প্রেম কি?

অরুণিমা মন্ডল দাস ১৭ ডিসেম্বর ২০২০, বৃহস্পতিবার, ০৯:৫৪:৪৩অপরাহ্ন একান্ত অনুভূতি ৪ মন্তব্য

ভগবানের সৃষ্টি এক পবিত্র সম্পর্কের অনুভূতি। কামসূত্রের মতে প্রেম থেকে কাম আর কাম থেকে তৃপ্তি পাওয়া যায়। শেক্সপীয়ার বয়সে বড় মহিলাকে বিয়ে করেছিলেন। শচীন তেন্ডুলকর ও সেটা দেখিয়ে দিয়েছেন যে বয়সটা শুধুমাত্র দাম্পত্যসুখের অন্তরায় নয়।
প্রেম জিনিসটা ছেলেরা যেভাবে নেয়—–

১)
১৫-২৫ অবধি সময়ে ছেলেদের দেহ মনের পরিবর্তন দেখা যায়। কিছু ভালো ছেলেরা মোবাইলের স্ক্যান্ডেলের ছবি ব্লু ফিল্ম দেখে সময় কাটায় কিছুজন লজ্জার খাতিরে দেখতে চায় না কিন্তু জোর করে বসালে দিব্যি দেখে আর চিৎকারে সিনেমাহলের পর্দা ফাটিয়ে দেয় আর পাশে যে বন্ধুটি থাকে থাকে আধুনিক ধোলাই দিয়ে বাংলার পাঁচ বানিয়ে দেয়।
স্কুলের বান্ধবীরা এই নিয়ে গল্প করত। তঁাদের প্রথম হলিউডি মুভি দেখার মর্মান্তিক কাহিনী।
২)
২৫-৩০ ছেলেদের এই বয়সে বিশেষ আবেগ এক অদৃশ্য উত্তেজনার অদম্য স্পৃহা দেখা যায় বিপরীত লিঙ্গের প্রতি। অনেকে কল্পনার জগতে বাস করতে থাকে। আপন প্রেমিকাকে মনোরঞ্জন করে তঁাকে পাওয়ার প্রচেষ্টায় কিছু ছেলেরা যেকোন কিছু বলতে বা যেকোন কিছু করতে দ্বিধাবোধ করে না। অনেকে অনেক মহিলার সংগে সম্পর্ক রাখেন কিন্তু বিয়ের কমিটমেন্ট করেন না।
কিছু ভালো ছেলে আবার ছল চতুর মেয়ের পাল্লায় পড়ে জীবন শেষ করে ফেলে। প্রথমেই এরা বিশ্বাস করে ধোঁকা খায়। আর মেয়েটা সাত বছর ধরে ঝুলিয়ে ঝুলিয়ে মজা নিয়ে দিব্যি বড়লোক গাড়ীওয়ালা ধরে ঝুলে পড়ে। আসলে কিছু খামখেয়ালি বিশ্বসুন্দরী ভাবধারী মেয়ে আছে গরিব মেধাবী ছেলেদের কমলালেবু মনে করে। রস চুবড়ে নিয়ে গ্যাটারে ফেলে দেয় আর বড়লোক বাপের টাকায় দু তিনটে আ্যবোরসান করে চোখে গগলেশ আর কোমরবন্ধনী সর্টস পরে সতীনারী সেজে ঘুরে বেড়ায়। আমার এক আত্মীয় দাদা ডাক্তারী পড়তে গিয়ে মেনটাল পেসেন্ট তাই বলতে বাধ্য হলাম। তাছাড়া সরল ছেলেমেয়েদের জীবন শহরের হোক আর গ্রামের হোক এইভাবে নষ্ট হয়ে যেতে দেখা যাচ্ছে।
কিছু ছেলে সরল মেয়েদের ধোঁকা দিয়ে সিগারেটের নেশার মত ই মজা পাচ্ছে। ব্যাপারটা বিকৃত স্বেচ্ছাকৃত ধর্ষণে পরিণত হচ্ছে।
৩)
৩০-৪৫বয়সে——বিবাহিত বয়সে সংসার কাজের ক্লান্তির ছাপ চোখে মুখে ফোটে উঠে। অনেকে সুখী জীবনযাপন করেন বাইরে দেখান কিন্তু ভিতরে একটা বোলতা কামড়ানোর মত যন্ত্রণা গুমরে মরে। বান্ধবী সংখ্যা বাড়ানোর প্রচেষ্টা দেখা যায়। অনেকে অফিসে ষোড়শী অষ্টাদশী প্রাইভেট সেক্রেটারী পছন্দ করেন। বৌকে লুকিয়ে কিছু করতে পারলে আনন্দে আটখানা হয়ে যান। অনেকে এইবয়সের উত্তেজনার তাল না সামলাতে নেশাগ্রস্থ হয়ে বহুনারীতে গমন করেন।
ফেসবুক টু্্যইটার র দৌলতে ঘরে বসে সুন্দরী ষোড়শী বান্ধবী পেয়ে যাচ্ছেন। সুন্দর সুন্দর রসের রসের কথা বলতে পারছেন।
সমাজে যুবকশ্রেণী উন্নত না হলে সেই সমাজ কখনই মাথা তুলে দঁাড়াতে পারে না।
৫০এর পর বয়স্ক মানুষদের সানি উপাসনা না করে শিবের আরাধনা অনেক বেশী প্রয়োজন মনে করি। খিটখিটে স্বভাব যাতে না হয়ে যায় তঁার জণ্য হালকা হাসি ঠাট্টা ধার্মিক ভাবনা ও সাধুসঙ্গের আওতায় রাখা উচিত।

মেয়েদের ক্ষেত্রে প্রেম কি?

 ১) ১৩-১৮বয়সের মেয়েরা প্রেম নয় প্রেমের মোহে পড়তে ভালোবাসে। সুন্দর ছেলে হিরো কাটিং চুল মিষ্টি হাসি তাতেই গলে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। অনেকে আবেগের বশে বিয়ে করে নেন আবার অনেকে রূপের মোহ কাজে লাগিয়ে ছেলেদের লাট্টুর মত ঘুরিয়ে মজা পান। এই বয়সে আবেগের ভাষাহীন বণ্যার অনবরত বিরহের হতাশায় অনেকে ভোগে।
২)
১৯-৩৩ র মেয়েদের প্রথমের দিক আবেগের তাড়নার হঠকারিতা থাকলেও শেষের দিকে বাস্তবের মাটিতে ঠোক্কর খায় এবং অনেক কিছু বুঝতে শেখে।
কলেজে পড়াকালীন অনেকেই বেকার বিয়ে করে সংসারের যাতনা সামলায় সরকারী চাকরির আশায় ছটফট করতে থাকে। কিছু জনের পড়াশোনা লাগে না। বাপের ঝাপট আর টাকার দরুণ সুন্দর মাষ্টার ডাক্তার পাত্র পেয়ে যায়। কেউ দশদিন বাড়ি থেকে পালিয়ে গিয়ে থাকলেও বা ভালোবেসে গরিবকে বিয়ে করলেও সেটা মানা হয় না। শঁাখা ভেঙে গঙ্গাজল ছিটিয়ে পবিত্র করে ডাক্তার ইঞ্জিনীয়ারদের বৌ বানানো হয়। মোটকথা সুন্দরী বড়লোক বাবার মেয়ের হাজার বার ইচ্ছানুযায়ী ধর্ষিতা হলেও শাশুড়ি বৌমার সিরিয়ালের মত পবিত্র। গরিবের মেয়ে জোর করে একবার ধর্ষন হলে তাঁকে কু্কুরের থেকেও অধম জীবনযাপন করতে বাধ্য করানো হয়। তঁাকে মাসিদের সেরা বানিয়ে দেওয়া হয় যাতে সতি নারীর আসল মানে খুঁজতে সারাজীবন লাথি ঝঁাটা খেতে হয়।

মোদ্দা কথা অমর প্রেম বলে কিছু হয় না। মোহ আর আবেগ তীব্র আকারে ঝরে পড়লে ঝলসানো আকাঙ্খা জাগে যার ফলে প্রেমিক প্রেমিকা অস্থির হয়ে মিলনের তীব্র অনুভূতি অনুভব করেন । যেখানে দুজনেরই স্বার্থ কাজ করে । নিস্বার্থ প্রেম প্রকৃতই দুর্লভ। অনেকেই বিয়ের কিছুদিন পর কমপ্রো করে বঁাচতে হয় । এটাই বাস্তব। বড়লোকের সুন্দরী মেয়েরা বিনা এনগেজ থাকেন না। যারা অস্বীকার করেন হয় তারা খুব চালাক নয়তো শারিরীক সমস্যায় ভুগছেন। এককথায় সুন্দরী মেয়েরা ১৬বছরের পর বিনা এনগেজ কখনই থাকেন না । রাস্তায় বেরোলে ছেলেদের টিটকিরি ধকধক করনে লাগা স্কুলে গেলে কিছু শিক্ষকের মন মায়া বন বিহারিনী আর পাড়ার ডাক্তারি ইঞ্জিনিয়ারিং আইন টেকনোলজির বেবি ডোলম সোনেদির পর মনে হয় না কোন মেয়ে সারদাদেবী হয়ে শুদ্ধ থাকতে পারে। বাড়িতে সুন্দরী মেয়ে থাকলে অনুঘটক লোকেদের নজরটা কটকট করে আর মাধ্যমিক পাস ক রা মাত্রই ওয়েটিং লিস্টে নাম লেখায়।

———–
অরুণিমা মন্ডল দাস
কলকাতা, ভারত।

২০৮জন ১৫৪জন
4 Shares

৪টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

ফেইসবুকে সোনেলা ব্লগ

লেখকের সর্বশেষ মন্তব্য