মা কাল তো পহেলা বৈশাখ, একটা শাড়ি কিনে দাও না; রিতু তার মাকে বলল

আর দশটা মেয়ের মত রিতুও নতুন শাড়ি পরে তার বান্ধবীদের সাথে মেলায় যেতে চায়। সেও নতুন শাড়ির সাথে হাত ভর্তি চুড়ি, খোপায় বেলি ফুল দিয়ে মেলায় ঘুরে ঘুরে বেড়াবে। অনেক পরিকল্পনা তার, মেলায় বিভিন্ন স্টল ঘুরে ঘুরে দেখবে, নতুন নতুন জিনিস কিনবে ছোট ছোট বাচ্চাদের সাথে খেলা করবে, আরো কত্তকিছু… ভাবতেই রিতুর চোখ আনন্দে চকচক করে উঠে।

রিতুর মাঃ ওগো শোন না, মেয়েটা শখ করে একটা শাড়ি চেয়েছে পহেলা বৈশাখে পরবে, ওর বান্ধবীদের সাথে মেলায় যাবে। (অনেক আশা নিয়ে কথাটা বললেন রিতুর মা)

রিতুর বাবাঃ আগামী মাসের ঘরভাড়ার টাকাটায় এখনো যোগাড় হল না। ঘরের চাল ও শেষ হয়ে এসেছে। কি করব বল? মেয়েটার এই সামান্য ইচ্ছাটুকু পূরণ করতে পারব না আমি। আল্লাহ্‌ কেন যে আমাদের দিকে মুখ তুলে তাকায় না। (বুক থেকে একটা দীর্ঘশ্বাস ফেল্লেন রিতুর বাবা)

বিকেল বেলা, রুপা, রুপন্তি, রাশা সাজুগুজু করে, হাত ভর্তি চুড়ি পরে, নতুন শাড়ি পরে, খোপায় বেলি ফুল দিয়ে রিতুর বাসায় আসল, উদ্দেশ্য সবাই একসাথে মেলায় যাবে এবং অনেক অনেক মজা করবে।

রিতুর মার কাছে জিগ্যেস করে তারা জানতে পারল রিতু তার ঘরেই আছে। তারা সবাই রিতুর ঘরে গিয়ে দেখতে পেল রিতু শুয়ে আছে।

কিরে রিতু তুই এখনো রেডি হোস নি? চল সবাই তো চলে যাচ্ছে মেলায়, রুপন্তি বলল।
পাশে থেকে রুপা তার নতুন শাড়ি ঘুরিয়ে ফিরিয়ে দেখিয়ে বলল, এই দেখ কি সুন্দর শাড়ি, কালই আম্মু ২০০০ টাকায় কিনে এনেছে।

রিতু অনেক কষ্টে তার চোখের পানি আটকিয়ে বলল; নারে আমি আজকে মেলায় যাব না, আমার অনেক জ্বর আর প্রচণ্ড মাথা ব্যাথা, তোরা যারে মজা কর। (আবার বালিশে মাথা গুজে শুয়ে পড়ল রিতু) তারা অনেক জোর করেও তাকে নিতে পারল না।

বাসা থেকে বের হয়ে সবাই যখন হাঁটা শুরু করল, রিতু এক দৌড়ে বারান্দায় গিয়ে দাঁড়াল। দুচোখে পানি ঝরেই যাচ্ছে তার। যেন চিৎকার করে বলতে ইচ্ছে করছে প্লীজ আমাকে তোরা নিয়ে যা, আমিও তোদের সাথে মেলায় যাব, আমিও অনেক মজা করব।

রিতুর মা পেছন থেকে সব দেখে ফেলল এবং তার কাপড়ের আঁচল দিয়ে খুব সাবধানে চোখের কোণা মুছে ফেলল…

“পহেলা বৈশাখ কারো কারো কাছে দামী শাড়ির ফ্যাশন শো, আর গরীবের কাছে আকাঙ্ক্ষার চাহনি”

৩৫১জন ৩৪৬জন
5 Shares

৯টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

ফেইসবুকে সোনেলা ব্লগ