তারপর জিসান ভাইয়া এলেন। ভাইয়ার সহায়তায় সোনেলা ব্লগে নিবন্ধিত হলাম। ভাইয়া বললেন পোস্ট করতে। আমি একাউন্ট লগইন করলাম তারপর কয়েকটা পোস্ট পড়লাম মন্তব্য করলাম টুকটাক। এবার যখন আমার পোস্ট করার পালা এলো তখনই বেঁধে গেলো যতো বিপত্তি। এই রে ব্লগ তো ফেইসবুকের মতো নয়! তাইলে কেমন করে পোস্ট করবো ব্লগে?
আমি ভাইয়ার কাছে জানতে চাইলাম পোস্ট করবো কী করে? ভাইয়া আমাকে স্ক্রিন সর্টের সাহায্যে দেখালেন কী ভাবে পোস্ট করতে হয়। খুব বেশি সময় লাগলো না আমার ব্লগ আয়ত্তে আনতে। দ্রুতই শিখে ফেললাম পোস্ট করা। দুটো অনু-কবিতা দিয়ে শুরু হলো সোনেলায় আমার পথ চলা। প্রথম পোস্ট করে বেড়িয়ে এলাম ব্লগ থেকে। তারপর আর খেয়াল নেই ব্লগে যে যেতে হবে। ভাইয়া নক করলেন আর বললেন পোস্টে মন্তব্যের জবাব দিতে। কিছুটা লজ্জিত হয়েই বললাম এখনই দিচ্ছি ভাইয়া। ব্লগে যেতে গিয়েই পরলাম বিপাকে। আরে পাসওয়ার্ড তো ভুলে গেছি। ভাইয়াকে বললাম পাসওয়ার্ড ভুলে গেছি। আবার ভাইয়া্র সহায়তায় পাসওয়ার্ড সমস্যার সমাধান হলো, তিনি বললেন সেভ করে রাখতে।

ব্লগে প্রবেশ করে নিজের পোস্টে গিয়ে চোখ ছানাবড়া। আরে বাস্! এতো এতো সুন্দর মন্তব্য দেখে আমি জাস্ট হতভম্ব! ছোট্ট দু’টো কবিতার চুলচেরা বিশ্লেষণ। ওয়াও প্রেমে পড়ে গেলাম সোনেলা ব্লগের! ব্লগে এসে আমার খুব ভালো লাগতে শুরু করলো। সোনেলায় বিচরণ বেড়ে গেলো আমার সাথে টুকটাক আমিও অন্যদের লেখায় মন্তব্য দিতে শুরু করলাম।

তখনও সর্বোচ্চ মন্তব্যকারী সম্পর্কে জানতাম না। একদিন জিসান ভাইয়া বললেন ব্লগে বিভিন্ন ফিচার আছে, সর্বোচ্চ মন্তব্যকারী, অদেখা মন্তব্য, সাম্প্রতিক মন্তব্য, সপ্তাহের শীর্ষ পঠিত লেখা ইত্যাদি। আমি সর্বোচ্চ মন্তব্যকারীর বিষয়ে আগ্রহী হলাম।

আমার বরাবরই নিজেকে প্রথমস্থানে দেখতেই ভালোলাগে। আমি আর কাল বিলম্ব না করে একটার পর একটা পড়ছি আর মন্তব্য করছি।  তখন আর ফেবুতে সময় নষ্ট করতে ইচ্ছে করছিল না। প্রায় দু তিন দিন পর প্রথম স্থানে এলাম। এরপর শুরু হলো নতুন লড়াই। আমাকে টপকে যেনো কেউ প্রথম স্থানে উঠতে না পারে।  এই চিন্তা মাথায় নিয়ে পড়ছি আর মন্তব্য করছি। কখনো যদি দুয়ে নেমে যাচ্ছি তো মন কিছুটা খারাপ হতো,  আবার নতুন উদ্যেমে মন্তব্যে ঝাপিয়ে পরতাম। একদিন কোনো কারণে ব্লগে যাইনি পরের দিন দেখছি আমাকে টপকে শামসুজ্জোহা বাবু ভাইয়া প্রথমে গেলেন। তারপর কখনো উনি প্রথম আমি দ্বিতীয় তো কখনো উনি দ্বিতীয় আমি প্রথম। যেনো হাড্ডাহাডি লড়াই চলছে নিজের অবস্থান ধরে রাখার জন্য। এই অপ্রকাশিত নিরব মধুর প্রতিযোগিতা করতে করতে আমাকে মন্তব্য কন্যা হিসেবে আখ্যায়িত করলেন ব্লগ সঞ্চালক।
আহ্! এক অন্য রকম পাওয়া। ততোদিনে ফেবু থেকে মায়া মমতা গেছে গা। ব্লগ নিয়েই ব্যস্ত হয়ে পড়লাম আমি।

 শ্রদ্ধেয় জিসান ভাইয়া– (খুব কাছ থেকে দেখার সুবাদে) আমার দেখা মানুষ গুলোর মধ্যে একেবারে একজন আলাদা বেশ সাদাসিধে ভালো মনের মানুষ তিনি। শান্ত ভদ্র বিনয়ী এককথায় একজন আদর্শ মানুষের যে যে গুণ  থাকে তার সবটাই আছে উনার মধ্যে।  ভাইয়ার সাথে যতো কথা হয় ততোই অবাক হই! মানুষ এতো ভালো হয় কী করে? শুধু তাই নয় উনি সবাইকে এতো সন্মান করেন যা অনেক মানুষ ই করেন না। ছোট বড় সবাইকে সন্মান প্রদর্শন করা মানুষের খুবই অভাব এখনকার সময়ে, সেখানে জিসান ভাইয়া সত্যিই অসাধারণ মনের মানুষ। উনি প্রতিমুহূর্ত আমাকে গাইড করে চলছেন। লেখার প্রতি যত্নশীল ও মনোযোগী হতে শিখাচ্ছেন সাথে টুকটাক ভুল টুল গুলোও দেখিয়ে দিচ্ছেন। আমার লেখায় সব চেয়ে বেশি ভুল যা থাকতো তা হলো  দাঁড়ি কমার পরে স্পেস না দিয়েই আবার লেখা শুরু করা। সবচেয়ে বড় ভুল অথচ আগে কেউ কখনো বলেইনি। সেই ভুলটা দেখিয়ে দিলেন জিসান ভাইয়া প্রথম। আমার লেখায় বানান খুব একটা ভুল হয় না। যদিও হয় তো সেটা টাইপ মিস্টেক।
অনেক সময় একটা শব্দ লেখার পর স্পেস দিলে অন্য শব্দ আসে। সেটা অনেক সময় খেয়াল করতে ভুলে যাই। যা হোক আমি খুব মনোযোগ সহকারে অন্যের লেখা থেকে এবং সবার মন্তব্য থেকে শিখছি। ভুল গুলো ঠিক করে নেওয়ার চেষ্টা করছি। আর জিসান ভাইয়ার প্রতি নতমস্তকে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।

চলবে….

প্রিয় প্রাঙ্গণে আগমন (সোনেলায় আমার আগমন)_প্রথম পর্ব

১৯০জন ৩৯জন
0 Shares

২৮টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

ফেইসবুকে সোনেলা ব্লগ

লেখকের সর্বশেষ মন্তব্য