পৃথিবীটা কমলা লেবুর মতন গোল

শামীম চৌধুরী ১৩ নভেম্বর ২০১৯, বুধবার, ০১:২৩:৩৩পূর্বাহ্ন ভ্রমণ ১৫ মন্তব্য

রাজশাহী শহরটা আমাকে খুব টানে। তার একমাত্র কারন পদ্মার চর। হরেক প্রজাতির পরিযায়ী পাখির কলতানে মুখরিত হয়ে উঠে এই চর। সারাদিন নৌকায় বসে পাখিগুলির ‍উড়াউড়ির দৃশ্যে ও বর্ণীল রঙে নিজেকে হারিয়ে ফেলি । তাই গত সপ্তাহে টানা তিন দিন বন্ধ থাকায় চলে যাই রাজশাহীতে। মূল উদ্দেশ্য ফটোগ্রাফী।

শুক্রবার খুব ভোরে পৌছি প্রিয় শহরে। হোটেলে মালপত্র রেখে বের হয়ে যাই পদ্মার চরে। হোটেলের সামনের রাস্তায় বসে মাঠা বিক্রি করছেন একজন মাঠাওয়ালা। আমরা সবাই মাঠা পান করছি।এরই ফাঁকে একটি ছবি তুলে “ Good morning Rajshahi” লিখে ফেসবুকে পোষ্ট দেই। পরের দিন সকাল ৭টায় মোবাইলের স্কীনে ভেসে উঠে একটি নাম। আদরের ছোট ভাইটির নাম ভেসে উঠাতে একটু থমকে যাই। এতো সকালে ম্যাসেঞ্জারে কল! ধুরু ধুরু বুকে কলটা রিসিভ করি। হ্যালোঃ বলার সাথে সাথে অপর প্রান্ত থেকে পরিচিত ও মিষ্টি একটি কন্ঠ ভেসে আসে। সালাম দিয়ে বলে ভাই আপনি কি রাজশাহী?

উত্তর দিলাম, হুম আমি রাজশাহী।

অপরপ্রান্ত থেকে উত্তর আসে আমিও রাজশাহী। কোথায় উঠেছেন? বললাম হোটেল মুনে। ভাইটি বলে উঠলো আমি চিনি আপনার হোটেল। দেখা করতে চাই। কখন থাকবেন? সন্ধ্যা ৭টায় আসতে বললাম। ওর সাথে কথা শেষ করে ছুটে গেলাম আবারো পাদ্মার চরে। সেদিন “বুলবুল” তান্ডব নৃত্য দেখাতে পারে বলে সারা দেশ ছিলো আতঙ্কে। অথচ ছবিয়ালদের কোন ডর-ভয় নেই। উত্তাল পদ্মার বুকে নৌকা নিয়ে ভেসে বেড়াচ্ছি। আকাশে কালো মেঘ দেখা যাচ্ছে। তারপরও কি যেন এক নেশা সমস্ত ডর-ভয় পাশ কাটিয়ে পুরোদ্দমে সামনে চলার শক্তির যোগান দিচ্ছে। সারাদিন পদ্মায় কাটিয়ে সন্ধ্যায় হোটেলে ফিরি। ফ্রেশ হয়ে চা’র কাপ হাতে নিয়ে বসে আছি। এরই মাঝে বেঁজে উঠলো ফোন। বললো, ভাই আমি আপনার হোটেলের নীচে। রুমে আসার আমন্ত্রন জানালে উত্তর দিলো আপনি নীচে আসুন। স্বশরীরে ভাইটিকে দেখবো বলে শরীরের ভিতরে বেশ উত্তেজনা কাজ করছিলো। কোন কথা না বাড়িয়ে নীচে নেমে আসলাম।

নীচে নেমে তৌহিদকে দেখে কিছুক্ষন বোবা হয়ে রইলাম। মনে মনে ভাবলাম এটাও কি সম্ভব? ভার্চুয়াল জগতে দেখা ও ভার্চুয়াল কথা। ভার্চুয়াল কি করে রিয়েল হয়? নানা প্রশ্ন যখন মাথায় ঘুরপাক খাচ্ছিলো তখন তৌহিদের স্বভাব সূলভ হাসি, মিষ্টি কথা ও ভালোবাসায় নিজেকে হারিয়ে ফেলি। বড় ভাই হিসেবে আমাকে শ্রদ্ধা,ভালোবাসা ও বিশ্বাস করার প্রবনতা দেখে আমার মনে হলো আমরা একই মায়ের গর্ভে দুই ভাই। অতীত জীবনের অনেক ঘটনাই আমার কাছে শেয়ার করলো। সব শুনলাম। শুধু একটি কথাই বললাম জীবন সংগ্রামে তুমি জয়ী।

হোটেলে বসে নানরুটি ও হালিম খাবার ফাঁকে ফাঁকে আলাপচারিতায় মশগুল ছিলাম তৌহিদের সাথে।  আড্ডার অধিকাংশ জুড়ো ছিলো সোনেলাকে ঘিরে। তাতে বুঝতে পারলাম সোনেলা তৌহিদের আরেকটি সন্তান।

তৌহিদের মেধা, গুনাবলী, সাহসিকতা ও বন্ধুসূলভ মনোভাব যে কাউকে আকৃষ্ট করার ক্ষমতা রাখে। সুন্দর মনের একজন মানুষের সাথে ভিন একটি শহরে দেখা ও কথা হওয়ায় নিজেকে ধন্য মনে করেছি। যা সম্ভব হয়েছে শুধু মাত্র তৌহিদের ইচ্ছা শক্তির জন্য।

অনেক দোয়া আর ভালোবাসা রইলো আমার এই ছোট ভাইটির জন্য। তৌহিদ আবারো প্রমান করলো পৃথিবীটা কমলালেবুর মতন গোল।

১৬৯জন ৬০জন
22 Shares

১৫টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

ফেইসবুকে সোনেলা ব্লগ

লেখকের সর্বশেষ মন্তব্য