প্রসঙ্গ কাশ্মীর

মাসুদ চয়ন ৭ আগস্ট ২০১৯, বুধবার, ০১:৫৬:৩৯অপরাহ্ন সমসাময়িক ৬ মন্তব্য

(কাশ্মীর ও যুদ্ধ প্রসঙ্গ)
কাশ্মীর ইস্যুতে শুধু বাংলাদেশ নয়,সারাবিশ্ব দু’ভাগে বিভক্ত হয়ে যাবে।।
এক পক্ষ সাম্প্রদায়িক শক্তি,আরেক পক্ষ অসাম্প্রদায়িক।
যারা সাম্প্রদায়িক তারা ধর্মীয় চেতনাকে সবার আগে টেনে আনবেন।এক্ষেত্রে কেউ ভারতের পক্ষ সমর্থন করবে,কেউবা পাকিস্তানের।তার মানে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের নির্মম হত্যার দামাম বাজতে শুরু করলে মুসলিমরা আনন্দ উল্লাস জয়োধবনি ছড়িয়ে দিবে আকাশে বাতাসে,একে অপরের মুখে শোভা পাবে সেই মুখস্থ উক্তিবাক্য “গরুর মূত ভক্ষণ করা দোবড়া মালুরা মশার মতো মরতেছে,ধর্ষিত হইতেছে।এর চেয়ে ভালো খবর আর কিই বা হইবার পারে।তোমরা সবাই নাচো গাও এর পর খোশমেজাজে ঝিমাও ঘুমাও।বহুত শান্তি পাইতাছি।অনুরুপভাবে
হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা মুসলিম হত্যার মিশনে সাবাস উলু ধবনির আয়োজনে মত্ত্ব হবে।মুসল্লির শিরোচ্ছেদ করো,মৌলবাদীরা নিপাত যাক।
এরই নাম ধর্মীয় সাম্প্রদায়িকতা,এরই নাম বেধর্মীর রক্ত মোহনায় সাক্ষী হতে গিয়ে উচ্ছ্বাসে শিহরণেে রক্তভ্রমে সাঁতার কাটা।এরই নাম আমার ধর্ম শ্রেষ্ঠ বাকিগুলো নিকৃষ্ট।ঈশ্বর কখনোই এমন জঘন্য মেসেজ স্মৃষ্টির সেরা জীব সম্প্রদায়কে দিতে পারেনা,তিনি পারেননা,এতোটা নির্দয় নির্মম কি করে হতে পারেন তিনি!

মানব সভ্যতার ইতিহাসে যতগুলো মানুষ নিধনী যুদ্ধ সম্পাদন করা হয়েছে,তার পেছনের প্রধান কারণ ছিলো ধর্ম,
তারপর আসে রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট।অথচ এসব যুদ্ধে গনহত্যা গনধর্ষণের সাক্ষী হওয়া ৯০ ভাগ মানুষই বেসামরিক অসহায় জনতা।যাদেরকে প্রটেকশন দেয়ার মতো কেউ থাকেনা।যারা কখনোই যুদ্ধ কামনা করেনা।তখন তাদের ঈশ্বর ব্যতীত দ্বিতীয় কোনো ভরসা থাকেনা।অথচ ঈশ্বর তাদের জন্য কিচ্ছু করতে পারেনা।তুমি কোন মুল্লকে চিরায়ত শৈসব লালন করে যাচ্ছো ঈশ্বর!
যুদ্ধের পক্ষে সমর্থন দিয়ে যারা ফাঁকা মাঠে নিরাপত্তা বেষ্টনীতে থেকে অমানুষিক চেতনাকে ধারন করে চিল্লাচিল্লি করে,মানে,খুব করে যুদ্ধ কামনা করে তারা যুদ্ধ বিদ্ধস্ত দেশদ্বয়ের বাহিরের কেহ।তারা চায় ফলাফল।নরকীয় জয়োৎসব।তারা চায় মুসলিমের রক্তে হিন্দুরা হলি খেলুক নতুবা হিন্দুর ধর্মে মুসলিম।
_
.. দ্বিতীয় পাক্ষিক চেতনা(অসাম্প্রদায়িক চেতনা)নিয়ে কিছু আলোচনা করে বিষয়টি স্পষ্ট করে তুলি,
কেনো এরা প্রকৃত মানবিক মানুষ,
কেনো এরা যুদ্ধের বিপক্ষে,
কেনো এরা রক্ত ছাড়াই শান্তির কেতন উড়াতে চায়!
তার আগে–অসাম্প্রদায়িক চেতনায় সিক্ত কারা,সেই বিষয়টি ক্লিয়ার হতে হবে।অসাম্প্রদায়িক চেতনার ধারক যেকোনো শ্রেণির মানুষই হতে পারে,হতে পারে ধর্মের অনুসারী,নাস্তিক,কিংবা সংশয়বাদী।
এরা নির্দিষ্টভাবে কোনো দেশ জাতি বা সম্প্রদায়ের পক্ষে নয়।এদের অধিকাংশই লেখক হয়ে থাকেন,কেউ কেউ ধর্মীয় চিন্তাবিদ,অথবা নিখাঁত খাঁটি সাধারণ মানুষ।তবে লেখক,ধর্মীয় প্রগতিশীল চিন্তাবিদ,এবং সাধারণ চিন্তাবিদ,মুক্তমনা ব্লগারের সংখ্যাই বেশি।
এদের কাছে সকল ধর্মের মানুষ সমান বলে বিবেচিত।এদের কাছে সংশয়বাদী,ধার্মিক কিংবা নাস্তিক সবাই সমান গুরুত্বপূর্ণ।
এর অর্থ কি দাঁড়ালো_অসাম্প্রদায়িক চেতনার ধারক,সে যে কোনো ধর্মের অনুসারী হতে পারেন,আবার ধর্ম পালন নাও করতে পারেন।কেউ কারো উপর জুলুম করবেনা।
এমন অসাম্প্রদায়িক চেতনার মানুষগুলিই প্রকৃত মানুষ।তাঁরাই পারে মানুষ ও মানবতার জন্য শান্তি ফিরিয়ে আনতে।অথচ সেই চেতনার মানুষের তীব্র সংকট এই ভূমন্ডলে।বাংলাদেশের ফেসবুক আইডিগুলোতে সাম্প্রদায়িক উস্কানির ঝড় বয়ে যাচ্ছে।যুদ্ধের পাশবিক বিভীষিকা এদের নপুংসক হৃদয়কে বিন্দুমাত্র স্পর্শ করছেনা।
কেউ ভারতের পক্ষে কেউ পাকিস্থানের পক্ষে শ্লোগান দিচ্ছে।এরা অনুধাবন করতে পারছেনা মনুষ্যত্ব কি জিনিস।এভাবে কোটি কোটি নিরপরাধ নিরীহ মানুষকে হত্যা করা হয়েছে যুগে যুগে কালে কালে।কাশ্মীর ইস্যুতে শুরু হতে চলেছে ভারত পাকিস্তানের আরেক মহাযুদ্ধ।শুধু লাশের স্তূপ ভেসে যাওয়ার অপেক্ষা।খুব বেশিদিন নয়,রক্তের ফেনিল সমুদ্রের জ্বলন্ত উদাহরণ  আবারো হতে চলেছি আমরা।শুধু মাত্র ধর্মীয় এবং রাজনৈতিক কারনে নিরীহ অসহায় মানুষের উপর দিয়ে মহামারি অবক্ষয়ী তান্ডব বয়ে যাবে।
শান্ত হও নদী,তোমার জলে রক্তের ঝাঁঝালো গন্ধ স্পর্শিিত হতে চলেছে।(মাসুদ চয়ন)

১৪২জন ৫৭জন
10 Shares

৬টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

ফেইসবুকে সোনেলা ব্লগ

লেখকের সর্বশেষ মন্তব্য