প্রিয় ছায়ারমায়া

রিতু জাহান ১৩ জুলাই ২০২২, বুধবার, ০৬:৫৪:৩৪অপরাহ্ন চিঠি ১২ মন্তব্য

প্রিয় ছায়ারমায়া,
যেদিন থেকে তোমাকে দেখার অর্থ খুঁজে পেলাম, সেদিন থেকে জানলাম আমারও এক অবয়ব আছে। আমারই সাথে যার পথচলা। তোমাকে ভালবাসতে শিখলাম আমার সমস্ত প্রচন্ডতাবোধ নিয়ে।
এই সুন্দরতর সৃষ্টির সাথে অদৃশ্য অস্পর্শ বিচিত্র বুনানিতে তোমার আত্মরূপায়ন। তোমার মাঝে এ আমি নাকি তুমি এক আলাদা সত্ত্বা? আমার বিশ্বাস বলে, তুমি আমার স্বরূপ সম্পর্কে সুনিশ্চিত প্রত্যয়। আমি আছি তুমি যেনো তারই প্রমাণ।
আমরা পরস্পরের অবিকল্প আত্মপরিচয়ে সামরস্যের ঐকতানে মিলে আছি।
এইযে ছায়ার মায়া নিয়ে তুমি দাঁড়িয়ে যাও খুব কাছে,
আমি কিছুতেই মানতে পারি না আমার জীবনে তোমার এই আগমনের কোনো অর্থ নেই, লক্ষ্য নেই।

আমি আজ এতোটা পথ হেঁটেও তোমার এই আগমনের অন্তর্গূঢ় সত্যকে জানতে পারিনি। তোমাকে স্পর্শ করতে না পারার হতাশায় নিমজ্জিত আমি ডুবে থাকি কৃষ্ণপক্ষ চাঁদের মতো। তোমার ছায়ার মায়া খুঁজতে থাকি যখন হণ্যে হয়ে মনে হয় আমি কি নেই কোথাও! তবে কি তুমি শুধু এক তামসী খেয়াল? কেনো আলো পেয়েও তুমি আঁধার কালো?
তোমার এই আড়ষ্ট গভীর সুপ্তিতে আত্মগোপন, অবরুদ্ধ চেতনায় আচ্ছন্ন বিমূঢ়তায় আমার চারপাশজুড়ে রচিত হয় তিমিরগুণ্ঠন।
আমি জানি তখন তোমার পূর্ণ বিশ্রাম, বিশ্বস্ত প্রশান্তির কুটিরে তুমি তখন বেমালুম আমায় ভুলে গভীর নিদ্রায় মগ্ন। শান্তির সে কুটিরে তোমার যাপিত সময়ের মর্মসত্য আমার মৃত্যুসম এক এক প্রহর।
বুদ্ধিমান কোন সে মজুর বা কোন সে খেয়ালি সময়, যে তোমাকে ঘষে মেজে সাজিয়ে গুছিয়ে একটুখানি অদল বদল করে তুলে দিয়ে যায় আমার কাছে?
এই আলো আঁধারের খেলায় তোমার এই বেখেয়ালি আসা যাওয়া আমায় বড্ড ভোগায় আজকাল।
খুব করে ভাবি নিজেকে অযোগ্য আখ্যায় আমিও লুকাব,, চোখ বন্ধ করে ফেলব। লিখিত মৃত্যু দিব নিজেকে। কিন্তু তার আর হয় কই!
আমি জানি ছায়ার মায়া নিয়ে দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকা তোমার সামর্থ্যের বাইরে,,
মোহোকালের ভারি বস্তু যেনো আমি, আমায় ফেলে চলে যাও দূর বহুদূরে। আমি হাজার আকুতিতেও তোমায় ছুঁতে পারি না।
চিৎকারে বলতে পারি না তাকে খুঁজে দেও কেউ। ভরা বালতিতে মুখ গুজি, গুমরে উঠি।
রাতের প্রহর গুলো যেনো তখন হাজার প্রহরে আবদ্ধ।

সত্যিই আলোর খেলায় কোলাহল বড্ড? চোখে জ্বালা ওঠে?
নির্ভেজাল শান্ত কুটির তোমার প্রশান্তিকর?
আজ আমি অপেক্ষার রাস্তার শেষ সীমায় এসে বড্ড ক্লান্তিতে এ পত্র লিখছি।
বলছি কি!
যা কিছু তোমার মনের জ্যোতির্ময় প্রগতিকে ধারন ও বহন করবার উপযোগি তুমি তাকে বুকে রেখো,,
এ আমার আকুতি।
উচ্ছিষ্ট যা, ধরে নেও এই আমি
যে নেই মনের কোথাও এই আমায় ফেলে দিও চিরতরে আস্তাকুঁড়ে। লিখিত মৃত্যু লিখে দিও।
অবজ্ঞা অবহেলায় রাগে ঘৃণায় জিইয়ে রেখো না আর,,,
শুনেছি ফাঁসির আসামীর মৃত্যুদন্ড ঐ এক রশিতে হেঁচকা টানেই শেষ হয়,,
অথচ এই এক ভালবাসার প্রচন্ডতার অপরাধে আমায় তুমি বার বার মৃত্যুর দুয়ারে পৌছে দিতে নিখোঁজ হও। দম যখন যায় যায় ভাব আর কোনো গতি নেই তখন আবার তোমার খন্ড সময়ের আবির্ভাব।

ভালবাসা প্রকাশে যে প্রচন্ডতাবোধ
সে বোধ আদতে হাস্যকর, অবান্তর অর্থহীন।
আন্তসম্পর্কে পারষ্পরিক নিখাঁদ আন্তরিকতা আসলে মূল্যহীন যেনো।
উপলব্ধিই নেই তোমার!
তোমার মেকিতেই বিশ্বাস বড়,
অন্ধকার সে মিথ্যাতেই বাসর সাজাও মধুর।
কোথায় যে সে বোধ রাখো তখন!
ভালবাসাহীন হৃদয় কি করে আবেগ প্রকাশে ব্যাকুল করো?
আমায় তখন কোথায় রাখো?

যখন বোধে এলো-
পরিমাপহীন প্রচন্ড ভালবাসা, লাগামহীন আবেগ প্রকাশ গ্রহনে তুমি আসলে অপারোগ
তখন বড্ড দেরি হয়েছে,,
আমি পথ হারিয়ে, পথ খুঁজে খুঁজে ক্লান্ত হয়েছি। ক্লান্ত পথিক আসলে পিছে ফেরার সে পদযুগল হারায়। আমি অশ্বত্থের মতো প্রতীক্ষমাণ এখন।

তোমাকে হারানোর সেই জুজুবুড়ির ভয় আজকাল কেটে গেছে অনেকটা।
একপেশে আর কতো বলো!
বহু সময়, বহুক্ষণ এ মুখদর্শন বা কন্ঠের স্পর্শ না পেলেও তোমার দিব্যি চলে।

হঠাৎ কি মনে হলো জানো?
সম্পর্ক আর ভালবাসা আসলে ঐ ভাতের চাল আর পানির মতো।
এখানেও পানির সঠিক পরিমাপটা চাই। পরিমাপের কম বেশি হলেই গোলমাল বেঁধে যায়।
তুমিই যেনো যতনে শেখাচ্ছো ভালবাসায় আসলে
বাঁধভাঙা আবেগেরও জড়তা রাখা চাই, আটকে রাখা চাই প্রচন্ডতাবোধ।
বেহিসেবী ভালবাসা আসলেই কি অর্থহীন?
আমি তাই আজ হিসেবের খাতা খুলেছি,
বহু খুঁজে খুঁজে যান্ত্রিক পরিমাপক যন্ত্র কিনেছি খুব ছোটো সূক্ষ
আমার হৃদপিণ্ডের রাখা যাবে এমন।
বেশি উছলিত আবেগ প্রকাশে যখন মন ব্যাকুল হবে তখনই মেলে ধরব সকল অবজ্ঞা, আমাকে না দেখার আকুলতা।

জানো?
পারষ্পরিক আন্তঃসম্পর্কে যে টান থাকা চাই তার উপলব্ধি হয়েছে আমার বেশ। আমি দেখলাম আমার জন্য সবটাই শূন্য।
দেখলাম, ভালবাসা নামক দূরহ সম্পর্ক স্থাপনে সততা নিষ্ঠা পক্ষপাতমুক্ত স্মুথ সহজ সরল অংকটা ভগ্নাংশেই আটকে যায় যেনো। কিছুটা ফাঁক রাখা চাই বৈ কি! দূরত্ব বিলাসী জীবন বড় মধুর।
লব হর, লগু গুরু আমি যেনো কিছুই মেলাতে পারলাম না।
তাই তো হিসেব কষে,,
তোমায় ঘিরে আস্ফালন যতো,
আমি তার সমাধি সাজাচ্ছি এখন একটু একটু,,
দেখছি তার কারুকাজ চুপচাপ।
দূরে কোথাও বেজে চলেছে,,
‘চলো একবার ফিরছে আজনবি বানযায়ে হাম দোনো”

ইতি

তোমার ময়ূরক্ষী।

,,রিতু জাহান,, রংপুর।

আজ শুক্লপক্ষের পূর্ণচন্দ্রের সুরধ্বনি বাজছে পৃথিবীজুড়ে।

১৬০জন ৩৫জন
0 Shares

১২টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

লেখকের সর্বশেষ মন্তব্য

ফেইসবুকে সোনেলা ব্লগ