মাহবুবুল আলম।।

বাংলাদেশ যেন দিনে দিনে গুজবের দেশে পরিনত হচ্ছে। অার ফেসবুকের কল্যাণে এর ডালপালা বিস্তার করে প্রতিনিয়ত মানুষকে
বিভ্রান্তির চক্করে ফেলে দিচ্ছে। সম্প্রতি ফেসবুকে
গুজব ছড়িয়ে পড়ে যে কক্সবাজারের টেকনাফে
পঙ্গপালের আক্রমন শুরু হয়েছে। টেকনাফের লম্বরী গ্রামের একটি বাড়ির আম গাছসহ বিভিন্ন ফলজ ও বনজ গাছের শাখা-প্রশাখায় সম্প্রতি দেখা মিলে এক ধরনের এ পোকা। পোকাগুলো গাছের পাতা সম্পূর্ণ রূপে খেয়ে ফেলছে। বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হলে
হৈচৈ পড়ে যায়। কৃষি বিভাগও নড়ে চড়ে বসে।

এই গুজবে কান দিয়ে দেশের কৃষক ও কৃষি খামারীরা আতঙ্কিত হয়ে পড়ে। ফলে কৃষি মন্ত্রনালয় ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তারা
দ্রুত কক্সবাজার ছুটে যান। এবং পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও পর্যবেক্ষণের পর জানান যে-কক্সবাজারের টেকনাফের লম্বরী গ্রামে গাছে যে পোকাগুলো বসছে এবং গাছের ক্ষতি করছে, সেই আলোচি পোকা পঙ্গপাল নয়। এটি তেমন ক্ষতিকর পোকাও নয়। এ নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। তাছাড়া প্রয়োজনীয় কীটনাশক প্রয়োগ করে পোকাগুলো দমন করা যাচ্ছে।
কক্সবাজার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. আবুল কাশেম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন । পরে এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বেশ কিছুদিন আগে কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার লম্বরী গ্রামের কয়েকটি গাছে ঘাসফড়িংয়ের মতো কিছু ছোট পোকার আক্রমণ দেখা দেয়।

পরে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কক্সবাজারের উপ-পরিচালক ও স্থানীয় কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে কীটনাশক প্রয়োগ করে পোকাগুলো দমন করেন। অতিসম্প্রতি ঘাসফড়িং সদৃশ এসব পোকা আবারও দেখা দিলে কৃষি মন্ত্রণালয় এটিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে উদ্যোগ গ্রহণ করে।

মন্ত্রণালয় বলছে, শুক্রবার (০১ মে) সকালে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ও বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের কীটতত্ত্ববিদদের সমন্বয়ে উচ্চ পর্যায়ের একটি দল টেকনাফের উদ্দেশে রওনা হয়েছে। পাশাপাশি বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি) এবং বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিনা) থেকেও পৃথক টিম রওনা দিচ্ছে। ঘাসফড়িং সদৃশ লোকাস্ট গোত্রের স্থানীয় এ পোকার শনাক্তকরণসহ আক্রমণ প্রতিরোধ, নিয়ন্ত্রণ ও ধ্বংসে এ টিম কাজ করবে।

জাতিসংঘের কৃষি বিষয়ক সংস্থা এফএও-এর প্রোগ্রাম স্পেশালিস্ট আহমেদ আকজায়েজ টেকনাফে ঘটনাস্থল পরির্দশন শেষে বলেন, এ পোকা নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। এটি পঙ্গপাল নয়, কীটনাশক স্প্রে করার পর এদের বেশির ভাগই মারা গেছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সমন্বয়ে এসব পোকা দমনে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হবে।

শেষ করছি এই বলেই যে, সব সময়ই দেখা গেছে
দেশবিরোধী এবং দেশের অগ্রগতি যাদের পছন্দ
নয় এমন গোষ্ঠী গুজব ছড়িয়ে জনমনে আতঙ্ক
সৃষ্টি করে যাচ্ছে আর দেশের একশ্রেণির শিক্ষিত
মানুষও জেনে বা না জেনে ফেসবুকে ছড়িয়ে
দিয়ে সাধারণ মানুষকে আতঙ্কিত করে তুলছে।
একেতো মানুষ করোনার ভয়ে আতঙ্কিত ও শঙ্কিত
তার ওপর একের পর এক গুজব ছড়িয়ে জনজীবনকে ব্যতিব্যস্ত করে তোলছে যা মানুষের
মনোজগতে বেশ প্রভাব ফেলছে।

১৯৫জন ১জন
29 Shares

৩০টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

ফেইসবুকে সোনেলা ব্লগ

লেখকের সর্বশেষ মন্তব্য