বইমেলার সাতকাহন

তৌহিদুল ইসলাম ২২ মার্চ ২০২১, সোমবার, ০৮:৪৮:২৪অপরাহ্ন একান্ত অনুভূতি ২১ মন্তব্য

(এক)

বইয়ের নাম “প্রেমরসের কাব্য” দেখে বইমেলা থেকে বইটি কিনেছিলাম। পড়ার পরে মনে হচ্ছে লেখক হয়তো মর্গের ডাক্তার ছিলেন যিনি নারীদেহের পোস্টমর্টেম রিপোর্ট নিয়ে কবিতা লিখেছেন।

(দুই)

বইমেলায় বন্ধুপত্নীকে নিজের বই উপহার দেয়ায় বন্ধুটি গত তিনবছর আমার সাথে কথা বলেনি যা পরে জেনেছি। অথচ দু’জনেই আমার ক্লাসমেট ছিলো।

এবারের বইমেলায় সেই বন্ধুর প্রকাশিত ‘অরণ্যের তিনটি কাঠগোলাপ’ বইটির নাম দেখে আর কিনতে ইচ্ছে হলোনা। আমি জানি আমার প্রাক্তনকে নিয়ে লেখা বিগত একহাজার পঁচানব্বই দিনের গল্প ছিলো সেটি।

(তিন)

বইমেলার পাশে মরচেধরা ডাকবাক্সটার দিকে তাকাতেই বুকটা হাহাকার করে উঠলো। বই পোষ্ট করতে এসে বইটি বুকে জড়িয়ে ধরে একজন নিজেই ওপারের ঠিকানায় পাড়ি জমিয়ে ডাকবাক্সটার পাশে নীথর শুয়ে আছে!

(চার)

‘ঞ’ নম্বর বগীটা কোনদিকে বলতে পারেন? সেই পরিচিত কন্ঠ! কিছুক্ষণ আগে স্টেশনের বুকস্টল থেকে কেনা ‘তালপাতার সেপাই’ বইটির পাতা থেকে মুখ তুলে তার দিকে তাকালাম।

পনেরো বছর আগে ভার্সিটির প্রথমদিনও সে আমাকে জিজ্ঞেস করেছিলো- সমাজবিজ্ঞান অনুষদ কোনদিকে বলতে পারেন? বইমেলায় বই প্রকাশের উদ্দেশ্যে আমাকে প্রুফ দেখে দেয়ার অনুরোধ করতে আসা সেদিন তার হাতে ছিলো এই বইটিরই পাণ্ডুলিপি!

(পাঁচ)

“ভালো বই হোক নিত্যসঙ্গী” এটি সবসময়ই মেনে চলি। কিন্তু পৃথিবীতে এটাই একমাত্র সঙ্গী যাকে অর্থের বিনিময়ে আপন করে পেতে হয়। বই উপহার পাওয়া এখন অমাবস্যার চাঁদের মতন।

(ছয়)

আগে বইমেলায় বই কিনতে গেলে অটোগ্রাফ এবং সেলফী তোলার লোভে আমি প্রথিতযশা লেখকের বই কিনতাম। এখন আর তা করিনা। ইদানিং বইমেলা থেকে আমি নতুন লেখকদের বই বেশী কিনি।

বিখ্যাতরা তাদের অটোগ্রাফ গ্রহণকারীকে ভুলে যায় কিন্তু নতুনেরা আমাকে কৃতজ্ঞচিত্তে স্মরণ করে যেমনটা আমি করি।

(সাত)

তাকে কেন নিজের সাথে বইমেলায় নিয়ে যাইনা এই অভিযোগে প্রতিবছর বইমেলা শুরু হলেই আমাকে প্রেমিকার অভিমানী মুখটি দেখতে হয়।

অথচ নিজের টাকায় বই প্রকাশ করতে হবে বইমেলা এলেই এই বিদগ্ধ অনুভূতি আমাকে আ্যমাজনের এনাকোন্ডা হয়ে গিলতে থাকে।

———

[ছবি- সংগৃহীত]

১৩৮জন ২৫জন
0 Shares

২১টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

ফেইসবুকে সোনেলা ব্লগ

লেখকের সর্বশেষ মন্তব্য