কারাগার থেকে মুক্তি পাওয়ার পর বঙ্গবন্ধু ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি লন্ডন থেকে দিল্লি হয়ে দেশে ফিরেছিলেন। সেদিন তাঁর দেশে ফেরার মধ্য দিয়েই পূর্ণতা পেয়ে ছিল বাংলাদেশের স্বাধীনতা। ঐতিহাসিক সেই দিন অর্থাৎ ১০ জানুয়ারিকে এজন্যই মুজিব বর্ষের ক্ষণগণনার দিন হিসেবে বেছে নেয়া হয়েছে।

আজ তেজগাঁও বিমানবন্দরে বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী ক্ষণগণনা অনুষ্ঠানে বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের প্রতীকী আবহাওয়া তৈরি করা হবে। অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করবেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ সময় প্রতীকী বিমান অবতরণ, বিমান থেকে আলোর প্রক্ষেপণ ও তোপধ্বনি, সেদিন বঙ্গবন্ধুকে দেয়া গার্ড অব অনারের মতো প্রতীকী গার্ড অব অনারের বিষয়গুলোও থাকছে আজ। মুজিব বর্ষের লোগোও উন্মোচন করা হবে আজকের অনুষ্ঠানে।

মুজিব বর্ষের ক্ষণগণনার অংশ হিসেবে দেশে ৫৩ টি জেলা ০২ টি উপজেলা, ১২ টি সিটি কর্পোরেশনের ২৮ টি পয়েন্ট, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ রাজধানীর ৮৩ টি পয়েন্টে কাউন্টডাউন ঘড়ি বসানো হয়েছে। দেশের বাইরেও উদযাপিত হবে জন্মশতবার্ষিকী ও মুজিব বর্ষের আনন্দ আয়োজন।

মুজিব বর্ষকে ইউনেস্কো’র স্বীকৃতি

প্যারিসে ইউনেস্কো সদরদপ্তরে সংস্থাটির ৪০ তম সাধারণ অধিবেশনে সর্বসম্মতিক্রমে মুজিব বর্ষ উদযাপনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। এর ফলে বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী বিশ্বের ১৯৫ টি দেশে একযোগে উদযাপন করা হবে যা বহির্বিশ্বে বাংলাদেশকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যাবে। ৫০ বছর বা এর গুণিতক যেকোনো বার্ষিকী যদি ইউনেস্কোর কার্যক্রমের সাথে সংশ্লিষ্ট হয় তাহলে সেই দিবসটি ইউনেস্কো যৌথভাবে সে দেশের সাথে পালনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে থাকে। সে হিসেবেই মুজিব বর্ষের স্বীকৃতি দেয় ইউনেস্কো।

মুজিব বর্ষ এবং বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন আমাদের জন্য আনন্দের ও সম্মানের। বাংলাদেশের স্বাধীনতার রক্তাক্ত ইতিহাস পুরো বিশ্ব জানবে এটি আমাদের জন্য অবশ্যই একটি গৌরবের বিষয়। তাই চলুন দল-মত-নির্বিশেষে আমরা সকলেই মুজিব বর্ষের আজকের ক্ষণগণনা অনুষ্ঠানে নিজ নিজ জায়গা থেকে একযোগে অংশগ্রহণ করে দিনটিকে স্মরণীয় এবং সাফল্যমন্ডিত করি।

১৯২জন ৬৩জন
50 Shares

১৮টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

ফেইসবুকে সোনেলা ব্লগ

লেখকের সর্বশেষ মন্তব্য