প্যারলাল- রং নাম্বার/?

বন্যা লিপি ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২০, রবিবার, ০২:৫১:৫৮পূর্বাহ্ন একান্ত অনুভূতি ২৫ মন্তব্য

রং নাম্বারে ফোন কল আসার দিনও কিন্তু এখন আর তেমন নেই বললেই চলে। বিরম্বনার আরেক নাম ছিলো রং নাম্বারে কল আসা। গোল গোল চাকতির মত ফাঁকাঘরে নির্দিষ্ট নাম্বার বিচিত্র শব্দে ঘুরিয়ে ছেড়ে দিয়ে অপেক্ষা করা, অপর প্রান্তে ঘন্টি বাজছে….. ক্রাডলে থেকে রিসিভার তোলার আওয়াজটা শোনার পর মনে হচ্ছে,  এবার কাঙ্খিত কন্ঠে বলে উঠবে, হ্যালো, কে বলছেন,, কাকে চাই? এপার থেকে নিজের পরিচয় দেবার তোয়াক্কায় সময় নষ্ট করার চেয়ে অনর্গল শ্ল্যাং ( গালাগালি) শুরু। ওপারে মানুষটা তব্দা খায় আর কি! কতক্ষন শোনা- টোনা শেষ করে উল্টো ঝারি…মিঞা, ডায়াল করার সময় কি চক্ষু দুইডা লুঙ্গী র খোটে বাইন্দা লইছেলেন? কারে ফোন দেতে যাইয়া কারে গাইল্লাতাছেন? ফোন থোয়ন মিঞা! আমি কুদ্দুস আলী না, রং নাম্বারে ফোন দেছেন আহমনে’

এরকম কাহিনী কারো সাথে ঘটে নাই, এটা বুক ফুলিয়ে কেউ বলতে পারবে না। রং নাম্বার নয়, রং মানুষ যদি হয়, তাহলেও রম্য কাহিনী জমে ওঠে হাসির খোরাকে।

আমি তখন বাপের বাড়ি আছি কয়েকদিন হলো। অনেকেই জানেন, অনেকে জানেন না। যেমন আমি গেলে অনেকেই দেখা করতে আসেন, বা সবসময় যারা আসেন তারা দেখেন/ জানেন আমি ঝালকাঠিতে আছি। এরকম এক কাকু, যিনি সবসময় বাসায় আসা যাওয়া করতেন,ফোন করেছেন বাসায় , সাধারনত আব্বা আম্মা কাছাকাছি থাকলে আমরা ভাই বোনরা ফোন রিসিভ করি না। ফোনের কাছে টিভি দেখছিলাম বলে আমিই রিসিভ করলাম-

: আসসালামু আলাইকুম, কে বলছেন? কাকে চাচ্ছেন?

– তুমি এত ঢং কইরা কতা কওয়া ধরলা কবে থেইক্কা?

চান্দি গরম হওয়ার পথে গরমের পারদ উঠছে আমার মাথার দিকে।

: কে বলছেন আপনি? কাকে কি বলছেন? কত নাম্বারে ফোন করেছেন?

 

– তা স্বামী যে বাইরে বাইরায়, হের জিনিস পত্র যে এহানে ওহানে(যেখানে সেখানে) ফালাইয়া থুইয়া যায়! হেয়ার কিছু করতে পারো না?

এতক্ষনে বুঝলাম….বুঝে আর তাঁকে লজ্জা না দিয়ে বলে উঠলাম,

: আপনি বোধহয় আমার মা’কে কল করেছেন। ধরুন তাঁকে ডেকে দিচ্ছি।

বলে রিসিভার চেপে ধরে দমক দেয়া হাসি চেপে আম্মাকে জোড়ে ডাক দিলাম।  আম্মাঃ হ্যালো? কে?

জনৈক- কে মানে? আগে কও তুমি এরহম কতা কওয়া শেখলা কবে?

আম্মাঃ কি রহম কতা কইলাম? কেডা আহমনে?

জনৈক–  এই তোমার হইছে কি? আগে কও আগে ফোন ধরছেলে কেডা?

আম্মাঃ ধরছে তো আমার মাইয়া।

ওপারে দিলীপ কাকুর চেহারাটা তখন আমার খুব দেখতে ইচ্ছে করছিলো।  কত কি বলে ফেলেছেন ভাবিকে ভেবে আমাকে!

দিলীপ কাকু- লিপি? ও আইছে কবে? চাঁন ভাই দেহি এতক্ষন আমার স্টুডিও তে বইয়া গেলো, কই কইলো নাতো লিপি আইছে? হে আরো ভুলে মোবাইল ফালাইয়া থুইয়া গেছে দেইক্খা আমি তোমার লগে মস্করা কইরা কতকিছু কইলাম।

যাদের প্যারালাল টেলিফোনের ব্যাবস্থা ছিলো, তাদের বিরম্বনাও ছিলো চরমে গরমে নাকানিচোবানি খাবার মতো অবস্থা। এখন যেমন আধুনিক বলতে অতি আধুনিক এ্যান্ড্রয়েড মোবাইলগুলোতে রেকর্ডিং সিস্টেম সুবিধা অনেকেই অনেক কার্যসিদ্ধি সম্পন্ন করার লক্ষে ভোগ করে থাকেন! তখন এই কাজটা করতো বিষেশ করে প্যারালাল ফোনের কারনে। এক প্রান্ত থেকে কেউ ডায়াল ঘুরিয়ে কল করেছেন তো অপর পাশ থেকে নিঃশব্দে আরেকজন রিসিভার উঠিয়ে কানে চেপে ধরে আছেন নিঃশ্বাস চেপে রেখে। টেপ রেকর্ডারে সেই কথাগুলো রেকর্ড করে রেখে, পরে সেই রেকর্ডকৃত কথা নিয়ে তুমুল বিতণ্ডায় জড়িয়ে সে এক এলাহী কাণ্ডকারখানা।

 

আরো এক বিরম্বনার নাম ক্রস কানেকসন! আহা মরি মরি! কতজন বেঁফাস কিছু শুনে ফেললো! কতজনার গোপনীয় প্রেমালাপ অথবা আদিরসাত্মক চুটকুলা(চুটকি) শুনে কান টান লাল করে ফেললেন! তার ইয়ত্তা নেই। ক্রসকানেকসনে অনেক প্রেমের কাহিনীও জন্ম নিয়েছে পজেটিভলি। আবার দৈবাৎ কপাল খারাপের দোষে ভেঙেও গ্যাছে নিটোল প্রেমের গল্প।

একটা গল্প মনে পড়ছে এই লেখা লিখতে এসে। গল্পটা বানানো কল্পকাহিনী নয়, একেবারে সত্য কাহিনী।

কাহিনীর চরিত্র এখানে গোপন রাখছি ইচ্ছে করেই। আমি চাইছিনা প্রকাশ করতে কেন্দ্রীয় চরিত্রের পরিচয় দিতে।

 

**********************

সামনেই এস এস সি পরীক্ষা। পড়াশুনার চাপ একটু বেশিই।  তারওপর আর্টসের বিষয় গুলো বড্ড ঝামেলা লাগে রিতা’র কাছে। ইতিহাস, ভূগোল, অর্থনিতী, পৌরনিতী, তারওপর অংক! কে যে নাম দিছিলো অংকের সরল? অংক আবার সরল হয় কবে? ভাবতে ভাবতেই রেডিওর নব ঘুরিয়ে বাংলা ছায়াছবির চ্যানেল ধরলো। গান বাজছে অঞ্জু ঘোষ, ওয়াসিম অভিনীত আবেহায়াত ছায়াছবির গান-‘ চাকভুম চাকভুম চাঁদনি  রাতে,

কিছু বলবো কথা তোমার সাথে……’ রিতার জানতে ইচ্ছে করে গান গুলো লেখে কোন ছাগলে কাঁঠাল পাতা খাইয়া? বিরক্তিতে নব ঘুরায় আবার। চট্টগ্রাম বেতারে বাজছে –‘ আজাদ রহমানের সুরে সাবিনা ইয়াসমিনের কন্ঠে ‘মাসুদ রানা’ ছায়াছবির গান…… ‘মনের ও রঙে রাঙাবো, পাখির ও ঘুম ভাঙাবো,

সাগর, পাহার সবাই যে কইবে কথা……’ শুনতে শুনতে কখন ঘুমিয়ে পড়েছে টেরও পায়নি। সন্ধ্যা মিলিয়ে যাবার আগেই জেগে গেলো হঠাৎ করে। ঘরটা খালি খালি লাগছে কেন? ছোট বোনটা  ঘরে নেই বোধহয়। মা কোথায়? ছোট ভাই দুটোও ঘরে নেই। নেই বাবাও। এরকম ফাঁকা ঘরে দিনে দুপুরেও গা ছমছম করে। রুম ছেড়ে সামনের রুমে চলে এলো। বসার ঘরটাও ফাঁকা। দরজা দিয়ে সোজা চোখ গেলো উঠোন পেরিয়ে সদর গেটের দিকে। এক আঙিনায় ৩/৪টা ঘর। প্রধান গেট একই।

ঘর আলাদা হলেও চাচা চাচিরা সব একই আঙিনায় আছেন বলে কখনো মনেই হয়না, সব আলাদা আলাদা পরিবার। পারিবারিক বন্ধনটাও সমানতালে ব্যালেন্স হয়েই চলে। মা আর চাচিদের সাথে খুব ভালো সম্পর্ক।   শাহিনা মেজো চাচি’র সাথে মা’র সব চাচিদের থেকে একটু আলাদা সম্পর্ক। মা যেমন সব কাজে মেজো চাচিকে সহযোগিতা করেন, তেমনি মেজো চাচিও মা’কে মান্য করেন বড় জা হিসেবে। যে কোনো কাজের আগে মা আগে মেজো চাচির সাথে আলাপ করেন। চাচিও তেমনি।   রিতা দেখছে দুভজনেই গেটের সামনে উৎসুক হয়ে তাকিয়ে আছেন গেটের বাইরে রাস্তার দিকে। রিতার ভীষণ কৌতুহল হলো। এমনটা তো সাধারনত দেখা যায়না! ঘটনা কি? জিজ্ঞেস করলে ধমক খেতে হবে নির্ঘাত। পেছনে গিয়ে দাঁড়িয়ে বোঝার চেষ্টা করা যেতে পারে বরং। কিছুই বুঝল তো নাইই, বরং কানে এলো কিছু এলো মেলো কথার টুকরো টুকরো শব্দ….. আসেনাই,- হ, হেইয়াই, – কইছিলাম না?এয়া বাটপার!

রিতা মাথামুণ্ড না বুঝে নিজের মনে ফিরে গেলো ফ্রেস হতে। পড়তে বসার আগে পাড়ার আইভিদের বাসায় একটা ঢুঁ না মারলে পড়া মাথায় ঢোকে না। যথারিতী আইভিদের বাসায় ঘন্টা পার করে পড়ার টেবিলে এসে বসা।  পরেরদিন সকালে সেলিনার কাছে রিতা নোট বই আনতে গিয়ে যখন ফিরে এলো ঘরে; কি দেখছে? মা মেজো চাচি এবং ছোট চাচ্চু টেলিফোনের কাছে একসাথে জড়ো হয়ে আছে। চাচির কানে রিসিভার। খুবই স্মার্টলি কথা বলছেন কিশোরি মেয়েদের মত। রিতার চক্ষু ছানাবড়া! হচ্ছেটা কি?

বলা বাহুল্য টেলিফোন বাসায় আসার পরে কড়া নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন রিতার বাবা মা দুজনেই। ফোন বেজে বেজে বন্ধ হয়ে গেলেও যেন রিতা ফোন রিসিভ না করে। একান্ত প্রয়োজন পড়লে, যেমন রিতার মা মাছ কাটছেন, কি বাথরুমে আছেন, অথবা একেবারেই কেউ ঘরে নেই ফোন রিসিভ করার তখনই কেবল রিতা ফোন রিসিভ করে। আর ফোন করার কথা তো প্রশ্নই ওঠেনা। রিতা ফোন করবেই বা কাকে। রিতার বান্ধবিরাও কেউ ফোন ধরেও না করেও না। কাজেই রিতা জানেই না কি এবং কার ফোন আসাতে এই সব লুকোচুরি চলছে। কৌতুহলি হয়ে পাশেই দাঁড়িয়ে দেখছে কাণ্ডকারখানা। চাচির এপারের কিছু কথা শুনছে এর মধ্যে মার চোখ পরলো রিতার দিকে। মায়ের চোখে কি যেন ছিলো, মনে মনে প্রমাদ গুণলো, জ্ঞানত পূর্বে এমন কোনো কাজ করেনি, যাতে মায়ের রক্তজবার মতো চোখ দেখে ভয়ে সিঁটিয়ে যাবে। রিতা ততধিক চোখে প্রশ্নের চিহ্ন এঁকে মায়ের চোখের দিকে তাকিয়ে রইল। এদিকে ছোট চাচ্চু মেজো চাচির কানে রিসিভারের সাথে নিজের কান লাগিয়ে শোনার চেষ্টা করছে অপর প্রান্তে কে কি বলছে শোনার জন্য। চাচির শেষ কথাগুলো আরো কৌতুহলের মাত্রা  বাড়িয়ে দিলো রিতার। আন্দাজ যা করার মোটামুটি করো নেয়া ততক্ষনে হজম! রিতার ঠোঁটের কোনে হাসি এলেও চেপে গেলো। পুরোটা বোঝার জন্য অপেক্ষা……

চাচি ফোন রেখে দিয়ে তাকালোন শামসু চাচ্চুর দিকে। চাচিঃ কিছু বুঝছো? আন্দাজ করতে পারছো এ কার কন্ঠ হইতে পারে?

চাচ্চুঃ মনে হচ্ছে মনির। ওর গলাই তো লাগলো। আর যেভাবে কইলো মনির ছাড়া এ বয়সী পোলা তো আর কেউ নাই।

চাচিঃ মমিন কমিশনারের ভাই?

চাচ্চুঃ আমার তো তাই মনে হয়। কালকেও তো চৌমাথায় আসছিলো!

মাঃ শামসু তুমি শিওর এই পোলা কাইল বিকালে চৌমাথায় আইছিলো?

চাচ্চুঃ হ, আইছিলো তো!

চাচিঃ তাইলে তো মিথ্যা কয়নায় পোলাডা!

ঘটনা এরকম******

প্রায়ই ফোন আসে একটা নির্দিষ্ট সময়ে। যেহেতু রিতার ফোন রিসিভ করা বারন। রিতা জানেও না কখন এবং কি বিষয়? মা ফোন ধরেন,  ওপাশে কোনো আওয়াজ নেই। দিনের মধ্যে আরো কয়েকবার এরকম ফোনে আওয়াজ হলেই মা দৌঁড়ে এসে ফোন ধরেন কিন্তু কেউ কোনো কথা বলেন না। রিতার মায় খটাস করে ফোন রেখে দিয়ে ইচ্ছা মতো গালাগালি করেন– হারামজাদারা ফোন কইরা কতা না কইলে আমার কামে ডিস্টাব করো ক্যা? এমনি করে কয়েকদিন পার হবার পর চিকন বুদ্ধি জাহির করার খায়েশ হইছে রিতার মায়ের। রিতার মেজো  চাচি বয়সের তুলনায় যথেষ্ঠ চৌকশ, স্মার্ট, কন্ঠ প্রায় রিতার বলে চালিয়ে নেবার মত। চিকন বুদ্ধি কি? শাহিনা চাচিকে দিয়ে ফোন রিসিভ করাবেন রিতা সেজে। মা ধরেই নিয়েছেন যেহেতু ঘরে কিশোরি মেয়ে আছে। এরকম ব্লাংক কল নিশ্চিত রিতার জন্যই হতে পারে। রিতার মায়ের গলার আওয়াজে বেচারা ব্লাঙ্ক কলদাতা ফোন রেখে দিতে বাধ্য হয়। বেচারার ধৈর্যও আছে বলতেই হয়। রোজ নিয়ম করে ফোন করে যাচ্ছে নিরলস ভাবে। যদি লাইগ্যা যায় লটারির টিকিটের মত! সেদিন হয়ত রিতাকে ফোনের ওপারে পাওয়া যাবে। ট্রিকসটা কাজে লেগে গেলো এদিকে মা আর শাহিনা চাচির। চাচি চমৎকার ভঙ্গিতে ২/৩ বার হ্যালো বলতেই ওপারে নিরবতা ভেঙে আওয়াজ উঠলো- : হ্যালো

রিতা ওরফে শাহিনা চাচি– কে বলছেন?

: চিনবে না

চাচি– চিনবো না তো ফোন করেছেন কেন?

: তোমার সাথে কথা বলার জন্য

চাচি- আমি কেন অচেনা কারো সাথে কথা বলবো? আগে আপনার পরিচয় দিন।

: পরিচয় তো অবশ্যই দেব। তার আগে আমাকে বুঝতে দাও।

চাচি- কি বুঝতে চান?

: তোমাকে আমার খুব পছন্দ। অনেকদিন ভেবেছি। তুমি যেমন একটা নাম করা পরিবারের মেয়ে,  তেমনি এ শহরে আমারো পরিবারের একটা স্বনামি পরিচয় আছে।

এমনি নানারকম কথার ফাঁকে কলদাতা শর্ত দিলেন যে,  বিকেলে যদি রিতা গেটের সামনে দাঁড়ায় তাহলেই বুঝবে রিতার সম্মতি আছে। তাহলেই পরেরদিন যথাসময়ে আবার ফোন করো বাকি কথা বা পরিচয় দেবে। এও চাচি কৌশলে জেনে নিয়েছিলেন যে তাঁকে চিনবে কি করে? কলদাতা বলেছিলো,  সাদা শার্ট আর ব্লু জিনস্ আর হাতে কালো ডায়েরী থাকবে তাঁর হাতে। রিতার রোজকার ভাতঘুমের প্রাক্কালে দুই মা চাচি গেট দখল করো পরম বিশ্বাসে গিয়ে দাঁড়িয়েছেন গেটের সামনে ব্লু জিনস্, সাদা শার্ট হাতেতো কালো ডায়েরীর যুবককে দেখে রাখার জন্য।

কথা হলো এখানে,  ভাত ডাল মাছের ঝোলে লবন পরিমানমতো হলো কিনা দেখার মতো পাকা গৃহিনীদ্বয় নিজেদেরকে ব্যোমকেশ বকশী  ভাবতে চাইছিলেন নিজেদের গোয়েন্দাগিরিতে।  সে গুড়ে বালি ঢেলো কলদাতা উপরিঅন্ত শেয়ানাগিরিতে উৎরে গেছেন নিজের পরিচয় গোপন রাখতে। তিনি এসেছিলেন ঠিকই, কিন্তু ভিন্ন পোষাকে। কলদাতারও সন্দেহ নিশ্চই হয়েছিলো আসলেই কি ফোনের অপর প্রান্তে রিতা নাকি অন্য কেউ? পরেরদিন ফোন দেবার আগেই নিজেদের ( মা চাচি) জল্পনা মোতবেক শামসুকে ডাকানো হলো,  বোঝার জন্য যে,  তাঁর কোনো বন্ধু কিনা?

এই ঘটনার এক বছর আগে এই শামসু চাচ্চুর আরেক বন্ধু সাহস করে বাসায় টেলিফোন করতে আসার নাম করে রিতার হাতে হাতে প্রেমপত্র ধরিয়ে দিয়ে গিয়েছিলো। রিতা সেই পত্র মা চাচির হাতে তুলে দিয়ে বলেছিলো জাহাঙ্গীর এ চিঠি দিয়েছে। মেজো চাচা জাহাঙ্গীরের মাকে আলটিমেটাম দিয়ে তাঁর ছেলেকে শহর ছাড়তে বাধ্য করেছিলো।

কলদাতা ছেলেটির নাম কখনোই নিশ্চিত করে রিতা জানতে পারেনি। একগাদা লেকচার দিয়ে চাচি কলদাতাকে পড়াশোনায় মন দেবার উপদেশ দিয়ে নিজের পরিচয় দিয়ে দিয়েছেন। ” আমি রিতা না, রিতার চাচি। কলদাতা ছোট্ট করে বলেছিলো, ” আমি বুঝতে পেরেছি”…….

আজ♦ বিকেলে মেয়ে শশুড়বাড়ি চলে যাবার পর, শমরেস মজুমদারে গর্ভধারিণী  পড়ছিলাম। একটা আননোন নাম্বার থেকে কল এলো। সালাম দিয়ে কে জানতে চাইতেই অপর প্রান্ত থেকে মহিলা কন্ঠ — ইতি? তুই কি ইতি?

: কি? ইতি? আপনি কে?

— আমি আসমা,

: কোন আসমা?

— আরে,  চেনো না? আসমা! জর্দ্দা কোম্পানী!  তুমি ইতি না? তোমার নাম্বার রিবু দিছে। তুমি ইতি না?

আমি এ প্রান্তে আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে দন্ত বিকশিত করে ভারী হওয়া গালে পান চিবুতে চিবুতে হাসছি চোখের কোনে চিকচিকে খুশি নিয়ে। কারন হলো- রিবু ভুল শুনেছে।  আসমা  চেয়েছে রিবুর কাছে ইতির ফোন নাম্বার। রিবু দিয়েছে লিপির নাম্বার। ইতি, রিবু, আসমা তিনজনই রং নাম্বারের শিকার। আর এই রিবুর ভুল শোনা আসমার আমাকে ফোন দেয়া সবটাই কোয়েন্সিডেন্স।  আসমা, রিবু, ইতি,  লিপি। এবার পাঠক বৃন্দ ভাবুন একবার। এই চারজনই এক্কেবারে বাল্যকালের প্রথম স্কুল জীবনের বান্ধবি। যাদের সাথে কোনো যোগাযোগ ছিলোনা এ পর্যন্ত। রিবু একবার ফোন দিয়েছিলো বছর পাঁচেক আগে। সেও আচমকা আরেক বান্ধবির কাছ থেকে লিপির মোবাইল নাম্বার সংগ্রহ করে। আমি আসলে বড্ড ভাগ্যবতী। আমায় মনে রেখেছে এখনো এরকম কিছু দূরমূল্যের বান্ধবিরা।

জয় রং নাম্বার……….

 

নোটঃ তৌহিদ ভাই। কইছিলাম ছোট ছোট পুকুর কাইট্টা নদী নিয়া আসমু😊  এখন ধৈর্য নিয়া পইড়া মন্তব্য করেন।

আসলেই, এ যাবৎকালের মনে হয় সবচে বড় লেখা লিখলাম। আশা করি পড়তে বোরিং হবেন না কেউ।

শুভ ব্লগিং🌹

১৫৫জন ১জন
0 Shares

২৫টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

ফেইসবুকে সোনেলা ব্লগ

লেখকের সর্বশেষ মন্তব্য