প্রাক্তন

রেজিনা আহমেদ ১০ জুন ২০২০, বুধবার, ১২:১১:৩৭পূর্বাহ্ন একান্ত অনুভূতি ২০ মন্তব্য

#প্রাক্তন❤️

 

সম্পর্ক বিচ্ছেদের প্রায় সাড়ে চারবছর পরেও যেকোনো দুঃসময়ে কিংবা প্রাকৃতিক দুর্যোগ কিংবা যেকোন খারাপ পরিস্থিতিতে, অসুস্থতায় সবসময় সবার আগে আমার খোঁজ নেয় “প্রাক্তন” _যে কিনা একটানা ছয়বছর আমার সঙ্গে সম্পর্কে থাকাকালীন শেষ একবছর অন্যের সাথে সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ে এবং নানা টানাপোড়েনের মাধ্যমে আমাদের সম্পর্কের ইতি ঘটে ।

 

মনের কোনে প্রাক্তন প্রেমিকের প্রতি আমার এতটুকুও ভালোবাসা, সহানুভূতি নেই…

নেই তার জন্য কোনোরকম চিন্তা.. তার স্মৃতি আমাকে আর কাঁদায় না.,  তার অভাব আমি ভুলে গেছি বহুদিন আগে… এখন আর আমি তার শোকে নিজেকে শেষ করতে গিয়ে ঘুমের ওষুধ খেয়ে ফেলিনা… মোটকথা আমার আশেপাশে আমি তাকে এক মুহূর্তের জন্যও মনে করিনা ।

 

অথচ চার বছর পরেও সে প্রাণপণে চেষ্টা করে আমাকে এক ঝলক দেখার.. সে খুব চেষ্টা করে আমার সাথে একটা মুহূর্ত কাটানোর…একটাবার অন্তত আমাকে নিয়ে সেই আগের দিনের মতো গঙ্গার পাড়ে বসে গল্প করতে…, সে চেষ্টা করে আমার মন জয় করে সবকিছু ভুলে গিয়ে নতুন করে আমাকে নিয়ে বাঁচতে… এই চেষ্টা থেকেই সে বারবার আমাকে মেসেজ করে..তার ভয়েস রেকর্ড বেশিরভাগটাই কান্নায় মোড়া  কিংবা কোনো ইমোশনাল কথাবার্তায় ভর্তি থাকে,. আমি নিশ্চুপ ।

 

এখনোও বারবার সে আমাকে ফিরে আসার প্রস্তাব দেয়.. আর আমি বরাবরের মতো সেটা প্রতিবার নাকচ করে দিই… আমার বদলে যাওয়াটা সে মেনে নিতে পারেনি  আর আমি তাকে বোঝাতে পারিনি যে তার প্রতি আমার ভালোবাসা, ঘৃণা বা কোনোরকম কোনো অনুভূতিই নেই.. আসলে কেউ যখন তার অপরাধের সীমা অতিক্রম করে তার প্রতি আমাদের কোনো অনুভূতি থাকে না,

 

সে মানতে পারেনা, ঘন্টার পর ঘণ্টা রাস্তায় দাঁড়িয়ে বৃষ্টি ভিজে তার জন্য অপেক্ষারত এই মেয়েটা এতোটা বদলে যেতে পারে..

জ্বর অবস্থায় বিছানা ছেড়ে উঠে তার সাথে পাঁচটা মিনিটের জন্য হলেও দেখা করতে আসা মেয়েটা এরকম ভাবে বদলে যেতে পারে..

যে মেয়েটা লাঞ্চটাইমে তার জন্য টিফিন বক্সে সুস্বাদু খাবার নিয়ে আসতো এবং সাথে থাকতো একটা করে চিঠি, সেই মেয়েটা এতটা বদলে যাবে এটা সে মানতে পারে না।

কিংবা ছেড়ে চলে যাবে বললে কেঁদে চোখ মুখ ফুলিয়ে বুক ভাসাতো যে মেয়েটা, সে এতটা বদলে গেল কি করে??

সে কাকুতি-মিনতি করে আমার সাথে থাকার জন্য,, অথচ তার এতো আর্তনাদ শুনে আমার চোখের কোনে পানি আসেনা, কষ্ট হয় না….. বরং  আমি তাকে সাহস দিই সবকিছু ঠিক হয়ে যাবে, সে যেনো আমাকে বিরক্ত না করে… আর সে কান্না করতে করতে ফোন কেটে দেয়

 

অথচ খুব অদ্ভুদভাবেই খারাপ পরিস্থিতিতে সে আমার খোঁজ নেয় নিয়ম করে… আমি তার ফোন রিসিভ করি,, খুব স্বল্পকথায় আলাপ সেরে ফোন রেখে দিই

এবং আমি জানি, আমি তাকে এক্ষুনি বললে সে এক্ষুনি ছুটে চলে আসবে সবকিছু ফেলে আমার কাছে… কিন্তু আমি মন থেকেই এমনটা চাইনা…… আমি সুস্থভাবে বাঁচতে চাই এক্কেবারে নিজের মতন করে.. বাস্তবতা শিখিয়েছে ” যে একবার যায়..সে বারবার যায়”

 

“প্রাক্তন”_ সে এখন আমার কাছে ডাল ভাতের মতো.. আমার মনে তার দেওয়া ক্ষতের পরিমাণ পাহাড় সমান.. সে এখন আমার পাশ থেকে হেঁটে গেলেও আমি আগের মতন কাকুতি-মিনতি করে তার কাছে ফিরে যেতে চাইব না…. বরং তার সাথে এক কাপ কফি খেয়ে রাতের ডিনার সেরে সুস্থ মনে বাড়ি ফিরে আসতে পারবো.. আর পাঁচটা সাধারণ মানুষের মতোই “সে”___সে ছেড়ে না গেলে কখনই নিজের মধ্যে এতটা পরিবর্তন আনতে পারতাম না…এজন্য তার কাছে সত্যিই কৃতজ্ঞ।

আর আমি বরাবর শান্তিপ্রিয় মানুষ.. সহজ জীবনকে জটিল করতে কখনোই ভালোবাসিনা.. নাহি আমি প্রতিশোধপরায়ন… আমার নিশ্চুপ হয়ে থাকাটাই তার জন্য এক ভয়ংকর শাস্তি_, তাকে ক্ষমা করে দিয়েছি বহু আগেই এবং মুখ ফিরিয়ে নিয়েছি,… তাই তার সমস্ত রকম চেষ্টার বিনিময়ে তাকে ফিরিয়ে দিই আমার নিস্তব্ধতা..।।

 

সে আমার প্রথম ভালোবাসা.. তাকে ঘিরে আমার প্রেম জীবনের সমস্ত অনুভূতি প্রস্ফুটিত হয়েছিল… কিন্তু আমার বর্তমান জীবনে অতীতের কোনো টান নেই…থাকবেও না কখনো।।

তার আদর করে ডাকা নামগুলো আমার কানে আর ভেসে আসেনা…তার আর্তনাদ আমি শুনতে পাইনা…

 

তবুও বলবো “ভালো থেকো তুমি”

 

 

**আমার ব্যক্তিগত জীবনের ঘটনা

 

রিজু, কলকাতা

২৮৯জন ১৯২জন
0 Shares

২০টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

ফেইসবুকে সোনেলা ব্লগ

লেখকের সর্বশেষ মন্তব্য