সোনেলা দিগন্তে জলসিড়ির ধারে

প্রিয় ঘুম

রিতু জাহান ১২ আগস্ট ২০২১, বৃহস্পতিবার, ১২:৩৮:১০অপরাহ্ন চিঠি ২২ মন্তব্য

 

প্রিয় ঘুম,,
কেমন আছো?
ঘুম কাতুরে এই আমাকে একা ফেলে চলে গেছো অন্য কারো চোখে। ভালোই আছো জানি। যাযাবর এই তুমি ভালোই থাকো।

শুধু যদি জানতাম, কোথায় কার চোখে বসে আছো! সে চোখ কি আরো বেশি তৃষ্ণার্ত? কবে কোথায় যেনো পড়েছিলাম, চাওয়ার পাল্লা যেদিকে ভারি হয় সেদিকের ভাগেই পড়ে সবটা। সত্যিই কি আমি তোমাকে খুব বেশি চাইনি?

নতুন আরো কোন চোখ কাজল কালো করবে?
তোমার এ বড় বাজেরকম খেয়ালী খেলা,, প্রচণ্ডতায় ডুবিয়ে রাখো আর যখন চলে যাও কাজল কালো চোখই বলে দেয় তোমার অভাবে সে সেজেছে কাজলে। রাতজাগা চোখ তোমার অপেক্ষায় অপেক্ষায় ক্লান্ত হয়ে হয়ে কালি পড়েছে চারপাশ,, চিকিৎসা ভাষায় নাম তার ডার্ক সার্কেল,, অথচ তুমি নাম দিয়েছো,’কাজল কালো চোখ।’

কতো অপেক্ষায় কতো বেদনায় তোমাকে না পাওয়ার আকুলতায় সে কালো চোখ গভীর ভারী বর্ষণ জমিয়ে রাখে কালো মেঘের মতো।
দেখো কি মিল না? কাজল কালো চোখের সাথে ঐ মেঘের! দুটোর মাঝেই লুকানো অদেখা কতো কতো জলের ধারা।

প্রিয় ঘুম, তোমার আর মৃত্যুর দূরত্ব কি ঠোঁট আর নাকের মাঝের অতো টুকু?
মাঝে মাঝে স্বপ্নে যখন সুখের সব সাগরে ভাসাও তখন একচিলতে হাসি ওঠাও,, বুকের ভিতরে নিঃশ্বাসের ওঠানামা তখন স্পষ্ট। মৃত্যুর ঘুমে নিঃশ্বাসের ওঠানামা নেই। ঠোঁটের কোনায় এক চিলতে হাসির ঝলক নেই। নাক, বুক, ঠোঁট স্থির। আমি এখন তোমার সে ঘুম চাই। স্থির একদম। যে ঘুমে ঠোঁটের কোনায় হাসি ওঠে না।

আমার জীবনে তোমার চেয়ে সুখকর যেনো আর কিছু কোনোকালেই ছিলো না।

না সিনেমা দেখা না বেড়ানো। তিনটে বালিশের হেলানে বড্ড যাতোনা বসে যেতে আমার চোখে,
কোনো আয়োজন ছাড়াই অথচ এখন কতো আয়োজনে কতো অনুনয় বিনয়ে তোমাকে পেতে হয়। কতো কি আবিষ্কার! গাছ গাছালির তেল মেখে তোমাকে আনতে হয়।

আমার সেই একলা রুমের কথা তোমার মনে আছে? সযত্নলালিত আমার শৈশব, কৈশর ও যৌবনের মাত্র কিছুটা দিন বা বলতে পারো কিছু মুহূর্ত,
যেখানে আর কারো প্রবেশ বা ঘুমানোর পারমিশন ছিলো না।
পিছনে বিশাল জলরাশি,, তীরে তীরে বাতাসে বেলির ঘ্রাণ।
ক্যাসেট প্লেয়ারে মৃদু সুরে আমি বেঘোরে ঘুমোতাম।
যখন ইচ্ছে তখন ঘুম,,, বোনের আদরে, মায়ের স্নেহে আমায় ঘুমে জড়িয়ে রাখতে।
জানো? আজকাল বড্ড ক্লান্ত আমি। চারদিকের কিছু আমার ভালো নেই,, গোছাতে গোছাতে আমি যেনো আরো এলোমেলো হচ্ছি। জীবন আদর্শিক যা কিছু সব আমার রঙ হীন কুয়াশা ধনুর মতো মনে হয় যেখানে রঙধনুর সাতটা রঙ নেই। শুধু ধূসর একটা রঙ। অশান্তি জনক সমস্যাগুলো ভুলে থাকার জন্য আমি নানানরকম কাজ করতে থাকি। এখন যা করি তা কেবল নিজেকে ভোলাবার জন্য। কিন্তু তবু এড়ানো কঠিন। স্বাভাবিকভাবেই মনে যেসব প্রশ্ন ভেসে ওঠে, তার কোনো সন্তোষজনক উত্তর খুঁজে পাই না।

সেই নিজস্বতাবোধ কচ্ছপের খোলসের আবরণ ত্যাগ করে আমি পরিবার, সমাজ, দেশের তাৎক্ষণিক পথ চলাতে তাল মেলাতে না পেরে আমি হেরে যাই প্রতিমুহূর্তে।

সন্তানের মতো অক্ষর আকৃতির যে সকল আবেগ তা সবও হারিয়ে গেছে। ভালোই হয়েছে, ছাইপাশ অক্ষর অখাদ্য আমার চলে গেছে নাগালের বাইরে।

আজ জীবনবোধ যা কিছু সব আমার শূন্যের কোঠায়। ভুল জীবনবোধ শুধু শূন্যতায় ডুবে আছে।

আর একদিন শুধু এসো পাহাড়ের কোলে ঐ উপপ্রেম ভাব নিয়ে পঞ্চমীর চাঁদ ডুবে গেলে।

অথবা এসো
বাসন্তি পঞ্চমীতে,, বসন্তের প্রথম দিবসে যে কালে জন্ম আমার।
ভালবাসা বা ভালো লাগার আবেগে উপপ্রেম শব্দটা তোমার জন্য বড় বেশি মানানসই। ঘোর কেটে গেলে হাত ধুয়ে মুছে ফেলার মতো।
তবে কি তুমি সে সকল পুরুষের মতো? যৌবন ঢলে গেলে শেষ হয় যেমন চোখ ও মনের প্রেম? থেকে যায় শুধু দলিলিক দায়িত্ববোধ!
বার্ধক্যে যেমন তুমি আসো ওষুধ ডানায় ভর দিয়ে জোর করে আসতে হয় সেই আসার মতো।
তবে তুমি অতিমাত্রায় রঙপ্রিয়।
সত্যি বলছি তোমার এমন করুণাময়তা আমি আর চাই না। বড্ড বেঘোরে ঘুমতে চাই অন্ধকুটিরে। যে ঘরে তালা নেই। ভুল করে কেউ উঁকি মেরেও দেখে না কোনো কালে। মৃত শরীরের অস্থিমজ্জায় কারো আকর্ষণ থাকে বলো?

আরো অনেক কথা তোমাকে বলার আছে, আসলে সে সকল অভিমানের কথার ঝুড়ি। তাই বরং এখানেই থাক। ভালো থেকো তোমার ভুবনে,,,

ইতি
,,রিতু জাহান,, রংপুর

আজ শ্রাবণের ছাব্বিশ
আগস্টের বারো
শুক্লপক্ষ।

নোটঃ ছবিটা কার জানি না। আমার ফোন থেকে ছবি দিতেই পারছি না। নিজের ফোন হারিয়ে ছেলের ফোন ব্যবহার করছি। ব্লগে নিয়মিত হব ইনশাআল্লাহ।

১৯২জন ৩৯জন
0 Shares

২২টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

ফেইসবুকে সোনেলা ব্লগ

লেখকের সর্বশেষ মন্তব্য