পুরুষ! সেতো বিশ্ব বেহায়া

তৌহিদ ১৪ অক্টোবর ২০১৯, সোমবার, ০৯:৩৮:৪০অপরাহ্ন একান্ত অনুভূতি ২৭ মন্তব্য

ত্রস্ত দ্রস্ত উদ্ভ্রান্ত পথিকবর কলুষমন্ডিত নেত্রে তাকিয়ে আছে টইটুম্বুর নীহারিকার পানে। নিকষকালো গহ্বরে মিটিমিটি জ্বলা বর্শাধারী কালপুরুষ সেই আগের মতনই একঠাঁই রয়ে গিয়েছে, প্রথম পদচিহ্নে যেমন দেখেছিলো ঠিক তেমনই। পুরুষ যে সে! পরনের বসন গাছের বাকল থেকে সুতোয় রুপান্তরিত হয়েছে তবুও এতটুকু এলেবেলে হয়নি তার সুক্ষ্মদর্শী বাসনা। হবেইবা কি করে? সেতো এক ঐশ্বরিক নামধারী – পুরুষ! পুরুষ! পুরুষ!

লজ্জিত, নিষ্পেষিত এসব শব্দকে পুরুষ ঢাল বানিয়েছে স্পর্শকাতরতার মোহাচ্ছন্নতায়। নিষিদ্ধ শিহরণে উন্মগ্ন অগ্নিতে গলে যাওয়া চিরাচরিত আকাঙ্ক্ষিণীরা নাকি শুধু ডুবাতে জানে ভাসাতে নয়! অথচ অচ্ছুত দেহজতায় প্রাপ্তি সেটুকু পুরুষের শুধুই বিলাসিতা। এতেই যেন পুরুষাত্মার পুজ্যণীয় সুখ! মনের স্বচ্ছতা হারিয়েছে আগেই। সেই কবে শুভ্র সফেদ বালিয়াড়িতে নিজ হাতে একবার হরিণীর নগ্নমূর্তি বানিয়ে তাকে একপলক দেখেছিলো, সে সবই আজ সোনালি অতীত।

ধূম্রজালিকার ছন্নছাড়া বাতাসে বিষণ্ণতায় ভর করে হামাগুড়ি দেয়া কল্পনাবিলাসি বাতায়নে প্যাপিরাস পাতায় লেখা প্রেমের কবিতাগুলিকে ছিন্নভিন্ন টুকরোয় উড়ানোর ব্যর্থ প্রয়াসে তার চোখ বেয়ে নামে নোনা অশ্রু। প্রেমায়বে মোড়ানো স্পর্শ অনুভূতিগুলিতে আর ধার নেই। তবুও সদা উদ্বেলিত নগ্ন জাগ্রতচিত্তে, কারন সে পুরুষ!

নাটাই ছাড়া ঘুড়ি সেজে বেখাপ্পা কঠিন অবায়বের ফানুস হয়ে ওড়ে সে নক্ষত্র দিশায়। আজন্ম অক্ষয়তায় অমোচনীয় কালিতে যে নাম লিখেছিলো পুরুষ, কালের খেয়াতলে সেসব আজ অনির্বাণ খেঁচড়ায় পরিগণিত হয়ে দুমড়ে মুচড়ে একাকার করেছে মানবাত্মাকে। দুঃখ শোকের অববাহিকায় কামাক্ষ্যারুপ সাধু বেশে অর্চনীয় পুরুষশার্দূল থেকে সাবধান!

অভিশাপগ্রস্ত পুরুষের নিঃসৃত দেহরসের কামনায় নেই প্রাণ, যা আছে তার সবই হেমলকে পূর্ণ। সবুজাভ পিঁপড়ে নয় পুরুষের নিথর দেহকে লাল কাঁকড়ারা খুবলে খায় প্রতিনিয়ত, গলাধঃকরণ করে তার সাদারক্ত। তবুও বিকারগ্রস্থতা নেই এতটকু, কারন সে যে নির্লজ্জ পুরুষ! নিঃশেষিত হয়েও অন্তিমতার আনন্দে উদ্বেলিত, আচ্ছন্নতায় ভর করে কামাকাঙ্ক্ষী হয় বারংবার।

পথিক হাঁটুগেড়ে বসে সাগরপাড়ে, শীৎকারে নয় ইদানীং চিৎকারে হয় ক্ষান্ত। হিমশীতল বালিয়াড়ির বুকে নিজেকে সঁপে দেয়া ছাড়া আর কিইবা করার আছে? আহ ইশ্বর! শান্তি দাও, এতটুকুতো চাইতেই পারি। জ্বলন্ত উনুনের তীব্রতায় সে পোড়ারমুখীদের অসহ্য কামচিত্ততায় পুরুষ আজ সত্যিকারের আত্মজতায় হয়েছে বিষদগ্ধা।

পুরুষের মৃত আত্মাও বিশ্ব বেহায়ার মত বলে- আহ! কেমন ছিলো সমুদ্রের সে নোনা জলের স্বাদ যদি জানতেম!

২১৮জন ২৪জন
75 Shares

২৭টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

ফেইসবুকে সোনেলা ব্লগ

লেখকের সর্বশেষ মন্তব্য