প্রেম তুমি (১ম পর্ব)

ইঞ্জা ১১ জুন ২০১৬, শনিবার, ০৫:২১:২৩অপরাহ্ন বিবিধ ১৬ মন্তব্য

আমি আকাশ, মনটা আজ কেন যেন ভালো না বুঝতে পারছিনা কেন, আজ আমার সব আছে, বাড়ী, গাড়ী সব সাজিয়েছি আমার মনের মতই করে যা আগে তেমন ছিলোনা মা বাবা ভাই বোন সবাই দেশে থাকে আর আমি একাই থাকি এই পাহাড়ে, বাড়ীতেই বড় ৬ তলা বাড়ী করে দিয়েছি আর সবাই সেখানেই থাকে। একা থাকি বললে ভুল হবে, ঘরের কেয়ার টেকার, মালি, কুক, পিয়ন সবাই থাকে এইখানে তবুও আমি একা।

আজ বেশ ঝড় বৃষ্টি হচ্ছে, ঘরের সবাই বাইরের স্টাফ ঘরে ঘুমাতে গেছে আর এই ঘরে আমি একা, ঘুম আসছেনা বলেই নিচে নেমে এলাম, ড্রয়িং রুমে এসে মিউজিক সিস্টেমটা চালু করে দিলাম, বিটোফনের পিয়ানোর করুণ সূর বাজছে,আমি সোফাতে গাটা এলিয়ে দিলাম, তন্দ্রার মত লেগে এসেছিল হঠাৎ দরজায় করাঘাত এমন জোরে শব্দ করছে যেন দরজা ভেঙ্গে ফেলবে, “এতো রাতে আবার কে এলো” বলে উঠে আসলাম, দরজা খুলেই আমি অবাক এবং যেন বজ্রাহত হলাম সে ভাবে বাইরের মানুষটার দিকে তাকিয়ে রইলাম আর মানুষটা ভয়ার্ত চোখে কাকুতি মিনতি করছে কিন্তু আমি যেন কিছুই শুনছিনা আর মনে পরে গেল সেইসব দিনের কথা, ইউনিভারসিটিতে পড়তাম এক সাথে, জুলি ছিলো আমাদের ২ সেমিস্টার ছোট কিন্তু ওরা কয়েকজন বান্ধবীর ছিলো আমাদের সাথে আড্ডা আর আমি ভিতরে ভিতরে জুলিকে প্রচন্ড ভালোবাসতাম তা কখনো বলা হয়নি কিন্তু জুলি বুঝতে পারতো আমার ওর প্রতি টান আর আবেগের বিষয়টা কিন্তু হঠাৎ একদিন এসে জানালো ওর পুরো পরিবার চলে যাচ্ছে কানাডা আর ওর বাকি পড়ালেখা এখন থেকে সেখানেই হবে, যাওয়ার সময় আমাকে জড়িয়ে ধরে অনেক্ষন কাঁদলো, বলল সে আবার ফিরে আসবে আমাকে বিয়ে করবে কিন্তু ঘটনাচক্রে ওর সাথে যোগাযোগ বন্ধ আজ প্রায় অনেক বছর আর সেই মেয়েটি কিনা আমার সামনে দাঁড়িয়ে, আমি সম্বিৎ ফিরে পেলাম কিছু মূহুর্ত পর, বললাম তুমি এইখানে, সে বলছে “প্লিজ রক্ষা করুন আমাকে, প্লিজ রক্ষা করুন”, আমি তাড়াতাড়ি তাকে ঘরের ভিতর আসতে বললাম, সে ঢুকার পর দরজা লাগিয়ে দিলাম, খেয়াল করলাম সে থরথর করে কাঁপছে আর এইদিক সেদিক দেখছে, বললাম “বসো তুমি, ভয় পাওয়ার কিছু নেই, এইখানে কেউ আসবেনা” বলেই ইন্টারকমে গার্ডরুমে কল দিলাম আর তাদের বললাম যেন ভালো করে লক্ষ্য করে কেউ যেন ভিতরে আসতে না পারে না জানিয়ে।

আমি কিচেনে গিয়ে কিছু ফ্রুটস, দুইটা স্যান্ডউইচ আর দুই কাপ কফি নিয়ে এলাম, সামনের টেবিলে সেগুলো রেখে বললাম ” কিছু খাও আগে” এতক্ষনে ও কিছুটা দাত্বস্থ হয়েছে, আমার দিকে অবাক চোখে তাকিয়ে আছে, আমি বললাম “কি দেখছো, খাও” সে বললো তুমি মানে আপনি কি আকাশ? আমি হেসে বললাম এতক্ষণে চিনেছো, ও আর দেরী করলোনা সাথে সাথে সোফা থেকে লাফিয়ে উঠলো আর আমার বুকে ঝাঁপিয়ে পড়লো আর আবার কান্না শুরু হোল তার, “কই ছিলে তুমি, তোমাকে কত খুঁজেছি তোমাকে” এইসব বলছে, আমি ওকে ধরে সোফায় বসিয়ে দিলাম, বললাম “তুমি কফিটা নাও আর সিঁড়ি ধরে উপরে যাও, সেখানের ৩য় রুমে আমার মার কিছু কাপড় আছে তাড়াতাড়ি চেইঞ্জ করে নাও না হলে ঠান্ডা লেগে যাবে, ভিজে তো চুপসে গেছো”, ও নিজের দিকে তাকালো তারপর জিজ্ঞেস করলো ” কেউ আসবে নাতো”? আমি বললাম “না আসবেনা, তুমি এখানে নিশ্চিত থাকতে পারো”, ও তখন উঠে কফির কাপটা হাতে নিয়ে সিঁড়ির দিকে হেঁটে গেল আর আমি মিউজিক সিস্টেমটা বন্ধ করে টিভিটা অন করে দিলাম আর ভাবছি জুলি এতো রাতে এইখানে কেন আর কেন তার এই অবস্থা?

চলবে………

১১১জন ১১১জন
0 Shares

১৬টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

ফেইসবুকে সোনেলা ব্লগ

লেখকের সর্বশেষ মন্তব্য