স্বপ্ন প্রতিটি মানুষই দেখে। কারণে অকারণে দিনে-রাতে স্বপ্ন দেখেই যাচ্ছে। কেউ ঘুমের ঘোরে স্বপ্নের ডান মেলে এদেশ-ওদেশ ঘুরে বেড়াচ্ছে। আর আমি স্বপ্নের মাঝে খুঁজি সোনেলা ব্লগের ব্লগারদের। উদ্দেশ্য তাঁদের নামগুলো আমার সোনালী ডায়রিতে লিখে রাখার জন্য। এছাড়া আমি অন্যকোনো বাজে স্বপ্ন দেখি না। আমি স্বপ্নে কখনোই প্যারিস, লন্ডন, আমেরিকার শিকাগো শহরেও যাই না, যাইওনি। কারণ আমি গরিব মানুষ! লেখাপড়া কম জানেওয়ালা একজন অধম মানুষ! লন্ডন, আমেরিকা, ফ্রান্স, প্যারিসের ইংরেজি ভাষা আমি জানি না, বলতেও পারি না। ভাষা না জানলে, আর না বুঝলে যে বিপদে পড়তে হয়, সেটা আমার খুব ভালো জানা আছে। তাই আর ঘুমের ঘোরে স্বপ্নেও ওইসব ইংরেজি ভাষাভাষীদের দেশে আমি যেতাম না। আমি বাঙালি। বাংলা আমার মায়ের ভাষা, মাতৃভাষা। তাই আমি স্বপ্নের মাঝে থেকে যেতাম, আমাদের নারায়ণগঞ্জ শহরের চাঁনমারি বস্তি কিম্বা ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডের পাশে যত্রতত্র ফেলে রাখা দুর্গন্ধময় বর্জ্যের পাশে থাকা বস্তি ঘরে। আর নাহয় সোনেলা ব্লগের সোনালী মানুষগুলোর সাথে।

ঘুমের ঘোরে কখনো বিমানে চড়িনি, দমবন্ধ হয়ে যাবে বলে। আমার ঘুমের ঘোরে স্বপ্নে চড়া হতো আগেকার সময়ের গরুগাড়ি, ঠেলাগাড়ি, ভ্যানগাড়ি, আর গরিবের ভাঙাচুরা রিকশায়, নাহয় নারায়ণগঞ্জ টু সদরঘাট মুড়িরটিন বাসে। ঘুমের ঘোরে স্বপ্নে সাবমেরিন চড়ে মহাসাগরের তলদেশে যাইনি কখনো, নিরুদ্দেশ হয়ে যাবো বলে। যদি সাবমেরিনে চড়ে পানির নিচে গায়েব হয়ে যাই, তাহলে আমার দুখিনী গিন্নী সারাজীবন আমার জন্য কেঁদে কেঁদে বুক ভাসাবে। তাই অসহায় গিন্নীর কথা চিন্তা করে স্বপ্নে কখনো সাবমেরিনে চড়িনি। 

তবে হ্যাঁ, একবার নাসার মহাকাশযান যানে চড়তে চেয়েছিলাম। অত্যাধুনিক রকেটে চড়ে চাঁদের দেশে যেতে চেয়েছিলাম, চাঁদের বুড়ির সাথে দেখা করতে। উদ্দেশ্য ছিলো, চাঁদের বুড়ির যুগযুগ ধরে কাটা সুতাগুলো পাইকারি দরে কেনার। অনেকেই বলতে পারেন, ‘এই সুতা দিয়ে কী হবে?’ কী হবে শুনুন তাহলে– 

:আমাদের দেশে এই কাটা সুতার প্রচুর চাহিদা আছে। এদেশের জুট ব্যবসায়ীরা এগুলোকে জুট বলে। এই জুট মেশিনের সাহায্যে আবার তুলা তৈরি হয়। সেই তুলা দিয়ে আবার সুতা তৈরি হয়। আবার লেপ-তোষক তৈরি হয়। আরও নানারকম পদ্ধতিতে নানারকম কাজে ওইসব জুট ব্যবহার করা হয়। গার্মেন্টসের টুকরো কাপড়ের জুট থেকে বড়-বড় কাপরের টুকরা বেছে নিয়ে, ঐগুলা দিয়ে ছোটদের জামা-প্যান্ট-সহ আরও অনেককিছু তৈরি হয়। তাই বর্তমানে আমাদের দেশের অনেক স্থানে এই জুটের জন্য সময়-সময় খুন-খারাবির মতো কাণ্ডও ঘটে যায়। গার্মেন্টসের জুট আর টেক্সটাইল মিলের জুটের জন্য দলা-দলি সৃষ্টি হয়! সিন্ডিকেট গড়ে তোলা হয়! মারা-মারির সৃষ্টি হয়! 

এসব জুট একসময় গার্মেন্টস টেক্সটাইল মিলের মালিকরা ময়লা আবর্জনার সাথে ফেলে দিতো। সেই ফেলানো ময়লা আবর্জনার জুট এখন লক্ষলক্ষ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। দেশের শিল্পনগরী এলাকায় এই জুটের জন্য সিন্ডিকেটেরা বড়-বড় নেতাদের পায়ে-পায়ে ঘুরছে। এসব দেখে মনে মনে ভাবতে থাকি, ইশ! যদি চাঁদের দেশে গিয়ে বুড়ির কাটা সুতাগুলো এদেশে নিয়ে আসতে পারতাম! তাহলে তিনদিকে উপকার হতো, লাভবানও হতো। 

প্রথমত: চাঁদের বুড়ি তো যুগযুগ ধরে দিনের-পর-দিন, রাতের-পর রাত সুতা কেটে বোঝাই করে রাখছে। এতে করে কাটা সুতা হয়ে যাচ্ছে পাহাড় সমান। এর কারণে দিন-দিন রূপালি চাঁদটা অন্ধকারাচ্ছন্ন হয়ে যাচ্ছে। চাঁদের বুড়ির কাছ থেকে নামমাত্র মূল্যে ঐগুলা কিনে আনলে, চাঁদের বুড়িও বেশকিছু টাকা হাতে পাবে। সেইসাথে চাঁদের কিরণ আরও উজ্জ্বল দেখা যাবে এবং চাঁদের ভারসাম্যও কিছুটা রক্ষা হবে। 

দ্বিতীয়ত: চাঁদের বুড়ির কাছ থেকে কাটা সুতাগুলো আমাদের দেশে আনতে পারলে এদেশে জুটের চাহিদা অনেকাংশে মিটে যাবে। জুট নিয়ে খুনা-খুনি, মারা-মারি, দলা-দলি কম হবে। বড়-বড় নেতারাও একটু আরামে ঘুমাতে পারবে। জুট ব্যবসায়ীদেরও ভালো ব্যবসা হবে।

তৃতীয়ত: চাঁদের বুড়ি থেকে নামমাত্র মূল্যে জুটগুলো কিনে এনে আমাদের দেশের জুট ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করলে বেশকিছু টাকা লাভ তো অবশ্যই হবে। সেই টাকা দিয়ে আমার মতো অনেক অভাবী সংসারের অভাব দূর হবে। এবার অবশ্যই বুুঝতে পেরেছেন কাটা সুতা আর গার্মেন্টসের টুকরো কাপড় কত মূল্যবান সম্পদের পরিণত হয়েছে। তা হোক, এবার আসি স্বপ্নে চাঁদের দেশে যাওয়ার ঘটনা নিয়ে।

ঘুমের ঘোরে স্বপ্নে চাঁদের দেশে গিয়ে  রোবট সাজে সজ্জিত হয়ে রকেট থেকে নেমে যখন চাঁদের বুড়ির সামনে গেলাম, তখন চাঁদের বুড়ি তেড়ে এসে আমার দুইগালে ঠাস-ঠাস দুটো থাপ্পড় মেরে জিজ্ঞাসা করলো–

:তুই না নেহাৎ গরিব মানুষ? গরিব হয়েও নাসার মহাকাশযান যানে চড়ে পৃথিবী থেকে এখানে আসলি কেন?’ 

চাঁদের বুড়ির প্রশ্নের জবাবে আমি কান ধরেই বললাম–

:বুড়ি মা, আমিতো আপনার সাথে কথা বলতে এসেছি। আগে আপনার পা ছুঁয়ে নমস্কার করে নিই, তারপর নাহয় এখানে আসার উদ্দেশ্যটা বলি!’ 

আমার কথা শুনে চাঁদের বুড়ি বললো–

:নমস্কার লাগবে না। তুই আমাকে ছুঁতেও পারবি না। তোর সাথে করোনাভাইরাস আছে। তুই আমাকে ছুঁলে আমিও আক্রান্ত হয়ে পড়বো। তাই যা বলার দূরে থেকেই বল! বল উদ্দেশ্যটা কী? 

আমি কাঁপতে কাঁপতে বললাম–

:বুড়ি মা, আপনার কাটা সুতাগুলো পাইকারি দরে কিনতে এসেছিলাম। আমি ছোটবেলা থেকে শুনে আসছি আপনার সূতো কাটার কৃতিত্বের কথা। তাই ভাবলাম! আপনার কাটা সুতাগুলো পৃথিবীতে নিয়ে আমাদের দেশের জুট ব্যবসায়ীদের কাছে কম দামে বিক্রি করে দিবো। এতো আমাদের দেশের জুট ব্যবসায়ীদেরও জুটের চাহিদা মিটবে, আর আমার সংসারে লেগে থাকা অভাবও দূর হবে।

এই কথা বলার পরই চাঁদের বুড়ি আমাকে আরেকটা জোরে থাপ্পড় দিয়ে আমার এক কানের কানের পর্দা ফাটিয়ে দিলো। তারপর বললো–

:তুই কি বোকা? এখানে কি কোনও সুতা তৈরির ফ্যাক্টরি আছে? আমার কি খেয়ে-দেয়ে আর কাজ নেই? আমি কি বসে বসে শুধু সুতাই কাটবো?

আমি বললাম–

:তাহলে বুড়ি মা, আমি যে ছোটবেলা থেকে শুনে আসছি, আপনি একটা বটগাছের নিচে বসে বসে যুগযুগ ধরে শুধু সুতাই কাটছেন! তাহলে আমি কি ভুল শুনেছি?

আমার কথা শেষ হতে-না-হতে আমাকে আরেকটা থাপ্পড় মারতে চাইলো। তা দেখে আমি একটু সরে দাঁড়ালাম। থাপ্পড় আর আমার গালে লাগলো না। দ্বিতীয় থাপ্পড় থেকে রক্ষা পেলাম। তারপর চাঁদের বুড়ি ক্ষিপ্ত হয়ে আমাকে বললো–

:আমি এখানে আছি চাঁদকে দেখে রাখার জন্য। যাতে রাহু চাঁদকে গিলতে না পারে। আমি হলাম মা বুড়ি। চাঁদকে পাহারা দিয়ে রাখি। তুই যা এখান থেকে!

এই বলেই আমাকে একটা ধাক্কা দিয়ে চাঁদ থেকে নিচে ফেলে দিলো। আমি সেদিন বায়ুমন্ডলে ঘুরতে ঘুরতে খুব কষ্টে পৌঁছেছিলাম সোনেলা ব্লগের প্লাটফর্মে।     

সোনেলা প্লাটফর্মে এসে দেখলাম, কেউ ঘুমের ঘোরে মোবাইলের রিংটোনের আওয়াজ পাচ্ছে। কল রিসিভ করছে, কথাও বলছে। স্বপ্নে সবাইকে নিয়ে রাত-বিরেতে নানান জায়গায় ঘুরা-ঘুরিও করছে। তাঁদের পাল্লায় পড়ে নিজের ইচ্ছা না থাকা সত্ত্বেও আবার  স্বপ্নও দেখতে হচ্ছে। স্বপ্নের শুরুতেই দেখলাম, সোনেলা ব্লগের তুখোড় ব্লগার শ্রদ্ধেয় ইঞ্জা দাদা স্বপ্নে সবাইকে বাসি-পচা জিলাপি খাওয়াতে শুরু করলেন। পেটের ক্ষুধা নিবারণের জন্য আমিও এক হাতে নাক ধরে খেয়েছি।   

তা দেখে জিলাপি লোভী শ্রদ্ধেয় কবি মাহবুবুল আলম দাদা ডায়বেটিস থাকা স্বত্বেও ইঞ্জা দাদার জিলাপির লোভে পড়ে গেলোন। মাহবুবুল আলম দাদার জিলাপির প্রতি মধুমোহ লোভ দেখে, উনার ঘরের গিন্নীর (বৌদির) বকাঝকাও শুনছিলো। সাথে সোনেলা ব্লগের সবাইকে বৌদির বকাঝকা শুনতে হচ্ছে। তিনি শ্রদ্ধেয় মাহবুবুল আলম দাদার গিন্নী (বৌদ) এমন চিল্লাচিল্লি শুরু করেছে, তাঁকে আর কিছুতেই বুঝানো যাচ্ছে না, থামানোও যাচ্ছিলো না। বৌদির  চিল্লা-চিল্লিতে শ্রদ্ধেয় জিসান শা ইকরাম দাদা ঘুমের ঘোরে খাট ভেঙে ধপাস! শুধু ধপাসই নয়, জিসান শা ইকরাম দাদার হাড্ডি-গুড্ডিও ভেঙেছে বলে মনে হয়। কিন্তু তিনি মানসম্মানের ভয়ে তা আর কারোর কাছে প্রকাশ করেনি, মনের ব্যথা মনে রেখেই সবার স্বপ্নের সাথে স্বপ্ন দেখে যাচ্ছে। কিন্তু সোনেলা পরিবারের সদস্যরা আর সহজে ছেড়ে দিচ্ছে না। সোনেলা ব্লগের সবাই শ্রদ্ধেয় মাহবুবুল আলম দাদার গিন্নীর (বৌদির) ওই চিল্লাচিল্লি আর বকাঝকার প্রতিবাদে রাস্তায় নেমে পড়েছিল। কেউ আবার শ্লোগান দিচ্ছিলো,  হুশিয়ার সাবধান, চিল্লা-চিল্লি বন্ধ করে বকা-ঝকা থামান। প্রতিবাদ করতে গিয়ে এক কথা দুই কথায় বেঁধে গেলো দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ! সেই যুদ্ধ থামলো, সম্মানিত কবি সাবিনা ইয়াসমিন দিদির কথায়। সেদিন সেই যুদ্ধের সময় কবি সাবিনা ইয়াসমিন দিদি চিৎকার করে বলছিলেন–

:মহারাজ সুপায়ন দাদা আপনারা কবি? আপনাদের যুদ্ধ মানায় না!

এরপরই থামলো যুদ্ধ। স্বাভাবিক হল সব। যুদ্ধ থামার পর শ্রদ্ধেয় ব্লগার /লেখক তৌহিদ দাদা খুশিতে আত্মহারা। তিনি খুশির চোটে ব্লগারদের নিয়ে একটা মিলনমেলার আয়োজন করার ঘোষণা দিলেন। 

সেই মিলনমেলায় তিনি বগুড়া থেকে আসতে বগুড়ার দই আনতে ভুলে গেলেন।। তিনি বগুড়ার দই না এনে আনলেন, রংপুরের বিখ্যাত হাঁড়িভাঙা পচা-ধচা কেজি খানেক মিষ্টি। তাও আনলেন একটা ভাঙাহাঁড়িতে ভরে। অবশ্য মিষ্টির সাথে ঢাকার ফুটপাত থেকে কেনা কিছু জিলাপিও ছিলো। তিনি তৌহিদ দাদা বগুড়া থেকে ঢাকায় আসলেন এক পাখাবিহীন বিমানে চড়ে। মিলনমেলা শেষে যাবার সময় সাথে আনা জিলাপি দিয়ে হট্ট-গণ্ডগোল বাঁধিয়ে আস্তে করে চম্পট হলেন। ওই জিলাপি নিয়ে অনেক নিরীহ ব্লগার বিনাদোষে দোষীসাবস্তও হয়ে ছিলেন। সেটা নিয়ে যখন সোনেলা ব্লগের ব্লগারদের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দিলো, আর একে অপরকে দোষারোপ করতে লাগলো; তখন সম্মানিত কবি বন্যা লিপি দিদি স্বর্গের দূত হয়ে সবার মাঝে হাজির হলেন। 

তিনি সবার রাগ থামানোর জন্য সাথে নিয়ে আসলেন,  দুইটা পুডিং। তাও আবার ডজন খানিক আণ্ডা দিয়ে তৈরি করা। এই পুডিং কেউ পছন্দ না করলেও, সোনেলা ব্লগের সোনালী ব্লগার শ্রদ্ধেয় ইঞ্জা দাদার নাকি খুবই পছন্দের জিনিস ছিল, এই পুডিং। আরও আনলেন গরিবের ইরি চালের বাসি-পচা মুরগী বিরিয়ানি। সেগুলো খেয়ে ব্লগের অনেকেরই অবস্থা খারাপ হয়ে গিয়েছিল। সেদিন সবার অবস্থা আরও খারাপ হতে, যদি মনির দাদা সময়মতো পাশের দোকান থেকে ওরস্যালাইন এনে না খাওয়াতো। যাক, তবুও সেদিন বাসি-পচা বিরিয়ানি নিয়ে কেউ তেমন মন খারাপ করেনি। মন খারাপ করেছে, সবার মুখে কালি মেখে দেওয়ার কারণে। সেদিন সবার মন ভালো করে দিয়েছিল, সম্মানিত লেখিকা রেহানা বীথি দিদি। 

তিনি সেদিন ভাসুরের ছেলের বাসায় থেকেও ব্লগের সবার সাথে সময় দিয়েছিল। সেদিন তিনি নিজের শাড়ির আঁচল দিয়ে মায়ের আদরে সবার মুখের কালি মুছে দিয়েছিলেন। আবার সবার জন্য দুইদিন আগেই মনির দাদাকে দিয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে আম এনে ভাসুরের ছেলের বাড়ির ছাদ বোঝাই করে রেখেছিলেন। কিন্তু দুঃখের কথা দুঃখের সাথে ক্ষোভ নিয়ে বলতে হয়, সেই আমের একটা আঁটিও আমার ভাগ্যে জুটলো না। অথচ পুরো একটা বাড়ির ছাদ বোঝাই আমগুলো আমিই পাহারা দিয়ে রেখেছিলাম। আমরা কি মানুষ? নাকি ভিনগ্রহের প্রাণী এলিয়েন? মুহুর্তের মধ্যে আমগুলো কীভাবে যে শেষ হয়ে গেলো, তা একটু বুঝতেও পারলাম না। শেষতক আমার মতো যাঁরা আমের আঁটিও পায়নি, তাঁরা মনের ক্ষোভে অজ্ঞাত নামা একেকজনের বিরুদ্ধে দুদক কমিশনে দুর্নীতির মামলা দায়ের করেছিল। তারপর সব দুর্নীতিবাজ দুর্নীতির অভিযোগ থেকে বাঁচতে সোনেলা ব্লগের শ্রদ্ধেয় কবি সুপায়ন বরুয়া দাদার লেজে সবাই কামড়ে ধরলো। 

সম্মানিত সুপায়ন দাদা উপায়ন্তর না দেখে শেষমেশ মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দ্বারস্থ হলেন। যেহেতু মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সাথে শ্রদ্ধেয় কবি সুপায়ন দাদার আগে থেকেই ঘনিষ্ঠতা ছিলো। তাই তিনি সবাকে নির্দোষ প্রমাণ করার জন্য বীরদর্পে সরাসরি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর গণভবনে সবাইকে নিয়ে গেলেন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সবাইর আকুতি-মিনতি শুনলেন। তারপর সবাইকে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নিজ হাতে রান্না করা বাসমতী চালের পোলাও খেতে দিলেন। সবাই মনের আনন্দে খেলেন। বাদ পড়লাম আমি এক অধম বান্দা। পোলাও খাওয়ার সময়ই আমি প্রকৃতির ডাকে সারা দিতে ঐ আগের মতনই ওয়াশরুমে গিয়েছিলাম।

ওয়াশরুম থেকে বের হয়ে দেখি খাওয়া-দাওয়ার পর্ব শেষ! কী আর করা! পেটের ক্ষুধা কেউ যাতে বুঝতে না পারে, পেট চেপে ধরে চুপচাপ সবার সাথে বসে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর বক্তৃতা শুনছিলাম। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সবাইকে দুর্নীতির ঊর্ধ্বে থেকে দেশ ও জাতির কল্যাণে কাজ করতে বললেন। তারপর শেষ বারেরমতো আম নিয়ে দুর্নীতির অভিযোগ থেকে সবাকে বেকসুর খালাস করে দিলেন।। এরপর ব্লগের সকলের চোখের মণি সম্মানিত লেখিকা মণি কাশফিতা দিদি সবাইকে তাঁর সাথে যেতে অনুরোধ করলেন। সবাই মণি কাশফিতা দিদির কথা রাখলেন। সবাইর যাওয়ার ইচ্ছে দেখে মণি কাশফিতা দিদি ঢাকা লালবাগ থেকে আগের দিনের  কয়েকটা ভাঙাচুরা ঘুনে ধরা টমটম আনালেন। সেই টমটমে চড়ে সবাই মণি কাশফিতা দিদির পামে চলে গেলেন, গহীন জঙ্গলে থাকা এক ভূতুড়ে রাজপ্রাসাদে। আমি গরিব বান্দা আর টমটমে ওঠার চান্স পেলাম না। আমি তাড়াতাড়ি একটা ঠেলাগাড়ি ভাড়া করে তাঁদের টমটমের পেছনে পেছনে ছুটলাম। সেদিন অনেক করে তাঁদের যাওয়ার অনেক পরে আমি বান্দা ওই জঙ্গলের রাজপ্রাসাদে গিয়ে হাজির হলাম।           

সেখানে গিয়ে দেখি, মণি কাশফিতা রাজপ্রাসাদের ভেতরে ঘুটঘুটে অন্ধকারে সবাইকে নিয়ে চেপটা মিটিংকরছেন। তিনি সম্মানিত মণি কাশফিতা Astra travel বিষয়ে সবাইকে বুঝালেন। পৃথিবী ও সূর্য বিষয়েও একটু করে সবাইকে বুঝিয়ে দিলেন। সবাইকে দুর্নীতির ঊর্ধ্বে থেকে মন দিয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কথামতো বেশি বেশি স্বপ্ন দেখতে বললেন। আরও অনেককিছু নিয়েই তিনি আলোচনা করতে লাগলেন। হঠাৎ তিনি তাঁরই বোন সিংহিনী মুক্তা মৃণালিনীর উপস্থিতি টের পেলেন। শেষমেশ তিনি তাঁর বোন মুক্তা মৃণালিনীর ভয়ে অন্ধকারাচ্ছন্ন সভা কক্ষ থেকে মুহূর্তেই চম্পট হলেন। হলরুম থেকে বের হয়ে তিনি তাঁর ভাড়া করা টমটমে চড়ে বাসায় চলে গেলেন। বাসায় গিয়ে সোজা তাড়াতাড়ি ওয়াশরুমে ঢুকে গেলেন। আমরা সবাই থেকে গেলাম ওই গহীন জঙ্গলের ভেতরেই। হঠাৎ আমরা বাঘের গর্জন শুতে পেলাম!  তখন আমাদের অবস্থা তো “যেখানে বাঘের ভয়, সেখানেই রাত পোহায়”-এর মতো হয়ে গেলো। জঙ্গলের বাঘের ভয়ে যখন সবাই কাঁপতে ছিলাম, আমাদের সাথে যাওয়া সোনেলা ব্লগের সম্মানিত লেখিকা শিরিন হক দিদি সবাকে অভয় দিতে লাগলেন। সাহস রাখতে বললেন।   

তিনি শিরিন হক হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের উদ্দেশ্যে বললেন, “সনাতন ধর্মাবলম্বী ভাই ও বোনেরা, আপনারা কৃষ্ণ কৃষ্ণ নাম জপতে থাকুন। আর মুসলমান ভাই-বোনেরা আল্লাহ রাসূলের নাম জপতে থাকুন। ইনশাআল্লাহ বনের বাঘ আমাদের কিছুই করতে পারবে না। আপনারা মনের ভেতর একটু সাহস রাখুন। প্লিজ! আপনারা বাঘের ভয়ে কাঁপবেন না। বাঘের ভয়ে নিজেদের প্যান্ট ভেজাবেন না। জামাকাপড় নষ্ট করবেন না! আমি থাকতে বাঘে আপনাদের কিছু করবে না, বলে বিশেষ ধরণের পাম্পার দিয়ে পাম দিতে লাগলেন। কিন্তু শিরিন হক দিদির পামে কেউ সাহস জোগাতে পারলেন না। বরং শিরিন হক দিদির পামে সবার চোখমুখ মুহূর্তেই ফুলে গেলো রাগে। সবার চোখগুলো হয়ে গেলো লাল রঙ। তা দেখে মনে হচ্ছিলো, এই বুঝি সবাই শিরিন হক দিদিকে তুলোধুনো করে ফেলবে। উপায়ন্তর না দেখে সবাইকে অভয় আর সাহস দিলো সোনেলা পরিবারের দেবতুল্য জিসান শা ইকরাম দাদা। কারণ বনজঙ্গলে থাকা বাঘ- ভাল্লুক সম্বন্ধে উনার আরও আগে থেকে চমৎকার কলাকৌশল জানা ছিল, ট্রেনিং দেওয়া ছিলো। আমি জানি একসময় তিনি আফ্রিকার জঙ্গলে বাঘ ভাল্লুক রক্ষণাবেক্ষণের চাকরি করতেন। তাই আমরা সকলে সেদিন শ্রদ্ধেয় জিসান শা ইকরাম দাদাকে বললাম, জঙ্গলে থাকে বাঘের আক্রমণ থেকে আমাদের রক্ষা করার দায়িত্ব নিতে। তিনি সকলের কথায় সাড়া দিয়ে সাথে আসা চার পাঁচশো ব্লগারকে চারভাগে ভাগ করে গহীন বনের চারদিকে চারমুখী আর মারমুখী করে দাঁড় করালেন। তিনি জিসান শা ইকরাম দাদা ওইদিন পাঁচশো জন ব্লগারকে চারভাগে ভাগ করালেন এভাবে–

গ্রুপ-১ পূর্বমুখী:  গ্রুপ প্রধান- নাসির সারওয়ার:

সাবিনা ইয়াসমিন, সুপর্ণা ফাল্গুনী, আলমগীর সরকার লিটন, মোহাম্মদ মনজুরুল আলম চৌধুরী, খাদিজাতুল কুবরা, সুরাইয়া পারভীন, সুরাইয়া নার্গিস, সাদিয়া শারমিন, রেজোয়ানা কবির, মুক্তা মৃণালিনী, মনি কাশফিতা, পর্তুলিকা, শিরিন হক, মারজানা ফেরদৌস রুবা, ইকবাল কবীর, মনির হোসেন মমি, বন্যা লিপি, সুপায়ন বড়ুয়া, মাহবুবুল আলম, প্রদীপ চক্রবর্তী, হালিম নজরুল, নাজমুল হুদা, সিকদার সাদ রহমান, রেহানা বীথি, জাকিয়া জেসমিন যূথী, শামীম চৌধুরী, রিমি রুম্মন, শাহরিন, ইকবাল কবীর, রেজওয়ান, আরজু মুক্তা, নীরা সাদিয়া, শবনম মোস্তারী, রুমন আশরাফ, শিরিন হক, রোকসানা খন্দকার রুকু, জান্নাতুল ফেরদৌস সায়মা, ইরিনা আহমেদ, মোনাব্বার হোসেন, মনোয়ারা সুলতানা সোনিয়া, শায়লা খান, কামরুল ইসলাম, শায়লা ইলিয়াস, রায়হান সিদ্দীক, ফজলে রাব্বী সোয়েব, Dr. Major Ariful Sany, মোহাম্মদ আলী, নাজমুল হোসেন নয়ন, সৈয়দা শাহনাজ পারভিন, অপু রায়হান, তির্থক আহসান রুবেল, পার্থ সারথি পোদ্দার, শান্ত চৌধুরী, রেজিনা আহমেদ, ড. এম হেলাল, নাজমুস সাকিব রহমান, মুন, সোয়েবুর মোর্শেদ সোহেল, সামশুল মাওলা হৃদয়, রুদ্রাক্ষ অহম, মিজভী বাপ্পা, নুরহোসেন, শাহিন বিন রফিক, নাফিছা সুলতানা ইলমি, রাফি আরাফাত, মামুন রাফী, সৈকত দে, মহানন্দ, রুবিনা সুলতানা, Masuder Rahman, সৌরভ হালদার, তূয়া নূর, হিমেল কবি(সাহিত্য সন্তান), এরশাদ খান, ছন্দা দাম, অন্বেষা চৌধুরী, মোঃ মিজানুর রহমান সুমন, কাজী জহির উদ্দিন তিতাস, পুষ্পিতা আনন্দিতা, মামুন চৌধুরী, হুসাইন আহমেদ, সজীব ওছমান, আসিফ ইকবাল, ফয়সাল খান, শামসুল আলম, ইসমাইল জসীম, তারিক, শফিকুল ইসলাম, শায়লা শারমিন, আহমেদ ফাহাদ রাকা, সাখিয়ারা আক্তার তন্নী, শফিক নহোর, তারাবতী, মুহাম্মদ আরিফ হোসাইন, হিমু ভাই, শিপু ভাই, দাদু ভাই, মোস্তাফিজুর খাঁন, হাফেজ আহমেদ রাশেদ, শাফিন আহমেদ, খুরশীদা খুশী, সালমা আক্তার মনি, মোহাম্মদ মামুন, রোবায়দা নাসরীন, সকাল স্বপ্ন, সেলিনা মওলা, অরুণিমা মন্ডল দাস, জিয়াউল হাসান। 

 

গ্রুপ-২ পশ্চিমমুখী: গ্রুপ প্র: মো: মজিবর রহমান:  

ইফতি হাবিব (অভিন), সিকদার, শামীম তালুকদার, সাজেদুল হক, সঞ্জয় মালাকর, শুভ মালাকার, মুহাম্মদ মাসুদ, ইসিয়াক, ফয়জুল মহী, আকবর হোসেন রবিন, মাছুম হাবিবী, নিরব সাগ, উর্বশী, কবির হোসেন রবিন, সৌবর্ণ বাঁধন, মোঃ রাশিদুল ইসলাম, রায়হান সিদ্দীক, রিয়েল আবদুল্লাহ, সাম, কামাল উদ্দিন, দালান জাহান, দেবজ্যোতি কাজল, আতা স্বপন, ত্রিস্তান, এস. জেড বাবু, মোহাম্মদ দিদার, চাটিগাঁ থেকে বাহার, সোয়েব, মাহমুদ আল মেহেদী, রিতু জাহান, অপার্থিব,  রাফি আরাফাত, মাসুদ চয়ন, শাওন এরিক, হৃদয়ের কথা, রুদ্র আমিন, সোয়েব, জাহিদ হাসান শিশির, নীহারিকা, আমির ইশতিয়াক, ইকরাম মাহমুদ, প্রহেলিকা, আবু খায়ের আনিছ, মৌনতা রিতু, মিষ্টি জিন, নীহারিকা জান্নাত, গাজী বুরহান, সিকদার, সঞ্জয় কুমার, আতকিয়া ফাইরুজ রিসা, জবরুল আলম সুমন, যাযাবর, এজহারুল এইচ শেখ, আহমেদ কামাল, সোনেলা দিগন্তে জলসিঁড়ির ধারে, তামান্না রুবাইয়াত, শাদমান সাকিব, বনলতা সেন, নীলাঞ্জনা নীলা, সুমধু চক্রবর্তী, আদিব আদ্‌নান, হৃদয়ে আমার বাংলাদেশ, শিশির কনা, অচেনা, অন্তরা মিতু, তায়েবুল জিসান, জাতীয়তাবাদী বটগাছ দল, আহমেদ জালাল, হাকুশ পাকুশ, বায়রনিক শুভ্র, সোনিয়া হক, বেল পাকলে কাকের কি, শামীম আরা সনি, সাঞ্জনা চৌধুরী জুঁথী, অচিন পরিচয়, ফেরদৌসী, অরুন, মিসু, আনন্দধারা বহিছে ভুবনে, মর্তুজা হাসান সৈকত, পিয়াস, সাতকাহন, শোভন জামান, অপ্সরা সিজেল (বনলতা সেন), রাইসুল জজ্, সোহেল মাহামুদ(অতি ক্ষুদ্র একজন), কাফি রশিদ, শাহ আজিজ, মেহেদী হাসান, আসিফ মাহমুদ, তানিশা মুমু, অদ্ভুত শূন্যতা, ঋতুরাজ, সালাহউদ্দিন সালমান, শাকিলা তুবা, একজন নিষ্ঠাবান দেশপ্রেমিক, বিমান, পথিক, খসড়া, সাবর্ণ, নীহার, শুন্য শুন্যালয়, সীমান্ত উন্মাদ,আফ্রি আয়েশা, বন্দনা কবীর, আমার মন, লিংকন হুসাইন, নিশীথের নিশাচর।

 

গ্রুপ-৩ উত্তরমুখী:  গ্রুপ প্রধান- তৌহিদ: 

স্তাপসকিরণ রায়, রবিউর রায়হান, সজীব, জিএম শুভ, নাজনীন খলিল, ইখতামিন, বোকা মানুষ, নীলসাধু, ইউসুফ রানা, আর রাতু, অনন্য অর্ণব, অরণ্য পুলক, অরণ্য জুয়েল, অনুশঙ্কর গঙ্গোম্যাক্সিম, বোহেমিয়ান ভবঘুরে, বেলাল হোসাইন রনি, মোকসেদুল ইসলাম, ছন্নছাড়া, হোসাইন আহমেদ, ভোরের শিশির, সুহাসিনী, এমডি, ঘুমের ঘোরে কেটে যাওয়া অনন্ত পথ, তামান্না রুবাইয়াত, তার ছেঁড়া, জুলিয়াস সিজার, ঐন্দ্রিলা অণু, হেনা বিবি, আততায়ী কলিংবেল, আসমাউল, মাহজাবীন আশা, জয়, গৌতমমূসা মোহাম্মদ কৃষ্ণঈসা, নতুন প্রজন্মের কথা, সুকান্ত, হিলিয়াম এইচ ই, মাই নেম ইজ খান, দীপঙ্কর দীপু, জান্নাতুল ফেরদৌস মিতু, ভূমিহীন জমিদার, অশোকা মাহবুবা, ইশ্পা খান, হুমায়ুন তোরাব, সোর্বিয়ের, রিমঝিম বর্ষা, ব্যতিক্রমী, আহমেদ মারুফ, এলোমেলো, অনামিকা, রাসেল হাসান, ইকু, ঘুমন্ত আমি, ব্লগার রাজু, আরিপ হোসেইন, আবিদা রোজ, মিসু, সনেট, ফেরদৌস, ইশতিয়াক হাসান, আজিম, স্বর্গের মেঘ পরী, হিপনোটক্সিক ইরেকটাস, আজিজুল ইসলাম, সাদিক মোহাম্মদ, কাজী সোহেল, নীল রঙ, সিনথিয়া খোন্দকার, আর্বনীল, অর্কিড খান, ফাঈলাসূফ, স্বপ্ন নীলা, হোমায়রা জাহান হিমু, সোহেল চৌধুরী, মোস্তাক খসরু, ব্লগার মেডিকেল বাবা, অনির্বাণ রায় ( একজন শিক্ষিত মুচি ), আগুন রঙের শিমুল, আমি ইপসিতা বলছি, পুষ্পবতী, শাহ আলম বাদশা, প্রত্যাবর্তন, শেহজাদ আমান, একজন আইজুদ্দিন, অজানা এক পথে চলা, সাইদুর রহমান সিদ্দিক, অলিভার, স্বপ্নচারী, ফ্রাঙ্কেনেস্টাইন, ক্লান্ত তীর্থ, গোধূলি, ইয়াগনিন সুলতানা, ব্লগার মারুফ,  সুমন আহমেদ, ছারপোকা, অভি, জসীম উদ্দীন মুহম্মদ, আরাফ করিম, স্বাধীন নবাব, মেঘাচ্ছন্ন মেঘকুমারী, কালের কঙ্কাল, সাবালক, শোভন জামান, আম্মানসুরা, মরুভূমির জলদস্যু, সোনারঙা মেয়ে।

 

গ্রুপ-৪ দক্ষিণমুখী: গ্রুপ প্রধান- ইঞ্জা

শামীম তালুকদার, মিজভী বাপ্পা, পথহারা পাখি, স্বপন দাস, নায়িমা জাহান, এঞ্জেল সাঁকো, ইমরান হাসান, আশা জাগানিয়া, তেলাপোকা রোমেন, অয়োময় অবান্তর, সোয়েবুর মোর্শেদ সোহেল, শাহীন চৌধুরী ডলি, রুম্পা রুমানা, শাহানা আক্তার, সৈয়দ আলী উল আমিন, নীলকান্ত, রায়হান সেলিম, আবদুর রাহমান নাঈম, এই মেঘ এই রোদ্দুর, প্রিন্স হেক্টর, ইকরাম মাহমুদ,সালমা আক্তার মনি, রিফাত নওরিন, সায়মা নুর নাতাশা, দীপংকর চন্দ, শেহজাদ আমান, মামুন, প্রলয় সাহা, কবিতা ডায়েরী, আলমগীর হোসাইন, সিহাব, ক্রিস্টাল শামীম, কেসি মিলান, নিবিড় রৌদ্র, হাবিব শুভ, আবু জাকারিয়া, মোস্তাফিজ আর রহমান, ইয়াসির রাফা, মোহাম্মদ আয়নাল হক, পায়েল পারভেজ, রাহাত হোসেন, স্বপ্ন, হাসান ইমতি, ড্রথি চৌধুরী, আমি আমি, শুভ্র রফিক, পারভীন সুলতানা, ভায়লা সালিনা লিজা, রুহুল, ইমন, আলমগীর মুহাম্মদ সিরাজ, ফাতেমা জোহরা, রাত্রি রায়, মৃত্তিকা কায়া, অপদেবতা, আল্লাদি, মাসুদ আলম, সোনিয়া নাসরিন,  মো: জহির থান, সাবরিনা, হিজবিজবিজ, তামিম রুহুল, রণবীর, মুন্নি রুনা, এস ইসলাম, আরাফ কাশেমী, জুয়েল, স্বদেশী যোদ্ধা, সোনিয়া হক, কৃষ্ণমানব, মিজভী বাপ্পা, আবদুল্লাহ, খেয়ালী মেয়ে, কবীর হুমায়ুন, নাঈমা নাসরিন নিপু, ঘুড্ডির পাইলট, হৃদয়ের স্পন্দন, সায়ন্তনু, আলমগীর, গালিবা ইয়াসমিন, আলপনা করিম, শান, সেডরিক, মেহেরী তাজ, মুইদুজ্জামান, নীলকন্ঠ জয়, শিবলী, ডঃ জসিম উদ্দিন, বানসুরি, জিয়া চৌধুরী, ভালোবাসার কাঙাল, মাহবিন কামালী, মেহেদী হাসান মানিক,পাগলা জাঈদ, রাহুল উজ্জ্বল, সুমন চট্টগ্রাম, মানিক পাগলা, দিলরুবা মুন, স্বপ্ন নীলা, মিথুন,ফাহিম মুরশেদ ক’রেখেলা_কাটেবেলা, ওয়ালিনা চৌধুরী অভি, নীল প্রান্তর, সীমা সারমিন, রান্না ঘর, জি.মাওলা, রাতুল, নাইট রিডার, এম মশিউর, ফরহাদ ফিদা হুসেইন, প্রিন্স মাহমুদ, নুরুন্ননাহার শিরীন, কোডনেম এ্যাসাসিন, রকিব লিখন, ফাহিমা কানিজ লাভা, বুলবুল চৌধুরী, পাগলা ঘন্টা, গুরুমিয়া।

তারপর জিসান শা ইকরাম দাদা বললেন, আপনারা নিজেকে সিংহপুরুষ মনে করে সিংহের মতো গর্জন করে সামনের দিকে হাঁটতে থাকুক। আপনাদের দেখে জঙ্গলের সব বাঘ আজ এই জঙ্গল ছেড়ে আফ্রিকার জঙ্গলে চলে যাবে। জিসান শা ইকরাম দাদার কথামতো সবাই বাঘের ভয় না করে উনার সঠিক কমাণ্ড মেনে সামনে এগুতে লাগলো। আর তিনি সম্মানিত জিসান শা ইকরাম চার গ্রুপের মাঝখানে কমাণ্ডার সেজে সিনা টান করে লেপ্ট রাইট লেপ্ট রাইট করতে করতে সামনের দিকে অগ্রসর হতে লাগলো। আমি বান্দা সুযোগ খুঁজে চট করে জিসান শা ইকরাম দাদার পেছনে পেছনে হাঁটতে থাকলাম, বাঘের ভয়ে। এভাবে হাঁটতে হাঁটতে একসময় জঙ্গল থেকে বের হয়ে লোকালয়ে চলে এলাম। যানবাহন চলাচলের রাস্তা খুঁজে পেলাম। জিসান শা ইকরাম দাদার কমাণ্ডো অভিযান সফল হলো।

কিন্তু দুঃখের বিষয় জঙ্গল থেকে বের হবার পর সাথে আসা লোকগুলো মধ্যে বেশ কয়েকজন নাম না জানা ব্লগারের খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। যাঁরা নিখোঁজ রয়েছে তাঁদের মধ্যে দুইজন হলো, সম্মানিত ব্লগার তৌহিদ। আরেকজন সম্মানিত লেখক মনির হোসেন মমি সাহেব। তাঁদের খুঁজতে খুঁজতে একসময় জানা গেলো, উনারা মণি কাশফিতা দিদি টমটম নিয়ে চম্পট দেওয়ার সময় সেই টমটমের পেছনে বাদুড়ের মতো ঝুলে চলে গেছে। তাঁদের এভাবে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যাবার কারণ হলো, একমাত্র বাঘের ভয়। সাথে তৌহিদ দাদার লেজ ধরে চম্পট হয়েছে মনির হোসেন মমি-সহ আরও অনেক।     

যাইহোক, অনেক কষ্ট করে জঙ্গল থেকে রাস্তায় এসে একটা যানবাহনও ম্যানেজ করতে পারছিলাম না। হঠাৎ জঙ্গলের পাশের গ্রামের এক লোক গরুগাড়ি নিয়ে আমাদের সামনে দিয়েই যাচ্ছি বনের শুকনো লাড়কি সংগ্রহ করতে। ওই গাড়িয়াল ভাইকে জিসান শা ইকরাম দাদা থামালাম। জিজ্ঞেস করলেন, ‘আপনাদের এখানে আর কার কার গরুগাড়ি আছে?’ তিনি বললেন, ‘আপনাদের ক’টা গাড়ি লাগবে?’ জিসান শা ইকরাম দাদা বললো, ‘এই ধরুন, ৫০টা!’ তিনি গাড়িয়াল ভাই বললেন, ‘আছে, তো যাবেন কোথায়?’ জিসান শা ইকরাম দাদা বললো, ‘এইতো এখান থেকে সোনেলা ব্লগ পর্যন্ত!’ জিসান শা ইকরাম দাদার কথা শুনে গাড়িয়াল ভাই বুঝতে পেরেছে এখানে যাঁরা আছে তাঁরা সবাই সোনেলা ব্লগের তুখোড় ব্লগারবৃন্দ। তাই তিনি আর ভাড়া-টাড়া নিয়ে দরা-দরি করলেন না। তিনি তাড়াতাড়ি চলে গেলেন, গ্রামের সকল গাড়িয়ালদের খুঁজতে। কিছুক্ষণ পরই আরও গোটা চল্লিশেক গাড়ি সাথে নিয়ে আমাদের সামনে হাজির হলেন। জিসান শা ইকরাম দাদা একেক গাড়িতে ১০/১২ জন করে উঠতে বললেন। সাবাই মিল-তাল করে তাড়াতাড়ি গরুগাড়িতে গিয়ে উঠলো। তারপর দ্রুতগতিতে ছুটে চললো গরুগাড়ি। মনে হলো চলছে গাড়ি যাত্রাবাড়ী।

একসময় আমরা পৌঁছে গেলাম সোনেলা ব্লগ স্টেশনে। এর সামনই চিটাগং রোড। তারপর সবাই তাড়াহুড়ো করে গরুগাড়ি থেকে নেমে যাঁরযাঁর গন্তব্যে যাওয়ার প্রস্তুতি নিয়ে কেউ ঠেলাগাড়িতে, কেউ ভ্যানগাড়িতে, কেউ রিকশায় চেপে যাঁর-যাঁর গন্তব্যে পৌঁছে গেলাম। তারপর কখন যে আসলাম আর কখন যে ঘুমালাম একটুও টের পেলাম না। সকাল ১০টায় গিন্নীর পাগলা ঘণ্টার আওয়াজে ঘুম থেকে ওঠে নিজে নিজেই বলতে লাগলাম, আমি বাসায় এলাম কী করে? এই ভাবেই একা একাই হাসতে থাকি। মনে মনে বলি, ‘এ আমি কী দেখলাম! সত্যি কি স্বপ্ন দেখলাম?’ তাহলে তো ভালোই হলো! স্বপ্নে সোনেলা ব্লগের সোনালী মানুষগুলোর নাম জানা হয়ে গেলো। মনে মনে এই বলেই  তাড়াতাড়ি নিজের সোনালী ডায়েরিতে স্বপ্নে দেখা সোনেলা ব্লগের সোনালী মানুষগুলোর নাম লিখে ফেললাম। এই নামগুলো আমার মৃত্যুর পরও আমার সোনালী ডায়রিতে থেকে যাবে।  

ছবি গুগল থেকে।

৩২৮জন ৫৮জন
0 Shares

৪৮টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

ফেইসবুকে সোনেলা ব্লগ

লেখকের সর্বশেষ মন্তব্য