জাতীর পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। তাকে দেখার সুযোগ হয়নি। কিন্তু বঙ্গবন্ধু তো একজনই হন,সেই আফসোস তো রয়েই যাবে। ৭ ই মার্চের ভাষণ শুনে শুনেই বলতে গেলে বড় হলাম।গাছের সাথে মাইক,হোটেল, চায়ের টং ঘর,এমন কি স্কুলেও তার এই ভাষণ নিয়ে আলোচনা শোনা যেতো। প্রতিযোগিতা ও হতো স্কুলে। আমাদের জাতীর পিতাকে আল্লাহ পাক যেন জান্নাত বাসি করেন —- আমীন।
সময় গুলো খুব দ্রুতই চলে যায় যেন,প্রকৃতি ও সামাজিকতার নিয়ম অনুযায়ী অন্যান্য সব মেয়েদের মত আমারও সু– শিক্ষিত ও সংস্কৃতিমনা পরিবারে বিয়ে হলো ।একটি জিনিস খেয়াল করেছি এই পরিবারের সবাই যার যার অবস্থানে বেশ ভালই আছেন।
চাকরির পাশাপাশি এক্সট্রা কারিকুলামে সবাই কম বেশী প্রথম সারিতেই থাকার চেষ্টা করতেন।আমার এই পরিবারে স্বনামধন্য কবি( এক্স এম পি),
শিল্পী,( গানের), বাচিক শিল্পী,খেলোয়াড় সব কিছু মিলে একটি ভাল লাগার বাগান বলা যায়।
যেহেতু আমার হাজবেন্ড ডাক্তার,। বাংলাদেশ মেডিকেল এসোসিয়েশন এর অন্তর্ভুক্ত । সহজেই ভি আই পি ইনভাইট কার্ড সব সময় পেতেন। প্রথম যখন শ্বশুর বাড়িতে ঈদ আমার সেই সময় খেয়াল করলাম অনেক
দাওয়াত পত্রের মাঝে একটি তে এক কোনায় বাংলাদেশের ম্যাপ সহ লেখা “গনপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার”। মুখে কিছু না বলে কার্ডটি ডাক্তার সাহেবের সামনে ধরলাম,হেসে বললেন,তুমি কি পড়তে জানো না?
শুধু জিজ্ঞাসা করলাম তুমি কি এখানে যাচ্ছ?
আরে নাহ! আমার এতো ধৈর্য নেই এক পা, দুপা করে এগিয়ে সালাম দিয়ে বেড়িয়ে আসা। যাহাই বলেন তিনি তাহাই করতেন,যে কোনো ব্যাপারে কমিটমেন্ট ঠিক রাখতেন।আত্মীয় — স্বজন, বন্ধু– বান্ধব,অন্যান্য সবাই বুঝে শুনেই তার সাথে কথা বলতেন।
আমার মাথায় কিন্তু ছোট বেলার স্বপ্ন তাতো পূরণ হওয়ার সুযোগ কম ছিল।এই স্বপ্নটা, বা ভাল লাগা সেটা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী কে কি ভাবে জানাতে পারি।ডাক্তার সাহেবের সুযোগ আছে দেখা করার, কিন্তু তিনি পাত্তাই দিলনা। আজ বলি,কাল বলি,এভাবে বেশ কিছুদিন পার করলাম।হঠাৎ একদিন বলেই ফেললাম ডাক্তার সাহেবের কাছে,প্রধানমন্ত্রী যখন সাধারণ মানুষের সাথে দেখা করেন আমায় তখন নিয়ে যাবে? তুমি ফর্মালিটি মেইনটেইন করে দিও।কতক্ষণ তাকিয়ে থেকে বললেন,তুমি তার কাছে কেন যাবে? বললাম তার বাবাকে দেখতে গিয়ে এক তলার ছাদ থেকে নীচে পড়ে যাই।আজও চিবুকে কাটা দাগ রয়ে গেছে, আর থাকে কাছে থেকেই দেখতে চাই।উত্তরে তিনি বললেনঃ—
“নিজের যোগ্যতায় তার কাছে পৌঁছাতে পারলে এই প্রসংগে কথা বললে যুক্তিসংগত মনে হবে।”
তুমি তো এখন আমার পরিচয় বহন করে যাবে।প্রধানমন্ত্রী যা পছন্দ করেন,তোমার মাঝে তার কোনো অংশ খুঁজে পাও কিনা সেটা দেখো,তারপর সেই ভাবে এগিয়ে যেতে পারো।আমি বললাম,আমি রাজনীতি করিনা,বাইরে কোনো কাজই করিনা তাহলে কিভাবে যাব? তিনি বললেন মেয়েদের জন্য অনেক প্রজেক্ট তিনি করেছেন।তার কোনো যোগ্যতার অংশ আছে কিনা সেটাও দেখো।আরও বেশী বেশী পড়াশুনা করো,বিভিন্ন পত্র– পত্রিকা পড়ে জানতে থাকো।বাংলাদেশের যত দৈনিক,সাপ্তাহিক,, পাক্ষিক,মাসিকপত্র পত্রিকায় ঘর ভরিয়ে ফেলার মত অবস্থা।পড়াও শুরু করি,এমনিতেই ভারতের পত্রিকা গুলোও তিনি পড়তেন আমার জন্য সুবিধা হতো।কিন্তু ” নিজের যোগ্যতা” কথাটি মাথায় গেঁথেই রইলো।
এতক্ষণ যে ভূমিকা দিলাম হয়তো পড়তে গিয়ে গুনীজনরা বিরক্তবোধ করতে পারেন,সেজন্য আন্তরিক ভাবে দুঃখিত। মূল উদ্দেশ্য হলো যে কোনো স্বপ্ন বা কাজ বাস্তবায়ন করতে গেলে কিছুটা কাঠ,খড় তো পোড়াতেই
হয়, ঠিক তেমন এই ভূমিকা।কারণ ভিতর থেকে একটি স্পীড সব সময় কাজ করে।জাগ্রত রাখে। আর এই জাগ্রত হয়ে ওঠা সব ডাক্তার সাহেবের ই কৃতিত্ব। তিনি এভাবে না বললে হয়তো নিজেকে প্রমান করার ইচ্ছেটাই জাগতো না। আমাকে এটা করতে হবে,সেটাকে একদম পরিহার করতে হবে,এই ছোট ছোট কাজ গুলো সাথে সাথে করে ফেলা,তবেই তো সঠিক পথে এগিয়ে যাওয়া যায়। এর মাঝে বিশাল এক ঝড়ে সব কিছুই এলোমেলো হলো,কোনো বর্ননায় যাচ্ছিনা।কঠিন বাস্তবতায় আমার পথ চলা শুরু। এখান থেকেই “নিজের যোগ্যতার ” প্রমান শুরু আমি যে কাজটি করতে চেয়েছি,সফল ভাবে আস্তে আস্তে এগিয়ে গিয়েছি।এই পথ চলার সময় থেকেই আমি প্রথম অসুস্থ হই। কিন্তু থেমে যাইনি। তবে যা কিছুই করছিনা কেন,তাতে প্রধানমন্ত্রী কে কাছে থেকে দেখার সুযোগ একদম ই কম। তার বেশ কিছু অঅনুষ্ঠানে গিয়েছি, কিন্তু কাছে নয়,দর্শক হিসাবে।
হঠাৎ আমার অপারেশন হয়,হয়তো আল্লাহ পাকের অশেষ রহমত ছিল তাই বেঁচে গেলাম।

কানাডার প্রডাক্ট নিয়ে কাজ শুরু হলো।শুধু মেয়েদের, হেড অফিস ছাড়া বাকি কোনো অফিসে ছেলেরা ছিলনা। ডাক্তার সাহেব থাকা অবস্থায় আমি আনকমন প্রডাক্ট কিনতাম, একসময় ম্যানেজার অফার দিলেন,আপনি যদি এই কোম্পানি র সাথে যুক্ত হন ২৫% ডিসকাউন্ট পেতে পারেন,চাইলে এটি দিয়ে বিজনেস করতে পারেন। বাংলাদেশের অনেক মেয়ে,মহিলারা আছেন। আমাদের হেড অফিসে সেমিনার আছে আসতে পারেন। পারমিশন নিয়ে গুলশান হেড অফিসে গেলাম। পরিবেশ, প্রডাক্ট, অফিসের আপুরা,ভাইয়ারা, শতভাগ পারফেক্ট মনে হয়েছে। বাসায় এসে ডাক্তার সাহেব কে বললাম কোনো কাজ নেই এই কোম্পানি সম্পর্কে আমায় জানাও।ছুটির দিন থাকায় সারাদিন তিনি ওয়েবে দেখে বললেন শুধু মেয়েদের দ্বারাই নিয়ন্ত্রিত তুমি চাইলে, ভাল লাগলে যুক্ত হতে পারো। ব্যস, আমায় আর পায় কে? বিকালে চায়ের টেবিলে বসে আমায় এক লাখ টাকার একটি চেক দিয়ে বললেন,” তুমি এটা দিয়ে চাইলে দাঁড়িয়ে যেতে পারো,আবার পছন্দের জিনিস কেনা কাটা করে ঊড়িয়ে দিয়ে পারো” এটা তোমার। মন খুলে, যা কিনতে ইচ্ছে করে,খেতে ইচ্ছে, কাউকে দিতে ইচ্ছে করলেও দিতে পারো।হুম,কেনা কাটা করেছি, তবে বিজনেস পারপাস।
আত্মীয় স্বজন, বন্ধু- বান্ধব,ভাই বোন, প্রতিবেশী রা সবাই উৎসাহ দেয়ার জন্যই কিনতো,প্রয়োজন, আনকমন
সব মিলেই ভাল চলে যাচ্ছে। অফিসে একের পর এক আমি প্রাইজ পাচ্ছি ভালই লাগছে।কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর কথা ভুলে যাচ্ছিনা আমি। এস এম ই মেলা। যা কিনা দেশীয় প্রডাক্ট নিয়েই মেলা টি হয়। বিদেশী প্রডাক্ট নট এলাউ।হায় হায়,আমার তো পুরাই বিদেশী প্রডাক্ট। তখন আমার আন্ডারে যে সদস্য আপারা কাজ করতেন,অনেকেই সফল ব্যবসায়ী। তারা সব সময় মেলা করে থাকেন,একজন বললেন আপা আমি মেলা করতে চাই। কিন্তু কিছু ঝামেলার জন্য টাকা জমা দিতে পারি নাই। আমার টেবিল টি নিয়ে দিলে সেল হলে টাকা দিয়ে দিব। তিনি আরও বললেন,আপনার প্রডাক্ট রাখবেন, আপনি ও মেলায় থাকবেন স্টলেই। আরে! মেঘ না চাইতেই বৃষ্টি। রাজি হয়ে গেলাম।
বেশ কিছুদিন আগে কোনো পত্রিকা নিয়ে কাজ করবো।বা করা উচিৎ , যাদের সাথে আলাপ করে রেখেছিলাম।সবাই এস এম ই মেলায় হাজির। সেখানে বসেই আমার অন লাইন পোর্টাল কথা ফাইনাল করে দিলাম। এবারে প্রধানমন্ত্রীর সাথে দেখা করার সঠিক রাস্তায় মাত্র ইন করার পথে। যেহেতু অপরাধ নিয়েই আমাদের কাজ,খুব সাবধানে মেপে চলতে হতো।বেশী ঝামেলা দেখলে একদম অফ করে রাখতে বলতাম।।ঝামেলা হলে প্রথমেই আমায় ডাকবে সম্পাদক হিসাবে। ডাক্তার সাহেবের মত বেশী পরিমানে ভি আই পি ইনভাইট কার্ড আসতো না, তবে ভাল ভাল আসতো।
“২০১৮ সালে আমার নামে গন প্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ “সরকার” এর পক্ষ থেকে ধর্ম মন্ত্রনালয় থেকে ইনভাইট কার্ড আসে।
“হজ কার্যক্রম — ২০১৮” শুভ উদ্ভোধন ও সম্মানিত হজ যাত্রীদের সাথে শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠান।
এই অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী নিজেই প্রধান অতিথি হিসাবে আসবেন।
১১ ই জুলাই রোজ বুধবার, সকাল ঃ– ১০ ঘটিকা।
এটি আমার জন্য বড় প্লাস পয়েন্ট,প্রথম দেখা তাও হজ কার্যক্রম এর মাধ্যমে।হয়তো অন্য সব সম্পাদকের কাছে সাধারণ ব্যাপার হলেও এত বছরের লালিত স্বপ্ন পূরণ হওয়া সেটাকে বিশালভাবেই দেখেছি। কিছুটা সংশয় কাজ করছে,প্রধানমন্ত্রী এত স্পেশাল সিকিউরিটির মধ্যে থাকেন,আদৌ কি তার দেখা কাছে থেকে হবে?
অনেক সাবধানে চলা ফেরা করতে হবে।বিভিন্ন স্পেশাল ব্রাঞ্চের সিকিউরিটি ভিতরে রাউন্ড দিতেই থাকবেন। চলা ফেরা,বসা,তাকানো এসব যে কোনো কাজে তাদের কাছে সন্দেহজনক মনে হলে সাথে সাথে প্রশ্ন করবেন।উত্তর গুলোও স্মার্টলি দিতে হবে,না দিতে পারলে পাশেই রুম রেডি করা ইন্টেলিজেন্স এর বড় বড় সব কর্মকর্তা রয়েছেন।আর সেখানে গেলে নরমাল ভাবে কেউ ফিরবেনা। কত সপ্তাহ যে বিভিন্ন সংস্থায় দৌড়ে র উপর থাকতে হবে কোনো ঠিক নেই।এসব কিছু আমার পার্টনার
কে দিয়ে খোঁজ নিয়ে রেডি হয়ে অনুষ্ঠানে র দিন সকাল সাড়ে আট টায় আমি হজ ক্যাম্পে যেখানে অনুষ্ঠান হবে সেখানে যাই। উত্তরা দক্ষিনখান আশকোনা সেখানে হজ ক্যাম্প অবস্থিত। প্রধানমন্ত্রী আসবেন বলে সাধারণ জনগনের চলাচল একদম বন্ধই বলা চলে। শুধু প্রশাসনের গাড়ী,সাংবাদিক সম্পাদক মন্ডলীদের গাড়ী এবং বিভিন্ন চ্যানেলের গাড়ী এ ছাড়া কোনো গাড়ী,লোকজন নেই বললেই চলে। রাস্তার দুই পাশে যত বড় বিল্ডিং,জনগন পারাপারের ব্রিজ সব জায়গায় পুলিশ,বিডিআর, রাস্তার দুই পাশেও মনে হয় হজ ক্যাম্পের কাছাকাছি যাচ্ছি এসব সিকিউরিটির পরিমান বেশী। পত্রিকার লোগো গাড়ীতে থাকায় কারো সাথে মুখে কথা বলতে হয়নি তবে আমার আমন্ত্রণ পত্র সেটি দেখাতে হয়েছে।
এক মাত্র আমার আই ডি কার্ড,সাংবাদিকতার যত কার্ড ছিল বিভিন্ন সংস্থার গলায় ঝুলালাম,বাকি গুলো আমন্ত্রণ পত্রের সাথে নিয়েছি।আশকোনা এড়িয়ায় খুব একটা যাওয়া হয়নি।একদিন শুধু ভিজিট করতে গিয়েছিলাম,কারণ আমার পত্রিকা হজ ক্যাম্পে ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট এর কাজ করেছে।অন্যান্য প্রতিষ্ঠান ও ছিল সাথে। বাসা থেকে মার্শাল আর্টের তিন জন কে নিয়ে তার মধ্যে আমার ছেলেও আছে বাকি দুজন তার বন্ধু হজ ক্যাম্পের গেটে পৌঁছালাম। গাড়ী তো সেখানে রাখা যাবে না। আমার পার্টনার বংগমাতা স্কুলে রাখার ব্যবস্থা করেছেন।
বাচ্চাদের ভাল করে বুঝিয়ে বললাম,চারিদিকে প্রচুর সিকিউরিটি তোমরা গাড়ী থেকে বের হয়ে যেওনা। পার্টনার একটি ভাল কাজ করেছেন,এস পি সাহেব ও সামনে যাদের পেয়েছে তাদের কে পরিচয় করিয়ে দিয়েছেন ম্যাডামের ছেলে ও তার বন্ধুরা।যদি বাচ্চারা গাড়ী থেকে বের হয়ে ঘোরা ফেরা করে ঝামেলা যাতে না হয়। আর হলেও এদের কাছে কথা বলার সুযোগ থাকবে।
যা হোক,আমার ইন্টারভিউ গাড়ী থেকে নেমেই শুরু। সিরিয়াল ধরতে হয়নি খুব একটা,। প্রথমে কোড নম্বর জিজ্ঞাসা করলেন মহিলা সিকিউরিটি। মুখস্ত বলতে হবে।
ভুলে গেলে পাশের রুমে দাঁড়া করিয়ে রাখবেন। এর পরে তিনি কার্ড চেক করে আর একবার জিজ্ঞাসা করবেন,এটি পার হওয়ার পরে আবার ফুল বডি চেক করবেন,মেশিনে দেখার পরেও রুমে ঢুকতে হবে যদি সন্দেহ না লাগে নরমাল কিছু প্রশ্ন করবেন,বডি টাচ করবেন না। আর সন্দেহ হলে এই সিকিউরিটি মহিলা যেভাবে চাইবেন সেভাবেই চেক করবেন।আমার শুধু কার্ড গুলো দেখলেন,স্কার্ফ খুলতে গেলাম শুধু বললেন, “নো নীড “।
এই পর্ব শেষ করে মহিলা বলে দিবেন,আপনি দু থেকে চার কদম হাটুন,এই কাজ টি করার সাথে সাথেই চার জন হাজির, এবার চারজন ই আমার চারপাশে আমি মাঝখানে।এই ব্যাপার টি একদম বলেন নি সি আই ডির লোকজন বা অন্যান্য ব্রাঞ্চের পরিচিত যারা।কি করবো বা কি করা উচিৎ বুঝে উঠতে পারছিনা। ভুল করলেই খবর হয়ে যাবে।লম্বা একটি সালাম দিয়ে গলায় ঝুলানো কার্ড হাতের কার্ড কোড নং সহ তাদের সামনে ধরলাম।
চারজন ই বুঝে গিয়েছেন যে আমি এই ধরনের অনুষ্ঠানে প্রথম এসেছি। চারজনের মধ্যে আমার সব কার্ড হাতে নিয়ে সুক্ষ্মভাবে দেখলেন,খুব আস্তে করে বললেন ফাষ্ট টাইম? সব কার্ডগুলো হাতে নিতে নিতে ইয়েস বললাম।কারণ প্রধানমন্ত্রীর অনুষ্ঠানে ভি আই পি গেষ্টদের একজন হিসাবে।সেখানে সাধারণ জনগনের এট্রি নেই।এর আগেও বেশ কিছু অনুষ্ঠানে র কার্ড এসেছিল,কিন্তু বাসায় ফিরতে রাত হবে সেজন্য এভয়েড করতাম। সাথে সাথে আর একজন বললেন কোনো দিকে তাকাবেন না সোজা হেঁটে বায়ে মোড় ঘুরতেই থেমে যাবেন।হাত ইশারা দিয়ে গো। আমি তো যাচ্ছি যে বাকি দুজন চুপ করে ছিলেন,সেই দুজন আমার এক হাত পিছনে দুজন দুই পাশে হেঁটে আসছেন।এটি ছিল তাদের কৌশল, যে আমি ঘাড় ঘুরিয়ে তাদের দেখি কিনা, যেহেতু কোনো দিকেই আমার তাকানো নিষেধ।মোড়ে এসে দাঁড়িয়ে পড়লাম।দুজন মেয়ে দুজন ছেলে। হল রুমে ঢোকার মুখেই একবার তাকিয়ে মঞ্চ দেখে নিলাম। আগে সালাম দিয়ে বিপদে পড়ি কিনা। একদম চুপ একজন ছেলে ও একজন মেয়ে আমার কার্ড চেক করলেন।বাকি দুজনের একজন আমার পত্রিকার নাম জিজ্ঞাসা করে কনফার্ম হলেন।চতুর্থ জন বললেন ডান পাশ দিয়ে আপনি ভিতবে প্রবেশ করুন,করলাম।এবার সাদা পোষাকধারী,হালকা চকলেট আরও কয়েক রঙের পোষাকের মেয়ে বেশী ছেলে কম এবার আমি পুরাই তাদের দ্বারা আবদ্ধ। একজন বললেন ম্যাম কার্ড প্লিজ।
সব কার্ডগুলো মেলে ধরলাম। তারা সবাই এক এক জন দেখছেন আমি সোজা দাঁড়িয়েই আছি।এর মধ্যে হজ ক্যাম্পের মহিলা মোয়াল্লেম তিনি এসে একটু পরিচয় করিয়ে দিলেন।ম্যাডাম, স্যার এই আপা আমার বিশেষ পরিচিত।
কিন্তু এই মহিলাকে আমি প্রথম দেখছি,হায় হায় আমায় যদি জিজ্ঞাসা করে তাহলে কি বলব? ওকে বলে তারা চলে গেলেন।আমি একভাবে মহিলাকে চেনার চেষ্টা করেছি,কিন্তু চিনতে পারছিনা নীবরতা ভেঙে মহিলা হেসে বললেন আমার ই তো আপনাকে রিসিভ করার কথা ছিল,রাস্তায় ঝামেলা হওয়াতে দেরি হল।কথা শেষ হতেই এক সময় রাজপথ কাঁপানো নেত্রী তিনি এখন এলাকার কাউন্সিলর। তিনি আসলেন।নতুন করে পরিচয় হলো, এই দুজন সাথে থাকায় আমার কিছুটা সুবিধা হলো।এদিক সেদিক দেখার। এক এক জন ইন করছেন,সিকিউরিটির রাউন্ড কিন্তু হয়ে যাচ্ছে। আমায় বলে দিয়েছিল ৯ টা বাজার সাথে সাথে আপনি বসে পড়বেন।আমিও তাই করেছি।
০৯.৩০ মিনিটে সম্মানিত হজ যাত্রী ও সাথে আমাদের সকল অতিথি বৃন্দের আসন গ্রহন ঘোষনার মাধ্যমে অনুষ্ঠান শুরু।১০.০০ টায় প্রধান মন্ত্রীর আগমন।
এই ৩০ মিনিট দেশের যত স্পেশাল ব্রাঞ্চের সিকিউরিটি র উর্ধতন কর্মকর্তা আছেন,তাদের পা থামেনি। প্রধানমন্ত্রীর চলে আসার আগে ৯ টা পর্যন্ত গাড়ী গুনেছি,তারপর প্রধানমন্ত্রীর গাড়ীর বহর মোট ১১ টি।এগুলো সব সময় ই তার সাথে থাকে।তিনি ইন করার আগে ৯ টি পরেও ৯ টি । আর বাইরে তো টহলকারী আছেন ই। প্রধানমন্ত্রী ইন করার আগেই যেন সব মারা গিয়েছি আমরা, মনে হয় কেউ জোড়ে নিঃশ্বাস ও নিচ্ছেনা। শুধুই নীরবতা। ঠিক ১০ টায় তিনি ইন করলেন,সোজা মঞ্চে উঠে সবাইকে উদ্দেশ্য করে সালাম দিয়ে বসলেন।সাদা জামদানী একদম সাদামাটা ভাবে এসেছেন। স্বাগত বক্তব্য, বিশেষ অতিথি দের চারজনের বক্তব্য,সভাপতির বক্তব্য,এবং
প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ ও হজ কার্যক্রম– ২০১৮ এর শুভ উদ্ভোধন ঘোষনা।
দোয়া ও মোনাজাত
হজ যাত্রীদের সাথে শুভেচ্ছা বিনিময়।
যথাক্রমে কাজগুলো সিরিয়াল ধরেই শেষ হয়ে যায়।
প্রধানমন্ত্রী কে যখন তার বক্তব্য দেয়ার জন্য আহবান করা হলো,তিনি এমনভাবে চেয়ারে বসা থেকে দাঁড়ালেন,অবাক হওয়ার মত।
তিনি মঞ্চে থাকা অবস্থায় ডানে, বামে , পিছনে কোথাও তাকানো যাবেনা। একদম সোজা সামনের দিকে তাকিয়ে থাকতে হবে। ঝামেলায় পড়তে গিয়েও বেঁচে গিয়েছি দুই চ্যানেলের ক্যামেরাম্যান দের জন্য। আমি নিজের ঘাড়ে হাত দিচ্ছি, কিন্তু ক্যামেরায় সেটা সন্দেহের পর্যায়ে পড়ে যেতে পারে। ফাঁকা জায়গায় সামিয়ানা খাটানো ছিল।তার উপর থেকে ভিডিও করছেন। পরে দুজন সাংবাদিক এসে ব্যাপার টি ইশারায় বুঝালেন,শুধু বললেন সোজা মঞ্চে ফোকাস দিন প্লিজ।প্রধানমন্ত্রী চলে যাওয়ার পরে সবাই এসে বুঝিয়ে বলেছিলেন।
প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য শেষ করে হজ কার্যক্রম ২০১৮ এর শুভ উদ্ভোধন ঘোষনা করেন। এবারে শুভেচ্ছা বিনিময়। দুই লাইনে হজ যাত্রী আর অতিথিরা মাঝখানে রাস্তা,এবং দুই পাশেও রাস্তা , যেখান থেকে তিনি হেঁটে যাবেন এবং হজ যাত্রীদের সাথে কথা বিনিময় করবেন।এত টুকুই কিন্তু তার কাজ।
তিনি লাল কার্পেটে হাঁটা শুরু করলেন। জাতীর পিতাকে নিয়ে আমার সেই গল্প কাউন্সিলর আপু সবার কাছে পৌঁছে দিচ্ছেন।স্থানীয় রাজনৈতিক দলের নেতা গন শুনে উৎসুক দৃষ্টি তে আছেন। একজন আমার পাশেই বসা ছিলেন একটু বদল করে বসলেন,তিনি বলেন,আপনি এই পাশে বসুন,তাহলে প্রধানমন্ত্রী কে ভাল ভাবে দেখবেন,তাই করলাম।
মহিলা মোয়াল্লেম আমি,ও কাউন্সিলর আপা পাশাপাশি।
প্রধানমন্ত্রী আস্তে আস্তে এগিয়ে এলেন,তার হাসি,তার চোখের ভাষা এক অপূর্ব বিস্ময়। তিনি কাছে আসতেই কাউন্সিলর আপা ধপাস করে বসে পায়ে হাত দিয়ে সালাম করেই যাচ্ছেন।যে ১১ জন স্পেশাল সিকিউরিটি তাকে ঘিরে রাখেন,আপা হাঁটার সময় সাথে চারজন,বাকিরা রাউন্ডের মাঝে আছে।হজ যাত্রীদের সাথে কথা বলছেন।মহিলা মোয়াল্লেম কে আপা চিনেন হজ করার সময় স্পেশাল ডিউটি ছিল।কাউন্সিলর আপা আওয়ামী লীগের রাস্তা কাঁপানো নেত্রী।এই দুজনার মাঝে আমি দাঁড়ানো।তিনি ধরেই নিয়েছেন তার দলের কর্মী । প্রধানমন্ত্রী একদম কাছে মাপলে এক হাত দূরেও হবেনা তার থেকে কম দূরত্বে তিনি। সেই মিষ্টি হাসি।হাত উঁচু করে সালাম দিতেই ” কি ভাল? ” জ্বি বলার সাথে সাথে মহিলা মোয়াল্লেম ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে কাছে ঝুঁকে সালাম দিয়ে নিজের কথা শুরু করে দিলেন।
প্রধানমন্ত্রী র ১১ জনের একজন যে তাকে প্রথম থেকেই সূক্ষ্মভাবে দেখছেন,সেটা আমরা কেউই চিন্তাই করিনি। প্রথম আলোতে ছবি এসেছে এমন ভাবে আমায় সরিয়ে দিচ্ছেন ঠিক সেই মুহূর্তে র ছবি।কোনো রকম আমার মাথা দেখা যায়। অনেক সময় তার অবস্থান বলে দেয় সে — কি? তার দ্বারা এর বেশী আশা করা যায়না। হয়তো তার চলা,ফেরা,নিত্যকার কাজসমূহ এভাবেই করে অভ্যস্ত। কিন্তু আমার পরিচয় এখানে একজন সম্পাদক ও সাংবাদিক হিসাবে। সেখানে আমার অবস্থানের কথা ভেবে মহিলাকে ফিডব্যাক দেয়ার সুযোগ নিলাম না। একটু পিছনে কিন্তু আমাদের তিনজনের মাথা এক ই সারিতে।আমার পাশের দুজনেই মোটা,একজন বোরখা পরা,অন্যজন ভারী কাতান শাড়ী পরা।এই দুজনার মাঝে অস্থির।
প্রধানমন্ত্রী আমাদের কাছে থেকে ঘুরে অন্য লাইনে,মানে পরের সারিতে হাঁটছেন।এবাবে মহিলা আমায় বলেন,ও হ হো ম্যাডাম – আসলে আপারে দেখে আর ঠিক থাকতে পারিনি,উনি আমায় অনেক আদর করেন,স্নেহ করেন।
চারিদিকে চোখ বুলিয়ে দেখতে গিয়ে সেই স্পেশাল সিকিউরিটির সাথে আবার চোখাচোখি হলো।এই নিয়ে দুইবার। সেরেছে,কোনো কারনে যদি আর একবার হয় তাহলে আমার প্রাথমিক খবর হবে। মুখ নীচু করে বললাম চুপ করুন প্লিজ। কে শোনে কার কথা! ম্যাডাম বলে আমার হাত ধরে দেখিয়ে দিচ্ছেন,প্রধানমন্ত্রী এখন ই বের হয়ে যাবেন, এখন তো আপনি তার বরাবর দাঁড়িয়ে আছেন এখন আপনার কথা গুলো শেয়ার করেন। হাত ছাড়িয়ে দেই আবার ধরেন, এরপর বিরক্তি হই।যার ফলো করার দরকার তিনি কিন্তু করেই যাচ্ছেন।হজ যাত্রীদের উদ্দেশ্য করে, দেশবাসির জন্য, তার প্রয়াত পরিবারের জন্য আল্লাহর দরবারে দোয়া করতে বলেছেন কিন্তু তিনি তার জন্য একটি বার ও দোয়ার কথা বলেন নি। তার বক্তব্যেও এক ই কথা,আবার সবার কাছে থেকে বিদায় নেয়ার সময় ও তাই বললেন।
আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আপা আরও একটি জিনিস ফলো করে চলেন,তা হলো ডান দিক বা ডান পাশ। এবং তিনি যে গেট থেকে ইন করেন,সে গেট থে থেকে আউট হন না। যদি মেইন গেট একটি ই থাকে তাহলে তার গাড়ীর বহর দ্বারা তাকে ঘিরে চলেন,তিনি একদম মাঝখানে থাকেন। এ কাজ হয়তো সব সরকার প্রধান দের জন্যই মনে হয়।
এবারে প্রধানমন্ত্রী হল রুমের দরজা বরাবর,সবাইকে বিদায় জানিয়ে বের হবেন, তিনি যেখানে দাঁড়ানো মাঝখানে ডবল সীটের সোফা তারপর আমি দাঁড়ানো।একটু দূরত্ব বেশী। কিন্তু আমি ই প্রথম। আপা তো বিদায় জানাচ্ছেন ” ভাল থাকবেন সবাই আসি বলার সময় আমার দিকে চোখের ইশারায়। মহিলা মোয়াল্লেম এবারে ম্যাডাম আপনার দিকে চোখের ইশারা দিয়েছেন সামনে গিয়ে বলেন বলে আমার হাত ধরে আবার সামনে ঠেলে দিচ্ছেন,কিন্তু আমি শক্ত হয়ে দাঁড়িয়ে পড়ি।সেই সিকিউরিটির সাথে তিন বার চোখাচোখি। সাহস করে আবার তাকালাম,এবং প্রধানমন্ত্রীর দিকে তাকিয়ে আবার তাকালাম তিনি মাথা দিয়ে “না” সূচক জানালেন।
আমি বুঝে গেলাম প্রধানমন্ত্রী এখন রানিং পর্যায়ে আছেন,এখন কিছুই শুনবেন না। তিনি কেবল দরজা দিয়ে বের হবেন,মহিলা বলে উঠলেন ম্যাডাম যান,আপা বের হয়ে যাচ্ছেন তো? বলে আমায় ক্রস করে দুই পা এগিয়ে যাওয়ার সাথে সাথে সেই সিকিউরিটি ” হোয়াট ইজ দিজ”? বলার সাথে সাথে সব সিকিউরিটির ব্রাঞ্চের লোকজন হাজির কোনো কথা বলার আগেই সেই পাশের রুমে নিয়ে গেলেন।এবারে মহিলার চৌদ্দগোষ্ঠির প্রশ্নের উত্তর দিতে দিতে জান বের হবে। আমি তাকিয়ে আছি প্রধানমন্ত্রীর চলে যাওয়ার দিক,সেই সিকিউরিটি নাকি আমায় ফলো করছেন এবার। তার কারণ মহিলা আমার সাথে এত ঘনিষ্ঠ তার দলেই হয়তো।জামাত বা শিবিরের লোক মনে করেছেন।মহিলা কালো বোরখা পরা ছিলেন।সিকিউরিটি চলে যাওয়া মানে প্রধানমন্ত্রী চলে গেলেন।
বাকি মন্ত্রীরা যারা আছেন তারা সবার সাথে বসে নাশতা করবেন।চা, পান করবেন।বার বার সবাই ডাকছেন।আমার চিন্তা মহিলাকে ভিতরে নিয়ে গেল এখনো ছাড়লেন না তারা। কাউন্সিলর আপুকে বললাম সরকার পক্ষের লোক জন আপনি একটু খোঁজ করে দেখুন না, কি অবস্থা আপার। বয়সে তিনি আমার অনেক বড়।একটু হেসে বলেন সাজু গুজু করে এসেছি কি জেলে যাবার জন্য? খোঁজ কেমনে নিতাম,সেই রুমের সামনে গেলেই তো ধরবেন ক্যান গেছি? অপেক্ষায় থাকো।বের তো হবেই।
বিভিন্ন পত্র পত্রিকার মালিক গন এক এক করে পরিচয় দিচ্ছেন,আমার কথা জানতে ও শুনতে চাচ্ছেন,কিন্তু আমার চিন্তা পাশের রুম। এতক্ষণে আমার পার্টনার ইন করার পারমিশন পেলেন। তিনি এসে আমার হয়ে সাফাই গাইছেন। তাকে মহিলার কথা বলে দিলাম।অবাক হয়েছেন।
অপেক্ষার প্রহর কাটেনা। অন্যান্য মন্ত্রী মহোদয় যারা ছিলেন তারাও স্থান ত্যাগ করেছেন। সম্পাদক মন্ডলীর হাতে গোনা কয়েক জন উপস্থিত আছেন,বাকিরা সবাই চলে গিয়েছন।বেশ কিছুক্ষণ পরে মহিলা বের হলেন,তবে প্রচুর কান্নাকাটি করছেন।কাছে গিয়ে জিজ্ঞাসা করছি কি হয়েছিল,কেন কাঁদছেন? কোনো উত্তর নেই। কাকে যেন ফোন করে বলছেন অবশ্যই যেন পুলিশ হেড কোয়ার্টার সেখানে দেখা করেন।
বুঝে গেলাম এবার মহিলার তদন্ত হচ্ছে। ভদ্রতা করে বললাম, আপনার বাসা এখানে কোথায়? চলুন আমি নামিয়ে দিয়ে যাই আপনাকে,
না না লাগবেনা।আমার মিরপুর যেতে হবে।
বললাম খুব ভাল, কোনো সমস্যা নেই চলুন।।
নাহ! আপনি যান। পরে কথা বলবো। এখন ভাল লাগছে
না। আজকের মত আশকোনার কাজ শেষ।
এই স্বল্প সময়ের আমার যা অভিজ্ঞতা হয়েছে,আমি বলবো স্বপ্ন পূরণ, সোনালী ও ভাল লাগার কিছু সময়,এবং চরম ভয়ানক সময় পার করেছি। তার মাঝেও বড় শিক্ষা পেয়েছি, যা আমার একদম ই অজানা ছিল। যে জিনিস সম্পর্কে আমার কোনো আইডিয়াই ছিলনা, তার মুখোমুখি হয়ে বেড়িয়ে আসা এটি একটি এডভেঞ্চার এর পর্যায়ে ফেলতে পারি। সেই মহিলার জায়গায় যদি আমি হতাম,কেমন হতো? বাপরে!
বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন,বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী এ কে এম শাহজাহান কামাল।
এম পি ধরর বিষয়ক মন্ত্রনালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি জনাব বজলুল হক হারুন।
এম পি এডভোকেট সাহারা খাতুন।
এম পি ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব জনাব মোঃ আনিছুর রহমান।
বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব জনাব মোঃ মহিবুল হক।
বাংলাদেশে নিযুক্ত রাজকীয় সৌদি আরবের মান্যবর রাষ্ট্রদূত আব্দুল্লাহ এইচ. এম. আল– মুতাইরী।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী অধ্যক্ষ মতিউর রহমান।
গন প্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হয়ে উপস্থিত থেকেছেন,আর সেই অনুষ্ঠানে আমিও উপস্থিত ছিলাম।তাকে খুব কাছে থেকে দেখার সুযোগ হয়েছে।স্বপ্ন পুরো পুরি পূরণ না হলেও সন্তোষ প্রকাশ করা যায়। তাতেই খুশি। জাতীর পিতার কথা বলার সুযোগ কখনও হলে তখন বলবো।যদি কখনও আবার ভি আই পি প্রোগ্রামে যাই, তাহলে সমস্যার সৃষ্টি হবেনা আশা করি। ঠিক সমস্যা নয়, তবে সংশয় ছিল।

শ্রদ্ধেয় গুনীজনরা, আমার এই লেখা হয়তো ততোটা অন্যান্য লেখার মত ভাল লাগবেনা। একটি লক্ষ্যে পৌঁছানোর সিড়ি। আমি খুব সাধারণ মানুষ,ক্ষুদ্র বালুকণা সম।তাই আমার এই চাওয়া — পাওয়ায় যেভাবেই হোক পূরণের খাতায় স্থান পেয়েছে অন্তত আমার কাছে সেজন্য আমি খুশি।
কঠিন বাস্তবতার ভীরে বিলাসিতার স্বপ্ন দেখা ভুলে গিয়েছি। ধারণ করার ক্ষমতা বুঝে স্বপ্ন গুলো হানা দেয়।
সবাই খুব ভাল থাকবেন,সবার জন্য অফুরান ভালোবাসা, শুভ কামনা সহ সালাম।

২৫২জন ৩৪জন
0 Shares

৩৪টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

ফেইসবুকে সোনেলা ব্লগ

লেখকের সর্বশেষ মন্তব্য