প্রত্যহের বাহারি ভাবনা—(১) মুণ্ডু

আদিব আদ্‌নান ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০১৫, বুধবার, ০৯:৩৯:৪৫পূর্বাহ্ন রম্য ১৬ মন্তব্য

মাথার বাহ্যিক আকৃতি গোল,গোলাকৃতির বা কিম্ভূতকিমাকৃতির।অবশ্যই আমি আমার অপদার্থময় মাথার কথাই বলতে চাচ্ছি।সে আমি বা ভুলক্রমে আপনি লম্বুমান,ঝান্টুমান,বুদ্ধিমান,কুবুদ্ধিমান,উটবুদ্ধিমান,দণ্ডায়মান,থলথলায়মান অথবা বামনাকৃতি যে প্রকারের ই হই না কেন, কথা সেটি না। কথা হলো এই বিপদজনক কিন্তু অতিপ্রয়োজনীয় আমার বেলায় অপ্রয়োজনীয় বিম্বটি চতুষ্কোণ,ত্রিকোণ,দ্বিকোন,চোখা তীরাকৃতি বা ত্রিশূলীয় কি হতে পারত? চকচকা মুণ্ডিত মুণ্ড হলেই বা কী হত?
কিছু সুবিধে যে নিয়ে নেয়া যেত না তা নয়।যেমন ধরুন চতুষ্কোণ হলে থরে-বিথরে জায়গা মত সাজিয়ে রাখা যেত নান্দনিক উপস্থাপনায়।
ত্রিভূজাকৃতির হলে ত্রিভূজিয় সখ্যতায় অংকগুলো শিখে ফেলা যেত সহজে।এখানে এ সময়ে ছগুরাজ ত্রিভূজ বা কোন বনাঞ্চলের গভীর ত্রিভূজিয় উপত্যকার কথা ভাবতে বলছি না।
তীরন্দাজের তীরাকৃতির হলে আড়ালে-আবডালে বসে ভেবে চিন্তে বাছাইশ্রেষ্ঠটির দিকে অলক্ষ্যে অব্যর্থ তীর ছুড়ে দিতে পারেন উন্নীত বক্ষের হৃদমাঝে।
ত্রিফলা ত্রিভূজ নিয়ে সার্কাসের শেষ খেলার বিপদজনক ভাঁড় খেলোয়াড় হয়ে উপরে ছুড়ে দেয়া ত্রিশূলের নীচে শুয়ে দর্শকদের বিনোদনের খোরাক হতে পারেন। হাজারো দর্শকের সামনে সামান্য অসতর্কতায় অক্কা ও পেতে পারি।
আচ্ছা ধরুন মাথাটি যদি কাচের হয়,শক্ত-পোক্ত। ইট-পাথুরে সহনীয়,এমন কী বাঁশ পর্যন্ত।যাতে কথায় কথায় ফাটিয়ে ফেলতে না পারেন।অবশ্য সমস্যা সেখানেও আছে।এক্সরে আই ওয়ালারা মস্তিষ্কের উথাল-পাথাল হাসি-কান্না ধরে ফেলে মুচকি থেকে অট্ট সব হাসিই হেসে ফেলতে পারে।বরং মাথায় লোহার টুপি পড়ে ঘার গোঁজ করে সবাইকে ঢুসিয়ে পথ চললে কেমন হয়?
জটু সন্ন্যাসীর কাছে গিয়ে দু’টো পাত্তি ফেলে গড় হয়ে পেন্নাম ঠুকে চকচকা মুণ্ড এগিয়ে দিয়ে অব্যর্থ অমোঘ আশীর্বাদ চাইতে পারি। সন্ন্যাসী তেলে মাথায় হাত গুঁজে বলতে পারে‘বাছা নন্দলালের মত শতায়ু হও এ বর দিলাম’।
বর পেয়ে বরপুত্রের মত উড়নচণ্ডীর বেশে দিলাম হাঁটা……
এই অমৃত-বচন ভাবনার জন্য প্রাণে বেশ যুগান্তকারী হেল-দোল অনুভব করছি যা টেঁসে যাবার মত অনন্য আনন্দের।
————————————————————————————————————

পরের পর্বে হৃদব্যবচ্ছেদ হবে।

২৫৪জন ২৫৪জন
0 Shares

১৬টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

ফেইসবুকে সোনেলা ব্লগ

লেখকের সর্বশেষ মন্তব্য