বইমেলা ঘুরে-২

ভোরের শিশির ৬ ফেব্রুয়ারী ২০১৫, শুক্রবার, ১১:৩৮:৩০অপরাহ্ন একান্ত অনুভূতি, ভ্রমণ, সমসাময়িক ১৬ মন্তব্য

০৬-০২-১৫।
আজকে অমর একুশে বইমেলা, ২০১৫ তে আমার দ্বিতীয় দিন। রাজশাহী থেকে তী র্থ আসবে বইমেলায় তাই সকাল থেকেই তার সাথে ঘুরবো পরিকল্পনা করে হাজিরা দেই।
ম্যারাথন আড্ডা শেষে নীলক্ষেতের মুরগি+পোলাউ আর তে+হারী শেষে ঢুঁ মারা শুরুঃ
লেখক পাকড়াও অভিযানে আজকের লেখক ছিলেন ‘প্রেতসাধক নিশিমিয়া’র জন্মদাতা Rajib Chowdhury। প্রকাশকাল হিসেবে লেখনীতে তরুণ তুর্কী আদতে পুরান! তাই তাঁর সাথে সাক্ষাতে তার ভৌতিক উপন্যাসের প্রাপ্তিস্থল প্রিয়মুখ প্রকাশনীতে হাজির হতেই দেখি উনার সাথে প্রসিদ্ধ লেখকেরা ইতোমধ্যেই জমিয়ে আড্ডা দিচ্ছেন। একটু উঁকিঝুঁকি মেরে নজর কাড়তেই ধরা দিলেন সেই চিরচেনা লাজুক হাসি দিয়ে। তারপর?
তারপর আর কি! নিশিমিয়াকে হাতে নিয়ে এবং ধরিয়ে দিয়ে বললাম ‘নিন, আমায় কিছু বলতে বলুন শব্দে লিখে নিশিমিয়াকে’ আর ভোজভাজির মতই নিশিমিয়া লিখে দিলো একটি লাইন, সারসংক্ষেপে ‘ভালবাসার টান ভাগাভাগিতেও আছে!’ নিশিমিয়া কথা বলেছে শব্দের লেখনীতে আর সেই অন্তিম মুহূর্ত ধারণ না করলে কি হয়! তাই অনন্যোপায় হয়ে তীর্থকেই টেনে আনলাম ছবি তোলার জন্যে। লেখকের অনুভূতি কি তা যে যার মতোন অনুমান করে নিন তবে আমার অনুভূতি জানিয়েছিলাম এক লাইনে ‘অবশেষে নিশিমিয়াকে কাগজে ধরে বন্দি করেছেন!’
এবার!
নাহ্‌!! মুখ ঘুরাতেই দেখি Diganta Bahar, Apel Mahmud তথা আরো দুই বহুল চর্চিত আর জননন্দিত ব্যক্তি হাজির এবং সাথে সাথেই হৈহুল্লোড়ে মেতে ওঠা…এবং?
এবং চমক হয়ে ধরা দেয় অন্য কিছু সময় যা বলতে পারি এইভাবেইঃ
“চোখ শুকিয়ে সাহারা মরুভূমি আর মনে তখন চীনের মহাপ্রাচীর বানাচ্ছি বাণ ঠেকাবো বলে,
হায়! নিকোটিনে পোড়া মন তখন নিষিদ্ধ করা ভালবাসাতেই আছে ডুবে। ”
সেই চমকের ঘোর কাটতে না কাটতেই নতুন চমক লেখিকা Bondona Kabir অর্থাৎ বাহুল্যের তকমা ‘১৫ তম গ্রন্থএর ৩য় গল্পগ্রন্থের জননী’ “গল্প কিংবা কয়েকটি কাঁচের টুকরো” প্রকাশের স্থানে হাজিরা দিয়েছেন! পড়িমড়ি করে ছুট লাগিয়ে আবারো বইমেলা প্রাঙ্গণের ‘আদি প্রকাশনী’তে উপস্থিত হতেই দেখি তিনি তার ভক্তকূল সামলাতে ব্যস্ত, ব্যক্তি পরিচয় থাকায় বিধায় খোঁজ নিলেন কোথায় আছি জানতে চেয়ে আর তাঁর পিছনে দাঁড়িয়ে তাকেই ভড়কে দেই এই সুযোগে। এরপর?
এরপর এক বছর অপেক্ষার প্রহর শেষ করলেন তাঁর সন্তানের মুখে নয় বুকে আমাকে উদ্দেশ্য করে কিছু লিখে! বরাবরের মতোই আমি বদমাশ এখানেও…
এরপরে আর কি! কুইন Shahnaz Mustaque যেখানে থাকেন সেখানে তার নিকন ক্যামেরা থাকবেই আর আমরা ছবি তুলবো না তা কি করে হয়!-ক্লিক ক্লিক ক্লিক চলছেই অবিরত…
ঘুরে ফিরে আবারো শুরুর ব্যক্তিরা যোগ দিলেন আড্ডায় একসাথে এবং…
যাওয়ার পালা শুরু অর্থাৎ আজকের জন্যে বইমেলাকে বিদায় জানানো!
মূল চত্বর থেকে বের হতে না হতেই খাবারের বায়না এবং লেখিকা মহান উৎসাহে আমার মতো পেটুকের পীড়াপীড়িতে বাধ্য হয়ে ভূড়িভোজ দিলেন…বেরুনোর পথে যোগ দিলো বৃত্ত!
যাই হোক এ নিয়ে আর নাই বলি। ফিরলাম পোড়া ভূট্টো হাতে নিয়ে পেয়াড়া খেয়ে…
প্রথম দিনের মতো আজ কি চমক ছিল?
হ্যাঁ ছিল। যে চমক আমি চেয়েছি পাল্টে দিতে সেই চমক পাল্টাতে না পারার চমক ছিল।

৪০৬জন ৪০৬জন
0 Shares

১৬টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

ফেইসবুকে সোনেলা ব্লগ