পরীমনি সমাচার

রোকসানা খন্দকার রুকু ১৮ জুন ২০২১, শুক্রবার, ০৮:২১:৪২অপরাহ্ন সমসাময়িক ২৪ মন্তব্য

স্ট্যাটাস আমার সিঙ্গেল দেখে প্রেমের ছড়াছড়ি,,,কাকে আমি ইয়েস বলি যে কাকে বলি সরি,,,, হায়রে! কি যে করি,,,,আমি ডানাকাটা পরী- বহুল জনপ্রিয় এ গানটি প্রায়ই শোনা যায়। অস্থায়ী বিক্রেতা বা হকারদের মাইকে। ভালো কোন প্রোগ্রাম বা মানুষ শুনতে পছন্দ করে কিনা সন্দেহ! হ্যাঁ, তবুও তিনি আমাদের মোষ্ট সিনেমা সেলিব্রেটি পরী মনি।

কোথা থেকে, কেমন করে, কার কার হাত ধরে, কতবার বিয়ে করে সেলিব্রিটি হয়েছেন তা আমার আলোচ্য বিষয় নয়। কারণ ‘ জন্ম হোক যথা তথা, কর্ম হোক ভালো।’

তো তার কর্মের কথায় আসি- মধ্যরাতে তিনি অজ্ঞান অবস্থায় একটা নাইট ক্লাব কিংবা বার থেকে বের হয়েছেন। এ নিয়ে চারদিন ধরে থানায় থানায় ঘুরেছেন কোন বিচার পাননি। অবশেষে তো আমরা জানি তার কান্না দেখতে দেখতে কতবার যে অঝোরে কাঁদলাম তার ইয়ত্তা নেই! আহারে! একটা মানুষ কতটা কষ্ট পেলে এমন করে কাঁদে। কথা বলেন এখনো জীহ্বার ডগা দিয়ে আলতো, অস্ফুষ্ট! সেই মানুষটা কেন এমন হেনস্তার শিকার হলেন?

দরদী পুরুষ আর স্বাধীন নারী সমাজ ছি! ছি! দিয়ে নিজের স্ট্যাটাস ভরিয়ে ফেলেছে। নাসির মিয়া ধরা পড়ায় তারা বেশ খুশি! কতটা ডিম গ্যাছে আর কতটুকু গোলগাল আছে তা নিয়ে আলোচনাও বিশদ।

রাত বারোটা বা মধ্যরাত। পুরুষ বা নারী কারো জন্যই অকাজে বাইরে থাকার কথা নয়। এতরাতে তিনি বারে কি করছিলেন? যদি নাসির মিয়া তার অপরিচিত তাহলে তিনি সেখানে গেলেন কেন? তার মতো মানুষকে কি জোর করে নিয়ে যাওয়া যায়? কিংবা একজন সেলিব্রিটি বলেই যখন তখন যেখানে সেখানে যাবেন, এমনটা কি ঠিক? এসবের উত্তর আমার জানা নেই।

আমরা জানি ৯০% নারী কোন না কোন ভাবে ধর্ষিত বা হেনস্তার শিকার। এটি কমাতে গেলে মানসিকতার পরিবর্তন করতে হবে। শুধু একা পুরুষ মানসিকতার পরিবর্তন করবে, নাকি নারীদেরও করতে হবে? আমরা সবসময়ই বলি পুরুষের করতে হবে? পুরুষ সব নারীদের মা- বোনের চোখে দেখবে। তাদের সর্ব অবস্থায় সংযমের সাথে থাকতে হবে। নারীরা যত্র- তত্র যাতায়াত করবে, যেমন তেমন পোশাকে ঘুরবে, মন যা চায় তাই করবে তবুও পুরুষের কোন সমস্যা হবে না এটা হলো মানসিকতার পরিবর্তন।

আসলে কি এমন পুরুষ আছেন? যাদের কাছে সব নারীরা মা- বোন। নারীদের বেহাল দশাতেও আপনি চরম সংযমী। তাহলে এটা ডেফিনেটলি আপনার অসুস্থতার লক্ষণ।

পরীমনির অনেক গুলো ভিডিওতেই দেখা গেলো তিনি ক্লাবে ছেলেবন্ধুদের সাথে যেতে বেশ পছন্দ করেন তাও নতুন নতুন বন্ধু। নাসির মিয়াও তার বেশ পরিচিত। তাহলে ঘটনা কি? তেমন কিছুই না! স্বগোত্রীয় দুজনের বনিবনার কমতি পড়েছে। বুঝলেন না?

স্বামী বৌ ঝগড়া – মারামারী হয়না এমন ঘটনা বিরল।এমন ঝগড়ার একপর্যায়ে জামাইয়ের সাথে তুমুল হাতাহাতি। মাশাআল্লাহ কিল-ঘুষি সব হয়ে গেলো। বোনাস হিসেবে মোবাইল ফোন,ল্যাপটপ আশেপাশের সব ভেঙ্গে বারোটা। একসময় সেও ক্ষেপে গিয়ে যখনি পুরুষ স্টাইলে চড়াও হলো। তখুনি  নারী দেখলো আর পেরে উঠছে না। এবার হাতিয়ার ‘ আর একবার হাত তোল দিবো এক চিৎকার। ওরে বাবা,মেরে ফেললো কে কোথায় বাঁচাও!

বেচারা পুরুষের তখন জীবন নিয়ে টানাটানি। চিৎকারে আশেপাশের লোকজন এসে কিন্তু কিছুই দেখবে না, ভাববে না। কারণ পুরুষ সবসময়ই দায়ী এবং দোষী।ছি! ছি! পড়ে যাবে। এমন ছি! ছি! আর সম্মানের ভয়ে পুরুষরা নারীদের হাজারো অত্যাচার, অন্যায়- নির্যাতন সহ্য করে যায়।কারণ পুরুষদের নালিশ কিংবা কান্না কোনটাই যে মানায় না।

এদেশে মদ খাওয়ার লাইসেন্স দেয়া হয়েছিলো বহিরাগতদের জন্য। যাদের কালচারের সাথে যায়। আমাদের ধর্ম ও কালচার কোনটিতেই নেই। আদতে দেখা যায় এসব অনুমোদনের নামে অধিকাংশ মুসলিম নারী- পুরুষ বিশেষ করে সেলিব্রিটিরা সেখানে গিয়ে নানা অপকর্মে লিপ্ত হয়। যার কোন সঠিক তদন্ত বা সুরাহা নেই। তবে এবার যেহেতু আগুন লেগেছে তখন কিছুতো পুড়বেই। লাভবান কিছুটা আমরা হবো বোঝা যাচ্ছে। অনেকটা কেচো খুঁড়তে সাপ বেডিয়ে আসার অপেক্ষা।

মুসলিম দেশ হিসেবে এবং একজন নারী হিসেবে আমাদের কি কি করা উচিত? কিভাবে চলা উচিত সেটাও বিবেচ্য বিষয়! নারী ও স্বাধীনতার নামে বার, ডিস্কো, জুয়া, ছেলেবন্ধুদের সাথে নিয়ে আড্ডা এসব কতটা সমীচীন? আর সেটা আমাদের ভবিষ্যত প্রদন্মকে কি শিক্ষা দেয়?

নারীরা তোমরা স্বাধীন, এমন পরীমনিরা তোমাদের উদাহরণ! এভাবেই তোমরা চলো? কখোনোই না, অন্তত আমি এটা সাপোর্ট করি না।

সামনে আমরা কোথায় যাবো, কি হবে দিকনির্দেশনা কিংবা আমাদের সন্তানরা সমাজের কোন দিকটি ধারন করবে সেটা সত্যিই শঙ্কার বিষয়। শিশু কিশোরদের মন- মানসিকতার যথেষ্ট অবনতি হচ্ছে। যা সামনে আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করবে। তাই আমরা সন্তানদের উৎসাহিত করবো যেটা উৎসাহিত করার মতো সেটাতে।

আমরা মেয়ে সন্তানদের শিক্ষা দেব ইসলামের বিখ্যাত নারীদের উদাহরণ দিয়ে। তাও যদি না পারি তাহলে বেগম রোকেয়া, সুফিয়া কামাল, তারামন বিবি, জাহানরা ইমাম, নুরজাহান বেগম এসব উদাহরণ দিতে পারি। যাঁদের জীবনের সাথে ‘চরিত্র’ শব্দটা ছিলো। যাঁরা স্বাধীনতার অর্থ বুঝেছিলেন। যাঁরা স্বাধীনতার অবাধ ও নোংরা ব্যবহার কখনোই করেননি কিন্তু তাঁরা যথেষ্ঠ স্বাধীন ছিলেন।

ছবি- নেটের

৩৭৯জন ১১৯জন
0 Shares

২৪টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

ফেইসবুকে সোনেলা ব্লগ

লেখকের সর্বশেষ মন্তব্য

সাম্প্রতিক মন্তব্যসমূহ