সোনেলা দিগন্তে জলসিড়ির ধারে

বইমেলা ভ্রমন

সাবিনা ইয়াসমিন ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০১৯, শনিবার, ০৪:৩৮:১৬অপরাহ্ন একান্ত অনুভূতি ৩৭ মন্তব্য

সকালে ঘুম থেকে উঠে ঠিক করলাম বই মেলায় যাবো। কিন্তু চাইলেইতো যাওয়া হয় না। যাওয়া যায়ও না। ঘরের কাজ শেষ করে বের হতে হবে। মনে মনে কাজ আর টাইম সেট করে নিলাম। দুই ঘন্টা পরের কাজ আগে শেষ করে বাকি কাজ পরে করার সময় বের করতে করতে বেলা এগারোটা বেজে গেলো।

ইচ্ছে ছিলো বইমেলায় সাজুগুজু করে যাওয়ার। সুতি শাড়ি, গলায় কানে সুতায় বোনা অলংকার, হাতে সুতোর কাজ করা চুড়ি, আঙ্গুলে সুতোর আংটি, পায়ে সুতার নকশা করা স্যান্ডেল আর পাটের সুতার তৈরী হ্যান্ড ব্যাগ নিয়ে একদম সুতলীবালা হয়ে মেলায় গিয়ে সেল্ফি-কুলফি তুলবো। অনেকদিন হলো ফেইসবুকে নতুন প্রোফাইল এ্যাড করিনি। ছবি তুলে ফেবুতে দিবো। কিন্তু সময় আমাকে সময় দিতে চায় না, তাই সাজুগুজুর চিন্তা বাদ দিয়ে আমার ইউনিফর্ম পড়ে কাধে ব্যাগ ঝুলিয়ে সোজা গিয়ে হাজির হলাম মেলায়। আহা ! কতকিছু যে দেখার আছে এখানে ! কিছুদিন আগেই একজন বেশ রসে-কসে বলেছিলেন এখানে বই ছাড়াও অনেক কিছুর দেখা মেলে। এইবার আমার চোখেও কিছু কিছু দেখা দিলো।

প্রিয় মানুষদের বই সংগ্রহের টেনশন আর সময় স্বল্পতায় দেখা-দেখি বাদ দিয়ে নম্বর মিলিয়ে স্টল খুঁজে বের করে হাতে নিলাম বহু প্রতিক্ষীত বইগুলো। মেলায় ডাকাডাকি শুরু করলে অনেকেই সঙ্গী হতে চাইবেন অনুমান করে ডাকাডাকি করা থেকে বিরত রইলাম, কি করবো ! সবাইকে দেয়ার মতো সময় আমার সময়-ভাণ্ডারে জমা ছিলো না। মেলা প্রাঙ্গন ত্যাগ করার সময় প্রতিবারই আমার চোখ ছলো-ছলো হয়ে যায়, মনে হয় আবার আসতে পারবো কি ! সময় কেন আর একটু বেশি সময় দেয় না আমায় ?

বাইরে এসে দেখি ফেরার পথ বেশি সুবিধার না। সি এন জি ওয়ালা হয়তো মনে মনে ভেবে নিয়ে ছিলো বই কেনার পরেও আমার হাতে অনেক টাকা আছে আর সে বেশি ভাড়া দাবী করে টাকাগুলো আত্মসাৎ করবে। গাড়ি খুঁজতে পেয়ে গেলাম বড় একটা গাড়ি মানে বাস। একা একা সি এন জি তে না বসে বাসে বসে ফেরার সিদ্ধান্ত নিয়ে উঠে পড়লাম। মনে মনে আশাও ছিলো, যদি কোনো সুন্দর হ্যান্ডসাম চেহারার মানুষ পাশের সিটে এসে বসে, তাহলে বাস-ভ্রমন খারাপ লাগবে না।

এলো একজন আর আমার পাশেই বসলো। আমি তখন লিস্ট দেখে বই কোন-কোনটা পেয়েছি সেটা ঠিক করছিলাম। পাশের সিটের দিকে খেয়াল ছিলো না। কথার আওয়াজে চমকে উঠে দেখি এক ভদ্রলোক ( ? )
জিজ্ঞেস করছে মেলায় এবার অনেক বই এসেছে দেখেছেন ? আমি মাথা উপর-নিচ করলাম যার মানে হ্যা।
তারপর আবার প্রশ্ন আপনি কি প্রায়ই আসেন এখানে ? এবার মাথা ডানে-বামে নাড়িয়ে বোঝালাম, না ।

কিছুক্ষণ চুপচাপ থেকে একহাত বাড়িয়ে ( হ্যান্ডশেক করার জন্যে ) বলে উঠলেন, হ্যালো ম্যাডাম আমি …. । আমরা কি পরিচিত হতে পারি ? এতক্ষণে আমি প্রথমে লোকটার হাতের দিকে একবার তাকালাম আর পরে চোখের দিকে তাকালাম , সুন্দর দেখতে। মুখটা হাসিতে ভরা। জানিনা আমার চোখে কি ছিলো !! লোকটি আর একটা শব্দ না করে হাতটা ফিরিয়ে নিয়ে বুকের মাঝে আড়ি-আড়ি রেখে বসে থাকলো। সারা পথে কোনো কথা বলেনি। আমি আমার নিজের কাজ করতে লাগলাম। আমার গন্তব্যের দুই স্ট্যান্ড আগেই সে নেমে গেলো আর জানালার সামনে এসে বলে গেলো আমার নাম লিখে ফেবুতে সার্চ দিবেন। আমি অপেক্ষা করবো !!!!

লোকটা সুন্দর ছিলো, যাকে বলে লাস্যময় সুন্দর। তারপরেও লোকটাকে কেন যে ভালো মনে হলোনা বুঝলাম না। কালো মানুষদের উপর ইদানীং দূর্বল হয়ে পরছি। শুনেছি, কালাদের ভেতর জ্বালা বেশি থাকে।
জ্বালা-পোড়া তাদের মাঝে কতখানি থাকে জানতে পারলে মন্দ হতো না।

বইমেলা এখন প্রায় শেষদিকে। যারা এখনো বই সংগ্রহ করেননি তারা সময় বের করে মেলায় যান। নতুন নতুন মলাটের বই দেখেও সুখ পাওয়া যায়।

 

 

৫৫৯জন ৫৬০জন
51 Shares

৩৭টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

ফেইসবুকে সোনেলা ব্লগ

লেখকের সর্বশেষ মন্তব্য