পুণ্ড্র জাতি সম্বন্ধে বিভিন্ন জায়গায় উল্লেখ করা হয় পুণ্ড্র বোলে যে জাতি গোষ্ঠী এক সময় আমাদের এই বঙ্গ ভূমীতে বসবাস করতো যে স্থান টিকে  বলা হতো ”  পুণ্ড্র বর্ধন” সেই পুণ্ড্র বর্ধনের  পুণ্ড্ররা হারিয়ে গেছে ।

ডিএনএ গত প্রমান  হোল অকাট্য প্রমান । ডি এন এর কোন মৃত্যু নায় । ডি এন এ দ্বারাই আমরা জানতে  পারি আমাদের পূর্ব পুরুষরা কে ছিল, আমরা কোথা থেকে এসেছি এবং এখন কোথায় তাদের বসবাস । এই ডিএনএর পরীক্ষার ফলাফল দিয়ে আমরা জানতে  পারছি বাংলাদেশ,দক্ষিণ,ভারত আর শ্রীলংকায় বসবাস কারি মানুষের ডিএন এ গত মিল । 

নৃবিজ্ঞানী রা একই  জাতি খোঁজার জন্য ডিএনএ ছাড়াও অনুসন্ধান করে  মাথার খুলির পরিমাপ, প্রথাগত মিল , ভাষা ,ধর্ম , খাদ্যাভ্যাস আর মুখমণ্ডলের সাথে মিল   

 এই মিল গুলো এই অঞ্চলে বসবাস কারীদের মধ্যে পাওয়া যায় । এই ডিএনএ গত মিল  দেখতে তো পাচ্ছি আরও পাচ্ছি প্রথা আর নিয়ম নীতির  মিল । 

আমার মনে হয় এই বাঙালি জাতি ই সেই হারিয়ে যাওয়া “পুন্ড্র” বা “দ্রাবিড়”। কিছু তো মিশ্রণ থাকবেই । 

আমাদের ডিএনএ পরীক্ষা করলে দেখা যায়, তাতে বাংলাদেশ, পূর্ব আর দক্ষিণ ভারতীয় অধিবাসীর ডিএনএ সাথে মিল। মাদ্রাজ আর দক্ষিণ ভারতে দ্রাবিড় দের বসবাস। 

লেখকের DNA

https://www.ancestry.com/dna/

বাংলাদেশি দের ডি এন মানচিত্র

অঙ্গ, বঙ্গ, কলিঙ্গ, পুন্ড্র, সুমা আর গৌড়। এই কটি জনপদ নিয়ে পুন্ড্র বর্ধন গড়ে উঠে ছিল। আর্যরা একটু একটু করে বিহার পর্যন্ত আসলেও বঙ্গ পর্যন্ত আসতে অনেক বাধাগ্রস্থ হয়েছিল অনার্য দ্বারা। বাধাগ্রস্ত হওয়ার ফলে বঙ্গবাসী কে শুনতে হতো “দস্যু” বা “নিচু জাত”। যা কিনা নিজেদের কে সভ্য বলে তুলনা করার জন্য। যেহেতু বাঙালি আর দক্ষিণ ভারতীয়রা অনার্য ছিল আর তাদের ছিল নিজ সভ্যতা আর স্বকীয়তা। তারা তাদের স্বাধীনতা হারাতে চাইত না। জাতিগত বিদ্বেষ তখনি আরম্ভ হয়, যখন কোনো জাতি নিজেদের কে বেশী উচ্চতর শ্রেণী ভাবতে শুরু করে। এও বলা হয়ে থাকে বাংলাদেশের মুসলমান নমঃশূদ্র জাত থেকে মুসলমান হওয়া। বহু বৌদ্ধ ধর্মের অনুসারী ও সে সময় ধর্ম পরিবর্তন করে মুসলমান হয়। সময়টা পাল বংশের ক্ষমতা চলে যাওয়ার পরে ।

এই নমশূদ্র রাই  আর্য দের জাত প্রথা কে ঘৃণা করে ধর্ম পরিবর্তন করে, এটা অনেকটা “প্রতিবাদ” জাত প্রথার বিরুদ্ধে।  যে জাত সিস্টেম চালু হয়েছিল  সেন রাজা দের আমলে বিভেদ সৃষ্টি করাই ছিল এর উদ্দেশ্য ।

আমার মনে হয় এই জাতগত প্রতিবাদী স্বভাব সুলভ অভ্যাস টা আমরা এখনো বহন করে যাচ্ছি। 

ইতিহাস কে লিখছে তার উপরেই ইতিহাসের গল্প গড়ে উঠে। রামায়ণ, মহাভারত লেখা হয় আর্য দ্বারা। তাই এতে থাকা লেখা গুলো তারা নিজেদের মতই লিখে রেখেছে। অনার্য দের নিচু জাত হিসেবে দেখানো হয়েছে। 

পুন্ড্র, গৌড় আর বরেন্দ্র নাম দিয়ে এখনও অনেক প্রতিষ্ঠান আছে ঐ সব অঞ্চলে। যেমন পুন্ড্র কলেজ অফ সায়েন্স এন্ড টেকনলজি, পুন্ড্র হাই স্কুল, পুন্ড্র বাজার, পুন্ড্র ভিলেজ, বরেন্দ্র কলেজ, বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়, বরেন্দ্র মেডিকেল কলেজ, দৈনিক গৌড়, গৌড় এক্সপ্রেস, গৌড়মতি আম। 

পাকভারত উপমহাদেশের অন্যান্য অঞ্চলের মানুষের চেহারার চেয়েও এই অঞ্চলের মানুষের চেহারা থেকে একটু অন্যরকম। 

বেশীর ভাগ বাঙালি মানুষের চেহারার মিল দক্ষিণ ভারতের মানুষদের সাথে, কিছু আসামি দের বা নেপালিদের সাথেও মিল। কারন অনেক আগে থেকে কিছু কিছু মঙ্গলএড, সাঁওতাল, নিগ্রো আর অস্ত্রলএড মানুষ গ্রাম অঞ্চলে বসবাস করতো। 

পুন্ড্র এর উল্লেখ: 

বৈদিক টেক্সট যেমন “আইতেরিয়া আরিঅনাকা”(৮ম – ৭ম সেন্তুরি বি সি) তে সর্ব প্রথম পুন্ড্র জাতির কথা উল্লেখ আছে। লেখা আছে গান্ধকি নদীর পাশে অনার্য পুন্ড্র জাতি বসবাস করে। অশোক নামা তে পুন্ড্রদের কথা উল্লেখ আছে। বলা হয়েছে “পুন্ড্রবর্ধনে পুন্ড্রদের বসবাস”।

পুরাণ মতে রাজা বালি আর রানি চন্দ্রাবাসি তাদের পাঁচ পূত্রের নামে পাঁচটি কিংডম প্রতিষ্ঠা করে, এগুলো হলো – অঙ্গ, বঙ্গ, কলিঙ্গ, শুমা আর পুন্ড্র। এই গুলো যুক্ত রাজ্য হিসেবে ছিল আর পুন্ড্র ছিল প্রধান শাসনের কেন্দ্রস্থল। পাণিনি কালে রাজা ছিলেন পাউন্দ্রিক বাসুদেভা।  

** ক্রমশ ——-

৬৩২জন ৩৭৫জন
25 Shares

১৪টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

ফেইসবুকে সোনেলা ব্লগ

লেখকের সর্বশেষ মন্তব্য