ফাগুনের আগুন

জিসান শা ইকরাম ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০১৯, মঙ্গলবার, ১২:১৯:৫৫পূর্বাহ্ন ভ্রমণ ৩৩ মন্তব্য

অথচ কথা ছিলো এই ফাগুনের প্রথম দিনে আমরা হাত ধরাধরি করে এমন আগুন লাগা শিমুল বাগানে একে অন্যের হবো।
না বলা কথাগুলো যা আমরা উভয়েই জানি কিন্তু প্রকাশ করা হয়নি, তা এদিন প্রকাশ করবো উভয়ের কাছে।
কথা ছিল চাঁদের আলোতে কবিতা আবৃত্তি করবে তুমি, আর আমি মুগ্ধ স্রোতা হয়ে শুনবো।

তোমার জোৎস্না প্রিয়, আর আমার প্রিয় নদী। পদ্মার আকাশে উড়ন্ত গাংচিল দেখার কত ইচ্ছে তোমার।
আমার কত প্লান এই জ্যোৎস্না আর নদী নিয়ে। কুয়াশা মাখা ভোরে আমরা দুজনে একসাথে যাবো বরিশালে গ্রীন লাইনে।
সময়ের সাথে সাথে সূর্য উঠবে আর কুয়াশা অদৃশ্য হবে, নদীর দু’পারের সবুজ গাছ, ধান ক্ষেত, ভাসমান নৌকায়
জেলেদের মাছ ধরা দেখবো আমরা ঝকঝকে আকাশের নীচে গ্রীন লাইনের ছাদে দাঁড়িয়ে।
একদম কাছ দেখে দেখবো লঞ্চের পিছনে ধাবমান শত সহস্র গাংচিল। উড়তে থাকা গাংচিল অবাক বিস্ময়ে তাকিয়ে থাকবে আমাদের দিকে, গাংচিল রা একসময় জেনে যাবে তুমিও একটি পাখি। দুপুরে বরিশালে নেমেই ছুটবো পদ্মপুকুরে।
পুকুর ভরা ফুটে থাকা পদ্ম দেখতে দেখতে পদ্মের মাঝে ডুবে যাবে তুমি। তুলনা করবো আমি, তোমার  আনন্দে উদ্ভাসিত
তোমার মুখের সাথে ভেসে থাকা পদ্মের। পদ্ম  ম্রিয়মাণ হবে বরাবরের মতই।

সন্ধ্যায় সুন্দরবন লঞ্চে উঠবো আবার ঢাকার উদ্দেশ্যে। বারান্দায় দুজনে বসে কাটিয়ে দেব সারাটি রাত।
জ্যোৎস্না রাতে আকাশের তারা গুনবো। নদীর পানিতে ছোট ছোট ঢেউ এর মাঝে চাঁদের আলোর ঝিকিমিকি দেখবো,
যেন জল জ্যোৎস্নার সংগম। জেলে নৌকার হারিকেনের মিটিমিটি আলো দেখে উচ্ছসিত হবে তুমি,
আর আমি অপলক মুগ্ধতা নিয়ে দেখব তোমাকে।

এই এক জীবনে আমাদের কত অতৃপ্তি, কত আশা ধুলিস্ম্যাত হয়ে যায়, আশারা এক সময় আশা করতেই ভুলে যায়। তারপরেও বেঁচে থাকি অর্ধ মৃত হয়ে। কেউ কেউ মরে গিয়ে বেঁচে যায়, কেউ কেউ বেঁচে থেকেই মরে যায়।

————————————————–জেগে উঠে ভাবি, এ কেমন স্বপ্ন দেখলাম?
স্বপ্নের মাঝে স্বপ্ন!
জলের গান।

২৪৪জন ২৩৮জন
0 Shares

৩৩টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

লেখকের সর্বশেষ মন্তব্য