সোনেলা দিগন্তে জলসিড়ির ধারে

পঙ্গপাল! ফসল বাঁচানোর উপায় কী?

মারজানা ফেরদৌস রুবা ৩০ এপ্রিল ২০২০, বৃহস্পতিবার, ০৭:৩২:৫১অপরাহ্ন সমসাময়িক ৬ মন্তব্য

পঙ্গপাল! এক ধরনের পতঙ্গের দল। এরা সাধারণত একাই থাকে কিন্তু বিশেষ অবস্থায় একত্রে জড়ো হয়। যখন দলবদ্ধ হয় তখন তাদের আচরণ ও অভ্যাস পরিবর্তিত হয়ে সঙ্গলিপ্সু এবং যাযাবর হয়ে পড়ে। তখন ব্যাপক হারে বংশবৃদ্ধিও কতে। পূর্নবয়স্ক পঙ্গপাল শক্তিশালী উড়ুক্কু, তারা অনেক দূর পর্যন্ত উড়তে পারে আর পথে পথে যেখানেই থামে সেখান থেকেই ফসল খেয়ে শক্তি অর্জন করে। পঙ্গপালের ঝাঁক নামলে ফসল ভর্তি মাঠও নিমিষেই বিরানভূমি।

পঙ্গপালের বৈশিষ্ট্য হচ্ছে বাতাসের উষ্ণতার গতি অনুযায়ী এরা চলাফেরা করে এবং এক জায়গার খাবার ফুরালেই নতুন জায়গার খোঁজ করে। সাধারণত এদের একেক ঝাঁকে কয়েক লাখ থেকে এক হাজার কোটি পতঙ্গ পর্যন্ত থাকতে পারে। এক বর্গ কিলোমিটার এলাকায় প্রায় ৪ কোটি পঙ্গপাল আক্রমণ করতে পারে। বড় পঙ্গপাল প্রায় ৩৫ হাজার মানুষের খাবার একদিনেই খেয়ে ফেলতে পারে।

ইতোমধ্যে পঙ্গপালের হানায় পাকিস্তানবাসীর জীবন অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। বছরের শুরুতে পঙ্গপালদের এ আক্রমণ দূর করতে দেশটির সরকার জাতীয় জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছিল।

তবে বাংলাদেশের কৃষি মন্ত্রণালয় বলছে, পূর্বাপর সময়ে ভারত ও পাকিস্তানে এই পতঙ্গের আক্রমণ বহুবার ঘটলেও বাংলাদেশে তা ছড়ায়নি। বিগত ৫০ বছরেও এমনটি ঘটেনি। কারণ আমাদের দেশের আবহাওয়াই পঙ্গপাল বিরোধী। বার্তাটি আশ্বস্ত হওয়ার মতোই, তবে বৈশ্বিক উষ্ণতাও কিন্তু বেড়েছে, বিষয়টি মাথায় রাখতে হবে।

যুগান্তরে পড়েছিলাম, পাকিস্তানে পঙ্গপালের আক্রমণ ঠেকাতে এক লাখ পাতিহাঁসের শক্তিশালী বাহিনী পাঠানোর পরিকল্পনা করেছে চীন। পাঠিয়েছে কি না জানিনা। ২০ বছর আগে (২০০০ সালে) চীনের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় সিনজিয়াংও পঙ্গপাল সংকটে পড়েছিল। সে সময় তারা হংস বাহিনী ব্যবহার করে পরিস্থিতি সামাল দিয়েছিল। পঙ্গপাল হাঁসের প্রিয় খাদ্য তালিকায় শীর্ষস্থানে। আর আমরা তো প্রায় সকলেই জানি হাঁসের খাওয়া লাগামহীন। অবিরত খেতেই থাকে।

একটু আগে জানলাম, টেকনাফের দিকে অলরেডি এদের উৎপাত শুরু হয়ে গিয়েছে।

 

২৫০জন ১৯২জন
0 Shares

৬টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

ফেইসবুকে সোনেলা ব্লগ

সাম্প্রতিক মন্তব্যসমূহ