পর্ণোগ্রাফীর কুফল

নীরা সাদীয়া ২৯ মে ২০১৭, সোমবার, ১০:৫৫:৫১অপরাহ্ন সমসাময়িক ২৪ মন্তব্য

অনেকদিন যাবত ভাবছিলাম, এই নিয়ে কিছু লিখি।আজ আর না লিখে পারলাম না।

এদেশের অনেক বক ধার্মিক মেতে থাকেন পর্ণো নিয়ে।আর ফেবুতে তারা জ্ঞানের বানী পোস্ট করে ভরিয়ে তোলেন, যেন তাদের মত ধার্মিক আর নেই। তাদের মতে

এদেশের মেয়েরা ন্যাকেড হয়ে চলে,
এদেশের মেয়েরা স্বল্প পোশাক পরে,
মেয়েরা হিজাব পরলে তারা বলবে, ফ্যাশন করার জন্য পরে।
হিজাব না পরলে তারা বলবে বেপর্দা।
মেয়েরা অশালীন পোশাক পরে।
তাদের সম্পর্কে অকথ্য ভাষায় বলা হবে তারা এটা দেখায়, ওটা দুলায় চলে।

আমার দেখা মতে, খুব বেশি বড়লোক ও প্রাইভেট ভার্সিটির ২/৪ টা মেয়ে টপস ও জিন্স পরে। তা ছাড়া বাকি মেয়েরা যথেষ্ট সংযমী এবং থ্রী পিস (জামা, সালোয়ার এবং ওড়না) পরে, সাথে মাথা ঢাকে হিজাব দিয়ে। কেউ বোরখা পরে এবং মাথা ঢাকে হিজাব বা ওড়না দিয়ে। অথচ এসব পোশাক পরার পরেও তারা নাকি ন্যাকেড হয়ে চলে!

আমার যদ্দূর মনে হয়, এসব পর্ণো গ্রাফীর কুফল। তারা সারারাত পর্ণো দেখে দিনের বেলায় রাস্তায় বের হয়ে যত মেয়ে দেখে সবার সাথে ঐ পর্ণো তারকাদের মেলানোর চেষ্টা করে, আকাশ কুসুম কল্পনা করে। তারাই এসব ডায়লগ দেয়, আপুরা ন্যা*টা হয়ে পথে চলবেন না, আমাদের রোজা নষ্ট হয়ে যাবে!

আরো হাস্যকার ব্যপার হল, রোজা মানেই সংযম। আপনার মুখের সংযম, ক্ষুধার সংযম, চাহিদার সংযম, সততার সংযম এবং চোখের সংযম। এখন আপনি হা করে মেয়েদের দিকে তাকিয়ে থাকবেন, ভুলে একবার চোখ পড়ে গেলে আরো দশবার ইচ্ছে করে তাকাবেন তারপর সব দোষ মেয়েদের ওপর চাপাবেন, সকল উপদেশ মেয়েদেরকে দিয়ে নিজেরা ভারমুক্ত হতে চাইবেন, উল্টাপাল্টা যুক্তি দিবেন, তাতে কি নিজের গুনাহ কিছু মাফ হবে?

ধর্ম কি শুধু নারীকে বিধান দিয়েছে? আপনাদেরকে দেয়নি? বরং নারীর আগে পুরুষকে বলা হইছে নিজের দৃষ্টিকে সংযত করতে।

কোন পুরুষ মানুষ যেমন ফেরেশতা না কোন নারীও তেমনি ফেরেশতা না। পৃথিবীতে নিজের চলার পথ নিজেকেই তৈরি করতে হবে।কেউ আপনার জন্য পথ বানিয়ে রাখবেনা। হোচট খেয়ে পরে গিয়ে মাটিকে দোষারোপ করলেতো হবে না। বরং অন্যকে দোষারোপ না করে প্রত্যেকেই নিজের ধর্মে নিজের জন্য কি বিধান দেয়া আছে তা ফলো করি। শুদ্ধভাবে রোযা পালন করি।

আরেকটা বিষয়, তা হল, আসছে রোযা। এবার বদ লোকেদের টিজিং এর মাত্রা আরো বেড়ে যাবে। নারীদেরকে উত্যক্ত করে অতিষ্ঠ করে ফেলবে, তারা রোযা রাখল কিনা? কেন রাখেনি? কি তার কারণ? ৩০ রোজাই তারা রাখতে পারবে কিনা? কেন পারবে না? তারপর পৈশাচিক হাসি!!! শুধু অনলাইনে না, বাস্তবেও এমন জানোয়ারের দেখা বহুবার পেয়েছি।
তাদের উদ্দেশ্যে বলছি,

আপনাকে যিনি জন্ম দিয়েছেন তিনিও রমযানে ৩০ রোযা রাখতে পারেন নি। যদি পারতেন, তবে আপনার জন্ম হত না।
মনে রাখবেন,
যার যার রোযার হিসেব সৃষ্টিকর্তাকে সেই দিবে, আপনি নন।

৪৬৫জন ৪৬৪জন
0 Shares

২৪টি মন্তব্য

  • আবু খায়ের আনিছ

    ঠিক পর্ণোগ্রাফির কুফল বর্ণনা করলেন কিনা বুঝা গেলো না। তবে যা বলেছেন তা অনেক যদি বুঝার সক্ষমতা থাকে তবে।

    পোশাক কখনো ধর্ষণের কারণ হতে পারে না, ইভটিজিং এরও না। মানুষের মানবিক মূল্যবোধ কমে যাওয়া, সামাজিক এবং পারিবারিক অবক্ষয়, বেকারত্ব এগুলোকে অন্যতম কারণ বলা যায় ধর্ষন এব ইভটিজিং এর।

  • জিসান শা ইকরাম

    ‘ এদেশের মেয়েরা ন্যাকেড হয়ে চলে’ এমন কথা প্রায় সমস্ত ওয়াজ মাহফিলে এমন ভাবে বলা হয় ‘ স্কুল কলেজ ভার্সিটির মেয়েরা উলংগ হয়ে চলে।’ একই কথা যারা জামাত, শিবির করে তারাও বলে।
    আসলে এদের কল্পনায় এমন চিন্তা থাকে বলেই এরা এমন করে বলে।
    আমাদের দেশের মেয়েরা অত্যন্ত শালীন পোষাক ব্যবহার করে। কিন্তু এদের দৃষ্টিতে তা অশালীন। সমস্ত কিছুর জন্য মেয়েদের দায়ী করার একটি মানসিকতা এদেশের অধিকাংশ পুরুষদের মাঝে আছে।

    খুবই ভাল একটি পোষ্ট,
    এমন লেখা আরো চাই।

  • আগুন রঙের শিমুল

    //আপনাকে যিনি জন্ম দিয়েছেন তিনিও রমযানে ৩০ রোযা রাখতে পারেন নি। যদি পারতেন, তবে আপনার জন্ম হত না।
    মনে রাখবেন,
    যার যার রোযার হিসেব সৃষ্টিকর্তাকে সেই দিবে, আপনি নন।//

    পঞ্চতারকা, একদম মনের কথাগুলো কইছেন

  • শুন্য শুন্যালয়

    সবচাইতে মজার ব্যাপার হইলো ধর্মের তিন নাম্বার স্তম্ভ রোজা নিয়া সবার বিশাল মাথাব্যাথা। এক ওয়াক্ত নামাজ পড়ে কিনা ঠিক নাই, ঈমান তো দেখতে পাইনা ভাগ্যিস। কিন্তু রোজা না রাখলে বিশাল গুনাহ কইরা ফালাইছি। রোজা নাই শুনলেই ভাবে, আমার পিরিয়ড চলে। সেই হাসি শুধু পুরুষ নয়, নারীদের চোখেও দেখেছি।
    আরো মজার ব্যাপার হইলো দলে দলে এইসব বকধার্মিকরা ওয়েস্টার্ন কান্ট্রিতে এসে নিজেদের ধর্ম ঈমান বাঁচানোর জন্য মছলা দিয়ে যাচ্ছে।
    এরা যে কী গ্রাফি দেখে তা তাদের লাইক কমেন্ট দেখলেই বোঝা যায়।
    ভালো লিখেছ নীরা…

  • নীহারিকা

    আমার মনে হয় না মেয়েদের প্রতি ছেলেদের এ দৃষ্টিভঙ্গী শুধুমাত্র পর্ণগ্রাফিরই কুফল। এদের সামাজিক, পারিবারিক এবং ব্যক্তিগত শিক্ষার অভাব রয়েছে। ভালো লিখেছো।

  • মোঃ মজিবর রহমান

    পোশাক ফ্যাক্ট না তা বল্বো না। পোশাক চলার ক্ষেত্রে এই ধর্ষণের একবারেই যে নাই তাও বল্বো না। কয়েকদিন পূর্বে ইন্ডিয়ান বাংলা মুভি অভিমান দেখলাম বাড়ীর করতীকে মেয়েরা যখন একটি বার্থডে পারটিতে যাচ্ছে মেয়েদের পশাকের দিকে তাকিয়ে মারকার পেন দিয়ে হাটুর নিচে দাগ দিলেন। ছোট্ট আমি ে কি করলেন। পোশাক এর দাগের নিচে থাকবে। এটা নেহাত খারাপ কিছু না।
    জানি আমাকে তুলো ধুনা করতে পারেন। কিন্তু মানেন বাঁ না মানেন এটা আমার নিজস্ব মত যে চলা ফেরায় পোশাক দেহকে যদি ঠেকে না রাখতে পারেন তবে মানুষের মাঝে কম বেশি সমালচনা হতেই পারেন। মনন কারো কোথায় চলে না। অন্তরের গহীন থেকে উদয় হয় । আমাকে আপনি ঘুটির সঙ্গে বেধে রাক্তে পারবেন কিন্তু আমার মঙ্কে নয়।

    • নীরা সাদীয়া

      পোশাক যদি দায়ী হয় তবে ২ বছরের শিশুরা কেন মুক্তি পা্রয না? আর এখানে মেয়েদের যে পোশাকের বিবরণ আমি দিয়েছি বাংলার মা বোনেরা সেসব পোশাকই পরেন। তাঁরা পর্ণো তারকাদের মত পোশাক পরেন না, সমালোচকরা যেমন বর্ণনা দেন। আর মুভির কথা বলছেন? মুভিতে নায়িকাদেরকে পরিচালকরা যে পোশাক পরায় তা কি বাস্তবে মেয়েরা পরে? এদেশের অধিকাংশ মেয়েরাই শালীন পোশাক পরে। তবে পুরুষরা অশালীন দৃষ্টিতে তাকিয়ে অশালীন কল্পনা করলেতো তেমনটাই মনে হবে। তাদের নিজেদের দৃষ্টি কেন তারা সামলাবেনা? আপনারা নারীদেরকে পোশাকের জন্য তুলোধুনা করেন, অথচ পুরুষের দৃষ্টি সংযত রাখার ব্যপাররে নীরব কেন?

      • মোঃ মজিবর রহমান

        তবে পুরুষরা অশালীন দৃষ্টিতে তাকিয়ে অশালীন কল্পনা করলেতো তেমনটাই মনে হবে। তাদের নিজেদের দৃষ্টি কেন তারা সামলাবেনা? এখানে সহমত। কিন্তু এখানে কিছু মানুষ আলাদা থাকে থাকবে। তেমনি কিছু মহিলাও আছে!

        আমি ২০০৭ সালে সংসদ ভবনের দক্ষিন প্লাজায় একদিন ঘুরছি, মেয়েত স্বাভাবিক পোশাক কিন্তু মেয়ের মায়ের স্রী অতি নগন্ন।

        আর আমি দায়ী করি দেশের বিচার ব্যাবস্থাকে। এখানে যদি কঠর শাস্তি দেওয়া যেত। তাহলে দেখা দেখি অন্যায় করা ভুলে যেতো।

  • মিষ্টি জিন

    আমি মনে করি শুধু পরনো এর জন্য দায়ী না, মানষিক এবং কুশিক্ষা দায়ী। কিছু পুরুষ যারা মেয়েদেরকে একখন্ড মাংস পিন্ড ছাড়া অন্যকিছুর ভাবতে পারে না। হাজার ঢেকে চললেও তাদের কুদৃষ্ট থেকে নিজেকে বাঁচানো কঠিন।
    কিছু সিঁক মেন্টালিটির বক ধার্মিক রোজার মাসে উদয় হয়। নামাজের কোন খবর নাই রোজা নিয়ে তাদের যত মাথা ব্যাথা।
    তিনটা মুসলিম দেশে থাকলাম কিন্তু ধর্ম , মেয়েদের পোশাক নিয়ে এত বাড়াবাডি কোথাও দেখিনি।
    ভাল লিখেছো নীরা।

  • নীলাঞ্জনা নীলা

    অসাধারণ একটা পোষ্ট নীরা। চমৎকার লেখো তুমি এ কথা আরোও একবার বললাম।
    আমাদের দেশের পুরুষরা নারীদেরকে মানুষ নয়, ভোগের বস্তু হিসেবে ভাবে।
    আর ধর্ম তো আরেক কাঠি উপরে। পিরিয়ড হলে হিন্দু ধর্মে পূজো দেয়া যাবেনা, মন্দিরে যাওয়া চলবেনা ইত্যাদি কতো কী! আমাদের দেশের মেয়েরা এখন অনেক এগিয়ে এসেছে। একসময় তো স্যানিটারি ন্যাপকিনও দোকানে গিয়ে নিজে কিনতো না। আমার বন্ধুদের জন্য আমি-ই কিনে নিয়ে আসতাম।
    আমার মনে আছে চাচী একদিন কুমকুম আপাকে বলছিলেন, “মনে না চাইলে রোজা রাখবে না। কারু ডরে রোজা রাখা গুনাহ!” ঠিক একই কথা আমার মামনিও বলতো, “আত্মাকে কষ্ট দিয়ে উপবাস করিস না। যদি মন চায় তাহলেই উপবাস করিস।” আমি এখন সেভাবে কোনো উপবাস রাখিনা।
    অনেক কথা বলে ফেললাম। অনেক ভালো থেকো নীরা।

    • নীরা সাদীয়া

      ঠিক বলেছেন। নারীরা তাদের চোখে ভোগ্য বস্তু। তাই নারীদের এত বস্তা বস্তা কাপড় পরে চলতে হয়, তবু কতজনে কত কথা কয়। আবার দেখেন, কোন পুরুষ যদি শার্ট গেঞ্জি খুলেও বসে থাকে পথের পাশে দাঁড়িয়ে জলত্যাগ করে, কই কোন নারীকেতো দেখিনা তার উলঙ্গ অবস্থার দোহাই দিয়ে পুরুষের ওপর ঝাঁপিয়ে পরতে! তাহলে নারীরা কি মানুষ নয়? নাকি তাদের ইমোশন নেই? তারা যদি নিজেদের এবং নিজেদের দৃষ্টি কে এতটা সংযত রাখতে পারে তবে পুরুষ কেন পারবে না?
      শুভকামনা রইল দিদি।

      • নীলাঞ্জনা নীলা

        পুরুষ পারবেনা। আমি যখন ইন্টার প্রথম বর্ষে পড়ি, স্কার্ট পড়ে কলেজে যেতাম। কারণ আমার কাছে লাগতো আমি মোটেও অশ্লীল পোষাক পড়ছিনা। যেদিন নিজের মন বললো সালোয়ার-কামিজ পড়ার, তখন থেকে পড়া শুরু করলাম। তবে আমার পরিবার আমাকে সাপোর্ট দিয়েছিলো। কেউ কিছু বলতে সাহস পেতোনা। পারিবারিক সাপোর্ট খুব জরুরী। আমরা নিজের মেয়েকে বলি না না সন্ধ্যা হয়েছে, এখন বাইরে যাওয়া চলবে না। ছেলেদের কিন্তু কখনোই আটকাই না বাইরে যেতে। আমি আমার ছেলেকে শেখাই নারীদেরকে সম্মান করতে। এও বলেছি কখনও যদি কোনো মেয়েকে অসম্মান করিস, জানবি আমাকেও কেউ না কেউ অসম্মান করবে। এভাবে সব মা-বাবা যদি ছেলে-মেয়ে উভয়কেই একইভাবে শিক্ষা দিতো, আজ আমাদের সমাজ অনেক উন্নত হতো।

মন্তব্য করুন

লেখকের সর্বশেষ মন্তব্য

ফেইসবুকে সোনেলা ব্লগ