পর্ণ বনাম পন্য

মনির হোসেন মমি ২৮ অক্টোবর ২০১৯, সোমবার, ১০:১২:৪৭অপরাহ্ন গল্প ৩৭ মন্তব্য


স্যার তার এক ইংলিশ মিডিয়াম এর এক ছাত্রকে দিয়েছিলেন স্কুল পরীক্ষার কিছু বাংলা খাতা দেখে তাতে নাম্বার দিতে।ছাত্রটি খুব মনোযোগ সহকারে খাতাগুলো দেখছেন আর নাম্বার দিচ্ছেন।হঠাৎ একজন ছাত্রের খাতায় একটি প্রশ্নের উত্তরে নম্বর দিতে গিয়ে থেমে গেলেন।সেখানে লেখার এক পর্যায়ে পন্য লেখাটি তার কাছে কেমন যেন অশ্লীল অশ্লীল মনে হল।আগপাছ না ভেবে ছিঁ ছিঁ স্কুলের ছেলেরা এত খারাপ! দিলো কেটে পুরো প্রশ্নের উত্তর।সেই খাতার সামনে যে সব প্রশ্নের সঠিক উত্তর পেয়েছিলো সে, সেইগুলোতেও মনের জিদে সামান্য ভুলে কেটে কুটে নম্বর এতো কম দিল যে যোগফলে সেই খাতার সেই ছাত্রটিকে ফেল করিয়ে দিল।

কিছুক্ষণ পর সেই শিক্ষকের হাতে ছাত্রের দেখা সেই সব খাতাগুলো গেলে শিক্ষক খাতাগুলোকে আরেক বার নেড়ে চেড়ে দেখেন।ছাত্রের দেখা সবগুলো খাতায় নম্বর অনুযায়ী সবাই পাস শুধু একজন ছাড়া।স্যারের মনে খটকা যেমন লাগল তেমনি ফেল করা ছাত্রের জন্য মনে কষ্ঠও অনুভব হল।তাছাড়া মাত্র তিন নম্বরের জন্য ছেলেটি ফেল করেছে।

ছাত্রকে স্যার জিজ্ঞাসা করলেন -কি ব্যাপার এই খাতাটিকে আর তিনটি নম্বর বাড়িয়ে দিলেতো পারতে-ছেলেটা পাস করে যেত।ছাত্রটি খাতাটি দেখে বুঝতে পারলেন সেই পন্য লেখা খাতাটিই।অনেকটা মনে খুব কষ্ট নিয়ে ছাত্র স্যারকে বললেন..।
-স্যার বাংলা ভাষা সম্পর্কে যার সামান্যতম কমনসেন্স নেই তাকে আমি নম্বর দেই কি করে? নম্বরতো ঐ উত্তর লেখাতে দেইনি বরং অন্য সব প্রশ্নের উত্তরে নম্বরও কম দিয়েছি।ফাজিল কোথাকার!
স্যার বললেন..
-কি লিখেছিলো?
-অশ্লীল শব্দ স্যার, বলতে আমার লজ্জা লাগছে..ছাত্র হয়ে কি ভাবে খাতায় এ সব অশ্লীল শব্দ লিখতে পারে?
স্যার সেই খাতাটি উল্টাইয়া পাল্টাইয়া সেই অশ্লীল শব্দের দিকে চোখ পড়ল তার।“পন্য” শব্দটির উপর চোখ পড়লে স্যার নিজেই নিজের ভুল বুঝতে পারলেন।অতপর ছাত্রটিকে শব্দটি দেখিয়ে বললেন।
-পন্য” এই শব্দটি?
– জি স্যার, এবার আপনিই বলেন ?
-আমি আর কি বলবরে বোকা! ভুলতো আমিই করেছি-যে তুমি হলে ইংলিশ মিডিয়াম এর ছাত্র আর আমি তোমাকে দিয়েছি বাংলা খাতা দেখতে!
-What you mean Sir?
-আরে এই “পন্য” সেই পর্ণ না।
স্যার অন্যত্র কলমে লিখে শব্দের বানান গত পার্থক্য দেখিয়ে ছাত্রকে বলল।
-এখন কি করবে?

-সরি স্যার!
-সামান্য সরিতে তাকে পাস করানো যাবে কিন্তু তার খাতায় যে পরীক্ষকের এতো কাটাকাটি যদি প্রশ্ন উঠে তখন তার জবাব দেবো কি করে?

তাই কথায় আছে,”ভাবিয়া করিও কাজ,করিয়া ভাবিও না” শেষে আম ছালা দুটোই যাবে।আর একটি কথা হল “বন্যেরা বনে সুন্দর শিশুরা মাতৃকোলে” যে যেই কাজের কাজী তাকে সেই কাজই দিতে হবে নতুবা এ গল্পের মত হিতে বিপরীত হতে পারে।

১৭৭জন ৪২জন
7 Shares

৩৭টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

ফেইসবুকে সোনেলা ব্লগ

লেখকের সর্বশেষ মন্তব্য